০৩:০০ পি.এম
চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে শরিফুল ইসলাম (২২) নামের এক আসামি ‘পালিয়ে’ গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল কালের কণ্ঠকে।
মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে হাজিরা শেষে হাজতখানায় নেওয়ার পথে কৌশলে পালিয়ে যান শরিফুল।
শরিফুল ইসলাম একটি হত্যা মামলার আসামি এবং তিনি এর আগে একবার পালিয়েছিলেন। সেবার তিনি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশকে মারধর করে পালিয়ে গিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘মামলায় হাজিরার জন্য তাকে আদালতের এজলাসে ওঠানো হয়। তার হাতে হাতকড়া পড়ানো ছিল। কিন্তু কৌশলে আসামি পালিয়ে যান।’
ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ এর আগে এই আসামি একবার পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আজ সেই মামলায় হাজিরার জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য কার্যক্রম পরিচলনা করা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগির তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’
আদালত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের আঘাত ও মারধর করে হাতকড়া খুলে প্রথম দফায় পালিয়ে যান শরিফুল ইসলাম। ওই ঘটনার দিনই তৎকালীন হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হওয়া শরিফুলকে আজ সেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালতে তোলা হয়। তবে সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় আজ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। শুনানি শেষে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের কনস্টেবল আব্দুল আলিম তাকে এজলাস থেকে হাজতখানার দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি অতর্কিতে ও অত্যন্ত কৌশলে হাতকড়া খুলে আদালত চত্বর থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
আরও পড়ুন: ফেনীতে সাংবাদিককে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে সাবেক কাউন্সিলর আটক
গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রিজন ভ্যান থেকে একাধিক মামলার আসামি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজার পলায়নের ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ তদন্তে উঠে এসেছে, এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যরা জড়িত ছিলেন। তাদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার জানান, তদন্তে দেখা যায়, ২৯ জন আসামি নিয়ে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে স্কট পার্টি প্রিজন ভ্যানে রওনা দিয়ে তাঁতীবাজার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে এসে প্রিজন ভ্যান থামে। এ সময় স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর বিশ্বাস ড্রাইভার নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজন ভ্যানের চাবি নিয়ে আসামি পিচ্চি রাজা ও হাজতি আসামি বাশারকে বের করে ভ্যানের সামনের দিকে নিয়ে যান। খাইরুল বাশার প্রিজন ভ্যানের ড্রাইভারের সিটের পাশে বসে। এ সময় পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর প্রিজন ভ্যানে ওঠে না। মূলত সেখান থেকে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেট কারে করে আসামি পিচ্চি রাজা পলিয়ে যায়।
পরবর্তী সময়ে এসআই প্রবীর রাত সাড়ে ৮টায় মামলার এজাহারে বর্ণিত ঘটনাস্থলে এসে প্রিজন ভ্যানে উঠে স্কট পার্টির সদস্যদের নিয়ে মামলার এজাহারে বর্ণিত ঘটনাটি সাজান।
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন