০৩:২৭ এম
সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে ছাত্রদল অংশগ্রহণ করলেও বর্জন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ অন্যান্য সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েমসহ অন্যান্য ছাত্র সংসদের নেতারাও বৈঠকটি বর্জন করেন। তাদের দাবি, সংবিধান সংশোধন নয়, বরং গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করা আবশ্যক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলো অংশগ্রহণ করেনি। এই ১৭ সদস্যের কমিটির মধ্যে ১২ সদস্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের। বিরোধীদের জন্য পাঁচটি পদ খালি রয়েছে। তারা গণভোট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করার দাবি জানাচ্ছে। মঙ্গলবার সংসদে গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছাত্রসংগঠন এবং নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল কমিটি।
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ জানিয়েছেন, গণভোটে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষের প্রদত্ত জনরায়কে উপেক্ষা করে সরকার সংস্কারের পরিবর্তে একদলীয় কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করছে। তারা পুরোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সংবিধানকে বহাল রাখতে চাইছে। "সংবিধান সংস্কার পরিষদ" গঠন না করে জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করা হচ্ছে। এই কারণে শিবির বৈঠক বর্জন করেছে।
আরও পড়ুন: শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ ও মজুরি বৃদ্ধির দাবি শ্রমিক শক্তির
ছাত্রশক্তি সংবিধান সংশোধন কমিটিকে প্রহসন আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, এই কমিটি গণভোটে গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করছে। কমিটির গঠন, কার্যক্রম কিংবা সুপারিশ ছাত্রশক্তি মেনে নেয় না।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "ভোট দিয়েছে সংস্কারের জন্য, তাহলে সংশোধনের কমিটি কোথা থেকে এলো?" এই কমিটিতে কারা আছেন, কয়টি বৈঠক হয়েছে, কী প্রস্তাব এসেছে, তা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। যে কাঠামোর ভিত্তিই গণরায়বিরোধী, তাদের সঙ্গে আলোচনায় সংস্কার হতে পারে না।
ছাত্রশক্তি সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়েছে।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত না হওয়ায় তারা সভায় অংশ নেয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণ রায় দিয়েছে। তা উপেক্ষা করে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে। এ ধরনের উপহাসমূলক মতবিনিময় সভা দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনবে না। এজন্য ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির সভায় অংশ নেয়নি।
আরও পড়ুন: আলোচনা সভায় বক্তারা: ধর্মীয় চিন্তা থেকে সংবিধান সংশোধন করা যাবে না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন