০৪:১৭ পি.এম
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা এবং ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধের মতো বিভিন্ন দাবি নিয়ে আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এই কারণে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ, ইউনিক, জামগড়া, নরসিংহপুর, জিরানীবাজার, বাইপাইল এলাকায় দেখা যায়, এসব এলাকার বিভিন্ন কারখানায় কার্যক্রম সকাল থেকেই চলছিল। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে এবং কারখানার সামনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে সকাল ১০টার পর থেকে বিভিন্ন এলাকার বেশ কিছু পোশাক কারখানা ছুটি দিলে শ্রমিকরা বের হতে শুরু করেন।
পরে নরসিংহপুর, জিরানী বাজার, কবিরপুর, বাড়ইপাড়া, শ্রীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকরা সড়কে নেমে আসে। এর ফলে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক ও বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক বন্ধ করে তারা আন্দোলন করতে থাকে। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিলে মহাসড়ক স্বাভাবিক হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: জামালপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল অজ্ঞাতপরিচয় নারীর
এদিকে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু কারখানার মূল ফটকে কারখানা বন্ধের নোটিশ টাঙানো হয়েছে। এছাড়া অর্ধশত কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রমিকরা জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে যে বেতন দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব নয়। তারা আরও বলেন, চাকরির ক্ষেত্রে নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়, ফলে পুরুষ শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার হন। এ কারণে তারা আন্দোলন করছেন।
তারা আরও জানান, তাদের সবচেয়ে বড় দাবি হচ্ছে, বেতন সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। ৩০ হাজার টাকা হলেই তারা আন্দোলন বন্ধ করবেন।
শিল্প পুলিশ-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার শোয়েব আহম্মেদ জানান, সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। তবে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিছু ঝামেলা হয়েছিল। নিট এশিয়া নামের একটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছিল। পরে ওই কারখানার শ্রমিকরা শারমিন গার্মেন্টসের সামনে জমায়েত হন। তবে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ ছিলেন এবং পুলিশও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। তাদের বোঝানো হয়েছে। পরে শারমিন গ্রুপও বন্ধ ঘোষণা করে।
আরও পড়ুন: পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরদিন লক্ষ্মীপুরে বাসচাপায় প্রাণ গেল সাকিবের
তিনি আরও জানান, রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। অনন্ত গার্মেন্টে কিছু বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছিলেন। পরে পুলিশ এসে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলে শ্রমিকদের সঙ্গে। পরে শ্রমিকরা চলে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান শিল্প পুলিশের এই এএসপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন