মোঃ তুহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৬ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ছয় সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় রেজিস্ট্রেশনবিহীন তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা মোটরসাইকেলগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের দিকনির্দেশনায় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইয়াসির আরাফাত এবং সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ একরামুল হোসাইনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সদর মডেল থানার এসআই মোঃ জাহিদ হাসান ও এসআই মোঃ শাকিল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের বেলতলা মোড় এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় রেজিস্ট্রেশনবিহীন লাল রঙের Hero HF Deluxe 100cc মোটরসাইকেলসহ দুইজনকে আটক করা হয়।
পরে আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বসতবাড়ি থেকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন কালো রঙের Discover 125cc এবং লাল রঙের Hero HF Deluxe 100cc মোটরসাইকেল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের হাউসনগর গ্রামের মোঃ আব্দুস সালাম (২৪), দাদনচক গ্রামের মোঃ সোহেল রানা (২৩) ও মোঃ আসিফ (২২), তারাপুর মুন্সিপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী (২৪), শ্যামপুর সাহাপাড়া গ্রামের মোঃ ইমন রেজা (২৬) এবং শ্যামপুর ইউনিয়নের কয়লার দিয়াড় গ্রামের মোঃ আশিক (২২)।
পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় জড়িত আরও দুই আসামি—শিবগঞ্জ থানার সাহাপাড়া মুন্সিপাড়া গ্রামের মোঃ সাদ্দাম হোসেন (৩০) ও কয়লার দিয়াড় গ্রামের শ্রী সুশান্ত সিংহ (২৫)—পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ একরামুল হোসাইন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) প্রধান, যিনি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, মেহবুবা মুফতি অভিযোগ করেছেন যে বিজেপি ভারতে মুসলিমদের ব্যবহৃত শব্দভাণ্ডারকে নিয়ন্ত্রণ বা 'পুলিশিং' করছে।
এই মন্তব্যটি তিনি পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) পদ থেকে আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানোর সাম্প্রতিক বদলির প্রেক্ষাপটে করেছেন। বুশরা বানোর ইসলামিক অভিবাদন ব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধিতা ও অভিযোগ ওঠার পরপরই তাকে বদলি করা হয়।
আইপিএস বুশরা বানোকে খড়গপুরে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র আড়াই মাসের মাথায় স্থানান্তর করা হয়েছে। একটি ভিডিওতে "আসসালামু আলাইকুম", "ইনশাআল্লাহ" এবং "জাজাকাল্লাহ"-এর মতো ধর্মীয় অভিবাদনমূলক শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে নালিশ ঠোকা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
মেহবুবা এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বলেন, এসব ঘটনা এখন আর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে অবাক করে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ মেহবুবা লেখেন, "‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’ বলার অপরাধে বুশরা বানোর বদলি, আর এর পরপরই নির্বাচনকে গোটা মুসলিম সম্প্রদায়ের আনুগত্যের 'পরীক্ষা' বলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য—যা আসলে পুরো সম্প্রদায়ের প্রতি এক ধরনের গোপন হুমকি—আমাদের আর অবাক করে না।"
এদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই বদলির কারণ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত অভিযোগের কথা স্বীকার করা হয়নি।
মেহবুবা বিস্ময় প্রকাশ করেন যে শান্তি, কৃতজ্ঞতা ও বিশ্বাসের প্রকাশ ঘটায় এমন সাধারণ শব্দগুলো নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, "বেশ মজার বিষয় হলো—শান্তি আপনার ওপর বর্ষিত হোক, ঈশ্বর চাইলে, এবং ঈশ্বরের প্রশংসা—এই সাধারণ তিনটি শব্দ একটি সুবিশাল ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দলকে এতটা টলিয়ে দিতে পারে!"
মেহবুবা আরও যোগ করেন, মুসলিমদের ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও পরিচয়ের ওপর নজরদারি ক্রমশ বাড়ছে। তিনি বলেন, "প্রথমে আমাদের খাবার, পোশাক আর বিয়ে নিয়ে টানাটানি করা হয়েছে, আর এখন আমাদের শব্দভাণ্ডার এবং আমাদের ভোটকেও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার অপর নামই এখন বিজেপি।"
জনসমক্ষে ধর্মীয় ভাষার প্রয়োগ, ধর্মীয় পরিচয় এবং সংখ্যালঘু অধিকার সংক্রান্ত চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই পিডিপি প্রধানের এই বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে এলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাঁচ দিনের শুভেচ্ছা সফরের অংশ হিসেবে চীনা নৌবাহিনীর জাহাজসমূহ ‘থাং শান’, ‘দা ছিং’, এবং ‘থাই হু’ আজ বৃহষ্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজগুলোর আগমনের পর, চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, চিফ স্টাফ অফিসার জাহাজের কর্মকর্তা ও নাবিকদের স্বাগত জানান।
এ সময় ঐতিহ্যবাহী রীতির অংশ হিসেবে নৌবাহিনীর সুসজ্জিত বাদকদল ব্যান্ড পরিবেশন করে। জাহাজসমূহকে স্বাগত জানাতে বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ, চীনা নাগরিক এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর স্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সফরকারী জাহাজসমূহ বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করার পর, বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘বানৌজা ওমর ফারুক’ তাদের অভ্যর্থনা জানায়।
বাংলাদেশে অবস্থানকালে সফরকারী জাহাজসমূহের অধিনায়ক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের মিলিটারি অ্যাটাশে সহ একটি প্রতিনিধি দল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার বিএন ফ্লিট এবং চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। সফরকারী জাহাজসমূহের কর্মকর্তা ও নাবিকগণ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ, ঘাঁটি, এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহ পরিদর্শন করবেন।
এছাড়াও, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যগণ চীনা জাহাজ পরিদর্শন করবেন। এই সফরের মাধ্যমে উভয় দেশের নৌসদস্যগণ পারস্পরিক কার্যক্রম ও পেশাগত উৎকর্ষ প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ এবং মতবিনিময়ের সুযোগ লাভ করবে। শুভেচ্ছা সফরের মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের পেশাগত বিষয়ে মত বিনিময়, ভবিষ্যত প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা যায়। উল্লেখ্য, শুভেচ্ছা সফর শেষে জাহাজসমূহ আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্টকহোম এবং তেহরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। সুইডেন কর্তৃক ইরানি দূতাবাসের এক কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করার এবং ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করার একদিন পর, পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান একটি সুইডিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে।
সংশ্লিষ্ট কূটনীতিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশটি ত্যাগ করতে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সুইডেন সরকারের এই সিদ্ধান্তের তারা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "স্টকহোমে আমাদের দূতাবাসের একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার সুইডিশ সিদ্ধান্তের আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এর জবাবে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয়েছে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তাদের একজন কূটনীতিককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান ত্যাগ করতে হবে।"
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুইডেনের গৃহীত পদক্ষেপের পরপরই ইরানের এই দ্রুত এবং কঠোর প্রতিলিপিমূলক পদক্ষেপ বা "যেমন কুকুর তেমন মুগুর" নীতি আন্তর্জাতিক মহলে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে দেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন (তথ্য অনুসন্ধান দল) শক্তিশালী তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সামরিক হামলা চালিয়ে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে।
এই প্যানেল, যা জাতিসংঘ সমর্থিত মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত, জানিয়েছে যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লামের্দ শহরের একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই হামলা আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের শামিল।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্পষ্টত চিহ্নিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি টমাহক (Tomahawk) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।
একই দিনে লামের্দ শহরের অপর একটি হামলায় স্পষ্টত চিহ্নিত একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স এবং আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়। হামলাটিতে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র থেকে ক্ষতিকর 'টাংস্টেন পিলেট' (Tungsten pellets) ছড়িয়ে পড়ে, যা বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান প্যানেল এক বিবৃতিতে জানায়: "২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর অনুসন্ধান দল এটি বিশ্বাস করার যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ খুঁজে পেয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র নির্বিচারে বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে।"
এই প্রতিবেদনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই ধরনের বেপরোয়া ও নির্বিচার হামলার বিরুদ্ধে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ