ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সরকারি স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, মাস পেরোলেও প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি


সরকারি স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, মাস পেরোলেও প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সরকারি স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণের জন্য নিম্নমানের কাজ, উপকারভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করার অভিযোগের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বেড়ে গেছে।

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হলেও এখন মাস পেরিয়ে গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, এই ঘটনার সত্যতা ধামাচাপা দিতেই দেরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে, “উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবু সিয়াম এবং একটি প্রভাবশালী মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পে অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতা রক্ষা করছে। তদন্ত কমিটি গঠনের পরও নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা না হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নীরবতা অভিযোগগুলোর সত্যতা আরও স্পষ্ট করেছে।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে সাঁওতাল শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান দেখে মুগ্ধ নরওয়ের প্রতিনিধি দল

বিষয়টি নিয়ে উজানচর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সুজন, বিএনপি নেতা বাবুল, মাসুমসহ অন্যান্যরা বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠনের পরেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় মনে হচ্ছে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা নিম্নমানের কাজ বরদাস্ত করব না।’

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি বদলি হয়ে গেছি, কিন্তু এরপরও আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সহকারী প্রকৌশলীকে বলেছি, উনি বিষয়টি দেখবেন।’

অন্যদিকে, তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান রিপোর্ট প্রকাশ না করেই হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে চলে গেছেন।

প্রকল্পের সূত্রে জানা যায়, উজানচর ইউনিয়নে হতদরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য ২২৯টি টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণে ৮০ লাখ ৩৯ হাজার ৭২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি ল্যাট্রিনের ব্যয় ধরা হয় ৩৫ হাজার ১০৮ টাকা (ওয়াই জংশনসহ)। তার মানে ১৩টি ইউনিয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ১০ কোটি ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ৫১৬ টাকা ব্যয় হওয়ার কথা।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যা

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজ’-এর সঙ্গে চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুসারে ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রকল্পটি এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। কার্যাদেশ অনুযায়ী সাত কর্মদিবসের মধ্যে কাজ শুরু হওয়া প্রয়োজন ছিল, তবে সেটারও বাস্তবায়ন হয়নি।

সরেজমিনে উজানচর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ল্যাট্রিন নির্মাণের সামগ্রী তৈরিতে নিম্নমানের ইট, সুরকি, বালু এবং রিং তৈরিতে দুর্বল মানের তার ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। বর্তমানে নির্মাণাধীন রিং, স্ল্যাব ও পাইপের মান ও আকার শিডিউল অনুযায়ী না হওয়ায় তা দ্রুত নষ্ট হতে পারে, স্থানীয়রা এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন।

লোকজন অভিযোগ করেছেন যে, ল্যাট্রিন সরবরাহের কথা বলে বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে। অনেকেই এখনো ল্যাট্রিন পাননি। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফরদাবাদ ইউনিয়নে ২৪৫টি ল্যাট্রিন নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও মাত্র ১২৯টি ল্যাট্রিন নির্মাণ করেই পুরো বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সিয়ামের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাকি কাজ বাস্তবায়নের কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ার কারণে প্রকল্পটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: শরীয়তপুর সদরেই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি স্থানীয়দের

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজ’-এর প্রতিনিধি দেওয়ান শহিদুল হক মুঠোফোনে জানান, ‘ভালোভাবে কাজ কীভাবে করব? এখানে (বাঞ্ছারামপুর) সব রাক্ষস এবং শকুনে ভরা। ওদের ম্যানেজ করতে গিয়ে আমি লসে পড়ে গেছি। এ কারণে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে।’

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবু সিয়াম বলেন, ‘কয়েকজন উপকারভোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ ছিল। পরে আমি ঠিকাদারকে লিখিতভাবে বিষয়টি সমাধান করেছি। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ হচ্ছে বিষয়েও জানতে পেরেছি। সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখব।’

ফরদাবাদ ইউনিয়নে কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘এই বিষয়ে কথা বলবেন না, এটা বাদ দেন।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে আসেন না। অন্য সদস্য প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) মিজানুর রহমান হজে গেছেন। এ জন্য রিপোর্ট প্রকাশে দেরি হচ্ছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শফিউল হক বলেন, ‘এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে। যদি কাজ শেষ করতে না পারে, তবে কার্যাদেশ বাতিল করে দেব। তবে তিনি নিম্নমানের কাজের প্রসঙ্গটি মুঠোফোনে এড়িয়ে যান।’

আরও পড়ুন: টঙ্গীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল আনন্দ মিছিল

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুদক অংশ) বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন রিপন বলেন, ‘কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন পত্রিকায় গরিবের টয়লেট নির্মাণের ক্ষেত্রে অনিয়মের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমরা যথাসম্ভব দ্রুত বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক আবু সাইদ বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত। আমি বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তদন্ত করে আমাকে জানানোর জন্য বলেছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত-নেপাল সীমান্ত নিয়ে বালেন্দ্র শাহ-এর মন্তব্যে কাঠমান্ডুর রাজনীতিতে তোলপাড়, কী বলেছেন বালেন্দ্র শাহ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪০ পি.এম


ভারত-নেপাল সীমান্ত নিয়ে বালেন্দ্র শাহ-এর মন্তব্যে কাঠমান্ডুর রাজনীতিতে তোলপাড়, কী বলেছেন বালেন্দ্র শাহ?

ভারত-নেপাল সীমান্ত সংক্রান্ত বালেন্দ্র শাহ’র একটি মন্তব্যের ফলে কাঠমান্ডুর রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় তৈরি হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ’র ওই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে নেপালের সরকার।

সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের পার্লামেন্টের প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত হয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তরুণ প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। কালাপানি, লিম্পিয়াধুরা ও লিপুলেখ সীমান্ত নিয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি জানতে পেরেছেন যে কেবল ভারতই নেপালের জমি দখল করেনি, বরং নেপালও ভারতের জমি দখল করেছে।

এই সীমান্ত বিরোধের সমাধান করতে তিনি যুক্তরাজ্যের মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়েছেন।

বালেন্দ্র শাহ’র এধরনের মন্তব্যের পর নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো পার্লামেন্টের রেকর্ড থেকে এই বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য দাবি জানিয়েছে। বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এক বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী কোনো রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড দখল করার অনুরোধ করেননি, বরং নদী অববাহিকার কারণে সৃষ্ট ‘ক্রস-বর্ডার অকুপেশন’ বা নাগরিকদের আন্তঃসীমান্ত জমি ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৩৭২ বর্গকিলোমিটারের কালাপানি অঞ্চলটি ভারতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভারত এই অঞ্চলটিকে তাদের উত্তরাখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে। সম্প্রতি এই সড়ক দিয়ে কৈলাশ-মানস সরোবর যাত্রা ঘোষণার পর নেপাল তীব্র আপত্তি জানায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্ধ কারখানার ভাগ্য নির্ধারণে সক্ষমতা বিবেচনায় করা হচ্ছে তালিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪১ পি.এম


বন্ধ কারখানার ভাগ্য নির্ধারণে সক্ষমতা বিবেচনায় করা হচ্ছে তালিকা

কোন প্রকার বন্ধ শিল্পকারখানা আবার চালু করা হবে, সেজন্য এক মাসের মধ্যে একটি তালিকা প্রস্তুত করে সরকারের হাতে দেবেন বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর সংগৃহীত তথ্য ও কলকারখানার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে। তবে, শুধু ঋণ সহায়তার কথা নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যে খুবই জরুরি, তা মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, রুগ্ন ও বন্ধ শিল্পের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে বিবেচনায় নিয়ে যদি আর্থিক বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তবে কর্মসংস্থানের বাজারও সম্প্রসারিত হবে।

যেখানে এক সময় শত শত শ্রমিক কাজ করতেন, সেই জায়গায় এখন গড়ে উঠেছে মাছের ঘের ও কৃষিজমি। কারখানার ভেতরের যন্ত্রপাতিও বিক্রি করে দেওয়ার বাধ্যবাধকতায় পড়েছেন মালিকরা। এ কারণে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একটি কারখানা, যেখানে প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন, সেই কারখানার কার্যক্রম বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

কোভিডের পর মোশারফ হোসেনের জন্য ব্যাংক ৫০ লাখ টাকার বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু সেই টাকা তিনি এখনও হাতে পাননি। বরং, সুদের বোঝা বেড়ে গিয়ে তার প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের মুখে। তিনি বলেন, "ব্যাংকই আমার সঙ্গে জালিয়াতি করেছে। টাকা না দিয়েও সুদ সমন্বয় করে নেয়া হয়েছে। যদি ব্যাংক সহায়তা করতো তবে আমি আবার দাঁড়াতে পারতাম। ব্যবসা বুঝি, কাজ জানি, এবং পুনরায় ঘুড়ে দাঁড়ানোর সক্ষমতাও ছিল। কিন্তু বরাদ্দকৃত ৫০ লাখ টাকার কোন অংশই আমার কাছে পৌঁছায়নি।"

শ্রম হারানোর কাহিনীও কম নয়। অনেকে মোবাইলের ক্ষুদে বার্তায় চাকরি হারানোর খবর পেয়ে থাকেন। ২০ বছরের চাকরি হারানো মোতালিব হোসেন জানান, "সহকর্মীরা এখন কেউ অটো চালাচ্ছেন, কেউ গ্রামের দিকে ফিরে কৃষিকাজ করছেন।" দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণও করেছেন।

সাভারের একই সড়কে পরপর দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, যেখানে প্রায় ৯ হাজার ও ৪ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ১১ হাজার কর্মীও এখন চাকরি হারানোর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। এই পরিস্থিতিতে বন্ধ কারখানা চালুর সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের জন্য ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, "কেউ রফতানির উপর নির্ভরশীল ছিলেন কিন্তু বৈশ্বিক বাজার হারিয়ে ফেলেছেন, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদি ঋণের চাপের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন ধরনের কারণে কারখানাগুলো বন্ধ হয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হবে কোন কারখানার কী প্রয়োজন। পরে সরকারকে জানিয়ে নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা নিতে হবে। সব ধরনের সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে বন্ধ কারখানাগুলো আবার সচল করা যায়।"

বন্ধ কারখানা সচল করার জন্য শুধু ঋণের কথাই নয়, ব্যবসায়িক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনেও জোর দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, "শুধু সরকার নয়, উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তবে, এর আগে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, নাহলে উদ্যোক্তারা আস্থা হারাবেন।"

বিগত রাজনৈতিক অসংগতির বা দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা রুগ্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা নীতি প্রয়োজন বলেও মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা মনে করছেন, বন্ধ ও রুগ্ন শিল্পকে আলাদা করে চিহ্নিত করে ঋণ ও সহায়তা দেওয়ার ফলে আর্থিক অপচয় কমবে এবং উৎপাদনশীল খাত পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানে পাঁচ বছরে জনসংখ্যা কমেছে প্রায় ৩১ লাখ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪৫ পি.এম


জাপানে পাঁচ বছরে জনসংখ্যা কমেছে প্রায় ৩১ লাখ!

জাপানে জনসংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। ২০২৫ সালের আদমশুমারি তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের মধ্যে দেশটির জনসংখ্যা কমেছে প্রায় ৩১ লাখ। জনসংখ্যা হ্রাসের এই ধারাটি টানা তৃতীয়বারের মতো রেকর্ড করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটি রোবোটিক্স এবং বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।

জাপান বর্তমানে জনসংখ্যার এক নীরব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের পহেলা অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার ৫২৪ জন, যা ২০২০ সালের তুলনায় ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৫ জন কম।

১১৯ বছরের আদমশুমারির ইতিহাসে এত বড় পরিবর্তন আর কখনো দেখা যায়নি।

জাপানে জনসংখ্যা কমার প্রবণতা নতুন নয়, তবে বর্তমানে এই হ্রাসের গতি সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ২০০৮ সালের পর থেকেই জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে চলেছে। তবে ২০১৫ সালে দেশটিতে জনসংখ্যা কমার হার স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। এরপর ২০২৫ সালে টানা তৃতীয়বারের মতো জনসংখ্যা কমে গেছে জাপানে।

জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষম জনগণের সংখ্যা হ্রাসই এই সংকটের মূল কারণ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই আদমশুমারির চূড়ান্ত ও বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করবে।

যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক জনসংখ্যার শীর্ষ তালিকায় অবস্থান হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে জাপানের জন্য।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই নীরব বিপর্যয় আগামী বছরগুলিতে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটি রোবোটিক্স এবং বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, ১২টি ঘর পুড়ে গেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪৬ পি.এম


চট্টগ্রামে বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, ১২টি ঘর পুড়ে গেছে

চট্টগ্রামের হালিশহরে বল্লাদেও বস্তির আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এতে অন্তত ১২টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে, হালিশহরের আই ব্লকের ৪ নম্বর লেইনে ওই বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। খবর পেয়ে, ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

স্থানীয়রা জানান, আগুনের সূত্রপাত ঘটার সময় সকাল পৌনে ১০টা হয়েছিল। এই খবরের পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে দেয়। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণের আগেই, প্রায় ১০ থেকে ১২টি বসতঘর পুড়ে গেছে।

এই আগুন সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আলমগীর জানিয়েছেন, ১২ থেকে ১৩টি বসতবাড়ি পুড়ে গেছে। তবে ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে গিয়ে দেখা যায়, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%