১১:৩৩ পি.এম
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক অর্জনকারী সাইদুল হকের মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি মন্তব্য করেন, "বেসরকারি পর্যায়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো) যে কাজ করছে, তা অসাধারণ।" প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক তার প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাজধানীসহ ১৭টি জেলায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, "তার মতো একজন মেধাবী ও দক্ষ মানুষকে না দেখলে বোঝা সম্ভব নয়, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও কতটা সক্ষম হতে পারেন।" মানবসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক লাভ করেছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরে বার্ডোর কার্যালয়ে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জাহিদ হোসেন জানান, বার্ডোর ছয়তলা ভবনটি ঘুরে দেখে তিনি গর্বিত হয়েছেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অনন্য। রাষ্ট্রের দুটি সর্বোচ্চ পদকপ্রাপ্ত দেশপ্রেমিক সাইদুল হকের গড়া প্রতিষ্ঠানে আসতে পারা তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে মদ-বিয়ার ও ইয়াবা জব্দ, গ্রেপ্তার ৩
বার্ডোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "এসব দাবি বাস্তবায়নে যা যা করণীয়, তা করা হবে। রাষ্ট্র ও সরকার সব সময় তার এই মহৎ উদ্যোগের পাশে থাকবে।" সাইদুল হক কেবল বার্ডোর প্রতিষ্ঠাতা নন, তিনি পুরো জাতির অহংকার এবং সবার জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বার্ডোর সভাপতি অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন মজুমদার। বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রোগ্রাম) মোস্তফা মোস্তাকুর রহিম খান, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান, সাইটসেভার্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক অমৃতা রেজিনা রোজারিও, সমাজসেবক শাহনা আউয়াল ও মাসুদ আলম, কবি ও লেখক নাঈমা আক্তার, বার্ডোর সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, শিক্ষক শের আলী, ইউএনডিপির অসীম ডিও এবং বার্ডোর হোসনে আরা বেগম।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এরশাদ আলী ও ফিরোজা খাতুন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বার্ডোর নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক।
সাইদুল হক বলেন, "দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। ঘরে-বাইরে সর্বত্রই তারা অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।" তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ৩৬ বছর ধরে তাদের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করছেন বলে জানান। ১৯৯১ সালের ১৭ জুলাই বার্ডো প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের প্রতি বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসান ঘটাতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থার সহায়তায় বার্ডো এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ উপকৃত হয়েছেন। বর্তমানে রাজধানীসহ ১৭টি জেলা ও ৩৮টি উপজেলায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বিস্তৃত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হাতে সাদাছড়ি তুলে দেন। বক্তারা মন্তব্য করেন, প্রতিবন্ধী হয়েও একজন সফল ব্যক্তির এমন উদ্যোগ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সময় সংসদে অন্তত একজন নারী ও একজন পুরুষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন