শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৩ এম
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মন্ত্রিসভায় সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদনের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, প্রতিবছর সম্পদ বিবরণী প্রকাশের শর্তে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনা উচিত।
টিআইবি আরও জানিয়েছে, যারা সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এই আহ্বান জানান।
সংস্থাটি মনে করছে, এই শর্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাওয়া সম্ভব হবে। একইসঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে সরকারি কর্মজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক। তিনি উল্লেখ করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা অসম্ভব।
টিআইবি মনে করে, জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বাড়ানোর কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে সরকারি কর্মজীবী ও তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ প্রকাশ করতে হবে।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, অনেক সরকারি কর্মজীবী সৎভাবে জীবনযাপন করেন এবং অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। তাদের জন্য নতুন বেতন স্কেল ন্যায়সংগত ও অপরিহার্য।
অন্যদিকে, ঢালাওভাবে নতুন বেতন স্কেল প্রয়োগ করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থসম্পদ অর্জনে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সুবিধা অযৌক্তিক ও নিষ্প্রয়োজন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, তাদের অর্থসম্পদের আকাঙ্ক্ষা এতটাই গগনচুম্বী যে কার্যকর জবাবদিহির উপায় নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে নতুন বেতন স্কেল প্রয়োগ করা হলে সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়বে। এর আগেও এরকম দৃষ্টান্ত দেখা গেছে।
নতুন বেতন কাঠামো সরকারি কর্মজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, সরকারের এমন আশাবাদের কথা উল্লেখ করেছে টিআইবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে পুলিশ এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে, যেটি কসটেপে মোড়ানো অবস্থায় ছিল।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশ জানিয়েছে, সকালে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত ব্যক্তির মুখে কসটেপ মোড়ানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কেউ বা কারা মরদেহটি এনে এক্সপ্রেসওয়েতে ফেলে রেখে গেছে।
বনানী থানার ওসি মো. মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি নিহতের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ধারণা করা হচ্ছে— কেউ তাকে হত্যা করে মরদেহ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ফেলে গেছে। সব সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই ঘটনার উদ্ঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ডেলিয়া রামিরেজ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে ইরানে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি কংগ্রেসের কাছে ‘ব্লক দ্য বোম্বস অ্যাক্ট’ পাশ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
এক্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে রামিরেজ উল্লেখ করেন, "আমাদের বোমায় নিরীহ নারী ও শিশুরা নিহত হচ্ছে।"
ফিলিস্তিন ও ইরানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।
রামিরেজ বলেন, কংগ্রেসকে যুদ্ধ বন্ধে নিজের ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং "এই অন্তহীন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।"
তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কংগ্রেস আর চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না। তার মতে, ট্রাম্প ও হেগসেথের যুদ্ধাপরাধের দিকে কংগ্রেস আর চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না।
রামিরেজের উদ্যোগে ২০২৫ সালে ‘ব্লক দ্য বম্বস অ্যাক্ট (এইচ.আর.৩৫৬৫) কংগ্রেসে উত্থাপিত হয়। এই আইনটি ইসরাইলে নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হস্তান্তর সীমিত করার প্রস্তাব দেয়।
২০২৬ সালের জুনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউএসএ জানায়, বিলটির সহ-প্রস্তাবক সংখ্যা ৭২-এ পৌঁছেছে।
রামিরেজ দীর্ঘদিন ধরে গাজায় মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের সমালোচনা করে আসছেন এবং ইসরাইলে অস্ত্র হস্তান্তর বন্ধে কংগ্রেসে চাপ দিয়ে আসছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সঙ্গীত জগতের নক্ষত্র ও জীবন্ত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের ৭২তম জন্মবার্ষিকী আজ। সাতক্ষীরায় ১৯৫৪ সালের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
সাবিনা ইয়াসমিনের পিতা লুতফর রহমান ছিলেন ব্রিটিশ রাজের অধীনে সরকারি কর্মকর্তা এবং মা বেগম মৌলুদা খাতুন ছিলেন একজন কণ্ঠশিল্পী। তার মা সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ কাদের বকশের কাছে গানের তালিম গ্রহণ করেছিলেন। পাঁচ বোনের মধ্যে ছোট সাবিনার চার বোনও সঙ্গীতের সাথে যুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে ফরিদা ইয়াসমিন, ফৌজিয়া ইয়াসমিন, নীলুফার ইয়াসমিন এবং নাজমা ইয়াসমিন উল্লেখযোগ্য।
ছোটবেলা থেকেই সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গীতের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল। মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি স্টেজে উঠে গান গাইতে শুরু করেন। বড় বোন ফরিদা ইয়াসমিন যখন ওস্তাদ দুর্গাপ্রসাদ রায়ের কাছে গানের তালিম নিতেন, তখন সাবিনাও তার পাশে বসে সেই গানগুলো গাইতেন।
প্রতিবেশী সঙ্গীতজ্ঞ আলতাফ মাহমুদ প্রথমবারের মতো সাবিনা ইয়াসমিনের গায়কী প্রতিভা আবিষ্কার করেন। তিনি বাড়িতে বসে হারমোনিয়ামে প্রথম যে গানটি শিখেছিলেন, সেটি ছিল ‘খোকন মণি সোনা’। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি ওস্তাদ পি সি গোমেজের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নেওয়া শুরু করেন। এর আগে ১৯৬২ সালে ‘নতুন সুর’ চলচ্চিত্রে রবীন ঘোষের সুরে শিশুশিল্পী হিসেবে একটি গানে অংশগ্রহণ করেন।
শৈশবে বেতারের ‘খেলাঘর’ অনুষ্ঠানে ছোটদের গান গেয়ে তিনি প্রশংসা অর্জন করেন। পরে ১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর ১৯৭২ সালে ‘অবুঝ মন’ চলচ্চিত্রে ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়ে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৬২ সালে পরিচালক এহতেশামের উদ্যোগে ‘নতুন সুর’ চলচ্চিত্রে প্রথম গান গাওয়ার সুযোগ পান সাবিনা ইয়াসমিন। খ্যাতনামা পরিচালক আমজাদ হোসেন ও নুরুল হক বাচ্চু পরিচালিত ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রে ১৯৬৭ সালে তিনি প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে সুযোগ পান। এরপর তার দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য দেশাত্মবোধক গান ও চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন।
তিনি শুধু দেশাত্মবোধক বা চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নন, বরং উচ্চাঙ্গ, ধ্রুপদী, লোকসঙ্গীত ও আধুনিক বাংলা গানসহ বিভিন্ন ঘরানার গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। এসব গান তাকে উচ্চমাত্রায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। প্রায় পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে তিনি গান গেয়ে চলেছেন। প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি সুরকার আর. ডি. বর্মণের সুরে শত্রু চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন।
অন্যদিকে, ইন্দো-বাংলা যৌথ প্রযোজনার ‘অন্যায় অবিচার’ চলচ্চিত্রে ব্যতিক্রমী ঘরানার গান ‘ছেড়ো না ছেড়ো না হাত’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী কিশোর কুমারের ও মান্না দে’র সাথেও দ্বৈত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সাবিনা।
তিনি জনপ্রিয় গায়ক শ্যামল মিত্রের সাথে ডুয়েটে ‘পথের সাথী নামো গো পথে আজ’-গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন। এছাড়া ভূপেন হাজারিকা সুরে ও মাসুদ করিমের গীতে দুটি গান করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন।
সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া উল্লেখযোগ্য দেশাত্মবোধক গানগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘ও আমার বাংলা মা’, ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’, ‘মাঝি নাও ছাড়িয়া দে’, ‘ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে’, ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য’ ও ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’।
বিশিষ্ট সুরকার আলাউদ্দিন আলীর সুরে তার গাওয়া বিপুল জনপ্রিয় গান ‘ও আমার রসিয়া বন্ধুরে’ এবং ‘চিঠি দিও প্রতিদিন’ গান দুটি এখনও সমান জনপ্রিয়। ‘একবার যেতে দে না’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘কতো সাধনায় এমন ভাগ্য মেলে’, ‘ও মাঝি নাও ছাইড়া দে’, ‘সুন্দর সুবর্ণ’, ‘এই মন তোমাকে দিলাম’, ‘মনেরই রঙে রাঙাবো’, ‘তুমি বড় ভাগ্যবতী’-এমন প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন।
এই গুণী শিল্পী প্রায় ১৪ বার বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন। শিল্পকলার সঙ্গীত শাখায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৯৮৪ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কারসহ (ছয়বার) অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করেছেন।
এদিকে, সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিনকে স্মরণীয় করে তুলতে চলচ্চিত্র সাংবাদিক আবদুর রহমানের সঞ্চালনায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই’য়ে প্রচারিত হবে ‘শুধু গান গেয়ে পরিচয়’ শিরোনামের একটি অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটি শুক্র ও শনিবার প্রচারিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার খাজানগরের এক চাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বাকিতে ১৩ মেট্রিক টন চাল ক্রয় করে এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায়, ঝালকাঠি ও বরিশালে টানা দুদিনের অভিযানে প্রতারক চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই অভিযানের ফলে চুরি হওয়া ১৩ টন চালের মধ্যে প্রায় ৬ মেট্রিক টন চাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. আরিফ হোসেন (৪০), মৃত মোফাজ্জেল মোল্লার ছেলে আব্দুর রহিম (৩৮), শাহ আলম খানের ছেলে মো. মিজানুর রহমান রাজু (৩২), মৃত শৌকে আলী খান তালুকদারের ছেলে মো. বাদশা তালুকদার (৬৫) এবং ঝালকাঠি জেলার নলসিটি থানার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে মো. আলম হাওলাদার (৫০)। বাকি চার আসামির বাড়ি ঝালকাঠি জেলার গাবখান ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঢাকার মিরপুর কচুক্ষেত এলাকার মো. কাশেম (৪৫) পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকার নূর অটো রাইস মিলের মালিক ব্যবসায়ী হাজি আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে দুইবার চাল ক্রয় করেন। গত ১৫ আগস্ট প্রতারক কাশেম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ১৩ টন চাল ক্রয়ের প্রস্তাব দেন।
ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম সরল বিশ্বাসে পরের দিন সন্ধ্যায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ১৩ টন চাল আসামির পাঠানো ট্রাক ড্রাইভার মো. রাসেলের মাধ্যমে ঢাকার কচুক্ষেত রজনীগন্ধা সুপার মার্কেটের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে প্রতারক কাশেমের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর তিনি ট্রাক ড্রাইভার মো. রাসেলের সাথে যোগাযোগ করেন। মোবাইলে ওই ট্রাক চালক জানায় যে, ২০ আগস্ট রাত একটার সময় চাল কাশেমের ঠিকানায় পৌঁছে দেয়।
পরবর্তীতে কাশেমসহ অজ্ঞাতনামা প্রতারক চক্রটি কৌশলে ট্রাকটি ঢাকার বাবু বাজার টিন পট্টিতে নিয়ে যায়। এরপর আরেকটি ট্রাক করে ১৩ মেট্রিক টন চাল আনলোড করে অজ্ঞাতস্থানে চলে যায়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম কুষ্টিয়া মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
কুষ্টিয়া মডেল থানার (ওসি) জাকির হোসেন জানান, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি ঝালকাঠি এবং বরিশালে দুই জায়গায় চাল লুকিয়ে রেখেছিল। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। মূল আসামি ঢাকার মিরপুর কচুক্ষেত এলাকার মো. কাশেমসহ প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ