এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
০৬:৪১ পি.এম
বাগেরহাটের চিতলমারীতে অসহায় এবং দুঃস্থ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলে সহায়তা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ১২ জনের মাঝে বিনামূল্যে উন্নতমানের হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে দুপুর ২টার দিকে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার উপকারভোগীদের হাতে হুইল চেয়ার তুলে দেন।
সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর উন্নতমানের হুইল চেয়ার হাতে পেয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা এই মানবিক উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনেকেই তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, নতুন হুইল চেয়ার তাদের চলাফেরা সহজ করবে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নতুন স্বস্তি এনে দেবে।
হুইল চেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাদ্দাম হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব ঠান্ডু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গাজী মুনিরুজ্জামান, সেক্রেটারি জাহিদুজ্জামান নান্না, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শেখ আসাদুজ্জামান আসাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বলেছেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল সামাজিক দায়বদ্ধতাই নয়, বরং এটি মানবিক দায়িত্বও। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান আরও উন্নত হবে এবং তারা সমাজের মূলধারায় আরও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, “ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। এটি মঙ্গলবার দোহায় অনুষ্ঠিত হবে।”
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন একটি সময় সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা চলছে। দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধের জন্য এবং একটি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তবে ইরানের প্রধান আলোচক কাজেম গারিবাবাদি এর আগেই সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহে কোনো কারিগরি পর্যায়ের কর্মী বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রবিবার সিএনএনকে বলেছেন, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার পরও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে কারিগরি আলোচনা পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সামরিক হামলা এবং পারমাণবিক ও কূটনৈতিক বিষয়গুলো রয়েছে। এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা শুরু হয় এবং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দোহায় সম্ভাব্য এই বৈঠক সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট এবং চুক্তির শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশ বৈশ্বিক অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগ্রহী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমনের কাজে কূটনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, কার্যকর তথ্য বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ প্রথমবারের মতো সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে 'ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি কোঅপারেশন, ইনফরমেশন শেয়ারিং অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব বাংলাদেশ পুলিশ' শীর্ষক সমন্বয় সভার আয়োজন করে।
সভাটির সভাপতিত্ব করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ, দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তাগণসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এই সভায় অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশের পুলিশ কার্যক্রমের উপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি বেলাল উদ্দিন।
মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অপরাধের ধারণা অনেক বেশি বিস্তৃত ও জটিল হয়ে উঠছে। সহিংস উগ্রবাদ ও সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ আজ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল জালিয়াতি এই পরিস্থিতির সাথে যুক্ত হয়েছে। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়ন, মানব পাচার, অনলাইন জুয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর অপরাধ, ডিপফেক, ভুলতথ্য এবং অপতথ্য আজ আর কোন একক দেশের সমস্যা নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা।
আধুনিক পুলিশিংয়ের বাস্তবতা হচ্ছে, বর্তমানে সংগঠিত অপরাধের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের সাথে জড়িত। অপরাধ তদন্তের মধ্যে একাধিক বিচার ব্যবস্থা, বিদেশী নাগরিক, সীমান্তপারের লেনদেন এবং জটিল আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক জড়িত থাকে। তাই এসব অপরাধ মোকাবেলায় একটি শক্তিশালী কূটনীতিক অংশীদারিত্ব অপরিহার্য হয়ে উঠেছে; মূল প্রবন্ধে এই বিষয়টি উল্লিখিত হয়।
বাংলাদেশ পুলিশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ে একটি প্রশস্ত কাঠামো গড়ে তুলেছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ওভারসিজ অ্যাফেয়ার্স শাখা, এনসিবি ও ইউএন অপারেশন শাখা, ডিএমপি, এসবি, সিআইডি, পিবিআই এবং এটিইউয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তদন্তে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদানের কাজ চলছে।
বাংলাদেশ পুলিশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে অসাধারণ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং কূটনৈতিক সম্পৃক্ততায় বাংলাদেশ পুলিশের অনন্য অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ অপরাধ দমনে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর, কার্যকর তথ্য বিনিময় এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুঃ নজরুল ইসলাম কূটনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার এবং বিশ্বের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পররাষ্ট্র সচিব উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পুলিশের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি ডিভিশন কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি, তিনি বাংলাদেশ পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অতিথিদের নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এক দেশের সাথে অন্য দেশের সমন্বয়, তথ্য বিনিময় ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের বিদেশে দায়িত্ব পালন করার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, সাইবার ক্রাইম, ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম, ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমসহ বৈশ্বিক অপরাধ মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তোলার কাজ করছে পুলিশ।
আইজিপির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ কেবল অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অংশগ্রহণ বাংলাদেশ পুলিশের আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকার প্রকাশ করে। বর্তমান বিশ্বে কার্যকর পুলিশিং নির্ভর করছে ফলপ্রসূ সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সহযোগিতা এবং সমন্বয়ের ওপর। তিনি সকল দূতাবাস এবং বিদেশি সংস্থাকে বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও সেবাদানকারী ইউনিটগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার জন্য এ আয়োজনকে উল্লেখ করেন। এটি কার্যকর যোগাযোগ, দ্রুত সমন্বয় এবং উন্নত অপারেশনাল সহায়তা নিশ্চিত করবে।
তিনি কার্যকরভাবে তথ্য বিনিময়, সুসমন্বয় এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। সভায় মূল প্রবন্ধের ওপর উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি মোঃ কামরুল আহসান, ডিআইজি তাপতুন নাসরীন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর অতিরিক্ত ডিআইজি মহিউল ইসলাম উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদেশি কূটনীতিকগণ বাংলাদেশ পুলিশের এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বাংলাদেশ পুলিশের সাথে যৌথভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সভায় মানি লন্ডারিং, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম, সাইবার ক্রাইম, মানব পাচার ইত্যাদি অপরাধ মোকাবেলা এবং তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন দেশের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে বলে সুপারিশ করা হয়।
সবশেষে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত দুই কৃতী বিজ্ঞানীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়(গাকৃবি) কর্তৃক। সোমবার(২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয়েছিল এই অনুষ্ঠানের, যেখানে তাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আবদুল্লাহ্ মৃধা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের(বিপিএসসি) সাবেক ও প্রথম নারী চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জেড. এন. তাহমিদা বেগম।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, প্রক্টর, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপাচার্য পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. জহুরুল করিম এবং প্রফেসর ড. এম. এ. রহিমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
পরে তাদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এরপর রেজিস্ট্রার দুই গুণী ব্যক্তিত্বের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন, গবেষণা ও জাতীয় অবদানের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘গবেষণা ও প্রশিক্ষণে’ স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. এম. এ. রহিম তার দীর্ঘ গবেষণা ও শিক্ষকতা জীবনের নানা অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
তিনি গবেষণায় নিষ্ঠা, ধৈর্য ও নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে’ স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি অব সায়েন্স (বিএএস) এর প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. জেড. জীবনে নিয়মের প্রতি নিবেদনকে গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন হচ্ছে।” এসব জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে দেশের বাস্তবতার সমন্বয়ে গবেষণায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। বাংলাদেশকে গবেষণায় আরো এগিয়ে নিতে তরুণ গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনী চিন্তার প্রতি মনোযোগী হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
সমাপনী বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আপনাদের পদচারণায় গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আজ গর্বিত ও সম্মানিত।” দেশের জন্য আপনাদের যে অনন্য অবদান, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রসঙ্গত, প্রফেসর ড. জেড. এ. করিম বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ। ধানক্ষেতের মাটিতে ফেরিহাইড্রাইট খনিজ শনাক্ত, দেশের প্রথম খরা তীব্রতা মানচিত্র প্রণয়ন এবং উত্তরাঞ্চলের মঙ্গা সমস্যার কার্যকর সমাধানে তার গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তার গবেষণার ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে এবং দেশের লবণাক্ততার মানচিত্র ও শ্রেণিবিন্যাস প্রণয়ন সম্ভব হয়েছে। এসব অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এর আগে আন্তর্জাতিক পদক লাভ করেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রফেসর ড. এম. এ. রহিম বাংলাদেশের ফল গবেষণার এক উজ্জ্বল নাম।
তার নেতৃত্বে ১২৮টি নতুন ফলের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে 'বিইউ কুল' বিশেষভাবে জনপ্রিয় হতে দেখা যায়। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিইউ জার্মপ্লাজম সেন্টার এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এই কেন্দ্রটি বর্তমানে দেশের ফল, ঔষধি উদ্ভিদ ও কৃষি-বনায়নের বৃহত্তম সংগ্রহশালা এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জার্মপ্লাজম সংগ্রহকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি এসেছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে তিনি অতি শীঘ্রই দেশে আসবেন বলে জানিয়েছে তার একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল।
মিজানুর রহমান সোহেল জানিয়েছেন, মির্জা আব্বাস গুরুতর অসুস্থতা থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। বর্তমানে তিনি প্রিন্স কোর্ট মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বিএনপির এই নেতার শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আল্লাহর অশেষ রহমত ও সবার দোয়ায় তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং দ্রুত দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ