ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

গাইবান্ধায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে চলন্ত নৌকায় যমজ সন্তানের জন্ম


গাইবান্ধায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে চলন্ত নৌকায় যমজ সন্তানের জন্ম

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে জেলা সদর হাসপাতালে যাওয়ার সময় ব্রহ্মপুত্র নদে চলন্ত নৌকায় এক নারী যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নবজাতকদের মধ্যে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জিগাবাড়ী ও বালাসীঘাটের মাঝামাঝি নদীতে এই ঘটনা ঘটে। নবজাতক দুটির পিতা মনোয়ার হোসেন, যিনি জিগাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা।

স্বজন ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোরে ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে জেলা শহরের হাসপাতালে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তাকে মাচায় শুইয়ে কাঁধে করে দীর্ঘ বালুময় পথ অতিক্রম করেন স্বজনেরা। সকাল ৮টার দিকে তারা জিগাবাড়ী ঘাটে পৌঁছান।

আরও পড়ুন: সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, স্মরণে নানা আয়োজন

সেখান থেকে একটি নৌকায় করে বালাসীঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তারা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাঝনদীতে পৌঁছালে ওই প্রসূতির প্রসববেদনা শুরু হয়। এ সময় নৌকায় উপস্থিত নারী যাত্রী ও স্বজনেরা কাপড় দিয়ে চারপাশ ঢেকে দেন। পরে নৌকাতেই নিরাপদে প্রথমে ছেলে এবং পরে মেয়েসন্তানের জন্ম দেন ওই নারী।

প্রসূতির স্বামী মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান বর্তমানে সুস্থ আছে। সবার কাছে দোয়া চাই।’

এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান আকন্দ জানান, চরাঞ্চলের মানুষের জন্য জরুরি প্রসূতিসেবা পাওয়া বেশ কঠিন। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, তিন দিন আগে জেলা শহরের হাসপাতালে নেয়ার পথে ব্রহ্মপুত্র নদে চলন্ত নৌকায় আরেক নারী কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

আরও পড়ুন: তাহসিফের মৃত্যু তদন্তে নতুন তথ্য, দীপ মদ পান করেননি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত বাংলাদেশে শ্রমিক বিক্ষোভের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৭ এম


ভারত বাংলাদেশে শ্রমিক বিক্ষোভের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে

বাংলাদেশে চলমান পোশাক শ্রমিক বিক্ষোভের পরিস্থিতির ওপর ভারত নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নদী ও পানিবণ্টন ইস্যু সমাধানের জন্য প্রতিষ্ঠিত দ্বিপাক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

এনএনআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জয়সওয়াল।

বাংলাদেশে চলমান বিক্ষোভ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের কথা বললে, আমি আগেও যেমন বলেছি, আমরা চাই বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে উঠুক। এটিই আমাদের প্রত্যাশা এবং এর জন্যই আমরা কাজ করতে চাই।’

জয়সওয়াল মন্তব্য করেন যে, ভারত বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং বলেন, ‘সেখানে নানা ঘটনাপ্রবাহ ঘটছে এবং আমরা সেগুলো অনুসরণ করছি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা একটি ইতিবাচক, ভবিষ্যৎমুখী এবং গঠনমূলক সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই।’

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যৌথ পানিসম্পদ সম্পর্কিত যে কোনো আলোচনা নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই এগিয়ে যাবে। আমি আগেও বলেছি, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। গঙ্গা নদীসহ সব সীমানাবিহীন যৌথ নদীর বিষয়ে আলোচনার জন্য এটিই একমাত্র নির্ধারিত কাঠামোবদ্ধ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা।’

নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে আসন্ন উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক সফরের বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের প্রতি ভারতের একটি স্থায়ী আমন্ত্রণপত্র বা নিমন্ত্রণ বহাল রয়েছে।

জয়সওয়াল জানান, ‘আমরা এরইমধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এ বিষয়ে কোনো নতুন অগ্রগতি হলে আপনাদের জানানো হবে।’

ব্রিফিংয়ে বিজনেস ইন্ডিয়ার এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সম্প্রতি ঢাকায় এনসিপির একটি প্রতিবাদ সমাবেশে প্রচুর ভারতবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে ভারতের কোনো বক্তব্য আছে কিনা?

জবাবে জয়সওয়াল বলেন, আমরা সেখানে উদ্ভূত এই ঘটনাপ্রবাহগুলোর ওপর নজর রাখছি।

ডেকান ক্রনিকলের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মোহাম্মদ রশীদ খানের একটি বক্তব্যে বলা হয়েছে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নাকি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং জামায়াতের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছে। জামায়াত ও আওয়ামী লীগ মিলে নাকি বাংলাদেশে অভ্যুত্থান ঘটানোর পরিকল্পনা করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে?

জবাবে জয়সওয়াল বলেন, আপনি যে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাচ্ছেন সে বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আহত তৌফিক শেখের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৭ এম


গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আহত তৌফিক শেখের মৃত্যু

গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের সময় হামলায় গুরুতর আহত তৌফিক শেখ (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু ঘটে উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে।

তৌফিক গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামের তবিবুর রহমান তবি খানের সন্তান ছিলেন। তিনি গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয় লায়লা গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন।

স্বজনদের বরাতে জানা যায়, গত পাঁচ বছর ধরে তৌফিক বাংলাবাজার এলাকায় থেকে কারখানায় কাজ করছিলেন। সোমবার নোমান গ্রুপের টেরিটোরি গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিক আন্দোলনের সময় হামলার ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করার চেষ্টা করেন তিনি। হামলাকারীরা তখন তাঁর ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে। এর ফলে গুরুতর আহত হন তৌফিক। পরে সহকর্মী শ্রমিকেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, "একজন শ্রমিক মারা গেছেন বলে শুনেছি। একটি কারখানা বন্ধ করার জন্য বহিরাগত লোকজন চাপ দেয়। কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ করতে রাজি না হলে বহিরাগতদের সঙ্গে ওই কারখানার শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুরুতর আহত এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় সেখানে পুলিশের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক বর্জন ইসলামী ছাত্রশিবির ও অন্যান্য সংগঠনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৭ এম


সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক বর্জন ইসলামী ছাত্রশিবির ও অন্যান্য সংগঠনের

সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে ছাত্রদল অংশগ্রহণ করলেও বর্জন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ অন্যান্য সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি আবু সাদিক কায়েমসহ অন্যান্য ছাত্র সংসদের নেতারাও বৈঠকটি বর্জন করেন। তাদের দাবি, সংবিধান সংশোধন নয়, বরং গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করা আবশ্যক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিরোধী দলগুলো অংশগ্রহণ করেনি। এই ১৭ সদস্যের কমিটির মধ্যে ১২ সদস্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের। বিরোধীদের জন্য পাঁচটি পদ খালি রয়েছে। তারা গণভোট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করার দাবি জানাচ্ছে। মঙ্গলবার সংসদে গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছাত্রসংগঠন এবং নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল কমিটি।

ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ জানিয়েছেন, গণভোটে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষের প্রদত্ত জনরায়কে উপেক্ষা করে সরকার সংস্কারের পরিবর্তে একদলীয় কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করছে। তারা পুরোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সংবিধানকে বহাল রাখতে চাইছে। "সংবিধান সংস্কার পরিষদ" গঠন না করে জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করা হচ্ছে। এই কারণে শিবির বৈঠক বর্জন করেছে।

ছাত্রশক্তি সংবিধান সংশোধন কমিটিকে প্রহসন আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, এই কমিটি গণভোটে গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করছে। কমিটির গঠন, কার্যক্রম কিংবা সুপারিশ ছাত্রশক্তি মেনে নেয় না।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "ভোট দিয়েছে সংস্কারের জন্য, তাহলে সংশোধনের কমিটি কোথা থেকে এলো?" এই কমিটিতে কারা আছেন, কয়টি বৈঠক হয়েছে, কী প্রস্তাব এসেছে, তা কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। যে কাঠামোর ভিত্তিই গণরায়বিরোধী, তাদের সঙ্গে আলোচনায় সংস্কার হতে পারে না।

ছাত্রশক্তি সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়েছে।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত না হওয়ায় তারা সভায় অংশ নেয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণ রায় দিয়েছে। তা উপেক্ষা করে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে। এ ধরনের উপহাসমূলক মতবিনিময় সভা দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনবে না। এজন্য ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির সভায় অংশ নেয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলোচনা সভায় বক্তারা: ধর্মীয় চিন্তা থেকে সংবিধান সংশোধন করা যাবে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ এম


আলোচনা সভায় বক্তারা: ধর্মীয় চিন্তা থেকে সংবিধান সংশোধন করা যাবে না

রাজধানীর একটি আলোচনা সভায় বক্তারা জানিয়েছেন, দেশের এবং জাতির প্রয়োজনের তাগিদে সংবিধান সংশোধন সম্ভব। তবে বক্তারা সতর্ক করেছেন যে, সংবিধানের মূল বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনা যাবে না। বক্তারা উল্লেখ করেছেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি সঠিক প্রক্রিয়া রয়েছে। সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। ধর্মীয় চিন্তা থেকে কোনোভাবেই সংবিধান সংশোধন করা উচিত নয়। যারা ক্ষমতায় থাকার জন্য সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না। জনগণ এমন পরিবর্তন মেনে নেবে না।

সংবিধান দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। মানবাধিকার, গণতন্ত্র, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং ৭২-এর সংবিধানের চার মূলনীতি নিয়ে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী ও সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ড. কামাল হোসেন। তিনি অসুস্থ অবস্থায় হুইলচেয়ারে করে অনুষ্ঠানে আসেন। তাঁর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক সানজিদ রহমান শুভ। লিখিত বক্তব্যে কামাল হোসেন বলেন, "মানুষের অধিকার রক্ষার কাজ এখনও শেষ হয়নি। দেশে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, সুষ্ঠু নির্বাচন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ম, গোষ্ঠী, লিঙ্গ, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো বৈষম্য চলতে দেওয়া যাবে না।"

গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল বলেন, "বাংলাদেশের সংবিধান জাতির সংগ্রামের ফসল। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিল দেশের মানুষ। ১৯৭২ সালের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের চার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। জনগণই রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক।" তিনি আরও বলেন, "সংবিধানকে সমুন্নত রেখে আমরা সবাই মিলে গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।"

আলোচনা সভায় সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, "সময়ের বিবর্তনে সংবিধান সংশোধন করা অবশ্যই প্রয়োজন। সেটা আমরাও চাই। তবে একটা সঠিক পদ্ধতি আছে। সংবিধান সংশোধনের নামে জাতিকে বিভক্ত করা যাবে না। সম্প্রতি আমাদের কিছু তরুণ বন্ধু বলেছেন, সংবিধান ছুড়ে ফেলতে হবে, পুড়িয়ে ফেলতে হবে। তাদের এ ধরনের কথা অবৈধ। জুলাই সনদ মানতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।" তিনি বলেন, "যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল তারা আজ সংবিধান সংস্কার করতে চায়। গণভোটের জন্য তারা লংমার্চ করে।"

সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, "ধর্মীয় চিন্তা থেকে সংবিধান সংশোধন করা যাবে না। ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য যারা সংবিধান সংশোধন করতে চান, সেটা অতীতেও টেকেনি, ভবিষ্যতেও টিকবে না। আর যদি গণভোটের জন্য করতে চান, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার জন্য করতে চান, সম্পদের সুষম বণ্টনের জন্য করতে চান– সর্বজনীন হলে হয়তো টিকে থাকবে।" তিনি আরও বলেন, "কোটি কোটি মানুষকে কর্মহীন রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করা যাবে না।"

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, "ধর্মীয় চিন্তা থেকে সংবিধান সংশোধন নয়, বরং সংবিধান সংশোধনে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন, তবে সেটা হতে হবে জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে। সংবিধান সংশোধন করতে গিয়ে যেন সুরক্ষামূলক বিধানগুলো বাদ না পড়ে, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি সংবিধান নিয়ে আলোচনায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

মানবাধিকারকর্মী সারা হোসেন বলেন, "৭২ এর সংবিধান নিয়ে অতীতে যে সমালোচনাগুলো এসেছিল, এর অনেক কিছু এখনও অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মতামত নেওয়া হয় নাই। তড়িঘড়ি করে কিছু না করে জনগণের মতামত নিয়ে অবশ্যই সংবিধান সংশোধন করা প্রয়োজন। একটি দেশের ৫০ বছর পার হওয়ার পর সমাজের পরিবর্তন আসে, দেশের মধ্যে পরিবর্তন আসে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিবর্তন আসে। এখন অনেক পরিবর্তন এসেছে সেগুলোর প্রতিফলন অবশ্যই আমরা আমাদের সংবিধানেও দেখতে চাই। সংবিধানে অবশ্যই ধর্মনিরপেক্ষতা এবং আমাদের মূলনীতিগুলো রক্ষা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রত্যেক মানুষের জীবনের অধিকার সঠিকভাবে রক্ষা করতে হবে।"

সভায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেন, "অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ একটি পর্যায়ে এসেছে। এখন জাতিকে আর বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।" তিনি বলেন, "৫৪ বছর ধরে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করছি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য। এক এগারোর সরকার কিছুটা করেছে। সচিবালয় (সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়) এখান থেকে তুলে নিয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাহলে আমরা যেখানে ছিলাম সেখানেই রয়ে গেছি।" তিনি বলেন, "মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন। সেই লক্ষ্য থেকে সরে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সুব্রত চৌধুরী অভিযোগ করেন, "মাঠপর্যায়ে বিরোধী দল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে দিতে চায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশে মবতন্ত্র ও মৌলবাদের উত্থান ঘটেছে, যার প্রভাব এখনো মানুষকে ভোগাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মৌলবাদী গোষ্ঠী দেশে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। তাই যে কোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে হবে এবং তাদের নির্মূল করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%