ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এবার আদালত থেকেই পালালেন শরিফুল ইসলাম


এবার আদালত থেকেই পালালেন শরিফুল ইসলাম

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে শরিফুল ইসলাম (২২) নামের এক আসামি ‘পালিয়ে’ গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল কালের কণ্ঠকে।

মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে হাজিরা শেষে হাজতখানায় নেওয়ার পথে কৌশলে পালিয়ে যান শরিফুল।

শরিফুল ইসলাম একটি হত্যা মামলার আসামি এবং তিনি এর আগে একবার পালিয়েছিলেন। সেবার তিনি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশকে মারধর করে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘মামলায় হাজিরার জন্য তাকে আদালতের এজলাসে ওঠানো হয়। তার হাতে হাতকড়া পড়ানো ছিল। কিন্তু কৌশলে আসামি পালিয়ে যান।’

ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ এর আগে এই আসামি একবার পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আজ সেই মামলায় হাজিরার জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য কার্যক্রম পরিচলনা করা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগির তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

আদালত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের আঘাত ও মারধর করে হাতকড়া খুলে প্রথম দফায় পালিয়ে যান শরিফুল ইসলাম। ওই ঘটনার দিনই তৎকালীন হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হওয়া শরিফুলকে আজ সেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালতে তোলা হয়। তবে সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় আজ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। শুনানি শেষে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের কনস্টেবল আব্দুল আলিম তাকে এজলাস থেকে হাজতখানার দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি অতর্কিতে ও অত্যন্ত কৌশলে হাতকড়া খুলে আদালত চত্বর থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

আরও পড়ুন: ফেনীতে সাংবাদিককে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে সাবেক কাউন্সিলর আটক

গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রিজন ভ্যান থেকে একাধিক মামলার আসামি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজার পলায়নের ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ তদন্তে উঠে এসেছে, এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যরা জড়িত ছিলেন। তাদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার জানান, তদন্তে দেখা যায়, ২৯ জন আসামি নিয়ে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে স্কট পার্টি প্রিজন ভ্যানে রওনা দিয়ে তাঁতীবাজার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে এসে প্রিজন ভ্যান থামে। এ সময় স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর বিশ্বাস ড্রাইভার নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজন ভ্যানের চাবি নিয়ে আসামি পিচ্চি রাজা ও হাজতি আসামি বাশারকে বের করে ভ্যানের সামনের দিকে নিয়ে যান। খাইরুল বাশার প্রিজন ভ্যানের ড্রাইভারের সিটের পাশে বসে। এ সময় পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর প্রিজন ভ্যানে ওঠে না। মূলত সেখান থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেট কারে করে আসামি পিচ্চি রাজা পলিয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে এসআই প্রবীর রাত সাড়ে ৮টায় মামলার এজাহারে বর্ণিত ঘটনাস্থলে এসে প্রিজন ভ্যানে উঠে স্কট পার্টির সদস্যদের নিয়ে মামলার এজাহারে বর্ণিত ঘটনাটি সাজান।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন বাতিলের ঝুঁকি, তথ্য না দিলে সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০০ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদন বাতিলের ঝুঁকি, তথ্য না দিলে সতর্কবার্তা

মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য প্রদান না করার ক্ষেত্রে আবেদনটি সরাসরি প্রত্যাখ্যাত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদনকারী স্থায়ীভাবে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মার্কিন দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এই সতর্কতা প্রকাশ করা হয়।

দূতাবাস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের স্বার্থে এই নিয়মটি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "আপনার ভিসা আবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য প্রদান না করলে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য অযোগ্য হতে পারেন।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আটকের কয়েক মিনিট পর মুক্তি পেলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০১ পি.এম


আটকের কয়েক মিনিট পর মুক্তি পেলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করার কয়েক মিনিটের মধ্যে মুক্তি দিয়েছে, যা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলের সাংসদদের আটক করার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নয়াদিল্লির নির্বাচন কমিশন ভবনের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়, ফলে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ শীর্ষ বিরোধী নেতাদের পুলিশ সাময়িকভাবে আটক করে।

আটকের পর, পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ভাইবোন বর্তমানে আকাশবাণী ভবনে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। এর আগে, সংসদ ভবনের মকর দ্বার থেকে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা করার সময় তাদের গতিপথ রোধ করে পুলিশ।

পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং সিপিআই(এম) নেতা জন ব্রিটাসসহ একাধিক সাংসদ রাস্তায় বসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

বিক্ষোভকারীরা সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নষ্টের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করে নানা শ্লোগান দেন।

তথ্যসূত্র: দ্য উইক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একমাত্র আসামির মৃ-ত্যু-দ-ণ্ড:‎ কাপ্তাইয়ে সুমি হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


একমাত্র আসামির মৃ-ত্যু-দ-ণ্ড:‎ কাপ্তাইয়ে সুমি হত্যা

‎‎রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে হাসিনা বেগম ওরফে সুমি হত্যা মামলায় মোহাম্মদ মাহিবুর কামাল প্রকাশ মোহিবুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এটি রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় মৃত্যুদণ্ডের রায় বলে জানা গেছে।
‎
‎মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
‎
‎মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ মার্চ সন্ধ্যার পর রাঙুনিয়ার দুবাসী বাজারের ভাড়া বাসা থেকে কাপ্তাই নতুন বাজার এলাকায় যাওয়ার পর হাসিনা বেগম নিখোঁজ হন। পরদিন কাপ্তাই থানাধীন চন্দ্রঘোনা-কাপ্তাই ইউনিয়নের বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও আগুনে পোড়ানোর আলামত পাওয়া যায়।
‎
‎এ ঘটনায় নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে ১৩ মার্চ ২০২২ কাপ্তাই থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
‎
‎মামলাটির প্রথম দফা তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন—পিবিআইকে দেওয়া হয়। পিবিআই তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি একই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
‎
‎মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ কোনো সাফাই সাক্ষী উপস্থাপন করেনি। আদালতে আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।
‎
‎রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিনিয়র অ্যাডভোকেট প্রতিম রায় পাম্পু। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির, মোখতার আহমদ, সফিউল আলম মিয়া ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাসুম রহিম।
‎
‎রায়ের পর পিপি প্রতিম রায় পাম্পু বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বার্তা যাবে—অপরাধ করে কেউ পার পাবে না; একসময় তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।
‎
‎অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাসুম রহিম বলেন, তারা এ ধরনের রায় প্রত্যাশা করেননি। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামির সঙ্গে আলোচনা করে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
‎
‎রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রায়ের বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে ময়লার ডিপো সরানোর দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৮ পি.এম


কক্সবাজারে ময়লার ডিপো সরানোর দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

কক্সবাজার শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কস্তুরাঘাট এলাকায় বাঁকখালী নদীর তীর ও নবনির্মিত কক্সবাজার-খুরুশকুল ব্রিজসংলগ্ন স্থান থেকে ময়লার ভাগাড় দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শহরে আধুনিক ও পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ মানববন্ধনটি কক্সবাজার পৌরসভা প্রাঙ্গণে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আট মহল্লা সমাজ কমিটির উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনের পর জেলা প্রশাসক ও কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসকের কাছে পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করে শহরকে মাদকমুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনের সভাপতিত্ব করেন আট মহল্লা সমাজ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। বক্তৃতা দেন সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও কবি-ছড়াকার মো. নাছির উদ্দিন, কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশনের সহসভাপতি ও পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এবং আট মহল্লা সমাজ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার জেলা জামায়াতের নেতা আমিনুল ইসলাম হাসান।

বক্তারা উল্লেখ করেন, বদর মোকাম মসজিদ রোড থেকে পূর্বে বড়বাজার জামে মসজিদ সড়ক, দক্ষিণে প্রধান সড়ক এবং উত্তরে বাঁকখালী নদী—এ সীমানা নিয়ে গঠিত ৩ নম্বর ওয়ার্ডটি শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা, পানি সংকট, মাদক ও অপরাধসহ নানা নাগরিক সমস্যায় এ এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কস্তুরাঘাট ও খুরুশকুল ব্রিজসংলগ্ন বাঁকখালী নদীর তীরে দীর্ঘদিন ধরে শহরের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এর ফলে সেখানে বিশাল ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্জ্য ফেলার কারণে নদীর তীর ও নদীর অংশবিশেষ ভরাটের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কস্তুরাঘাট এলাকায় ৪০ থেকে ৪৫ ফুট উঁচু বর্জ্যের স্তূপ গড়ে উঠেছে। সেখানে কয়েকটি পরিবারের বসতঘরও ময়লার স্তূপের মধ্যে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বরাত অনুযায়ী, প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ ট্রাক বর্জ্য সেখানে ফেলা হয়।

পরিবেশবাদীদের হিসাব অনুযায়ী, কক্সবাজার শহরে প্রতিদিন ৯৭ টনের বেশি বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭০ টন কস্তুরাঘাট এলাকায় ফেলার অভিযোগ রয়েছে। বছরের পর বছর বর্জ্য ফেলায় সেখানে ৪০ থেকে ৫০ ফুট উঁচু বর্জ্যের স্তূপ নয় পাহার তৈরি হয়েছে।

বক্তারা বলেন, পর্যটননগরীর প্রাণকেন্দ্রে এ ধরনের বর্জ্যের পাহাড় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে একদিকে বাঁকখালী নদী দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়ানো, মশা-মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রব এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে শহরের বাসিন্দারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ময়লার ভাগাড়ের বিষাক্ত দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ার কারণে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শিশু, নারী ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, কাশি, চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। বর্জ্য থেকে নির্গত দূষিত তরল ও ময়লা পানি মাটিতে মিশে ভূগর্ভস্থ পানির মানও নষ্ট করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

এলাকার ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত, দুর্গন্ধযুক্ত ও লবণাক্ত হয়ে পড়ায় দীর্ঘদিন ধরে শত শত পরিবার পৌরসভার সরবরাহ করা পানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নিয়মিত পানি সরবরাহ না পাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে অনেক পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে। কোথাও কোথাও বাধ্য হয়ে দূষিত ও লবণাক্ত পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়।

এদিকে কক্সবাজার শহরের দীর্ঘদিনের বর্জ্য সংকট নিরসনে আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সদর উপজেলায় আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে। ৭ সেপ্টেম্বর জারি করা চিঠিতে প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত এ ব্যবস্থায় বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও চূড়ান্ত ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতি চালুর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার পৌরসভার আধুনিকায়ন ও নগরসেবা উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের বিষয়টিও রয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভার একটি সাম্প্রতিক উন্নয়ন পরিকল্পনায়ও ডাম্পিং স্টেশনসহ আধুনিক নগরসেবা উন্নয়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন আরবান রেজিলিয়েন্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (RUTDP) আওতায় ডাম্পিং স্টেশন, সড়ক-ফুটপাত, ড্রেন, পাবলিক টয়লেট, বাজার ও বাসটার্মিনালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকার দেশের যেসব পৌরসভায় এখনো আধুনিক ডাম্পিং ইয়ার্ড নেই, সেসব এলাকায় খাসজমি চিহ্নিত করে ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণের উদ্যোগও নিয়েছে। এ জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বক্তারা বলেন, শুধু বর্তমান ময়লার ভাগাড় অন্যত্র সরিয়ে নিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করা, জৈব বর্জ্য থেকে সার উৎপাদন, প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার এবং বর্জ্য পরিবহনের আধুনিক ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

তারা বলেন, কক্সবাজার পর্যটননির্ভর শহর। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানে আসেন। ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ নদীতীর ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ময়লার পাহাড় পর্যটননগরীর ভাবমূর্তির জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর।

বক্তারা আরও বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ময়লার স্তূপ জমে থাকায় বর্ষাকালে ড্রেন ও নালা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে শুধু পরিচ্ছন্নতার বিষয় হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, পর্যটন ও নগর পরিকল্পনার সমন্বিত বিষয় হিসেবে দেখতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এসে এখানে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে সামাজিক শৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধও বেড়েছে বলে তারা দাবি করেন।

শহরের ময়লার ভাগাড়ের আশপাশে অপরাধপ্রবণতা রোধে নিয়মিত পুলিশি নজরদারি ও অভিযান জোরদারের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, এর আগেও কস্তুরাঘাটের ময়লার ডিপো সরানোর দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। পৌরসভার মেয়র ও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ডিপো সরানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

তারা অবিলম্বে বাঁকখালী নদীর তীর থেকে ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নির্ধারিত ও পরিবেশসম্মত স্থানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং বাঁকখালী নদীকে দূষণমুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নভেম্বরের মধ্যে ময়লার ডিপো সরানোর দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া না হলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

পরে আট মহল্লা সমাজ কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসকের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দেওয়া হয়। বক্তারা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে ওঠা কস্তুরাঘাটের ময়লার ভাগাড় দ্রুত অপসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%