ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আবারও লং মার্চের ঘোষণা দিলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান


আবারও লং মার্চের ঘোষণা দিলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আবারও লং মার্চের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দ্বিতীয় লং মার্চ আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুরে অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।

এ সময় জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করেছে এবং প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, "জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা সরকার পালন করেনি। জনগণের গণরায় সরকার উপেক্ষা করেছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর হলে কোনো সরকার স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারবে না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন না করলেও জনগণের রায় থেকে তারা সরে দাঁড়াবেন না।

আরও পড়ুন: "অসহিষ্ণু বক্তব্য রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এ নিয়ে যেতে পারে": সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "কয়েকটি বিষয় ছাড়া তাদের মতামত সরকার আমলে নেয়নি। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা হলে সেটি হবে প্রতারণার শামিল।"

সম্পদ বণ্টন আইন নিয়েও তিনি আপত্তি জানান। জামায়াত আমির বলেন, "কোরআনের বিপরীতে তারা সম্পদ বণ্টন আইন করেছে। এমন দুঃসাহস ইংরেজরাও করেনি।"

তিনি আরও বলেন, "পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নেওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একইভাবে জনগণের ভোটের রায় সরকার উপেক্ষা করলে সেটি তারা মেনে নেবেন না।"

সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে তার অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "সরকার ভালো কাজ করলে আমরা সমর্থন করব। খারাপ কাজ করলে তার বিরোধিতা করব এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলব।"

আরও পড়ুন: কংগ্রেস ভারতকে 'বাংলাদেশ' বানানোর চক্রান্তে লিপ্ত, নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতা দখল করতে চায়

র‌্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের বিষয়েও তিনি সমালোচনা করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "র‌্যাব জাতির সঙ্গে চরম অন্যায় করেছে, তাই আমরা এর বিলুপ্তি চেয়েছিলাম। কিন্তু পুরাতন সদস্য এবং আগের সব কার্যক্রম রেখে নতুন মোড়ক দেওয়া হয়েছে এসআরবি গঠনের মাধ্যমে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের পানিতে পদ্মার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, আতঙ্কে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩৯ পি.এম


ভারতের পানিতে পদ্মার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, আতঙ্কে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ

টানা বৃষ্টির কারণে এবং ভারতের উজান থেকে আসা ঢলের ফলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। চলাচলের রাস্তা ও আবাদি জমি ডুবে গেছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। রান্নার জায়গা এবং চলাচলের পথ তলিয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এর সাথে বিষধর সাপের উপদ্রবও দেখা দিয়েছে। ঘরবাড়ি ও বসতভিটার আশপাশে সাপের আনাগোনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বানভাসি মানুষ।

পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বর্ষণ এবং উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ সেন্টিমিটার করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুক্রবার সকালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০২ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র শূন্য দশমিক ৭৮ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি।

পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে পদ্মায় পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধির প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ার ফলে চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। চলাচলের রাস্তাগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা, ডিঙি নৌকা (টিন দিয়ে তৈরি বিশেষ নৌকা) এবং ভেলা হয়ে উঠেছে চলাচলের প্রধান মাধ্যম। অনেক পরিবারের রান্নার জায়গা পানিতে তলিয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে খাবার এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে গত দুই-তিন দিনে তাঁর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টির নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। স্কুলগুলোতে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি ওঠার পর থেকে বিষধর সাপের উপদ্রবও বেড়ে গেছে। ঘর থেকে অনেকেই বের হতে ভয় পাচ্ছেন।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল জানান, ‘আমার ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের চারপাশে এখন পানি। সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক বাড়ির ভেতরে পানি না ঢুকলেও ভিটা পর্যন্ত পানি উঠে এসেছে। বাড়িঘরের চারপাশে পানি ওঠার কারণে দুর্ভোগের পাশাপাশি সাপের আতঙ্কেও মানুষ দিন কাটাচ্ছে।’

এদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ আবাদি জমিও তলিয়ে গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস জানান, ‘আমরা ইতোমধ্যে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বানভাসি মানুষের তালিকা তৈরি করে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখেছি।’

দুর্গত এলাকাবাসী দ্রুত পর্যাপ্ত শুকনো খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি সাপের কামড়ের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল ইসলাম তুহিন জানান, দৌলতপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত আছে। সাপে কাটলে অবহেলা না করে দ্রুত রোগীকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, ‘আমরা গত বুধবার প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। এ সময় প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বন্যার্তদের সহায়তার বিষয়টি চলমান আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ব্যাপক ক্ষতি, স্বীকার করলো যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪০ পি.এম


বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ব্যাপক ক্ষতি, স্বীকার করলো যুক্তরাষ্ট্র

বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের হামলায় ঘাঁটিটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বোঝাতে বলেছেন, ইরান বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ভয়াবহ হামলা’ চালিয়েছে। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী ঘাঁটিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা মূল্যায়ন করছে।

বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ঘাঁটিটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মার্কিন কর্মকর্তার স্বীকারোক্তি থেকে হামলায় ঘাঁটির অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং ঘাঁটিটির কার্যক্রম কতটা ব্যাহত হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

ইরানের হামলার পর ঘাঁটিটির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে মার্কিন নৌবাহিনী মূল্যায়ন করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘাঁটিতে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের হামলা বৃদ্ধি, নতুন তথ্য প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪০ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের হামলা বৃদ্ধি, নতুন তথ্য প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একের পর এক হামলার পরেও, ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে মজুত রাখা উপাদান ব্যবহার করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি শুরু করেছে। মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তারা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের খোজিরসহ একাধিক ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রে এই কার্যক্রম চলছে। এ ঘটনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক তেহরানের সামরিক শক্তি ধ্বংসের যে দাবি করা হয়েছিল, তা এখন বড় প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে।

বর্তমানে ইরান তরল ও কঠিন- উভয় ধরনের জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এড়াতে নতুন ভূগর্ভস্থ কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক জিম ল্যামসন মন্তব্য করেছেন, যুদ্ধের পূর্বে ইরান বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভূগর্ভে সারিবদ্ধভাবে মজুত করেছিল। এই উপাদানগুলো ব্যবহার করে তারা কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম। যদিও মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কাঁচামাল ও কঠিন জ্বালানির উপাদান সংগ্রহ করা কঠিন হচ্ছে, সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অস্ত্রাগারে এখনো হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বিদ্যমান।

এ বছরের এপ্রিলে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পেন্টাগন দাবি করেছিল যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শিল্পভিত্তির ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষক তাল ইনবারের মতে, কেবল বোমা মেরে ইরানের মতো সুবিশাল ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মিসাইল ডিফেন্স অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত গতিতে পুনর্গঠন চালাতে সক্ষম।

আরব ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, লড়াই আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ যত বাড়ছে, ইরানের পক্ষ থেকে সংঘাতের তীব্রতা ও পরিসর বাড়ানোর ঝুঁকিও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত কয়েক দিনে, ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। যদিও এসব হামলায় কোনো জাহাজ সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি, সেগুলো অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে।

বুধবার, জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে একযোগে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাসদস্যরা অবস্থান করছেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সঙ্গে ক্লাস্টার ওয়ারহেড যুক্ত ছিল। যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসরায়েলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে ও পরাস্ত করতে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রায়ই নিক্ষেপ করা হতো।

সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক নতুন অবকাঠামোয় বদলে যাচ্ছে এআই নজরদারির মাধ্যমে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪১ পি.এম


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক নতুন অবকাঠামোয় বদলে যাচ্ছে এআই নজরদারির মাধ্যমে

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, যা দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত, তা আরও নিরাপদ, আধুনিক ও যানজটমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি, স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা, ওভারপাস-আন্ডারপাস নির্মাণ এবং মহাসড়ককে ১০ লেনে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এই মহাসড়কের চেহারা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে মহাসড়কে যানবাহনের চলাচলে শৃঙ্খলা বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্ঘটনা ও যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে সময় কমবে এবং দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত করার জন্য গত ১৮ আগস্ট থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ক্যামেরা ও ‘অটো ফাইন’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক এই নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

মহাসড়কের ৪৯০টি পয়েন্টে মোট ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করা হচ্ছে। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, নির্ধারিত লেন না মানা, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং, উল্টো পথে গাড়ি চালানো এবং অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন অনিয়ম ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করা হচ্ছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাণস্বরূপ। এই মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা কমিয়ে মানুষের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। শুধু সড়ক প্রশস্ত করাই নয়, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণকেও আমরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এআই ক্যামেরা ও অটো ফাইন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। অতিরিক্ত গতি, উল্টো পথে চলাচল, বিপজ্জনক ওভারটেকিংসহ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে এবং দুর্ঘটনা কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

এআই ক্যামেরাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা চালুর পর প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই ৪৪৯টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে। এ তথ্য থেকেই বোঝা যায়, মহাসড়কে উচ্চগতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মামলা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে তথ্য ও জরিমানার নোটিশ পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধের সুযোগও রাখা হয়েছে। এর ফলে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেমন গতি এসেছে, তেমনি চালকদের মধ্যেও আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেছেন, প্রথমদিকে এআই ক্যামেরায় বেশি সংখ্যক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হওয়া স্বাভাবিক। তবে নিয়মিত নজরদারির ফলে চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং ধীরে ধীরে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের প্রবণতা কমে আসবে। একই সঙ্গে বারবার আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। একজন চালক বা গাড়ির মালিককে হয়রানি না করে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় জনগণের আস্থাও বাড়বে।

শুধু ট্রাফিক আইন প্রয়োগ নয়, মহাসড়কের সক্ষমতা বাড়াতেও বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ১০ লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার একটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এর আওতায় আরও তিনটি আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। মহাসড়কের যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। দেশের প্রধান দুই বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। ফলে ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় মহাসড়কের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ভবিষ্যতের যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে ১০ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগোচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও কারিগরি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ যানজটপ্রবণ এলাকা। এখানে যানজট নিরসনে বিদ্যমান ওভারপাস সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, পদুয়াবাজার এলাকার যানজট নিরসনে বিদ্যমান ওভারপাস সম্প্রসারণের জন্য ইতোমধ্যে নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিদ্যমান বাজেট সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পদুয়াবাজারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে পাঁচটি আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ আছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৩২ কিলোমিটার পুরোটাই এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়েতে রূপান্তর করার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে এরই মধ্যে আমরা ডিজাইন সম্পন্ন করেছি। আশা করি অর্থায়নের বিষয়টি নিশ্চিত হলে আমরা ডিপিপি প্রণয়ন করব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%