শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩১ পি.এম
ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের সংঘর্ষে নিহত ৬০
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, এবং দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের নিহতের সংখ্যা ৬০ জনের বেশি হয়েছে। সংঘর্ষগুলো ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সংঘটিত হয়েছে।
শনিবার, দেশটির তিনটি আলাদা সামরিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যম
এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কয়েক ঘণ্টার এই লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীর ২৬ সদস্য এবং ৩১ হুতি নিহত হয়েছেন।
একটি স্বাস্থ্য সূত্র জানিয়েছে যে, ইয়েমেনের তায়েজ প্রদেশের একটি সড়কে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ জনে পৌঁছেছে। এর আগে সরকারপন্থী সূত্রগুলো হামলায় চারজন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বর্তমানে মস্কো সফরে রয়েছেন তার কূটনৈতিক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। পরবর্তীতে তাদের কিয়েভ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় স্থগিত থাকার পর এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া আবার শুরু হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তার এই দূতরা উভয় রাজধানীতে ‘যুদ্ধ সমাপ্তির প্রস্তাব’ নিয়ে গেছেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এর আগে বলেছেন যে ট্রাম্পের দূতরা সবসময় স্বাগত অতিথি এবং তাদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে রাশিয়া সন্তুষ্ট। তবে এই পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য বেশ অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, ওয়াশিংটন যদি সরাসরি মস্কোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চালায়, তবে ইউরোপের ভূমিকা পাশ কাটানো হতে পারে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মন্তব্য করেছেন, যে কোনো স্থায়ী মীমাংসার আলোচনা চলাকালীন ইউক্রেন ও রাশিয়ার পাশাপাশি ইউরোপীয় ও আমেরিকানদেরও টেবিলে উপস্থিত থাকা উচিত। এর আগে আবুধাবি ও জেনেভায় তিন দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও ভূখণ্ডগত বিভিন্ন বিষয়ে মূল মতপার্থক্য রয়ে যাওয়ায় তখন কোনো চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি অর্জিত হয়নি।
ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার ড্রোন সংক্রান্ত অভিযোগ এবং পাল্টা উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি জার্মানি লিপজিগ/হ্যাল বিমানবন্দর এলাকায় একটি ড্রোন আটক করার ঘটনায় রাশিয়ার হাত থাকার অভিযোগ তুলেছে, যা মস্কো সম্পূর্ণরূপে নাকচ করে দিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মন্তব্য করেছেন যে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে এমন আগ্রাসী রাশিয়ার ভুয়া জুজু তৈরি করছেন।
এদিকে, ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার আকাশসীমায় চলাচলকারী সমস্ত আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে ঘোষণা করেছেন যে রাশিয়ার আকাশে নিরাপদ দিন শেষ হয়ে গেছে। কিয়েভের এই বক্তব্যকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং রুশ বিশেষজ্ঞরা একে রাশিয়ার নিয়মিত ও কঠোর হামলায় কোণঠাসা হয়ে পড়া ইউক্রেনের একটি মরিয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি কিয়েভের একটি আবাসিক এলাকায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এসবিইউ এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এইচইউআর-এর এজেন্টদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মিলারা গ্রামে রুশ হামলায় একটি গোলাবারুদ গুদাম ধ্বংস হওয়ার পর সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে ৩৮ জন নিহত এবং দুই শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
ইউক্রেনের ড্রোনগুলো রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় লাগাতার হামলা চালানোর কারণে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে এসব হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মারাত্মক মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি নরওয়ে কর্তৃপক্ষ ক্রিমিয়ায় কথিত সম্পদহানির অভিযোগে রুশ গবেষণা জাহাজ ‘প্রফেসর মোলচানভ’ আটক করেছে, যাকে মস্কো ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া জোরালো হচ্ছে। কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বৈশ্বিক নেতারা একত্রিত হয়ে বহুমেরু বিশ্ব ব্যবস্থার আত্মপ্রকাশকে ‘অপরিবর্তনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের কুহেস্তাকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনা নতুন করে যুদ্ধাপরাধের বিতর্ক উসকে দিয়েছে। অন্যদিকে সাবেক মার্কিন বিচারক অ্যান্ড্রু নাপোলিটানো এক সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেনে ব্যবহৃত অস্ত্র উৎপাদনকারী ন্যাটোর কারখানাগুলোতে আঘাত হানার পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইনগত অধিকার রাশিয়ার রয়েছে, তবুও সরাসরি বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অত্যন্ত নজিরবিহীন ‘সাধুর মতো ধৈর্য ও সংযম’ প্রদর্শন করে চলেছেন।
সূত্র: আরটি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গবেষণার সুফল প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে গবেষণার সুফল প্রান্তিক কৃষকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "শুধু গবেষণা করলেই হবে না; গবেষণার বিষয় নির্বাচন, গবেষণাপদ্ধতি, ফলাফল বিশ্লেষণ থেকে আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে প্রকাশ—প্রতিটি ধাপেই গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।"
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ‘ফ্রম রিসার্চ আইডিয়া টু কিউ১ জার্নাল পাবলিকেশন’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক আসলাম হোসেন আরও বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা। আর সেই জ্ঞান সমাজ ও বিশ্বের সামনে তুলে ধরার কার্যকর মাধ্যম মানসম্মত গবেষণা প্রকাশনা।" তিনি উল্লেখ করেন, গবেষণা যদি কেবল গবেষণাগার বা ব্যক্তিগত নথিতে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তার প্রকৃত মূল্য পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব নয়।
গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হলে তা একাডেমিক সমাজ, নীতিনির্ধারক, শিল্পখাত ও সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়।
ইউজিসি সদস্য বলেন, "গবেষণা ও প্রকাশনা একে অপরের পরিপূরক।" তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণা প্রকাশিত হলে তা গবেষকের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতারও প্রতিফলন ঘটায়।
তিনি আরও বলেন, "নিয়মিত ও উচ্চমানের গবেষণা প্রকাশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা ও একাডেমিক মর্যাদা বাড়ায়।"
এছাড়া, বৈশ্বিক গবেষণা সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।
বর্তমান সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে আসলাম হোসেন বলেন, "এ ক্ষেত্রে তরুণ গবেষকদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে।" তিনি মনে করেন, তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারলে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দেশ আরো এগিয়ে যাবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, "গবেষণায় নতুন কিছু সৃষ্টি করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মৌলিক জ্ঞান ও গবেষণা নৈতিকতার ভিত্তি শক্ত করতে হবে।"
মাভাবিপ্রবিকে গবেষণাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রকাশনার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমানের বরখাস্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন রৌমারী-ঢাকা মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জমির নামজারি বাতিল সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে মোবাইল ফোনে এসিল্যান্ড রাফিউর রহমানকে প্রশ্ন করেন দৈনিক মানবজমিনের রৌমারী উপজেলা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম সাজু। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হন। এর পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়ে ওই সাংবাদিকের বাড়িতে অবৈধ তল্লাশি অভিযান চালান এসিল্যান্ড।
পরবর্তীতে এ তল্লাশির বিষয়ে জানতে দৈনিক কালবেলার রৌমারী প্রতিনিধি সাখাওয়াত হোসেন এসিল্যান্ডকে ফোন করলে তিনিও তোপের মুখে পড়েন। ফোনালাপের একপর্যায়ে এসিল্যান্ড রাফিউর রহমান ওই সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে বলেন, তোকে গুম করা হবে, মামলা দেওয়া হবে, নাকি হত্যা করা হবে তা সময় বলে দেবে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার এমন অপেশাদার আচরণ ও হুমকির প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজপথে নামেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকের বাড়িতে বেআইনি তল্লাশি, গুম ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এই কর্মকর্তার অভিলম্বে বরখাস্ত ও আইনি শাস্তি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সাংবাদিক কাইউম আজাদ বাবুল, রফিকুল ইসলাম সাজু, আলতাফ হোসেন সরকার, মিজানুর রহমান মিনু, আবু সাঈদ কাকন, সাখাওয়াত হোসেন ও জাকির হোসেনসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ