ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এশিয়ার শীর্ষ ১০ সেনাবাহিনী: চীন, ভারত ও উত্তর কোরিয়া শীর্ষে


এশিয়ার শীর্ষ ১০ সেনাবাহিনী: চীন, ভারত ও উত্তর কোরিয়া শীর্ষে

জনসংখ্যা, নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও কৌশলগত গুরুত্বের কারণে এশিয়াতে বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক বাহিনীগুলোর মধ্যে কয়েকটি গড়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যার দিক থেকে এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় দেশগুলো হলো চীন, ভারত ও উত্তর কোরিয়া। এই তিনটি দেশের প্রত্যেকটির সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যা ১০ লাখের বেশি রয়েছে।

প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনের সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যা প্রায় ২০ লাখ ৩৫ হাজার। দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) সদস্যসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম সক্রিয় সামরিক বাহিনী হিসেবে বিবেচিত।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ভারত রয়েছে। দেশটির সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যা ১৪ লাখের বেশি। সক্রিয় সদস্যসংখ্যার দিক থেকে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক শক্তি।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে ইরানে মক্কা জোটের চার সিদ্ধান্ত

উত্তর কোরিয়া তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। দেশটির সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ ২০ হাজার। জনসংখ্যার তুলনায় উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর আকার তুলনামূলকভাবে বড় এবং জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে সামরিক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এশিয়ায় সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যায় শীর্ষ ১০ দেশ

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে এশিয়ার শীর্ষ দেশগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো—

চীন: প্রায় ২০ লাখ ৩৫ হাজার।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই ‘এনকাউন্টার’, বিজেপি সরকারের বার্তা কী?

ভারত: প্রায় ১৪ লাখ ৩১ হাজার।

উত্তর কোরিয়া: প্রায় ১৩ লাখ ২০ হাজার।

পাকিস্তান: প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার।

ইরান: প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার।

আরও পড়ুন: কোরিয়ায় বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীদের ওপর জরিমানা বন্ধে নজরদারির তাগিদ

ভিয়েতনাম: প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার।

দক্ষিণ কোরিয়া: প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার।

ইন্দোনেশিয়া: প্রায় ৪ লাখ ৫ হাজার।

থাইল্যান্ড: প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার।

আরও পড়ুন: মাওকে নিয়ে রসিকতায় চীনের বড় দুটি কোম্পানির চুক্তি হারাল এমবাপ্পে

শ্রীলঙ্কা: প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার।

পাকিস্তান ও ইরানের বিশাল সামরিক বাহিনী দেশ দুটির নিরাপত্তাগত দায়িত্ব এবং ভূরাজনৈতিক চাপের প্রতিফলন।

অন্যদিকে, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়ার সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যা প্রায় সমান। কোরীয় উপদ্বীপের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক প্রস্তুতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ভিয়েতনামও জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ হিসেবে একটি বড় সামরিক বাহিনী বজায় রেখেছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনী অন্যতম বৃহৎ। দেশটির বিস্তৃত দ্বীপপুঞ্জ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে এসব অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইন্দোনেশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা

সদস্যসংখ্যাই সামরিক শক্তির একমাত্র মাপকাঠি নয়।

এশিয়ার দেশগুলোর সক্রিয় সামরিক সদস্যসংখ্যা তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপকতা তুলে ধরে। তবে শুধুমাত্র সেনাসদস্যের সংখ্যা দিয়ে কোনো দেশের সামগ্রিক সামরিক শক্তি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

সামরিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও সরঞ্জাম, প্রতিরক্ষা বাজেট, রিজার্ভ বাহিনী, রসদ সরবরাহ এবং কৌশলগত সক্ষমতাও সামরিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ফলে এসব পরিসংখ্যানকে দেশগুলোর সক্রিয় সামরিক বাহিনীর আকারের তুলনা হিসেবে দেখা উচিত; সামগ্রিক সামরিক শক্তির চূড়ান্ত র‌্যাঙ্কিং হিসেবে নয়।

আরও পড়ুন: সৌদির দুই শহরে নিরাপত্তা হুমকিতে জরুরি সতর্কতা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ পি.এম


প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি

বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা, নির্যাতনের বিচার এবং প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছে প্রবাসী বাংলাদেশি অধিকার সংস্থা ‘প্রবাস’। সংগঠনটি একই সঙ্গে বিদেশে বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা জোরদার এবং নির্যাতনের শিকার নারী কর্মীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানায়।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন আয়োজন করে ‘প্রবাস’। পরে সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্মারকলিপিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেন।

মানববন্ধনে সংগঠনের আহ্বায়ক, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা মনন মন্তব্য করেন, প্রবাসে যারা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন, তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

সংগঠনের সদস্য সচিব ও অ্যাক্টিভিস্ট আনন্দ কুটুম জানান, সৌদি আরবে পাশবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ৯ মাসে দেশে ফিরেছেন ৯৮০ জন নারী কর্মী। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দেশে ফিরেছেন। তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্যাতনের শিকার এসব নারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তাদের সন্তানদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন।

চিকিৎসক ও সংগঠনটির সমন্বয়ক তৃণা ইসলাম বলেন, বিদেশে বাংলাদেশিদের সুরক্ষায় দূতাবাসগুলো যথাযথ ভূমিকা পালন করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

সাংবাদিক ও সংগঠনের গণমাধ্যম সমন্বয়ক হাসনাত কাদীর বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থে দেশের অর্থনীতি সচল থাকে। তিনি রাষ্ট্রকে দেশের ভেতরে ও বিদেশে থাকা সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন।

মানববন্ধনে অন্যান্য বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিপদে পড়লে তাকে প্রয়োজনীয় আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা দিতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণেরও প্রয়োজন রয়েছে।

প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা, আইনি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত ‘প্রবাস’ জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে।

‘বিদেশে শ্রমিকের নিরাপত্তা চাই’ ও ‘নির্যাতন ও মৃত্যুদণ্ডের জবাব চাই’ স্লোগানে আয়োজিত মানববন্ধনের সহ-আয়োজক ছিল গণতন্ত্র ও জবাবদিহিবিষয়ক দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক নেটওয়ার্ক ‘সাউথ এশিয়ান অ্যাকাউন্টেবিলিটি নেটওয়ার্ক ফর ডেমোক্রেসি (স্যান্ড)’। এতে গবেষণা সহযোগী হিসেবে ছিল চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য স্কলারো’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
স্থানীয় সরকার বিভাগ

১৭ বছরে দুর্নীতি হয়েছে কিনা, কমিটির প্রতিবেদন দুদকে পাঠানো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ পি.এম


১৭ বছরে দুর্নীতি হয়েছে কিনা, কমিটির প্রতিবেদন দুদকে পাঠানো

স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং এর আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে গত ১৭ বছরে অনিয়ম বা দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে কি না, তা যাচাই করার উদ্দেশ্যে গঠিত কমিটির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অধিকতর তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিকল্পনা-৩ শাখা থেকে ১৯ অক্টোবর তারিখে একটি চিঠির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কমিটির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি আরও নিরপেক্ষ, পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সমন্বিত তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং এর অধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানের জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

চিঠিতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি দুদকে পাঠানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও, তদন্তের ফলাফল বা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি পুনরায় শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি পুনরায় শুরু

ভারতের সঞ্চালন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি নেপাল পুনরায় শুরু করেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এ কার্যক্রম আবার চালু হয়।

গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি নদীর বন্যার কারণে নেপালের দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

ত্রিশুলি ও চিলিমে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই দুটি কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন ছিল। একই সময়ে, ভারতের হরিয়ানায় বিদ্যুৎ রপ্তানিও আংশিকভাবে ব্যাহত হয়, যা দ্বিপক্ষীয় বিদ্যুৎ বিক্রয় চুক্তির আওতায় ছিল।

নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির (এনইএ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে সরবরাহের জন্য অন্যান্য জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুতের অনুমোদন দেওয়ার পর রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

সংশোধিত ব্যবস্থার আওতায় সোলু খোলা ও কাবেলি বি-১ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, লোয়ার মোদি খোলা কেন্দ্র থেকে ভারতের হরিয়ানায় বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদনও মিলেছে। নতুন এই অনুমোদনের ফলে আগের তালিকায় থাকা ত্রিশুলি, চিলিমে ও দেবীঘাট জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবর্তে নতুন কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।

দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠা আরও বলেন, বন্যার ফলে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও সঞ্চালন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্যান্য প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ বিক্রি অব্যাহত রাখা এবং বাংলাদেশে রপ্তানি পুনরায় শুরু হওয়া নেপালের বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ কাজে লাগানো এবং আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য সম্প্রসারণে এ উদ্যোগ সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে মৌসুমি বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে একটি পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, প্রতিবছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে নেপাল।

এদিকে, বন্যার কারণে কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারতে বিদ্যুৎ রপ্তানি করে ৫৯২ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেছে নেপাল। গত বছরের একই সময় এবং চলতি বছরের আগের মাসের তুলনায় এ আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে ভারতে ৬৩৩ দশমিক ৯৮৬ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে দেশটি। এর মাধ্যমে আয় হয়েছে ৫৯২ কোটি ৫০ লাখ রুপি। বন্যার কারণে ভারতকে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন পাওয়া কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়েছিল, যা রপ্তানি কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে।

তবে বিদ্যুৎ রপ্তানি থেকে আয় গত বছরের একই সময়ের ৪ দশমিক ৯৬৩ বিলিয়ন রুপির তুলনায় ৯৬ কোটি ২০ লাখ রুপি বেড়েছে। চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আয় হওয়া ৫ দশমিক ০৯২৫ বিলিয়ন রুপির তুলনায় তা ৮৩ কোটি ২৫ লাখ রুপি বেশি।

দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠা জানান, কিছু জলবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে বিদ্যুৎ রপ্তানি থেকে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময়ে ভারতে রপ্তানি করা বিদ্যুতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় বিক্রি হয়েছে। বাকি বিদ্যুৎ ইন্ডিয়ান এনার্জি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে বৈশ্বিক সুশাসন ফোরাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪০ পি.এম


চীনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে বৈশ্বিক সুশাসন ফোরাম

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : বৈশ্বিক সুশাসনকে আরও উন্নত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পক্ষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে চীন তিন দিনব্যাপী প্রথম বৈশ্বিক সুশাসন ফোরামের আয়োজন করেছে। এটি বৈশ্বিক সুশাসন উদ্যোগ (জিজিআই) প্রস্তাব করার এক বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শিওংআন থেকে সিনহুয়া জানায়, শুক্রবার চীনের উত্তরাঞ্চলীয় হেবেই প্রদেশের শিওংআন নিউ এরিয়ায় ‘২০২৬ বৈশ্বিক সুশাসন ফোরাম (শিওংআন)’ উদ্বোধন করা হয়।

চাইনিজ পিপলস ইনস্টিটিউট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের উদ্যোগে আয়োজিত এই ফোরামের মূল প্রতিপাদ্য হলো--‘আস্থা ও সহযোগিতা পুনর্গঠন : পরিবর্তনশীল বিশ্বে বৈশ্বিক সুশাসনের সংস্কার ও উন্নয়ন’।

ফোরামে পাঠানো এক বার্তায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, বিশ্ব এমন একটি দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যা এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি। শান্তি, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সুশাসনের ঘাটতি কমার পরিবর্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আরও ন্যায়সংগত ও ন্যায্য বৈশ্বিক সুশাসনব্যবস্থা এবং একটি উন্নত বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমি বৈশ্বিক সুশাসন উদ্যোগ (জিজিআই) প্রস্তাব করেছি।’

শি জিনপিং বলেন, ব্যাপক পরামর্শ, যৌথ অবদান ও অভিন্ন সুফলের ভিত্তিতে বৈশ্বিক সুশাসনের ধারণা এগিয়ে নিতে চীন সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তিনি আস্থা গড়ে তুলে সম্মিলিত শক্তি বাড়ানো এবং সহযোগিতার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, অস্থিরতা ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়া বিশ্বে আরও বেশি নিশ্চয়তা ও ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করতে জিজিআই বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। একই সঙ্গে মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।

তুরস্কের আঙ্কারাভিত্তিক সেন্টার ফর এশিয়া-প্যাসিফিক স্টাডিজের পরিচালক সেলচুক চোলাকোগলু বলেন, ফোরামটি বৈশ্বিক সুশাসন বিষয়ে চীনের দৃষ্টিভঙ্গির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সব দেশকে একসঙ্গে আলোচনা, বিশ্ব গঠন এবং সেই অর্জনের সুফল ভাগ করে নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো।’

জাতিসংঘসহ ৯০টিরও বেশি দেশ এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রায় ৪০০ প্রতিনিধি ফোরামে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কৌশলগত, রাজনৈতিক, শিক্ষাবিষয়ক, ব্যবসায়িক, গণমাধ্যম ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

নেপালের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি বলেন, জিজিআই সার্বভৌম সমতা, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন, বহুপক্ষীয়তা, জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তব ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দেয়। এর মাধ্যমে সব পক্ষের জন্য বৈশ্বিক সুশাসনব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সংলাপে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক বৈষম্য, দারিদ্র্য, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সশস্ত্র সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যনিরাপত্তার মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান সংরক্ষণবাদ ও একতরফা নীতি আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলছে।

ভান্ডারি বলেন, কোনো একক দেশের পক্ষে এসব অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ জন্য সব দেশের মধ্যে সংলাপ, জোরদার সহযোগিতা ও যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

কিরগিজস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুমার্ট ওতোরবায়েভ বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো জিজিআইকে সমর্থন করে। তারা আধিপত্য বা হস্তক্ষেপের পরিবর্তে প্রবৃদ্ধি, সহযোগিতা ও অগ্রগতির বিশ্ব দেখতে চায়।

জাতিসংঘের উপমহাসচিব গাই রাইডার বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দিয়েই আমাদের বর্তমান ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তাই জাতিসংঘে আমাদের সুশাসনব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আমরা উপলব্ধি করছি।’

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ে গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্ব ও মতামতের গুরুত্ব বাড়ানো জরুরি। সব পক্ষের সম্মত সময়সূচি ও রোডম্যাপ অনুসারে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে এবং নিরাপত্তা পরিষদে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) মতো উদীয়মান বহুপক্ষীয় সহযোগিতা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা প্রয়োজন।

ওয়াং নতুন নতুন ক্ষেত্রে সুশাসনের নিয়মকানুন উন্নত করার আহ্বান জানান। গভীর সমুদ্র, মেরু অঞ্চল ও মহাকাশের মতো নতুন ক্ষেত্রগুলোকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি, সাধারণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালনার একটি কাঠামো দ্রুত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

ফোরামের সাইডলাইনে এশিয়া সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সহসভাপতি জন এল. থর্নটন এবং ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর কলামিস্ট টমাস এল. ফ্রিডম্যানের সঙ্গে বৈঠকে ওয়াং বলেন, এআইয়ের যথাযথ উন্নয়ন ও পরিচালনায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা ও দায়িত্ব দুটিই রয়েছে।

তিনি বলেন, এআইয়ের বিকাশ যেন মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং জনগণের কল্যাণে কাজে লাগে, তা নিশ্চিত করতে দুই দেশকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।

থর্নটন ও ফ্রিডম্যান বলেন, চীনের আয়োজনে আসন্ন এপেক অর্থনৈতিক নেতাদের বৈঠকের দিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর মনোযোগ দিচ্ছে। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনন্য ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার জন্য চীন এ সুযোগ কাজে লাগাবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%