নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৮:৪০ পি.এম
পিরোজপুর জেলাকে মাদকমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক দায়িত্বশীলতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) ও কাউখালী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পৃথক মাদকবিরোধী মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সকালে নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক আহমেদ। সভায় মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে না, একটি পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়। বিশেষ করে যুবসমাজকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বক্তারা তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে বিকেলে কাউখালী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে দ্বিতীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আক্তার।
সভা দুটি সঞ্চালনা করেন ‘মাদক প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ’-এর আহ্বায়ক, পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. মনিরুজ্জামান নাসিম আলী।
সভায় বক্তারা মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। এ লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, প্রচার-প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
একই সঙ্গে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণকারীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনটির জেলা প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক মো. শাহ আলম, নেছারাবাদ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হাসান, স্বরূপকাঠী পৌরসভার সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম ফরিদ, উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল কালাম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম আনোয়ারসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের সদস্য, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বাইউস্ট মডেল ইউনাইটেড ন্যাশনস ২০২৬’।
সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামী ৮ নভেম্বর (শুক্রবার) কুমিল্লার বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অডিটোরিয়ামে হবে। এই আয়োজনটি ১০ নভেম্বর বিকেলে শেষ হবে।
বাইউস্টের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশি ও বিদেশি ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। সম্মেলনের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক কূটনীতি, রাজনীতি, আইন, সাংবাদিকতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে কাজ করা।
আয়োজকদের আশা, এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক আলোচনা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। শিক্ষার্থীরা বাস্তবভিত্তিক আন্তর্জাতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা, গবেষণা, যুক্তি উপস্থাপন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা সম্মেলনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এতে উপস্থিত ছিলেন সম্মেলনের মহাসচিব আল-আমিন, উপ-মহাসচিব আনিকা তাহসিন, জনি আহমেদ, মহাপরিচালক রাত্রী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আয়োজক ও শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, অংশগ্রহণকারী, একাডেমিক কার্যক্রম এবং কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। আয়োজকরা জানান, এবারের সম্মেলনে বিশ্বের পাঁচটি দেশের প্রতিনিধিত্বসহ মোট ৩০ জন বিচারক এবং ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন কমিটিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন।
সম্মেলনের একাডেমিক কার্যক্রমকে সাতটি পৃথক কমিটিতে ভাগ করা হয়েছে। কমিটিগুলো হলো: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, জাতিসংঘ নারী বিষয়ক সংস্থা, শরণার্থী, খাদ্য ও কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিচার আদালত এবং জাতীয় সংসদ।
প্রতিটি কমিটিতে নির্দিষ্ট বিষয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক ও গবেষণা পরিচালিত হবে। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক সংকট, মানবাধিকার, খাদ্যনিরাপত্তা, নারী অধিকার, প্রযুক্তির অগ্রগতি, বিচারব্যবস্থা এবং জাতীয় নীতিনির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজেদের চিন্তাভাবনা ও দক্ষতা প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
বিশেষজ্ঞ বিচারকদের সামনে নিজেদের বক্তব্য, গবেষণালব্ধ তথ্য এবং যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভিন্ন সংস্কৃতি, চিন্তাধারা ও রাষ্ট্রীয় অবস্থান সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষ করে বর্তমান বিশ্বে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভূরাজনীতি, প্রযুক্তি, মানবাধিকার ও বৈশ্বিক সংকটের মতো বিষয়গুলো তরুণদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই তিন দিনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লায় দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষামূলক মিলনমেলা তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের অর্থনীতির সাফল্য নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার শাসনামলে মার্কিন নাগরিকদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প বারবার উল্লেখ করেছেন, "বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সবচেয়ে গতিশীল।"
গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, ট্রাম্পের ব্যাপকভিত্তিক ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক আরোপের পর মার্কিন অর্থনীতির অবস্থা যে খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, বাস্তবে পরিস্থিতি তার চেয়ে ভালো দেখা যাচ্ছে।
তবে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, এসব আমদানি শুল্ক এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাবে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব ভোগ করতে হচ্ছে অধিকাংশ মার্কিন পরিবারকে।
অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ মার্কিন অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে। তবে এ খাতে বিনিয়োগের গতি থেমে গেলে দেশটির অর্থনীতিও বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে।
তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের কাছে দেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি কেমন? ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কি সত্যিই জি-৭ জোটের অন্য দেশগুলোর তুলনায় দ্রুত এগোচ্ছে?
জি-৭-এর অন্য দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতি বেশ ভালো গতিতে এগোচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, মার্কিন জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন, যা দিয়ে অর্থনীতিবিদেরা একটি দেশের অর্থনীতির আকার পরিমাপ করেন, বর্তমানে বার্ষিক ২ দশমিক ২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে, অর্থাৎ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের ঠিক আগের সময় থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ। এই সময়ে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর সংগঠন জি-৭-এর অন্য যেকোনো সদস্য দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধির হার বেশি।
এদিকে, দেশটির ভোটারদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। কারণ, এই খাতে বিনিয়োগের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টি জড়িত। উপরিউক্ত চিত্রে মার্কিন অর্থনীতিতে এআই ডেটা সেন্টারগুলোতে বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
ট্রাম্পের শুল্ক ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি?
নিচের চিত্রে ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার কীভাবে বেড়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অনেক মার্কিন ভোটার সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন। কারণ, করোনা মহামারির পর পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্ট ভোগান্তির জন্য তারা বাইডেনকেই দায়ী করেছিলেন।
তবে ২০২২ সালে বাইডেনের শাসনামলে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৯ শতাংশে পৌঁছেছিল। বর্তমান হার সেই তুলনায় অনেক কম। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর যেসব নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন, সেগুলো না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার আরো কম থাকত।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় ইরান যুদ্ধের প্রভাবেও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও, যা মূল্যস্ফীতি বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ৫২ ডলারে পৌঁছায়, যা ছিল রেকর্ড। ডিজেল কৃষিকাজ ও শিল্পকারখানায় বহুল ব্যবহৃত একটি জ্বালানি। ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গরুর মাংস ও কফির মতো কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে এ সময়ে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে।
বাড়ছে পরিবারের আয়, তবে সবাই সমান সুবিধা পাচ্ছে না
এদিকে, ট্রাম্পের শাসনামলেও মার্কিন পরিবারগুলোর গড় আয় বাড়ছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে হিসাব করলে, ২০২৫ সালে দেশটির মধ্যম আয় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
তবে ‘ইনস্টিটিউট অন ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পলিসি’ (আইটিইপি) নামের একটি থিংক ট্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালে মধ্যম আয়ের ২০ শতাংশ পরিবার আগের তুলনায় গড়ে প্রায় ১ হাজার ৭০০ ডলার কম সুবিধা পাচ্ছে। একইভাবে, সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবার পাচ্ছে প্রায় ৭৫০ ডলার কম সুবিধা।
অন্যদিকে, প্রধানত ট্রাম্পের কর ছাড়ের নীতির কারণে সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশ মানুষ অন্যান্য পরিস্থিতির তুলনায় গড়ে ১২ হাজার ৫৬০ ডলার বেশি সুবিধা পাচ্ছেন বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।
মার্কিন পরিবারগুলোর বিভিন্ন আয়স্তরের ওপর শুল্কের প্রভাব নিয়ে আইটিইপির এই প্রাক্কলন মূলত ট্যাক্স ফাউন্ডেশন নামের আরেকটি থিংক ট্যাংকের হিসাবের সঙ্গে মিলে যায়।
প্রত্যাশার তুলনায় কম কর্মসংস্থান সৃষ্টি
ট্রাম্প বলেছিলেন, তার শুল্কনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানে ব্যাপক উল্লম্ফন ঘটবে। তার যুক্তি ছিল, শুল্ক এড়াতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নতুন কারখানা গড়ে তুলবে। এর ফলে দেশে বিপুলসংখ্যক নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে মার্কিন অর্থনীতিতে প্রতি মাসে গড়ে ৩৪ হাজার নতুন চাকরি যুক্ত হয়েছে। অথচ বাইডেনের প্রেসিডেন্সির শেষ বছরে প্রতি মাসে গড়ে ১ লাখ ২২ হাজার নতুন চাকরি তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ, বাইডেনের শেষ বছরের তুলনায় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি অনেকটাই কম।
বাড়ছে সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। এর পেছনে তার উল্লেখযোগ্য কর ছাড়ের নীতিও কিছুটা দায়ী। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে মার্কিন ফেডারেল সরকারের বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, ওই সময়ে কর থেকে সরকারের আয় এবং সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান ছিল ২ ট্রিলিয়ন ডলার। এই ঘাটতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশের সমান। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাজেট ঘাটতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন মন্তব্য করেছেন, যারা সংবিধানকে ছুড়ে ফেলার চিন্তা করেন, তারা কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি।
তিনি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সংবিধান দিবস উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।
খোকন বলেন, "সংবিধান রক্ষার জন্যই জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থী, শিশু ও সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছেন, অনেকে হয়েছেন পঙ্গু। কিন্তু যারা সংবিধান ছুড়ে ফেলার চিন্তা করেন, তারা কোনোদিনই বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি।"
অনুষ্ঠানে সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতি হলো জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণই রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক।
তিনি আরও বলেন, মানুষের অধিকার রক্ষার কাজ এখনো শেষ হয়নি। স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, সুষ্ঠু নির্বাচন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে হবে।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি আয়োজিত সভায় আইনবিদ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই বিপ্লবে রাজধানীর মিরপুর অঞ্চলে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এসএম সায়েম। আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেন তিনি। তাদের মধ্যে কয়েকজন শহীদ হন। একজনের পেটে গুলি লেগে ভুঁড়ি বেরিয়ে যায়, আরেকজনের মগজ বের হয়ে ঝুলে থাকে এবং আরেকজনের চোখে গুলি লাগলে অন্ধ হয়ে যান। মূলত সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের প্ররোচনায় শেখ হাসিনার নির্দেশে কারফিউ জারি হলে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সায়েমের জবানবন্দিতে এসব বিষয় উঠে আসে।
জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ত্রয়োদশ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।
জবানবন্দিতে সায়েম বলেন, "আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকার সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৪ জুন হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত এলে আমরা এর প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করি। ৩০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করি। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় ৬ জুলাই বাংলা ব্লকেড এবং ৯ জুলাই এক দফা কর্মসূচি ঘোষণা করি।"
তিনি উল্লেখ করেন, "আন্দোলন শুরুর পর থেকেই গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের হুমকি দেওয়া হতে থাকে। ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি ও রাজাকারের বাচ্চা’ বলে বিদ্রূপাত্মক বক্তব্যের পর সারা দেশের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা ‘তুমি কে, আমি কে, রাজাকার-রাজাকার’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। ১৫ জুলাইও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। পরদিন ১৬ জুলাই আমি মিরপুরের সনি সিনেমা হলের সামনে বিকেল ৪টা থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিই। এ সময় পুলিশ আমাকে আটক করে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন চালায়। পরে আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে পুলিশ আমাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।"
জবানবন্দিতে এই জুলাইযোদ্ধা বলেন, "ওই দিন রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে এবং চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ সারা দেশে ছয়জন আন্দোলনকারী শহীদ হন। এসব হত্যাকাণ্ড আমাদের আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। পরবর্তী সময়ে সরকার কারফিউ জারি, গণগ্রেপ্তার, ইন্টারনেট বন্ধ এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের আটক করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে। ২৬ জুলাই ডিবি পুলিশ আন্দোলনের কয়েকজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ককে আটক করে। তাদের জোরপূর্বক আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাই।"
তিনি আরও বলেন, "৩০ জুলাই মার্চ ফর জাস্টিস এবং ৩১ জুলাই রিমেম্বার আওয়ার হিরোজ কর্মসূচি পালন করি। ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের সমাবেশে নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা ঘোষণা করেন। ৪ আগস্ট সারা দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। ওই দিন সারা দেশে ৩০০ থেকে ৪০০ জন আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়। ৫ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করেন। যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, গাবতলীসহ বিভিন্ন প্রবেশমুখ দিয়ে জনস্রোত ঢাকায় আসতে থাকে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলিবর্ষণ করা হয়। কিন্তু জনস্রোত থামানো যায়নি। একপর্যায়ে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যান এবং সরকারের পতন ঘটে।"
সায়েম বলেন, "আন্দোলন চলাকালে আমি বেশ কয়েকজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছি। তাদের মধ্যে কয়েকজন পরবর্তী সময়ে শহীদ হয়েছেন। গুলিতে কারও নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়, কারও মগজ বের হয়ে যায় এবং কারও চোখ নষ্ট হয়ে যায়। আমাকে আটক করার উদ্দেশ্যে একাধিকবার আমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। বাড়ির একটি দেয়াল গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে যায়, আমাকে যেখানেই পাবে, সেখানেই হত্যা করবে। এসব ঘটনা ও স্মৃতি এখনো আমাকে তাড়িত করে।"
জুলাইযোদ্ধা সায়েম বলেন, "আন্দোলনে যে হত্যাকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে, তার অন্যতম ফ্যাক্টর ছিল কারফিউ জারি। কারফিউ জারি না করলে এত হত্যাকাণ্ড হয়তো হতো না। এই কারফিউ জারির মূল কারিগর হলেন সালমান এফ রহমান এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আমি হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত সবার বিচার চাই। যারা নিহত ও আহত হয়েছেন এবং স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের জন্য সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ চাই। একই সঙ্গে এই ট্রাইব্যুনালে যারা সাক্ষ্য দিচ্ছি, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ