শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৫ পি.এম
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে, যা ৬ জন আরোহী নিয়ে উড্ডয়ন করেছিল। শুক্রবার বিকেলে বদ্রীনাথ তীর্থস্থান থেকে উড্ডয়নের কিছু পর বিমানটির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হেলিকপ্টারটিতে পাঁচজন তীর্থযাত্রী এবং একজন পাইলট ছিলেন।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, চামোলি জেলার জোশীমঠের নিকটবর্তী একটি গ্রামের কাছে হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার স্থানটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকারী দল দ্রুত পাঠানো হয়েছে, তবে আরোহীদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ঘটনার সময় ওই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টি এবং প্রবল বাতাসের খবর পাওয়া গেছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর আগেই ওই অঞ্চলে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছিল।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, জেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (এসডিআরএফ) যৌথ উদ্যোগে উদ্ধার অভিযান চলছে। তিনি নিজে বিষয়টি তদারকি করছেন এবং গুরুতর আহতদের প্রয়োজন হলে এয়ারলিফটের মাধ্যমে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
উত্তরাখণ্ড রাজ্যটি হিমালয় সংলগ্ন এবং এটি চারধাম (বদ্রীনাথ, কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী) তীর্থযাত্রার জন্য বিখ্যাত। প্রতি বছর কোটি কোটি পুণ্যার্থী দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে এই স্থানগুলোতে যান। हाल ही में দুর্গম পথ এড়াতে হেলিকপ্টার সেবা জনপ্রিয় হলেও একের পর এক দুর্ঘটনার কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে কেদারনাথের কাছে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় সাতজন এবং ২০২২ সালের অক্টোবরে একই রুটে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়। বারবার দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কঠোর নিয়মাবলি চালুর নির্দেশ দিয়েছে। সূত্র: বিবিসি নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আমহারা অঞ্চলে সংঘাতের ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি শিবিরে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের এই হামলায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন। তুর্কি সংবাদসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি শুক্রবার স্থানীয় গণমাধ্যম ও সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ৪৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত হাইয়িক শহরের কাছে হাইয়িক জারি-২ তুর্ক শিবিরে হামলাটি সংঘটিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন অন্তঃসত্ত্বা নারী, আট বছর বয়সী এক শিশু এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিরা আশ্রয়কেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করছিলেন এবং হামলার সময় অন্তত পাঁচবার, প্রায় ১৫ মিনিট বিরতিতে, ড্রোন হামলা চালানো হয়। তাঁরা কখনোই এমন হামলার আশঙ্কা করেননি।
বাসিন্দাদের মতে, হামলার ফলে ২০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে আগুন লেগে যায়। এতে পরিবারগুলো পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং অনেক শিশু তাদের স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আহতদের হাইয়িক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দেসি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
শিবিরটিতে এক হাজার ৮০০ জনের বেশি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছেন। তাদের অধিকাংশই ওরোমিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে ওয়ালেগা থেকে সহিংসতার কারণে পালিয়ে এসে সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ বর্তমানে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, এমনটি জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, "এ সরকার গোলামির সরকার না। বর্তমান সরকারের ওপর দারুণ আগ্রহ আছে বিশ্বের।"
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নিয়ে অনুষ্ঠিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন দুদেশের প্রধানমন্ত্রী, যা ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, "জাপান থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার আসার সম্ভাবনা আছে। তা ঋণ বা বিনিয়োগ আকারে আসতে পারে। ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের বিষয়ে জাপান থেকে অর্থনৈতিক মিশন আসবে দ্রুতই।"
বিগ বি প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-টোকিওর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে আলোচনা হয়েছে। অন্য কোনো দেশের প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। বিগ বি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তৃতীয় কোনো দেশের প্রসঙ্গ ছিল না।
হুমায়ুন কবির জানান, জাপান থেকে এলএনজি আনতে যাননি প্রধানমন্ত্রী। তিনি জাপানের এলএনজি টার্মিনাল দেখতে গিয়েছিলেন, কারণ বাংলাদেশও টার্মিনাল করার পরিকল্পনা করছে।
তিনি বলেন, "কোনো ধরনের ঊর্ধ্বতন বা অধস্তন হিসেবে নয়, বাংলাদেশ এখন অন্য দেশের সঙ্গে সমান সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। এ সরকার গোলামির সরকার না। গত ১৫ বছর গোলামি করে বেড়িয়েছে বিগত সরকার। বর্তমান সরকারের ওপর দারুণ আগ্রহ বিশ্বের।"
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের মাতারবাড়ি নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হুমায়ুন কবির বলেন, জামায়াতের আমির বাংলাদেশ-জাপান মধ্যকার যৌথ বিবৃতি না পড়েই দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, "আগে যৌথ বিবৃতিটা পড়েন। পড়ে দায়িত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সুরের বাদ্যযন্ত্র তবলায় তাল ও ছন্দ তুলে একটি নতুন রেকর্ড গড়েছে ভারতের কর্ণাটকের উত্তর কন্নড় জেলার হোন্নাভারার বিস্ময়বালিকা স্বরশ্রী হেগড়ে। মাত্র ২ বছর ১০ মাস বয়সে, তবলায় ১২টি ভিন্ন তাল বাজানোর পাশাপাশি মুখে সেগুলোর বোল আবৃত্তি করে ‘ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডস’-এ তার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে এই ক্ষুদে শিশু।
সাধারণত, শাস্ত্রীয় সংগীতের তালগুলো আয়ত্ত করতে দীর্ঘ সময়ের অনুশীলন ও মনোযোগের প্রয়োজন হয়। কিন্তু স্বরশ্রী ৩ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই নিখুঁত ছন্দজ্ঞান, সমন্বয় এবং হাতের সুনির্দিষ্ট সঞ্চালনে তা আয়ত্তে এনেছে। এই বিষয়টি সংস্কৃতি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে স্বরশ্রীর রেকর্ড গড়ার মুহূর্তের ভিডিও। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শুভ্র সাদা ফ্রক পরে তবলা ও মাইক্রোফোনের সামনে বসে রয়েছে স্বরশ্রী। হাজার হাজার দর্শকের সামনে ছোট ছোট হাতে বাজিয়ে শোনাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন তবলার ১২টি তাল।
স্বরশ্রীর পরিবার সংগীতের সাথে যুক্ত। তার বাবা গুরুরাজ হেগড়ে আদুকালা একজন পেশাদার তবলা বাদক এবং মা শ্রিলতা হেগড়ে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের শিল্পী। বাবার কাছে শিক্ষার্থীদের তবলা শেখা দেখেই বাদ্যযন্ত্রটির প্রতি তার প্রবল আগ্রহ জন্মায়।
মেয়ের আগ্রহ দেখে তার বাবা-মা তার জন্য বিশেষভাবে ছোট আকারের দুটি তবলা তৈরি করে দেন, যা দিয়ে সে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করে। এই আগ্রহ থেকেই ধীরে ধীরে সংগীতচর্চার শুরু হয়, যা এখন অসাধারণ সাফল্যে রূপ নিয়েছে।
এদিকে, স্বরশ্রীর রেকর্ড গড়ার মুহূর্তের ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শিশুটির অসাধারণ প্রতিভা নিয়ে প্রশংসায় মেতেছেন সংগীতজ্ঞ ও নেটিজেনরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শিক্ষামন্ত্রীর ট্রান্সজেন্ডার-সম্পর্কিত বক্তব্যকে সমাজবিরোধী ও বিজ্ঞানবহির্ভূত বলে উল্লেখ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব শাহ ইফতেখার তারিক এই দাবি তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্রকৃত হিজড়ারা আমাদের সমাজেরই একটি অংশ। তবে যারা বিকৃত মানসিকতা লালন করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শারীরিক ও মানসিক বিকৃতি সাধন করে, তাদের কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। হিজড়া এবং ট্রান্সজেন্ডার কোনো অবস্থাতেই এক বিষয় নয়; ট্রান্সজেন্ডারিজম একটি মারাত্মক বিকৃতি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রান্সজেন্ডারের ধারণা সম্পূর্ণ বিজ্ঞানবহির্ভূত, খামখেয়ালি ও মানবসভ্যতার বিকাশবিরোধী। এর ফলে সমাজের মৌলিক পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। ইসলামসহ পৃথিবীর সব ধর্ম এবং প্রাচ্য সমাজ সর্বদা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এমনকি পশ্চিমা সমাজেও এখন এর বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে সমালোচিত ও প্রত্যাখ্যাত এই ধারণাকে উৎসাহিত করে শিক্ষামন্ত্রী মূলত সমাজ, রাষ্ট্র ও ধর্মবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যার কঠোর সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, সর্বমহলের প্রবল প্রতিবাদের মুখে মন্ত্রী ভুলবশত তৃতীয় লিঙ্গ বলতে গিয়ে ট্রান্সজেন্ডার বলেছেন বলে যে অজুহাত দাঁড় করিয়েছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তৃতীয় বা চতুর্থ লিঙ্গের ছদ্মাবরণে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিধ্বংসী চক্রান্ত মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায়, তাকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে অপসারণ করতে হবে। এ ধরনের মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তির হাতে দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার দায়িত্ব থাকা কোনো বিবেচনাতেই নিরাপদ নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ