বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫৫ এম
নেপালে আকস্মিক বন্যার কারণে দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ২৬ আগস্টের ওই বন্যায় নেপালের বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হলো, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করা দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমাণ্ডু পোস্ট। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে নেপালের জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। এই সময়, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি করে নেপাল।
বাংলাদেশ সম্প্রতি ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করেছিল। তবে বন্যার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে সেই সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।
ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার ফলে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানির পরিমাণও কমে গেছে।
শুষ্ক মৌসুমে, নেপাল গড়ে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে, কিন্তু বর্তমানে তা ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। কাঠমাণ্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শীতকালে নেপালে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। অতীতে এই সময় বিদ্যুৎ আমদানি করতে হতো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায়, নেপাল এখন আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হচ্ছে।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পাওয়া নেপালের দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র হলো ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াটের চিলমি হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াটের ত্রিশূলি হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প।
বন্যায় এই কেন্দ্র দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, গত সপ্তাহ থেকে সেগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্র দুটি ভারতের গ্রিড ব্যবহার করে মার্কিন ডলারে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করেছিল।
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ কাঠমাণ্ডু পোস্টকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি কেন্দ্রই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কারণে বিকল্প কোনো প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর সুযোগ দিতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে।
বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২২৫ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নেপালে এক হাজার ২০৪ জন এবং তিব্বতে ২১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৪ হাজার ৭৫৭ জন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিনি আবার একটি শীর্ষ বৈঠকে বসার জন্য প্রস্তুত আছেন। তবে এর জন্য রাশিয়াকে ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের সমাপ্তিতে একটি শান্তিচুক্তির দিকে অগ্রসর হতে হবে।
স্থানীয় সময় বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন পুতিনও আরেকটি বৈঠকে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী হবেন। তবে তিনি বৈঠকটি সঠিক সময়ে আয়োজন করতে চান।
ট্রাম্প বলেন,‘তিনি রাজি হবেন। আমিও চাই।
তবে আমি তখনই বৈঠকটি করতে চাই, যখন আমরা একটি শান্তিচুক্তির জন্য প্রস্তুত থাকব।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুসম্পর্ক থাকা উচিত। তার মতে, দুই দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও লাভজনক হবে। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, পুতিনের সঙ্গে বৈঠক দ্রুত আয়োজন করা সম্ভব হলেও তিনি যুদ্ধ শেষের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান।
তিনি বলেন, ‘আমি এটা তখনই করতে চাই, যখন ওই যুদ্ধ শেষ হবে। আর আমি মনে করি, আমরা তা করতে পারব।’ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তার পূর্বের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ কখনোই হওয়া উচিত ছিল না।
ট্রাম্পের দাবি, ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি পুনর্নির্বাচিত হলে এই যুদ্ধ শুরু হতো না।
তিনি বলেন, ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তার প্রথম মেয়াদে তিনি পুতিনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ওই সময় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প জানান, তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে, তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি যুদ্ধের দিকে যেতে পারে। তিনি এটিকে পাগলামি বলেও মন্তব্য করেন। পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে তীব্র বিরোধ রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে, যখন একটি সমাধানের জন্য সময় উপযুক্ত হবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করার জন্য ট্রাম্প ও পুতিনের সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কায়। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর এটি ছিল দুই দেশের নেতার প্রথম সরাসরি বৈঠক। তবে ওই বৈঠক কোনো লিখিত চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি ছাড়াই শেষ হয়। যদিও উভয় পক্ষই বৈঠকে কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছিল।
ট্রাম্পের দাবি, দুই দেশ অনেক বিষয়ে একমত হয়েছিল। অন্যদিকে পুতিন বলেছিলেন, প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। এখন ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে পুতিনের সঙ্গে আরেকটি শীর্ষ বৈঠক হলে তিনি সেটিকে শুধুমাত্র আলোচনা বা সৌজন্য বৈঠক হিসেবে দেখতে চান না। বরং যুদ্ধের অবসানে একটি শান্তিচুক্তির বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হলে তিনি এমন বৈঠকে বসতে আগ্রহী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সের পুলিশ কিলিয়ান এমবাপ্পে সহ রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবল তারকারা এবং বেশ কয়েকজন ধনকুবেরকে অপহরণের পরিকল্পনার অভিযোগে ১৮ বছরের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই তরুণের নাম ক্লিমেন্ট এল, যিনি জেলখানায় বন্দি অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করে নিজের গ্যাং পরিচালনা করছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে মানবপাচার ও সশস্ত্র ডাকাতির মামলায় কারাগারে বন্দি থাকা ক্লিমেন্ট ‘লেস্টার জেড’ ছদ্মনামে এই নেটওয়ার্কটি চালাতেন। পুলিশ তার কাছ থেকে জব্দ করা দুটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মোট ২৬ জন হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা উদ্ধার করেছে। এই তালিকার মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম রিয়াল তারকা এমবাপ্পে, যিনি প্রায় ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড সম্পদের মালিক। এছাড়া ধনী ব্যবসায়ী, তুর্কি মাংস ব্যবসায়ী, জুয়েলারি মালিক এবং বেশ কয়েকজন র্যাপারও তাদের টার্গেটের মধ্যে ছিলেন।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল্য প্যারিসিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে প্যারিসের এক ঘড়ির দোকানে ডাকাতির ঘটনা এই বিশাল ষড়যন্ত্রের জট খুলতে শুরু করে। ক্লিমেন্টের গ্যাংয়ের সশস্ত্র দুই সদস্য সেখানে হামলা চালিয়ে ১ লাখ ২৮ হাজার পাউন্ড মূল্যের ১১টি বিলাসবহুল ঘড়ি লুট করে স্কুটারে পালিয়ে যায়।
পালানোর আধঘণ্টার মাথায় স্কুটারটি এক ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খেলে দুর্ঘটনাস্থল থেকেই প্রথম আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ মূল মাস্টারমাইন্ড ক্লিমেন্ট এবং তার সহযোগীর কাছে পৌঁছায়।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, ক্লিমেন্ট একজন বিপজ্জনক অপরাধী, যার আগের রেকর্ডে মাদক ও হিংসাত্মক ডাকাতির সাজা রয়েছে। তিনি আদালতকে বলেন, ‘ছেলেটি ইতোমধ্যে গুরুতর অপরাধে জেল খাটছিল। এখন আবার নতুন করে নামিদামি ফুটবলার ও তারকাদের টার্গেট করার খবর আসছে। কেবল একাকী কারাবাসই (সলিটারি কনফাইনমেন্ট) তাকে অনুতপ্ত করতে পারে।’
স্কুলজীবনেই পড়ালেখা ছেড়ে অপরাধ জগতে পা রাখা ক্লিমেন্ট নিজেকে মূল হোতা বলে মানতে নারাজ।
নিজেকে নিছকই এক ‘মধ্যস্থতাকারী’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি জানি অপরাধ গুরুতর, তবে আমি মূল মাস্টারমাইন্ড নই। আমি শুধু ওপরের নির্দেশে কাজ করেছি।’
আদালতের কাছে নিজের শেফ হওয়ার শৈশবের স্বপ্নের কথা জানিয়ে এই তরুণ আবেদন করেন, ‘আমাকে পাগল ও সন্ত্রাসীদের মাঝে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে, এটি আমার জীবনের কোনো পরিবর্তন আনবে না। আমি ছোটবেলা থেকেই শেফ হতে চেয়েছিলাম, এখনো সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।’
পুলিশি তদন্তে তার চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের ২১টি দেশে বছরে প্রায় দুই কোটি শিশু অনলাইনে অন্তত একধরনের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জরিপে অংশগ্রহণকারী ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজন অনলাইনে যৌন শোষণ বা নির্যাতনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপের ২১টি দেশের তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে।
ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় দেড় কোটি শিশু অনিচ্ছাকৃতভাবে যৌন বিষয়বস্তুর সম্মুখীন হয়েছে। এছাড়া, প্রায় ৯০ লাখ শিশুকে যৌন আলাপ বা যৌন ছবি শেয়ার করতে চাপ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, প্রায় ৪০ লাখ শিশুর যৌন ছবি তাদের সম্মতি ছাড়াই অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইউনিসেফের উদ্বেগ, বিশ্বজুড়ে এ ধরনের নির্যাতনের শিকার শিশুদের প্রকৃত সংখ্যা কয়েক কোটি হতে পারে। অনেক শিশু এসব ঘটনার কথা প্রকাশ করতে বা কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারে না।
প্রতিবেদনে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২১টি দেশে প্রায় ২১ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুর ওপর পরিচালিত জাতীয় প্রতিনিধিত্বশীল জরিপের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
এই দেশের মধ্যে কেনিয়া, পাকিস্তান, ব্রাজিল ও সার্বিয়াও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যৌন শোষণ ও নির্যাতনের প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের নাম রয়েছে। এছাড়া, ১৪ শতাংশ ঘটনা অনলাইন গেমে ঘটেছে।
তবে মেটার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, জরিপের তথ্যের বড় অংশ পুরনো।
কিশোরদের সুরক্ষায় এরপর বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরদের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগত রাখা এবং অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কদের বার্তা ঠেকানোর ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মেটার দাবি, শিশু যৌন শোষণ প্রতিরোধে তাদের সব প্ল্যাটফর্মে কঠোরভাবে কাজ চলছে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সহায়তা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইমরান খানের বোন উজমা খান আবারও সুপ্রিম কোর্টে গেছেন, অভিযোগ করে যে তার ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং তার ছেলেদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।
বুধবার উজমা খান আদালত অবমাননার একটি আবেদন দাখিল করেছেন।
১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানের বিষয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছিল, সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে এই আবেদনটি করা হয়েছে। পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়। পাকিস্তানের দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন অনুসারে, সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে দেশের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে। বিবাদীদের মধ্যে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট সাজিদ বেগ, পাঞ্জাবের কারা বিভাগের মহাপরিদর্শক মিয়ান সালিক জালাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আহমেদ সরওয়ার রাজা এবং ইসলামাবাদ রাজধানী অঞ্চলের প্রধান কমিশনার সোহেল আশরাফ।
উজমা খানের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু সেসব নির্দেশনা এখনও সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়নি। ওই আদেশে ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলাইমান খানের সঙ্গে ভার্চুয়াল যোগাযোগের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে তার বোনদের প্রতি সপ্তাহে ইমরানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
তবে মঙ্গলবার উজমা খান নির্ধারিত সাক্ষাতের জন্য আদিয়ালা কারাগারে গেলে তাকে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া গত মার্চ থেকে ইমরান খানের ছেলেদের সঙ্গে অডিও যোগাযোগও সীমিত রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, কাসিম ও সুলাইমানের সঙ্গে দুই সপ্তাহ পরপর টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। কিন্তু সেই নির্দেশও কার্যকর করা হয়নি। এসব কারণে ১৮ আগস্টের আদেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছেন উজমা খান।
চিকিৎসার নির্দেশ নিয়েও আদালত অবমাননার অভিযোগ ১৮ আগস্টের সুপ্রিম কোর্টের আদেশের আরেকটি অংশ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে এর আগে আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়েছিল।
ওই আদেশে ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল তার শারীরিক পরীক্ষা করার কথা ছিল। একই আদেশে ইমরান খানকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতের ওই নির্দেশের পরও ইমরান খানকে ২১ আগস্ট পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবারও ইমরান খানের স্বজনদের রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবির পরিবারের সদস্যরাও একই ধরনের বাধার মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) কারা কর্তৃপক্ষের তীব্র সমালোচনা করেছে। পাকিস্তানের দৈনিক ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিটিআই মনে করে, ইমরান খানকে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়া সুপ্রিম কোর্ট ও ইসলামাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রকাশ্য লঙ্ঘন। দলটি বলেছে, উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকার পরও ইমরান খান ও বুশরা বিবির সঙ্গে তাদের স্বজনদের দেখা করতে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আদালতের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে পিটিআই।
পিটিআই কারা কর্মকর্তাদের আদালতের নির্দেশ ও আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। দলটি একই সঙ্গে ইমরান খান ও বুশরা বিবি—দুজনের সঙ্গেই তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত দেখা করার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। দলটির বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান খানকে পরিবারের সঙ্গে দেখা এবং তার ছেলেদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া উচিত। এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ