০৯:৪৬ পি.এম
ব্রিটেন সোমবার সাতজন রুশ বিজ্ঞানীর এবং দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে রাসায়নিক হামলায় ব্যবহৃত রাসায়নিক অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করার।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডে আত্মগোপনে থাকা সাবেক রুশ গুপ্তচরের ওপর হামলায় ব্যবহৃত 'নোভিচক' (ঘড়ারপযড়শ) স্নায়ুবিষ এবং ২০২৪ সালে সাইবেরিয়ায় রুশ বিরোধীদলীয় নেতা আলেক্সেই নাভালনিকে প্রাণঘাতীভাবে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত করতে ব্যবহৃত বলে ধারণা করা একটি রাসায়নিক পদার্থের উন্নয়নে জড়িত ছিলেন।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'নতুন এ পদক্ষেপের মাধ্যমে বিষাক্ত রাসায়নিকের উন্নয়ন ও উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত দুটি শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।'
আরও পড়ুন: মিষ্টির আসনে উপনির্বাচনের জন্য এমপিদের স্বাক্ষরের তালিকা চায় ইসি
২০১৮ সালের মার্চে, ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর স্যালিসবারিতে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়েকে 'নোভিচক' স্নায়ুবিষ প্রয়োগ করে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত করার অভিযোগ রুশ গোয়েন্দা এজেন্টদের বিরুদ্ধে আনা হয়।
এই হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে রাসায়নিক অস্ত্রের প্রথম আক্রমণাত্মক ব্যবহার হিসেবে দেখা হয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর ফলস্বরূপ পশ্চিমা দেশগুলো সম্মিলিতভাবে বিপুলসংখ্যক রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে।
স্ক্রিপাল এবং তার মেয়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও এরপর এক ব্রিটিশ নারী মারা যান। ধারণা করা হয়, ওই নারী নোভিচক বহনে ব্যবহৃত একটি ফেলে দেওয়া সুগন্ধির বোতল কুড়িয়ে পাওয়ার পর বিষের সংস্পর্শে এসেছিলেন।
আলেক্সেই নাভালনি, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতা, রুশ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে লাখো মানুষকে রাজপথে নামতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন পরিচিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সৌদির দাবি, ৫ ড্রোন ধ্বংসের মধ্যে ৪টি মদিনার দিকে ছিল
১৯ বছরের কারাদণ্ড ভোগরত অবস্থায়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্কটিক অঞ্চলের একটি কারা উপনিবেশে তার মৃত্যু ঘটে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, 'বারবার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের জঘন্য লঙ্ঘন এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি।'
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি হলো রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসসি সিগন্যাল এবং অন্যটি দেশটির সায়েন্টিফিক রিসার্চ অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট ফর মিলিটারি মেডিসিন (জিএনআইআইআই ভিএম)।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ওই দুই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞরাও রয়েছেন।
আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান
মঙ্গলবার তুরস্কের আঙ্কারায় শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হলো। সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মস্কোর যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত তিন হাজার ৪০০-এর বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন