ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক বর্জন ইসলামী ছাত্রশিবির ও অন্যান্য সংগঠনের


সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক বর্জন ইসলামী ছাত্রশিবির ও অন্যান্য সংগঠনের

সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে ছাত্রদল অংশগ্রহণ করলেও বর্জন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ অন্যান্য সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েমসহ অন্যান্য ছাত্র সংসদের নেতারাও বৈঠকটি বর্জন করেন। তাদের দাবি, সংবিধান সংশোধন নয়, বরং গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করা আবশ্যক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলো অংশগ্রহণ করেনি। এই ১৭ সদস্যের কমিটির মধ্যে ১২ সদস্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের। বিরোধীদের জন্য পাঁচটি পদ খালি রয়েছে। তারা গণভোট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করার দাবি জানাচ্ছে। মঙ্গলবার সংসদে গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছাত্রসংগঠন এবং নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল কমিটি।

ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ জানিয়েছেন, গণভোটে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষের প্রদত্ত জনরায়কে উপেক্ষা করে সরকার সংস্কারের পরিবর্তে একদলীয় কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করছে। তারা পুরোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সংবিধানকে বহাল রাখতে চাইছে। "সংবিধান সংস্কার পরিষদ" গঠন না করে জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করা হচ্ছে। এই কারণে শিবির বৈঠক বর্জন করেছে।

আরও পড়ুন: শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ ও মজুরি বৃদ্ধির দাবি শ্রমিক শক্তির

ছাত্রশক্তি সংবিধান সংশোধন কমিটিকে প্রহসন আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, এই কমিটি গণভোটে গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করছে। কমিটির গঠন, কার্যক্রম কিংবা সুপারিশ ছাত্রশক্তি মেনে নেয় না।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "ভোট দিয়েছে সংস্কারের জন্য, তাহলে সংশোধনের কমিটি কোথা থেকে এলো?" এই কমিটিতে কারা আছেন, কয়টি বৈঠক হয়েছে, কী প্রস্তাব এসেছে, তা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। যে কাঠামোর ভিত্তিই গণরায়বিরোধী, তাদের সঙ্গে আলোচনায় সংস্কার হতে পারে না।

ছাত্রশক্তি সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়েছে।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত না হওয়ায় তারা সভায় অংশ নেয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণ রায় দিয়েছে। তা উপেক্ষা করে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে। এ ধরনের উপহাসমূলক মতবিনিময় সভা দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনবে না। এজন্য ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির সভায় অংশ নেয়নি।

আরও পড়ুন: আলোচনা সভায় বক্তারা: ধর্মীয় চিন্তা থেকে সংবিধান সংশোধন করা যাবে না

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলোচনা সভায় বক্তারা: ধর্মীয় চিন্তা থেকে সংবিধান সংশোধন করা যাবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ এম


আলোচনা সভায় বক্তারা: ধর্মীয় চিন্তা থেকে সংবিধান সংশোধন করা যাবে না

রাজধানীর একটি আলোচনা সভায় বক্তারা জানিয়েছেন, দেশের এবং জাতির প্রয়োজনের তাগিদে সংবিধান সংশোধন সম্ভব। তবে বক্তারা সতর্ক করেছেন যে, সংবিধানের মূল বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনা যাবে না। বক্তারা উল্লেখ করেছেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি সঠিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। ধর্মীয় চিন্তা থেকে কোনোভাবেই সংবিধান সংশোধন করা উচিত নয়। যারা ক্ষমতায় থাকার জন্য সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না। জনগণ এমন পরিবর্তন মেনে নেবে না।

সংবিধান দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। মানবাধিকার, গণতন্ত্র, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং ৭২-এর সংবিধানের চার মূলনীতি নিয়ে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ড. কামাল হোসেন। তিনি অসুস্থ অবস্থায় হুইলচেয়ারে করে অনুষ্ঠানে আসেন। তাঁর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক সানজিদ রহমান শুভ। লিখিত বক্তব্যে কামাল হোসেন বলেন, "মানুষের অধিকার রক্ষার কাজ এখনও শেষ হয়নি। দেশে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, সুষ্ঠু নির্বাচন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ম, গোষ্ঠী, লিঙ্গ, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো বৈষম্য চলতে দেওয়া যাবে না।"

গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল বলেন, "বাংলাদেশের সংবিধান জাতির সংগ্রামের ফসল। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিল দেশের মানুষ। ১৯৭২ সালের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের চার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। জনগণই রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক।" তিনি আরও বলেন, "সংবিধানকে সমুন্নত রেখে আমরা সবাই মিলে গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।"

আলোচনা সভায় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, "সময়ের বিবর্তনে সংবিধান সংশোধন করা অবশ্যই প্রয়োজন। সেটা আমরাও চাই। তবে একটা সঠিক পদ্ধতি আছে। সংবিধান সংশোধনের নামে জাতিকে বিভক্ত করা যাবে না। সম্প্রতি আমাদের কিছু তরুণ বন্ধু বলেছেন, সংবিধান ছুড়ে ফেলতে হবে, পুড়িয়ে ফেলতে হবে। তাদের এ ধরনের কথা অবৈধ। জুলাই সনদ মানতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।" তিনি বলেন, "যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল তারা আজ সংবিধান সংস্কার করতে চায়। গণভোটের জন্য তারা লংমার্চ করে।"

সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, "ধর্মীয় চিন্তা থেকে সংবিধান সংশোধন করা যাবে না। ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য যারা সংবিধান সংশোধন করতে চান, সেটা অতীতেও টেকেনি, ভবিষ্যতেও টিকবে না। আর যদি গণভোটের জন্য করতে চান, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার জন্য করতে চান, সম্পদের সুষম বণ্টনের জন্য করতে চান– সর্বজনীন হলে হয়তো টিকে থাকবে।" তিনি আরও বলেন, "কোটি কোটি মানুষকে কর্মহীন রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করা যাবে না।"

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, "ধর্মীয় চিন্তা থেকে সংবিধান সংশোধন নয়, বরং সংবিধান সংশোধনে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন, তবে সেটা হতে হবে জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে। সংবিধান সংশোধন করতে গিয়ে যেন সুরক্ষামূলক বিধানগুলো বাদ না পড়ে, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি সংবিধান নিয়ে আলোচনায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

মানবাধিকারকর্মী সারা হোসেন বলেন, "৭২ এর সংবিধান নিয়ে অতীতে যে সমালোচনাগুলো এসেছিল, এর অনেক কিছু এখনও অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মতামত নেওয়া হয় নাই। তড়িঘড়ি করে কিছু না করে জনগণের মতামত নিয়ে অবশ্যই সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন। একটি দেশের ৫০ বছর পার হওয়ার পর সমাজের পরিবর্তন আসে, দেশের মধ্যে পরিবর্তন আসে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিবর্তন আসে। এখন অনেক পরিবর্তন এসেছে সেগুলোর প্রতিফলন অবশ্যই আমরা আমাদের সংবিধানেও দেখতে চাই। সংবিধানে অবশ্যই ধর্মনিরপেক্ষতা এবং আমাদের মূলনীতিগুলো রক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রত্যেক মানুষের জীবনের অধিকার সঠিকভাবে রক্ষা করতে হবে।"

সভায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, "অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ একটি পর্যায়ে এসেছে। এখন জাতিকে আর বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।" তিনি বলেন, "৫৪ বছর ধরে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করছি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য। এক এগারোর সরকার কিছুটা করেছে। সচিবালয় (সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়) এখান থেকে তুলে নিয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাহলে আমরা যেখানে ছিলাম সেখানেই রয়ে গেছি।" তিনি বলেন, "মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন। সেই লক্ষ্য থেকে সরে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সুব্রত চৌধুরী অভিযোগ করেন, "মাঠপর্যায়ে বিরোধী দল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দিতে চায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশে মবতন্ত্র ও মৌলবাদের উত্থান ঘটেছে, যার প্রভাব এখনো মানুষকে ভোগাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মৌলবাদী গোষ্ঠী দেশে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। তাই যে কোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে এবং তাদের নির্মূল করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ ও মজুরি বৃদ্ধির দাবি শ্রমিক শক্তির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ এম


শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ ও মজুরি বৃদ্ধির দাবি শ্রমিক শক্তির

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে এনসিপির অঙ্গ সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’ সংহতি প্রকাশ করেছে। তারা শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং তিন দিনের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করার দাবি তুলেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলা মোটরে এনসিপি কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ এমপি, শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির, সদস্য সচিব ঋয়াজ মোর্শেদ, মুখ্য সংগঠক আরমান হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

মাজহারুল ফকির মন্তব্য করেন, বিএনপি সরকার ৯ মাস ধরে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করেছে এবং তাদের সাথে ঝুট ব্যবসার ভাগবাটোয়ারা করেছে। তিনি বলেন, "এখন শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ খুঁজছে। শ্রমিকদের স্বতস্ফুর্ত আন্দোলনে আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশের দায় সরকারের।"

আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, মজুরিবোর্ড গঠনের নামে দলীয়করণ করে নিজেদের লোক বসানো হয়েছে, যা শ্রমিকরা মানছে না। তিনি সরকারের অপরিপক্ক সিদ্ধান্তের কারণে আন্দোলনের এই পর্যায়ে আসার কথা উল্লেখ করেন। মাসউদ আরও বলেন, "শিল্প রক্ষার স্বার্থেই বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে।" তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের যৌথ মদদে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, "এ ধরনের দমনপীড়ন অব্যাহত থাকলে সাধারণ শ্রমিকদের এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর ও ভিন্ন রূপ নিতে পারে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় তিন দিনের সফরে আসলেন চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ এম


ঢাকায় তিন দিনের সফরে আসলেন চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং

ঢাকায় তিন দিনের সফরে পৌঁছেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। সফরের সময় তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়াও, তিনি রাজনৈতিক সংলাপ, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান লিউ হাইশিং।

বিমানবন্দরে চীনা প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন এমপি, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু করবেন চীনা প্রতিনিধিদলের প্রধান।

এরপর সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে থাকবেন বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন, জনতথ্য ও যোগাযোগ ব্যুরোর মহাপরিচালক হু ঝাওমিং, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর উপমহাপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা লি জিনইয়ান, একই ব্যুরোর বিভাগীয় পরিচালক ওয়াং সিচি এবং আন্তর্জাতিক বিভাগের সাধারণ কার্যালয়ের উপবিভাগীয় পরিচালক ও মন্ত্রীর সহকারী লিউ চেংশিয়াও।

এছাড়া প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রয়েছেন ইংরেজি দোভাষী শি মেইচি, আন্তর্জাতিক বিভাগের কর্মকর্তা চেন ইয়ংপেই, ঝাং গুয়ু, লিউ হংরু ও হে ইয়িইয়াং।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সকাল ১১টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন লিউ হাইশিং। এ সময় তিনি বঙ্গভবন পরিদর্শন করবেন এবং রাষ্ট্রপতির আয়োজিত স্বাগত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন।

একই দিন বেলা ২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল বলরুমে ‘Where History Illuminates the Future: China-Bangladesh Political Parties Plus’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেবেন চীনা প্রতিনিধিদলের প্রধান। এ অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজ’-এর উদ্বোধনী আয়োজনেও তার অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।

বিকেল পৌনে ৪টা থেকে সোয়া ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করবেন লিউ হাইশিং। এরপর তিনি ঢাকায় চীনা দূতাবাসের সাবেক চ্যান্সারি ভবনের স্থান এবং বর্তমান চ্যান্সারি পরিদর্শন করবেন। সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।

সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৯টায় শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে একটি জীবিকাসহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন লিউ হাইশিং। এরপর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।

সফর শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে চীনা প্রতিনিধিদলের প্রধানের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সচিবালয়ে আইডি কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ এম


সচিবালয়ে আইডি কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সচিবালয়ের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা জোরদার, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সচিবালয়ে প্রবেশ ও অবস্থানকালে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাদের প্রবেশ কার্ড বা আইডি কার্ড দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক হবে।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় নিরাপত্তা শাখা থেকে উপসচিব কাজী আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশে এই নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে সচিবালয়ে স্থায়ী, অস্থায়ী, মিটিংয়ে আগত এবং ওটিপি মাধ্যমে বহু দর্শনার্থী প্রবেশ করে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সচিবালয়ে অফিস করায়, এর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইডি কার্ড প্রদর্শন করা একান্ত প্রয়োজন। সচিবালয়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাদের আইডি কার্ড সার্বক্ষণিক দৃশ্যমান রাখার জন্য নিজ নিজ মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে, গত ২৭ অক্টোবর সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আরও কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দর্শনার্থীদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদারকির স্বার্থে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সোমবার ও বৃহস্পতিবার দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকার দিনগুলোতে সচিবালয়ের বাইরের অফিসের সঙ্গে সভার সংখ্যা যতটা সম্ভব সীমিত রাখতে হবে।

এছাড়া, দর্শনার্থীদের প্রবেশের সময় দুপুর ১২টার পরিবর্তে বেলা ২টা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই অনুযায়ী ওটিপি দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ দর্শনার্থীদের সপ্তাহে একটির বেশি ওটিপি না দেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে।

এছাড়া, ছুটিতে যাওয়া কর্মকর্তাদের জন্য ছুটিকালীন সময়ে ওটিপি প্রদান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%