০৬:৩৮ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় বক্তব্য রাখেন।
তিনি ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা অবসানের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দ্রুত ফেরত আনতে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের করভার হ্রাসের উদ্দেশ্যে কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার, ডিজিটাল শিল্প ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষার প্রসারের জন্য একাধিক জনবান্ধব সংশোধনী প্রস্তাব এনেছেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়
জাতীয় সংসদে সোমবার বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন। প্রস্তাবিত বাজেটে উল্লিখিত ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ কর বছরের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হলেও প্রধানমন্ত্রী তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এছাড়া, ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ কর বছরের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাবও করেন।
তিনি কালো টাকা সাদা করার বিধান তুলে নেওয়ার বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
আরও পড়ুন: কংগ্রেস ভারতকে 'বাংলাদেশ' বানানোর চক্রান্তে লিপ্ত, নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতা দখল করতে চায়
শিক্ষা ও কাজের ক্ষেত্রের উন্নয়নেও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ১০ শতাংশ কর হ্রাস করে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন তিনি।
তিনি সঙ্গে সঙ্গে এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদার করতে, শিক্ষার্থীদের বহু ভাষায় পারদর্শী করার জন্য ল্যাংগুয়েজ ল্যাব স্থাপন এবং গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় সংসদে সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বিকাশের লক্ষ্যে পার্বত্য তিন জেলায় তাদের পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়ের পাশাপাশি পাহাড়ি ও সমতল উভয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তিদের বেতনভোগী আয়ের করমুক্ত করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: মিরপুর-১০-এ উদ্বোধন হলো ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস স্পীডি
দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন এবং আমদানি শুল্ক কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। দেশের চিংড়ি চাষের প্রসার এবং রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে একিউফিড, ফিড এডিটিভস, প্রোবায়োটিক্স, ভিটামিন এবং মিনারেলস আমদানিতে সকল আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং ভ্যাট প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করা, ওষুধ এবং স্থানীয় শিল্পে ব্যবহৃত মধু আমদানির ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং পিভিসি ও পেট রেজিন আমদানির প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও করেন।
তিনি জানান, ফায়ার ডোর উৎপাদনের কাঁচামাল কোল্ড রোল্ড শিট আমদানির ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক এবং ফ্ল্যাট রোল্ড প্রোডাক্ট আমদানির ১০ শতাংশ আগাম কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করার অনুরোধও জানান।
তাছাড়া, বৈদ্যুতিক তার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের রিফাইন কপার আমদানির ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার এবং ক্যাশনাট প্রসেসিং শিল্পের কাঁচামাল অপ্রক্রিয়াজাত বাদাম আমদানির কাস্টমস শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: সউদী সরকার নিরলসভাবে সারা পৃথিবীতে কুরআনের খেদমত করে যাচ্ছে: রাষ্ট্রদূত
তিনি স্থানীয়ভাবে এলইডি ল্যাম্প এবং প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড বিল্ডিং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানির রেয়াতি সুবিধা ৩০ জুন ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করার অনুরোধ জানান।
ব্যবসায়ীবান্ধব ভ্যাট ব্যবস্থা প্রণয়নের লক্ষ্যে স্বর্ণ, ডায়মন্ড ও রৌপ্য অলংকারের ভ্যাটের হার পুনর্নির্ধারণ এবং বিটিআরসির রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও মাছ সরবরাহের জোগানদার পর্যায়ের ১০ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।
রাজনীতি এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বহুল ব্যবহৃত ডাবল কেবিন পিকআপ এবং মাইক্রোবাস স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে ফ্রিল্যান্সার এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য বর্তমান সরকার একটি বিশাল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মত সরকার বাজেটে স্টার্টআপ ফান্ডিং-এর জন্য ৫শ কোটি টাকার একটি বাজেট রেখেছে।’
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন