বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪৩ পি.এম
চট্টগ্রাম, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : মাসব্যাপী স্তন ক্যান্সার সচেতনতা কর্মসূচি শুরু হয়েছে চট্টগ্রামে। এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সিএসসিআর এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েট সার্জিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট পিজিএস একাডেমিয়ার যৌথ উদ্যোগে।
আজ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে স্তন ক্যান্সার সচেতনতামূলক একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, "স্তন ক্যান্সার একটি প্রাণঘাতী রোগ হলেও সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে এর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।"
তিনি আরও বলেন, "এ রোগের বিষয়ে নারীদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন হতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ে দেরি হলে চিকিৎসা জটিল হয়ে যেতে পারে এবং মৃত্যুঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা বা উপসর্গ দেখা দিলে সংকোচ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি।"
মেয়র পিংক অক্টোবর উপলক্ষে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান স্থানে একটি গোলাপি আলো জ্বালানোর অনুরোধ জানান।" তিনি উল্লেখ করেন, "এই ছোট্ট আলো মা, বোন, স্ত্রী ও কন্যাসহ প্রতিটি নারীর সুস্বাস্থ্য এবং স্তন ক্যানসার সচেতনতার প্রতি আমাদের সংহতির প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে।"
শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক ডা. ম. রমিজ উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক আনিসুল হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বী, জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাজেদুর রহমান, সিএসসিআরের চেয়ারম্যান ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোরশেদুল করিম চৌধুরী এবং অধ্যাপক ডা. গোফরানুল হক ও অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা।
শোভাযাত্রার শেষ প্রান্তে বিআরটিএ’র একটি দ্বিতল গোলাপি বাস অংশগ্রহণকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই বাসের মাধ্যমে অক্টোবর মাসের প্রতি শনিবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ব্রেস্ট ক্যানসার স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকার নারীদের স্তন ক্যানসার বিষয়ে সচেতন করা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণে সহায়তা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জ, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫ শতাধিক বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের আজিজিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণের উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মামুন খান।
উদ্বোধনের পর পূর্ব দিয়ার পাঁচিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ, চর খোকশাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দ্রকণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শালুয়াভিটা দাখিল মাদ্রাসা, হাটবয়ড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণবয়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুরান শৈলাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১নং ও ২নং চায়না বাঁধ এলাকায় বৃক্ষরোপণের জন্য গাছের চারা, বাঁশ ও নেট বিতরণ করা হয়।
এ সময় সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক সাংবাদিক শেখ মো. এনামুল হক, ৫নং খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এ্যাড. আব্দুল মান্নান, খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শফিকুল ইসলাম, খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার ফিরোজ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, শালুয়াভিটা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আব্দুল মালেক জাকির, আজিজিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. আব্দুর রহমান, সহ-সুপার মাওলানা মো. আব্দুল কাইয়ুম, খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মুক্তা, রিপন হোসেন, খোকশাবাড়ী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মৃদুলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা, ১ অক্টোবর, ২০২৬ : কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) এলাকায় ২০টি খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এ তথ্য জানিয়েছেন, যা নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার কুমিল্লা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ১২তম বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইউসুফ মোল্লা টিপু উল্লেখ করেন, "তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে পুরো বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি এর নেতিবাচক দিক সম্পর্কেও নতুন প্রজন্মকে সচেতন থাকতে হবে।" শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির সুফল কাজে লাগানোর পাশাপাশি সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর অংশ হিসেবে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে ২০টি খেলার মাঠ নির্মাণ করা হচ্ছে, যা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং কুমিল্লা মডার্ণ হাইস্কুল রানারআপ হয়েছে। প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন দলের দলনেতা ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাজরিদা মোশাররাত।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান, ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম এবং আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন লিটন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মীর শাহ আলম, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু, সহ-সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসাইন আকাইদ, অর্থ সম্পাদক শাহ আলম শফি, দপ্তর সম্পাদক ওমর ফারুকী তাপসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সমকালের কুমিল্লা প্রতিনিধি মো. কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবারের প্রতিযোগিতায় কুমিল্লার আটটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে।
দুটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির আবদুর রহমান আস সাদী, মো. এনায়েত হোসেন, আবিদুর রহমান সাগর, নাজমুল হাসান ফাহিম, ফারহা খানম, আবছার উদ্দিন ইফতি, আসিফ ফেরদৌস জিদনী, ফাহিমা সুলতানা রাতুয়া ও ইসরাত জাহান ইতি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পেছনে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ট্রেনের চালক লাল সিগন্যাল (Red Signal) দেখে সতর্কবার্তার প্রতি মনোযোগ না দিয়ে উল্টো গতি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ট্রেন দুর্ঘটনা তদন্ত শাখার (RAIB) প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
১৯ জুন তারিখে লন্ডনের উত্তরে বেডফোর্ডশায়ারের এলস্টো (Elstow) এলাকায় ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ের (EMR) দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এই দুর্ঘটনায় করবি (Corby) থেকে লন্ডন সেন্ট প্যানক্রাসগামী ট্রেনের চালক শন বার্টন (৬০) নিহত হন এবং ১০২ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সংঘর্ষের ফলে উভয় ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার সময় দুটি ট্রেনে প্রায় ২৫৭ জন যাত্রী উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চালক শন বার্টন সংকেত পাওয়ার পরও ট্রেনের গতি কমাননি, বরং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৬ মাইল (প্রায় ১২২ কিমি) পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। অপর থেমে থাকা ট্রেনটির মাত্র ২০০ মিটার দূরত্বে পৌঁছানোর পর (যা সংঘর্ষের মাত্র ১০ সেকেন্ড আগে) তিনি জরুরি ব্রেক চাপেন। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যায় এবং ঘণ্টায় ৭৫ মাইল গতিতে অন্য ট্রেনটির পেছনে সজোরে ধাক্কা মারে।
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, সামনের নটিংহাম থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি কারিগরি ত্রুটির (অটোমেটিক ওয়ার্নিং সিস্টেম বা AWS) কারণে লাইনে হঠাৎ থেমে গিয়েছিল। এর ফলে পেছনের সিগন্যালটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল হয়ে যায়।
কেন অভিজ্ঞ এই চালক লাল সংকেত দেখার পরও ট্রেনের গতি বাড়ালেন এবং ট্রেনের অটোমেটিক ব্রেকিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছিল কি না—এগুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করছে তদন্তকারী দল RAIB। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত এবং স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। সাইবার অপরাধ দমন, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে ইউনিটটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপরাধের ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে আধুনিক প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন ইউনিটটি একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত আইজিপি মো. ইকবাল হোসেনকে ইউনিটটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সাইবার পুলিশিংয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। থানায় সাইবারকেন্দ্রিক সেবা ও তদন্তের জন্য পৃথক এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল পদায়ন করা হবে।
অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, সাইবার পুলিশ ইউনিটে মোট ৪ হাজার ৫৯২ জন জনবল থাকবে। বিদ্যমান পুলিশ বাহিনীর অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের পাশাপাশি নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এ জনবল পূরণ করা হবে।
ইউনিটটিতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফাইন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে।
এ ছাড়া, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালটেন্ট ও ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্টসহ বিভিন্ন কারিগরি পদে দক্ষ জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বিশেষজ্ঞের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো এবং কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, নিয়মিত পুলিশ বাহিনীর আইটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাইবার পুলিশ ইউনিটে পদায়ন করা হবে। ইউনিটের সিনিয়র কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সাইবার অপরাধ তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ইউনিটের অধীনে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সাইবার সরঞ্জামসমৃদ্ধ ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হচ্ছে। মানি লন্ডারিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ, গুজব, আর্থিক অপরাধ, মাদক ও উগ্রবাদসহ বিভিন্ন অপরাধ তদন্তে এ ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত সাইবার তদন্তে যে সমন্বয়হীনতা ছিল, নতুন ইউনিটের মাধ্যমে তা দূর করা হবে। এখন থেকে একক ও সুসংগঠিত কাঠামোর অধীনে সাইবার অপরাধসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশেষায়িত এ ইউনিটের কার্যক্রমের মাধ্যমে সাইবার স্পেসের অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়বে। প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ