বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৬ পি.এম
সংসদ ভবন, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সৌদি আরবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত দু’টি ‘সেফ হোম’ এর মাধ্যমে নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে, জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে ১৩টি দেশের ২২টি ল’ ফার্মের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও দেশে এ ধরনের আইনি সহায়তার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
আজ সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩১-এর সদস্য মোছা. সানজিদা ইয়াসমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি নারী কর্মীরা প্রধানত সৌদি আরব, ওমান, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত আছেন। এছাড়া হংকংসহ আরও কয়েকটি দেশে হাউসকিপিং ও কেয়ারগিভিং খাতে বাংলাদেশি নারীরা কাজ করছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে অতীতে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে এ ধরনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশে নিয়োগকর্তার দ্বারা নিগ্রহের শিকার হলে বাংলাদেশি নারী বা পুরুষ কর্মীরা এসব ল ফার্মের মাধ্যমে আইনগত প্রতিকার গ্রহণের সুযোগ পাবেন। ওমানেও একটি সেফ হোম রয়েছে। কর্মীরা অভিযোগ জানাতে মন্ত্রণালয়ের দু’টি কল সেন্টারের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন।
বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের, বিশেষ করে নারী কর্মীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, বললেন প্রতিমন্ত্রী।
সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের জন্য খসড়া পাঠানো হয়েছে। এমওইউটি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে কর্মীর চাহিদাপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোন দেশে কোন ধরনের দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন, সেই চাহিদার ভিত্তিতে দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
নুরুল হক জানান, গত ১৭ থেকে ১৮ মে কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেন। এ সময় কাতারের চাহিদা অনুযায়ী পাঁচটি ট্রেডে পাঁচটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করে সেখান থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জর্ডানে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে গত ছয় মাসে ৭ হাজার ৬৮৩ জন গার্মেন্টস কর্মী পাঠানো হয়েছে। জর্ডানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এসব কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার কিছুটা সংকুচিত হলেও সেখানকার দুবাইয়ের একটি ট্যাক্সি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে ৬০০ জন চালক নিয়েছে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে আরো বিভিন্ন কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছে। এসব কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরি করা হচ্ছে।
নীলফামারী-৩ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতারণা বা জিম্মি করার সঙ্গে জড়িত অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে দেশে ফেরার পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি দলের সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৫-এর সদস্য মোছা. সুরাইয়া জেরিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বিদেশে কর্মী পাঠানোর অভিবাসন ব্যয় কমানোকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে এ বিষয়ে একটি খসড়া ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, বিশেষ করে ডলারের মূল্যের পরিবর্তন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সেই ব্যয় কাঠামো হালনাগাদ করা হচ্ছে। এটি হালনাগাদের পর বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হবে।
বিদেশে কর্মীদের কাজ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার জন্য চাহিদাপত্র দিলে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং তা যাচাই করে। কর্মীদের কী কাজে নিয়োগ দেওয়া হবে, তাদের বেতন, থাকার পরিবেশ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কী হবে— এসব বিষয় যাচাইয়ের পর বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বিএমইটির ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে কাজ সংক্রান্ত সমস্যা তুলনামূলকভাবে কম হয়। তবে, বিশেষ বিবেচনায় এক থেকে পাঁচজন পর্যন্ত কর্মীর ভিসা বা ডিমান্ড লেটার দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাটেস্টেশন ছাড়াই অনুমোদনের যে সুযোগ রয়েছে, সেটির কিছু অপব্যবহার হচ্ছে। এ ধরনের অপব্যবহার বন্ধে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বৃহস্পতিবার স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, জুলাই মাসে সেউতায় অভিবাসীদের ঢল নামানোর পেছনে মরক্কোর পরিকল্পনা থাকার কোনো ‘জোরালো প্রমাণ’ নেই।
এর আগে পুলিশের একটি প্রতিবেদনে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক ব্যর্থতার বিষয়টি উঠে এসেছে।
মাদ্রিদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি প্রকাশ করেছে।
সানচেজ পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘কোনো বিচারিক বা পুলিশি প্রতিষ্ঠান, কূটনৈতিক পরিষেবা, ইউরোপীয় কমিশন কিংবা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা স্পেন সরকারকে মরক্কো এই ঘটনার পরিকল্পনা করার বা তা বাস্তবায়ন করার এমন কোনো জোরালো প্রমাণ দেয়নি।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতি আগামী কিছু মাসের মধ্যে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ রূপ ধারণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সংস্থা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এটি স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা প্রায় নিশ্চিত।
জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানায়, ‘এল নিনো দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি আগামী মাসগুলোতে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থায় পরিণত হবে। এর ফলে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার ধরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দেবে। পাশাপাশি বন্যা, খরা এবং অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাশিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ আসার পর, রাশিয়ায় জার্মানির অলাভজনক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গ্যোথে ইনস্টিটিউটের একাধিক শাখা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ তথ্য প্রদান করেছেন।
বার্তা সংস্থা তাসের মাধ্যমে লাভরভ উল্লেখ করেন, ‘জার্মানদের এখানে গ্যোটে ইনস্টিটিউটের কয়েকটি শাখা রয়েছে, সেগুলো অবশ্যই বন্ধ করে দেওয়া হবে। কারণ ওখানে আমাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ মস্কো থেকে এএফপি সংবাদ সংস্থা এ খবর প্রকাশ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৪১টি তফসিলি ব্যাংকের কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) ফান্ড থেকে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) ইসমাইল হোসেন বৃহস্পতিবার মামলাটি দায়ের করেন, যা ঢাকা-১ এর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা প্রযোজ্য করা হয়েছে।
দুদক সচিব সাইদুর রহমান এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনা 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট'-এর সভাপতি এবং শেখ রেহানা সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত একটি ট্রাস্ট সম্পত্তির দলিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের মধ্যে শেখ হাসিনা আজীবন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং তার অনুপস্থিতিতে শেখ রেহানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া ৪১টি ব্যাংকের তথ্য ও নথি পর্যালোচনা করে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নজরুল ইসলাম মজুমদার বিএবির সভাপতি থাকাকালে নির্বাহী কমিটির সভার আলোচ্য সূচিতে না থাকা সত্ত্বেও 'বিবিধ' আলোচনায় ট্রাস্টকে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করেন।
পরে নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এসব সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর ফান্ড থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৮ সালের সিএসআর-সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং ২০২২ সালের 'পলিসি গাইডলাইনস অন করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি ফর ব্যাংকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন'-এ সিএসআর অর্থ ব্যয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হলেও ট্রাস্টটিতে এ ধরনের অর্থ দেওয়ার কোনো নির্দেশনা নেই।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সরেজমিন পরিদর্শনে ট্রাস্টের ঠিকানায় দাফতরিক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সমাজসেবা অধিদপ্তর ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর অনুমোদন নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ড থেকে অর্থ সংগ্রহ করে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করেছেন। এছাড়া, তদন্তকালে ঘটনার সঙ্গে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ