ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

পাঞ্জাবে ট্রেনের চার বগিতে আগুন, আতঙ্কিত যাত্রীরা


পাঞ্জাবে ট্রেনের চার বগিতে আগুন, আতঙ্কিত যাত্রীরা

ভারতের পাঞ্জাবে, সরাই বানজারা রেলস্টেশনের নিকটবর্তী স্থানে শুক্রবার কর্মভূমি এক্সপ্রেস ট্রেনের চারটি বগিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার ফলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তবে, এখন পর্যন্ত হতাহত হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে, অমৃতসর থেকে নিউ জলপাইগুড়িগামী ১২৫০৮ নম্বর কর্মভূমি এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনের পরবর্তী পঞ্চম বগিতে প্রথম আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীতে, আগুনটি পাশের অন্যান্য বগিতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে আগুনের উৎপত্তি হয়েছে। তবে, আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

ঘটনার সময় ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রেনের কয়েকটি বগি থেকে আগুনের শিখা এবং কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য রেল কর্মকর্তা ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন। সূত্র জানায়, অমৃতসর থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি বসন্তপুরা রেলস্টেশনের কাছে আগুনের কবলে পড়ে।

আরও পড়ুন: আরব উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক নাবিক নিহত

উল্লেখ্য, স্টেশনটি একটি গ্রামের পাশে অবস্থিত এবং রাজপুরা শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আহত বা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাহাথির নাকি আনোয়ার—মালয়েশিয়ার উন্নয়নে কার অবদান বেশি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৩ পি.এম


মাহাথির নাকি আনোয়ার—মালয়েশিয়ার উন্নয়নে কার অবদান বেশি?

মালয়েশিয়ার উন্নয়নের ইতিহাসে মাহাথির মোহাম্মদ ও আনোয়ার ইব্রাহিম—দুজনের নামই গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাদের অবদানের ধরন এক নয়। মাহাথিরের দীর্ঘ শাসনামলে মালয়েশিয়া কৃষি ও প্রাথমিক পণ্যনির্ভর অর্থনীতি থেকে শিল্পায়ন, রপ্তানি ও আধুনিক অবকাঠামোভিত্তিক অর্থনীতির দিকে বড় রূপান্তর ঘটায়।

অন্যদিকে আনোয়ার ইব্রাহিমের সামনে প্রধান কাজ হলো সেই অর্জনকে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রযুক্তিনির্ভর, উচ্চ আয়ের ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে টেকসই অর্থনীতিতে উন্নীত করা। তাই প্রশ্নটি শুধু কে বেশি উন্নয়ন করেছেন, তা নয়; বরং মালয়েশিয়ার উন্নয়নের কোন পর্যায়ে কে কী ভূমিকা রেখেছেন, তাদের নীতি কতটা ফল দিয়েছে এবং কোন সীমাবদ্ধতা রেখে গেছে—সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

মাহাথিরের সময়: শিল্পায়ন ও আধুনিক মালয়েশিয়ার ভিত্তি

মাহাথির মোহাম্মদ ১৯৮১ সালের ১৬ জুলাই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ বছরের বেশি সময় তিনি দেশটির নেতৃত্ব দেন। তার শাসনামলেই মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটে। কৃষি, খনিজ ও প্রাথমিক পণ্য রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি ক্রমে শিল্প উৎপাদন, ইলেকট্রনিকস, যন্ত্রপাতি, পেট্রোলিয়াম ও আধুনিক সেবাখাতের দিকে অগ্রসর হয়।

মাহাথিরের উন্নয়নদর্শনের কেন্দ্রে ছিল দ্রুত শিল্পায়ন, রাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া। তার ঘোষিত ‘লুক ইস্ট’ নীতির মাধ্যমে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মসংস্কৃতি, প্রযুক্তি, শিল্পব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনাগত অভিজ্ঞতা অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৮৩ সালে ‘মালয়েশিয়া ইনকরপোরেটেড’ ধারণা এবং বেসরকারীকরণ নীতি চালু করে সরকার ও ব্যবসায়িক খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। একই সময়ে জাতীয় শিল্পনীতি এবং ১৯৯০ সালে ‘ভিশন ২০২০’ ঘোষণার মাধ্যমে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

শিল্পায়নের প্রতীক হিসেবে ১৯৮৫ সালে জাতীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রোটন প্রতিষ্ঠা, ১৯৯৬ সালে মাল্টিমিডিয়া সুপার করিডর চালু এবং পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পেনাং ব্রিজ ও পুত্রজায়ার মতো বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব প্রকল্পের সব কটির অর্থনৈতিক সাফল্য একই মাত্রার ছিল না; তবে এগুলো মালয়েশিয়ার শিল্প, যোগাযোগ, নগরায়ণ ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্বব্যাংকের একটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৮৭ থেকে শুরু হওয়া পরবর্তী আট বছরে মালয়েশিয়ার রপ্তানিমুখী ও উৎপাদননির্ভর অর্থনীতি গড়ে ওঠার গতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ওই সময়ে গড়ে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের বেশি ছিল। বিশ্বব্যাংক এই রূপান্তরের সঙ্গে মাহাথির সরকারের বেসরকারীকরণ, অর্থনৈতিক উদারীকরণ ও ‘ভিশন ২০২০’-এর নীতিগত সম্পর্ক চিহ্নিত করেছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ১৯৭৫–১৯৮৫ সময়ে মালয়েশিয়ার মোট পণ্য রপ্তানিতে উৎপাদিত শিল্পপণ্যের অংশ ছিল প্রায় ২০ শতাংশ; ১৯৮৫–১৯৯৫ সময়ে তা বেড়ে প্রায় ৫৪ শতাংশে পৌঁছায়। এই পরিবর্তন একক কোনো নেতার সিদ্ধান্তের ফল নয়; এর পেছনে আগের দশকের শিল্পনীতি, সরকারি বিনিয়োগ, অবকাঠামো, বিদেশি পুঁজি এবং মাহাথির সরকারের রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন নীতির সম্মিলিত প্রভাব ছিল।

মাহাথিরের উন্নয়নকালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল দারিদ্র্য হ্রাস ও সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তন। ১৯৭০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া নতুন অর্থনৈতিক নীতি বা নিউ ইকোনমিক পলিসির লক্ষ্য ছিল দারিদ্র্য দূর করা এবং জাতিগত অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো। মাহাথিরের সময়ে এ নীতির বিভিন্ন দিক অব্যাহত ও পরিবর্তিত হয়। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে শিল্পায়ন, শ্রমনির্ভর রপ্তানি এবং অ-কৃষি কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সঙ্গে বুমিপুত্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও পেশাগত অগ্রগতির সম্পর্ক ছিল। তবে এই অর্জনের কৃতিত্ব শুধু মাহাথিরের নয়; পূর্ববর্তী সরকারের নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক পরিবর্তনও এর অংশ।

তবে মাহাথিরের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। ১৯৮০-এর দশকের প্রথম দিকে ভারী শিল্পায়নে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ও ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়। ১৯৮৫–৮৬ সালে মন্দা দেখা দেয়। পরে সরকার বেসরকারি খাত, রপ্তানি ও বিদেশি বিনিয়োগকে বেশি গুরুত্ব দেয়। ১৯৯৭–৯৮ সালের এশীয় আর্থিক সংকটও মালয়েশিয়ার অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দেয়। মাহাথিরের সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রচলিত ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ না করে মূলধন নিয়ন্ত্রণসহ নিজস্ব কিছু পদক্ষেপ নেয়। বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে এসব পদক্ষেপের কিছু ইতিবাচক ফলের কথা বলা হলেও সংকটটি মালয়েশিয়ার আর্থিক ব্যবস্থার দুর্বলতাও সামনে এনেছিল।

আরেকটি বিষয় হলো, মাহাথিরের সময়ে বড় প্রকল্প ও শিল্পায়নের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়িক পৃষ্ঠপোষকতার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। উন্নয়ন গবেষক জোমো কে এস ও হুই উই চং তাদের গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, অর্থনৈতিক উদারীকরণের সঙ্গে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক অভিজাতদের প্রভাবও বেড়েছিল। ফলে উন্নয়নের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি সম্পদের বণ্টন, প্রতিযোগিতা, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার প্রশ্নও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

আনোয়ারের সময়: পুরোনো শিল্পভিত্তি থেকে উচ্চপ্রযুক্তির অর্থনীতির চেষ্টা

আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে মাহাথিরের সময়ের মতো একেবারে নতুন শিল্পভিত্তি নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নেই। বরং প্রতিষ্ঠিত শিল্প, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় মালয়েশিয়ার অবস্থান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও মানবসম্পদকে আরও উন্নত করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো তার সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে।

আনোয়ারের অর্থনৈতিক দর্শনের প্রধান কাঠামো ‘মালয়েশিয়া মাদানি’ এবং ‘ইকোনমি মাদানি’। এর মূল লক্ষ্য অর্থনীতির উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো, জীবনযাত্রার মান উন্নত করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সুযোগের বৈষম্য কমানো। সরকারের ঘোষিত ‘রেইজ দ্য সিলিং’ নীতির উদ্দেশ্য উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্প, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মালয়েশিয়ার অবস্থান শক্তিশালী করা। ‘রেইজ দ্য ফ্লোর’ নীতির লক্ষ্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান, সামাজিক সুরক্ষা ও সুযোগের সমতা বাড়ানো।

আনোয়ার সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর কৌশল। ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি উচ্চপ্রযুক্তির সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং এই খাতে মালয়েশিয়ার সক্ষমতা বাড়াতে একটি সমন্বিত কৌশল তৈরির ঘোষণা দেন। লক্ষ্য শুধু চিপ সংযোজন বা পরীক্ষার কাজেই সীমাবদ্ধ না থেকে শিল্পটির উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পর্যায়ে প্রবেশ করা। বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গাড়ি, যোগাযোগব্যবস্থা ও ডেটা সেন্টারের প্রসারের কারণে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের গুরুত্ব বেড়েছে। মালয়েশিয়া এই বৈশ্বিক পরিবর্তনকে কাজে লাগাতে চায়।

এ ক্ষেত্রে আনোয়ার সরকারের নীতি আগের শিল্পায়ন কৌশলের ধারাবাহিকতা বহন করছে। মাহাথিরের সময়ে মালয়েশিয়া ইলেকট্রনিকস ও উৎপাদনশিল্পের আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় প্রবেশ করেছিল। এখন সেই ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে গবেষণা, নকশা, উন্নত উৎপাদন, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। অর্থাৎ আনোয়ারের লক্ষ্য নতুন শিল্পায়নের চেয়ে বিদ্যমান শিল্পের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও মূল্য সংযোজন বাড়ানো।

আনোয়ার সরকারের সময়ে বিনিয়োগের পরিসংখ্যানও উল্লেখযোগ্য। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে অনুমোদিত বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৩৭৮.৫ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪.৯ শতাংশ বেশি এবং সে সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এর মধ্যে দেশীয় বিনিয়োগ ছিল ২০৮.১ বিলিয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ ১৭০.৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত।

২০২৫ সালেও বিনিয়োগের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের ৬ মার্চ প্রকাশিত তথ্যে জানায়, ২০২৫ সালে অনুমোদিত বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৪২৬.৭ বিলিয়ন রিঙ্গিত, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। ৮ হাজার ৩৯০টি অনুমোদিত প্রকল্প থেকে প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার ৯০২টি নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে অনুমোদিত বিনিয়োগ মানেই সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে বা সব কর্মসংস্থান ইতিমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে—এমন নয়। বাস্তবায়ন, বিনিয়োগের গুণগত মান এবং স্থানীয় কর্মীদের দক্ষতা ও আয় বৃদ্ধিই হবে প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও আনোয়ার সরকারের সময়ে ইতিবাচক পরিসংখ্যান রয়েছে। মালয়েশিয়ার পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির অর্থনীতি ৫.১ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৫.২ শতাংশ সম্প্রসারিত হয়েছে। ২০২৫ সালে জিডিপির বর্তমান বাজারমূল্য ছিল ২.০৩ ট্রিলিয়ন রিঙ্গিত। তবে এই প্রবৃদ্ধিকে শুধু প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কৃতিত্ব হিসেবে দেখা যথাযথ হবে না। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ, বৈশ্বিক চাহিদা, রপ্তানি, ভোগব্যয়, আগের সরকারের নেওয়া প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও এতে ভূমিকা রেখেছে।

আনোয়ার সরকারের আরেকটি বড় অগ্রাধিকার রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ভর্তুকি সংস্কার। জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যে ব্যাপক ভর্তুকির কারণে সরকারি ব্যয়ের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, তা কমিয়ে প্রকৃত প্রয়োজনীয় জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর জন্য সরকারি অর্থ ও রাজস্বসংক্রান্ত সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির জন্য সহায়ক হতে পারে; কিন্তু ভর্তুকি কমানোর ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলে তা নতুন সামাজিক চাপ তৈরি করবে। তাই সংস্কারের সাফল্য নির্ভর করবে সহায়তা কতটা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায় তার ওপর।

২০২৫ সালে আনোয়ার সরকার ২০২৬–২০৩০ মেয়াদের ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অর্থনীতি, উচ্চপ্রযুক্তির শিল্প, আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস, সরকারি সেবা সংস্কার এবং সামাজিক কল্যাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৫ থেকে ৫.৫ শতাংশে রাখা, রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৩ শতাংশের নিচে নামানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য; বাস্তব অর্জন মূল্যায়নের জন্য পরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

দুই নেতার অবদানের তুলনা: সময়, নীতি ও ফলাফল

মাহাথির ও আনোয়ারের অবদান তুলনা করতে গেলে প্রথমেই তাদের দায়িত্ব পালনের সময়কাল ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আলাদা করে দেখতে হবে। মাহাথিরের প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্ব ছিল ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত। এই সময় মালয়েশিয়ার অর্থনীতিকে শিল্পায়ন, রপ্তানি, অবকাঠামো ও বিদেশি বিনিয়োগের ভিত্তিতে পুনর্গঠন করা হয়। আনোয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন ২০২২ সালে, যখন মালয়েশিয়া ইতিমধ্যে একটি শিল্পোন্নত মধ্যম আয়ের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক উৎপাদনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে তাদের কাজের ধরন ও ফলাফল একই মাপকাঠিতে মাপা কঠিন।

মাহাথিরের অবদান মূলত অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তরে। তার সময়ে রাষ্ট্রীয় শিল্পনীতি, প্রোটন, বৃহৎ অবকাঠামো, রপ্তানিমুখী উৎপাদন, বিদেশি বিনিয়োগ এবং উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন একসঙ্গে সামনে আসে। এসব উদ্যোগ মালয়েশিয়াকে আন্তর্জাতিক শিল্প ও বাণিজ্যব্যবস্থায় দৃশ্যমান অবস্থান তৈরি করতে সহায়তা করে।

আনোয়ারের অবদান এখন পর্যন্ত মূলত বিদ্যমান অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরো উন্নত করার নীতিগত প্রচেষ্টায়। উচ্চপ্রযুক্তির শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর, জ্বালানি রূপান্তর, বিনিয়োগ আকর্ষণ, রাজস্ব সংস্কার, সামাজিক সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির ওপর তার সরকারের জোর রয়েছে। বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ইতিবাচক হলেও এসব নীতির দীর্ঘমেয়াদি ফল এখনো পুরোপুরি মূল্যায়নের সময় আসেনি।

দুই নেতার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সম্পর্কের ইতিহাসও উল্লেখযোগ্য। আনোয়ার একসময় মাহাথির সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে তিনি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭–৯৮ সালের এশীয় আর্থিক সংকট মোকাবিলায় তাদের মধ্যে নীতিগত মতপার্থক্য তৈরি হয়। ১৯৯৮ সালে আনোয়ার সরকার থেকে বরখাস্ত হন। পরবর্তী সময়ে তাদের রাজনৈতিক বিরোধ মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। এই ইতিহাস দেখায়, মালয়েশিয়ার উন্নয়ন কেবল দুই নেতার প্রতিযোগিতার গল্প নয়; এটি নীতি, ক্ষমতা, প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যেরও ইতিহাস।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, উন্নয়ন বলতে আমরা কী বুঝি? শুধু জিডিপি, সুউচ্চ ভবন, বিমানবন্দর ও বিদেশি বিনিয়োগ দিয়ে একটি দেশের উন্নয়ন পরিমাপ করা যায় না। কর্মসংস্থানের মান, আয়বৈষম্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, আঞ্চলিক ভারসাম্য, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক জবাবদিহি এবং নাগরিকের জীবনযাত্রার নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মাহাথিরের সময়ে শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সীমাবদ্ধতা এবং ব্যবসায়িক পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। অন্যদিকে আনোয়ারের ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচিতে সুশাসন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও অর্থনৈতিক সুযোগের সমতার কথা থাকলেও এসব লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা বিচার করতে হবে প্রকৃত ফলাফল দিয়ে। জীবনযাত্রার ব্যয়, আয়বৈষম্য, কর্মসংস্থানের মান এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি না হলে উচ্চ বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির সুফল সবার কাছে পৌঁছাবে না।

মালয়েশিয়ার উন্নয়ন থেকে বাংলাদেশের শিক্ষা

মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। প্রথমত, উন্নয়নকে স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করতে হয়। মাহাথিরের ‘ভিশন ২০২০’ এই দৃষ্টিভঙ্গির একটি উদাহরণ। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, দক্ষ প্রশাসন এবং কার্যকর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, শুধু সস্তা শ্রম দিয়ে দীর্ঘদিন রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব হলেও উচ্চ আয়ের অর্থনীতিতে যেতে হলে প্রযুক্তি, গবেষণা, দক্ষতা ও স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে হয়। মালয়েশিয়া ইলেকট্রনিকস ও উৎপাদনশিল্পের মাধ্যমে যে অবস্থান তৈরি করেছে, এখন সেমিকন্ডাক্টর ও উচ্চপ্রযুক্তির শিল্পে আরো এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের পাশাপাশি ওষুধ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে এমন রূপান্তর প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য শুধু কর ছাড় বা জমি দিলেই হয় না। নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, বন্দর, যোগাযোগ, দক্ষ জনশক্তি, আইনের শাসন, নীতির ধারাবাহিকতা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হয়। মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা দেখায়, অবকাঠামো ও শিল্পনীতি একে অন্যের পরিপূরক।

চতুর্থত, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। প্রবৃদ্ধি বাড়লেও যদি জীবনযাত্রার ব্যয়, বৈষম্য ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা বাড়ে, তাহলে উন্নয়নের সামাজিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। মালয়েশিয়ার নতুন পরিকল্পনায় ‘রেইজ দ্য ফ্লোর’ বা সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পেছনে এই বাস্তবতা রয়েছে।

পঞ্চমত, উন্নয়নের নামে রাজনৈতিক জবাবদিহি ও নাগরিক অধিকারকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। কার্যকর প্রশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন গণমাধ্যম, আইনের সমতা এবং নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে অর্থনৈতিক দক্ষতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহির মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে।

মালয়েশিয়ার উন্নয়নে নেতৃত্বের কৃতিত্ব

মালয়েশিয়ার উন্নয়নে মাহাথির মোহাম্মদের ভূমিকা প্রধানত শিল্পায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, রপ্তানিমুখী অর্থনীতি এবং আধুনিক রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন সরকার সেই ভিত্তিকে উচ্চপ্রযুক্তি, উদ্ভাবন, বিনিয়োগ, রাজস্ব সংস্কার ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

সুতরাং তাদের অবদানকে একটি সরল প্রতিযোগিতায় নামিয়ে এনে একজনকে বিজয়ী ঘোষণা করলে মালয়েশিয়ার উন্নয়নের প্রকৃত ইতিহাস ধরা পড়বে না। মাহাথিরের দীর্ঘ শাসনামলে যে শিল্প ও অবকাঠামোগত ভিত্তি তৈরি হয়েছে, আনোয়ার সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন অর্থনৈতিক রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। আনোয়ারের পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক বছরে বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা, আয়বৈষম্য ও জনকল্যাণের পরিমাপযোগ্য ফলাফলের ওপর।

মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতার সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এই যে, কোনো দেশের উন্নয়ন একজন নেতার একক কৃতিত্ব নয়। এটি বহু দশকের নীতি, প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, উদ্যোক্তা, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সম্মিলিত ফল। নেতৃত্বের কৃতিত্ব নির্ধারিত হয় কে কত বড় ঘোষণা দিয়েছেন তা দিয়ে নয়, বরং তার সময়ে গৃহীত নীতি কতটা কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কতটা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক ভিত্তি রেখে গেছে, তা দিয়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক ঘোষণায় মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি পেলেন ৫৪৮ বন্দী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


এক ঘোষণায় মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি পেলেন ৫৪৮ বন্দী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউজম ঘোষণা করেছেন যে, ৫৪৮ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করা হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে এত সংখ্যক মানুষের সাজা মওকুফের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এই ঘোষণা দেন। এর ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না। তাদের আমৃত্যু কারাগারে থাকতে হবে, তবে মুক্তির কোনো সুযোগ তাদের থাকবে না।

একটি খোলা চিঠিতে নিউজম উল্লেখ করেন, "রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কাউকে হত্যা করা ক্যালিফোর্নিয়ার মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি বিচারব্যবস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে এবং সমাজের নৈতিকতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।" এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

গত ২০ বছরে ক্যালিফোর্নিয়ায় কোনো বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। তবে, অঙ্গরাজ্যটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের তালিকা বিদ্যমান ছিল।

মৃত্যুদণ্ডের বিরোধীরা বলেন, নিরপরাধ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি, বিচারপ্রক্রিয়ার ভুল এবং এই শাস্তি কার্যকরের বিপুল ব্যয় হচ্ছে বড় সমস্যা। মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক তথ্যকেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ১৯৭৮ সাল থেকে ক্যালিফোর্নিয়া এ শাস্তি কার্যকরের পেছনে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে, অথচ এ সময়ে মাত্র ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

এছাড়া, ১৯৭৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২০৩ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী পরে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্তি পেয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে জাতিগত সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগও দীর্ঘকাল ধরে রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ২৩টি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ রয়েছে। অন্য কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এ শাস্তি কার্যকর কার্যত বন্ধ রয়েছে। তবে, দেশটিতে হত্যার দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পক্ষে এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন বিদ্যমান।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গুরুতর ফেডারেল অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এমনকি গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যবস্থাও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নিউজমের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার ও অপরাধবিচার সংস্কার সংগঠন। মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক তথ্যকেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক রবিন মাহের বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।" এর আগে কোনো গভর্নর এত বড় পরিসরে একসঙ্গে সাজা কমানোর সিদ্ধান্ত নেননি।

তবে, সাজা কমানোর ঘোষণাটি চূড়ান্ত হতে কিছু আইনি প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের ক্ষেত্রে একাধিক অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার সর্বোচ্চ আদালতের পর্যালোচনা প্রয়োজন হবে।

গভর্নরের দায়িত্ব পালন করা নিউজমের মেয়াদ আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শেষ হচ্ছে। মেয়াদসীমার কারণে তিনি আর গভর্নর পদে থাকতে পারবেন না। আগামী ৪ জানুয়ারি সাবেক মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেভিয়ার বেসেরা তার স্থলাভিষিক্ত হবেন।

২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিউজমের সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার আলোচনা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে উইন্ডিজের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জাঙ্গু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে উইন্ডিজের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জাঙ্গু

বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার দিনেই সুখবর পেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের আমির জাঙ্গু। তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে স্থান পেয়েছেন।

মিডলঅর্ডার এই ব্যাটার বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন। হাসান মাহমুদের শিকার হওয়ার আগে তিনি ১৩৩ রান করেন। এছাড়া, কেন্দ্রীয় চুক্তিতে প্রথমবারের মতো জায়গা পেয়েছেন ম্যাথিউ ফোর্ডও।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট (সিডব্লিউআই) বৃহস্পতিবার পুরুষ ও নারী ক্রিকেট দলের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের তালিকা প্রকাশ করেছে। সকল চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকবে।

অধিনায়ক শাই হোপ (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) এবং রোস্টন চেজ (টেস্ট) ২০২৬-২৭ মৌসুমের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নিজেদের স্থান ধরে রেখেছেন। ওপেনিং ব্যাটার জন ক্যাম্পবেল ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো চুক্তির তালিকায় ফিরেছেন।

আগেরবার কেন্দ্রীয় চুক্তি পাওয়া অলরাউন্ডার রোমারিও শেফার্ড এবং ব্যাটার ব্র্যান্ডন কিং ও অ্যালিক অ্যাথানেজ এবার চুক্তির তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। জুয়েল অ্যান্ড্রু, আকিম অগাস্টে ও ভিটেল লওয়েস উন্নয়নমূলক চুক্তি পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সি বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার লওয়েসকে বিশেষভাবে সম্ভাবনাময় মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সাতটি ওয়ানডে খেলেছেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ পুরুষ সিনিয়র দলের কেন্দ্রীয় চুক্তিপ্রাপ্ত খেলোয়াড়রা

জন ক্যাম্পবেল, কেসি কার্টি, রোস্টন চেজ (টেস্ট অধিনায়ক), ম্যাথিউ ফোর্ড, জাস্টিন গ্রিভস, শাই হোপ (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক), আকিল হোসেন, আমির জাঙ্গু, আলজারি জোসেফ, শামার জোসেফ, গুদাকেশ মতি, রোভম্যান পাওয়েল, শেরফান রাদারফোর্ড, জায়দেন সিলস ও জোমেল ওয়ারিকান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী সিনিয়র দলের কেন্দ্রীয় চুক্তিপ্রাপ্ত খেলোয়াড়রা

আলিয়া অ্যালেইন, শেমেইন ক্যাম্পবেল, জাহজারা ক্ল্যাক্সটন, ডিয়েন্দ্রা ডটিন, আফি ফ্লেচার, জানিলিয়া গ্লাসগো, রিয়ালিয়ানা গ্রিমন্ড, শনিশা হেক্টর, চিনেল হেনরি, জায়দা জেমস, ম্যান্ডি মাংরু, হেইলি ম্যাথিউস (অধিনায়ক), অশমিনি মুনিসার, করিশমা রামহারাক ও স্টেফানি টেলর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যে ভারতীয় নাবিকের কারাদণ্ড নিয়ে বিতর্ক তীব্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


যুক্তরাজ্যে ভারতীয় নাবিকের কারাদণ্ড নিয়ে বিতর্ক তীব্র

যুক্তরাজ্যে রুশ তেল নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতীয় নাবিক ও জাহাজ ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড এবং আটকের ঘটনা নতুন সংকটের সূচনা করেছে বৈশ্বিক সমুদ্র বাণিজ্য এবং ভূরাজনীতিতে।

এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মহলে একটি ‘পারফেক্ট স্টর্ম’ বা ভয়াবহ ঝড়ের সাথে তুলনা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা অবস্থায় রুশ তেলবাহী একটি ‘শ্যাডো ফ্লিট’ (ছায়া নৌবহর) ট্যাংকার আটক করার পর ভারতীয় ক্যাপ্টেন অজয় পান্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের অভিযানের মাধ্যমে জাহাজটিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকেই এই আইনি জটিলতার সূচনা ঘটে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর রুশ নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার এই কৌশল আন্তর্জাতিক জলসীমায় কর্মরত সাধারণ নাবিক ও ক্রুদের জন্য চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং আইনি ঝুঁকি তৈরি করছে। এই ঘটনা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%