মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১৩ পি.এম
আজ মঙ্গলবার, ২৮ হাজার টাকার একটি শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের মামলায় অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বাদীপক্ষের আইনজীবী সলিমুল্লাহ সরকার জানিয়েছেন, দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে এ শুনানি হবে।
গত ১৩ আগস্ট, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিশা। এর আগে, গত ১২ জুলাই, আদালতে হাজির হতে তার বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছিল।
জামিন পাওয়ার পর তানজিন তিশা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "২৮ হাজার টাকার একটি শাড়ি নাকি আত্মসাৎ করেছি। আমার ১৫ বছরের একটা ক্যারিয়ার। এটা কারোর কাছে কাম্য নয়, একটা শাড়ির জন্য আদালতে আসব। আইনকে শ্রদ্ধা করি বলেই আদালতে এসেছি। তবে মামলায় অনেকগুলো মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। আমি শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণা—এমন কিছুই করিনি।"
তিনি আরও বলেন, "একটা কথা বলতে চাই, মামলার বাদী একজন নারী। তিনি নিজের স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে আমার সঙ্গে এটা (মামলা) করেছে। অনেক ধরনের হুমকি দিয়েছে। আগামীতে সব কিছু তুলে ধরব। আমার নামে যে মামলা করেছে, তাকে চিনি না।"
এদিন আদালতে আত্মসমর্পণের পর, তানজিন তিশার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন পাওয়ার পর তিনি আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন, এ সময় উৎসুক জনতা তাকে দেখতে ভিড় জমায়।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে সেটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তানজিন তিশা। এই ঘটনায় ২০২৫ সালে অনলাইন ফ্যাশন পেজের অ্যাডমিন আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিবি পুলিশকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়া এখনও সিরিজ হারের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ঠিক এমন সময়েই তারা আবারও একটি নতুন ধাক্কা অনুভব করেছে। এই ধাক্কাটি এসেছে জোড়া আকারে। চোটের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকে বাদ পড়েছেন নাথান এলিস ও জোয়েল ডেভিস।
তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়া এই দুজনকে পাচ্ছে না। নাথান এলিস পেশির চোটের কারণে ছিটকে গেছেন। অপরদিকে, তার সতীর্থ জোয়েল ডেভিস দেশে ফিরছেন হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে।
প্রথম দুই ওয়ানডেতে নাথান খেলেছিলেন। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি চোট পান। জোহানেসবার্গে তিনি মাত্র ৪ ওভার বোলিং করতে পেরেছিলেন। প্রথম ম্যাচে ৫৭ রান খরচ করে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে, বাঁহাতি স্পিনার ডেভিস সফরে একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এখনও তাদের বদলি খেলোয়াড়দের নাম ঘোষণা করেনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ ওয়ানডে হারের আগে অস্ট্রেলিয়া ডারবানে ৬৭ রানে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৩২ রানে পরাজিত হয়েছে। আগামীকাল পচেফস্ট্রুমে দুই দলের মধ্যে বাকি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কঙ্গোর ক্ষমতাসীন দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যিনি ইবোলা রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে সচেতনতা তৈরির একটি রেডিও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। রবিবার উত্তর কিভুর বুতেম্বো শহরে এই ঘটনা ঘটে। সোমবার ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রতিনিধি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত নেতার নাম মারি-সেলেস্তাঁ কারোন্দওয়া। তিনি বুতেম্বোতে ক্ষমতাসীন ইউডিপিএস দলের ফেডারেল নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দলটির বুতেম্বো ফেডারেশন জানায়, ইবোলা নিয়ে সচেতনতা তৈরির রেডিও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন কারোন্দওয়া। সেখানে তিনি ইবোলা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠান শেষে, তাঁর এলাকার কিছু বাসিন্দা তার ওপর হামলা চালায় বলে দলটির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীরা কারোন্দওয়াকে মারধর করে এবং তার সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যায়। পরে তার বাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় কারোন্দওয়ার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
হামলাকারীরা কে ছিল, কতজন অংশ নিয়েছিল এবং হামলার সঠিক কারণ কী—এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বুতেম্বোর মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি মন্তব্য জানতে। কারোন্দওয়ার দল দাবি করেছে, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। ইবোলা ভাইরাসের অস্তিত্ব এবং এই রোগের মানুষের জন্য যে ঝুঁকি রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি দলের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। কারোন্দওয়াকে হত্যার ঘটনা ইবোলা মোকাবিলায় কাজ করা দলগুলোর ওপর হামলার সর্বশেষ উদাহরণ। এসব হামলা ইবোলা প্রতিরোধে সরকারি ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসকে আবারও সামনে এনেছে।
উত্তর কিভুর কাছের বেনি এলাকায় শনিবারও একটি হাত ধোয়ার কেন্দ্রে সশস্ত্র ব্যক্তিরা হামলা চালায়। স্থানীয় একটি নাগরিক সংগঠনের দাবি, ওই হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইবোলা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা কার্যক্রম, রোগ শনাক্তকরণ এবং সংক্রমণ ঠেকানোর নানা পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছেন। তবে স্থানীয় মানুষের মধ্যে এসব কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ ও অবিশ্বাস রয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্যকর্মী এবং ইবোলা মোকাবিলায় নিয়োজিত অন্যান্য দলের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কঙ্গোয় ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হয় গত ১৫ মে। সোমবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৮ হাজার ৬৭ জন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছে। এ রোগে মারা গেছে ৩ হাজার ৯০১ জন। উত্তর কিভুর বুতেম্বো ও আশপাশের এলাকা বর্তমানে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের অন্যতম বেশি আক্রান্ত অঞ্চল। এর মধ্যেই ইবোলা নিয়ে সচেতনতা তৈরির কাজ করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতার হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভ্যাট আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভ্যাটের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা, বড় ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা, ডিজিটাল ব্যবস্থায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং ভ্যাট ফাঁকি ধরার জন্য অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে এনবিআর করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত ভ্যাট আদায়কে আরো সহজ করার চেষ্টা করছে।
এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, মোট ভ্যাট আদায়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে ১১টি খাত থেকে। এই কারণে এসব খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইন রিটার্নের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সিগারেট, মোবাইল ফোন, ওষুধ, পানীয়, সিমেন্ট, এমএস পণ্য, টাইলস এবং রং ও বার্নিশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। সেবার মধ্যে রয়েছে বীমা, ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল আর্থিক সেবা।
গত ২০ সেপ্টেম্বর এনবিআরের এক আদেশে জানানো হয়েছিল যে, সিগারেট, ওষুধ, মোবাইল ফোন এবং ব্যাংকিংসহ ১১টি খাতে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। খাতগুলো হলো সিগারেট, মোবাইল ফোন, এমএস পণ্য, ওষুধ, পানীয়, সিমেন্ট, টাইলস, রং ও বার্নিশ, বীমা, ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী খাত এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী খাত।
এনবিআরের আদেশে আরও বলা হয়েছে, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা (৫) এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ১১৮(ক) অনুযায়ী বর্ণিত খাতগুলোর ক্ষেত্রে পণ্যের উৎপাদনকারীদের এবং বর্ণিত সেবা খাতগুলোর ক্ষেত্রে সরবরাহকারীদের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-ভ্যাট পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে দাখিলপত্র প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদি কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি উপরোল্লিখিত পণ্য বা সেবার পাশাপাশি অন্য কোনো পণ্য বা সেবা সরবরাহ কার্যক্রমের সঙ্গেও জড়িত থাকেন, তবে তার ক্ষেত্রেও এই আদেশ প্রযোজ্য হবে।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে অনলাইনে দাখিলপত্র পেশ বাধ্যতামূলক-সংক্রান্ত পূর্ববর্তী কোনো আদেশ জারি করা হয়ে থাকলে, এই আদেশ জারির পর ওই আদেশগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে।
এনবিআর জানিয়েছে, বর্তমানে মোট ভ্যাট রিটার্নের প্রায় ৬০ শতাংশ অনলাইনে জমা হচ্ছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধাপে ধাপে অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব খাত থেকে বড় অঙ্কের ভ্যাট আসে, সেসব প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের তথ্য অনলাইনে পাওয়া গেলে রাজস্ব কর্মকর্তাদের জন্য তথ্য যাচাই ও নজরদারি করা সহজ হবে।
এনবিআর শুধু বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি নয়, নতুন করদাতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে ২৭ হাজার ৪০১টি নতুন প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে। তবে নতুন নিবন্ধনের পর এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করছে কি না এবং যথাযথ ভ্যাট পরিশোধ করছে কি না সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শুধুমাত্র নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়লেই রাজস্ব বাড়বে না।
নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত ব্যবসা ও লেনদেনের সঙ্গে তাদের দেওয়া ভ্যাটের হিসাব মিলিয়ে দেখা জরুরি। এজন্য নিবন্ধনের পর নিয়মিত রিটার্ন দাখিল ও ভ্যাট পরিশোধ নিশ্চিত করার ওপরও নজর দিচ্ছে এনবিআর।
এদিকে, ভ্যাট ফাঁকি ধরতে মাঠ পর্যায়ে অভিযানও বাড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে গোপন বিক্রয়, পণ্যের ভুল শ্রেণিবিন্যাস এবং কম ভ্যাট দেখানোর মতো অনিয়ম ধরা পড়ছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ভ্যাটের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে পুরনো বকেয়া এখনো বড় বিষয়। নতুন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হলেও পুরনো করদাতাদের কাছ থেকে নিয়মিত ভ্যাট আদায় এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া আদায় করা না গেলে মোট রাজস্বে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।
এদিকে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে। জুলাই থেকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ও অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ফলে জুলাই ও আগস্ট মাসের লেনদেনের রিটার্ন দাখিল ও ভ্যাট পরিশোধের সময় সেপ্টেম্বর মাসে পড়েছে। নতুন এই ব্যবস্থার বাস্তব অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করছে এনবিআর। এরই মধ্যে আবার মাসিক রিটার্ন ও অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ভ্যাট আদায়ের সাম্প্রতিক হিসাবেও কিছুটা কমতির চিত্র দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। গত বছরের একই মাসে আদায় হয়েছিল ১১ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। আগস্টে আদায় হয়েছে আট হাজার ৩৬২ কোটি টাকা, যা গত বছরের আগস্টে ছিল ১১ হাজার ৮১ কোটি টাকা।
তবে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট আদায় শুরু হওয়ায় শুধু জুলাই ও আগস্টের হিসাব দিয়ে নতুন ব্যবস্থার প্রভাব বিচার করতে চাইছে না এনবিআর। এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট নীতি) মো. আজিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, “যেহেতু এবার ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট আদায় হচ্ছে, সেহেতু সেপ্টেম্বর শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে ভ্যাট আদায়ের যে তথ্য আসছে, তা পজিটিভ।”
এনবিআরের এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য এখন করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান করদাতাদের কাছ থেকে নিয়মিত ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করা। অনলাইন রিটার্ন, ডিজিটাল নজরদারি ও মাঠ পর্যায়ের অভিযান—এই তিন দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে বকেয়া ভ্যাট আদায় করতে পারলে রাজস্ব আহরণ আরো বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি অর্থবছরে ভ্যাট থেকে দুই লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এনবিআর। এই লক্ষ্য পূরণে নতুন করদাতা যুক্ত করার পাশাপাশি বড় খাতগুলোর লেনদেনের ওপর নজরদারি, নিয়মিত রিটার্ন দাখিল এবং বকেয়া ভ্যাট আদায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ত্রৈমাসিক রিটার্ন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা এবং ডিজিটাল নজরদারির পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ আগামী মাসগুলোতে ভ্যাট আদায়ের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, “উদ্যোগগুলো কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা মাত্র দুই মাসের মাথায় বাইরে থেকে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। এনবিআর যে উদ্যোগ নিয়েছে, নিশ্চয়ই এর পেছনে তাদের যৌক্তিকতা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে এর ফলাফল স্পষ্ট হবে এবং এনবিআরই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবে।”
তিনি বলেন, “সবাইকে ভ্যাটের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে আদায় করা ভ্যাট যাতে সঠিকভাবে ও সময়মতো সরকারি কোষাগারে জমা হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। অটোমেশন হলে এই দুই কাজই সহজ হবে। তাই এই মুহূর্তে পুরো ভ্যাট ব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় আনাই জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সালমান শাহর আকস্মিক মৃত্যু ঢাকাই চলচ্চিত্রে শোকের ছায়া ফেলেছিল, পাশাপাশি তাঁর হাতে থাকা অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও সৃষ্টি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। প্রয়াত এই অভিনেতার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য বিনা পারিশ্রমিকে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন চিত্রনায়ক আমিন খান। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি সেই সময়ের স্মৃতি ও নিজের সিদ্ধান্তের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
সালমান শাহর মৃত্যুর দিনটি স্মরণ করে আমিন খান বলেন, সেদিন সকালে তিনি এফডিসিতে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রযোজক ও পরিচালকদের কান্না এবং আহাজারির দৃশ্য তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। তাঁর ভাষায়, "তাদের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল, ‘সবকিছুই শেষ হয়ে গেল।’"
সালমানের অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর কারণে সংশ্লিষ্ট প্রযোজক ও পরিচালকদের আর্থিক ক্ষতি না হওয়ার বিষয়টি তখন আমিন খানের মনে এসেছিল। তিনি জানান, গল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী সালমানের চরিত্র রেখে যদি সিনেমাগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে অভিনয় করতে প্রস্তুত ছিলেন।
আমিন খান বলেন, "আমার কাছে তখন মনে হয়েছিল, সালমানকে রেখে যদি গল্পের মোড় ঘুরিয়ে কোনোভাবে কাজগুলো করা সম্ভব হয়, তবে আমি বিনামূল্যে তা করে দিতে প্রস্তুত। অন্তত এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।"
সালমান শাহর সঙ্গে কোনো সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করার সুযোগ না থাকলেও, তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বলে জানান আমিন খান। একসঙ্গে আড্ডা দেওয়ার এবং পথচলার স্মৃতিও তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছিল। তিনি বলেন, প্রয়াত বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই ওই প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
আমিন খানের ভাষ্য, "এমনটা করতে পারলে হয়তো আমার বন্ধুর আত্মাও শান্তি পেত এবং প্রযোজক-পরিচালকদের মনের কষ্টটাও কিছুটা লাঘব হতো।"
তবে সালমান শাহর অসমাপ্ত সব সিনেমায় কাজ করার সুযোগ পাননি আমিন খান। গল্পের কাঠামো পরিবর্তনের সুযোগ থাকায় শুধুমাত্র ‘স্বপ্নের নায়ক’ সিনেমাতেই তাঁর যুক্ত হওয়া সম্ভব হয়েছিল। অন্য সিনেমাগুলোর গল্পে সেই সুযোগ ছিল না বলে তিনি জানান।
সালমান শাহর স্মৃতিচারণ করে আমিন খান বলেন, "বন্ধু যেখানেই থাকুক, ভালো থাকুক—সবসময় এটাই আমার চাওয়া।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ