জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০২:৩৯ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আলজেরিয়ার বিপক্ষে শুভ সূচনা করার পর এবার বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার এগিয়ে যাওয়ার পালা। আগামী সোমবার (২২ জুন) গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে তাঁদের মোকাবিলা করতে হবে অস্ট্রিয়ার সাথে। এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার সামনে একটি সুযোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা গ্রুপ জে'র শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে নকআউট রাউন্ডে কোয়ালিফাই করতে পারে। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু সমীকরণ মিলতে হবে।
আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় পেয়ে লিওনেল স্ক্যালোনির দলের জন্য কোয়ালিফিকেশনের পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে তারা গ্রুপের প্রথম স্থান নিশ্চিত করার সুযোগ পাবে। এই ক্ষেত্রে, একই সাথে তাদের অন্য ম্যাচগুলোর ফলাফলের ওপর নজর রাখতে হবে।
জে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে আর্জেন্টিনাকে আগামী ম্যাচে অবশ্যই অস্ট্রিয়াকে হারাতে হবে এবং আশা করতে হবে জর্ডান যেন আলজেরিয়াকে হারাতে না পারে। এই পরিস্থিতিতে স্কালোনির দল ৬ পয়েন্টে পৌঁছে যাবে এবং শেষ ম্যাচের আগেই তাদের অবস্থান প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে।
অস্ট্রিয়া প্রথম ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে এবং আলজেরিয়া যদি জর্ডানকে হারিয়ে দেয়, তাও ইউরোপীয় দলটির গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে সমীকরণ আর্জেন্টিনার পক্ষেও যায়।
কারণ, যদি দুই দলের পয়েন্ট সমান হয়, তাহলে গোল পার্থক্য নয়, বরং হেড-টু-হেড ফলাফলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাই যদি আর্জেন্টিনা অস্ট্রিয়াকে হারাতে সক্ষম হয়, তাহলে জর্ডানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে মেসিরা হেরে গেলেও তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে।
একইভাবে আলজেরিয়ার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য। যদি তারা আর্জেন্টিনার সমান পয়েন্ট অর্জন করে, তবে হেড-টু-হেডে এগিয়ে থাকায় আকাশি-সাদারাই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে। যদি হেড টু হেডে কেউ এগিয়ে না থাকে, তাহলে তখন বিবেচনায় আসবে গোল পার্থক্য, গোল সংখ্যা, ফেয়ার প্লে এবং ফিফা র্যাঙ্কিং।
জর্ডানকে তাত্ত্বিকভাবে গ্রুপের সবচেয়ে দুর্বল প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরা হচ্ছে, তাই সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ ষোলোতে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করার পর, ব্রাজিল দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিরুদ্ধে স্বস্তির সঙ্গে জয় পেয়েছে।
মাতেউস কুনিয়ার জোড়া গোল এবং ভিনিসিউস জুনিয়রের একটি গোলের ফলে, ৩-০ ব্যবধানের এই জয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে।
বড় জয় পেয়েও ক্যানারিনহারা একদম নির্ভার থেকে মাঠ ছাড়তে পারেনি। প্রথমার্ধ শেষে দলের গুরুত্বপূর্ণ তারকা রাফিনিয়া অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন।
ব্রাজিলের জয়ের আনন্দের মাঝেই রাফিনিয়ার চোট বিষয়ক উদ্বেগ এখন মূল আলোচনায় পরিণত হয়েছে। ম্যাচের ৪০তম মিনিটে বার্সেলোনার এই উইঙ্গার হ্যামস্ট্রিংয়ে ব্যথা অনুভব করেন এবং তাকে বদলি করা হয় বর্নমাউথের তরুণ রায়ানের সঙ্গে। এ মৌসুমে হ্যামস্ট্রিং সমস্যার ইতিমধ্যে তার একটি ইতিহাস রয়েছে, তাই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ব্রাজিলের মেডিকেল স্টাফ এখন রাফিনিয়ার ইনজুরির প্রকৃত অবস্থার বিষয়ে যাচাই করবে। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, তিনি এখনও ইনজুরির তীব্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত নন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, 'রাফিনিয়াকে আগামীকাল পরীক্ষা করা হবে, এখনই আমরা জানি না কী হয়েছে।'
মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাও সতীর্থের অবস্থা নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, 'আমরা সবাই চিন্তিত। আশা করি এটা গুরুতর কিছু নয়। এখনও কিছু জানা যায়নি, তাকে পরীক্ষা করাতে হবে।'
কনফেডারেশন অব ব্রাজিল ফুটবল পরবর্তীতে একটি বিবৃতি প্রদান করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, 'রাফিনিয়া হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে তার ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে ব্যথা অনুভব করেন। খেলোয়াড়টির ইতিমধ্যে চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে এবং তাকে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। আমরা আরও তথ্য পাওয়া গেলে আপনাদের জানাবো।'
🚨 𝗝𝗨𝗦𝗧 𝗜𝗡: Raphinha was seen limping slightly while leaving the stadium. His feelings are not good. Tests to follow.
— @AbrahamPRomero pic.twitter.com/cyfdwNpmmJ
রাফিনিয়ার এই চোট ব্রাজিলিয়ানদের জন্য এক বড় ধাক্কা হতে পারে। তার চোটটির গুরুত্ব পরীক্ষার পরই জানা যাবে। তবে বাস্তবতা ইঙ্গিত করছে, এই ধরনের হ্যামস্ট্রিং সমস্যা থেকে সুস্থ হতে সাধারণত ৩–১০ দিন বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। পুরো ব্যাপারটা ইনজুরির গ্রেডের ওপর নির্ভর করছে।
গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের শেষ ম্যাচ আগামী ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ খেলার মতো ফিট হয়ে ওঠার জন্য এই উইঙ্গারের হাতে মাত্র ৪ দিন সময় রয়েছে। ইনজুরি গুরুতর হলে তিনি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে পারেন। এটি ব্রাজিলকে নতুন সংকটে ফেলতে পারে, কারণ নীতিমালা অনুযায়ী টুর্নামেন্টের এই ধাপে চোটগ্রস্ত খেলোয়াড়ের বদলি নেয়ার সুযোগ নেই।
তবে, ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য আনন্দের সংবাদও দিয়েছেন আনচেলত্তি। স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগেই নেইমার পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠবেন এবং সেই ম্যাচে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। শেষ পর্যন্ত তিনি মাঠে নামতে পারলে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো ব্রাজিলের জার্সিতে দেখা যাবে নেইমারকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কবি আল মুজাহিদীকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন কবি, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সর্বস্তরের মানুষ।
শনিবার (২০ জুন) বেলা ১১টায় কবির মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হলে, সেখানে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।
শ্রদ্ধা জানান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কবির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জাতীয় প্রেসক্লাব ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। সেখানে দু’দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্বজনরা জানিয়েছেন, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে, রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কবি আল মুজাহিদী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
কবি আল মুজাহিদী ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এক সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন এ কবি।
কবিতা, উপন্যাস, শিশু সাহিত্য, অনুবাদসহ বিভিন্ন শাখায় তিনি কাজ করেছেন। তার কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি, মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা, প্রিজন ভ্যান, দিদেলাস ও ল্যাবিরিস্থ, ঈডের হ্যামলেট, প্রাচ্য পৃথিবী, পৃথিবীর ধুলো, সৌর জোনাকি, vita n nova, অ্যাকাডেমাসের বাগান, আল মুজাহিদীর শ্রেষ্ঠ কবিতা, আল মুজাহিদীর প্রেমের কবিতা, সন্ধ্যার বৃষ্টি, কালের বন্দীতে, পাখির পৃথিবী, আলবাট্রাস, ভঙুর গোলাপ, কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি ও পালকি চলে দুলকি তালে ইত্যাদি।
উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- প্রথম প্রেম, চাঁদ ও চিরকুট, মিলু এট ও স্যোন্যাটা, লাল বাতির হরিণ, রূপোলি রোদ্দুর ও আলোর পাখিটা। ছোটগল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে - প্রপঞ্চের পাখি, বাতাবরণ ও ভরা কটাল মরা কটালের চাঁদ ইত্যাদি।
কবি আল মুজাহিদী বিভিন্ন কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার’, ‘কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার’, ‘মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার’, ‘শেরে বাংলা সংসদ পুরস্কার’, ‘জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার’, ‘বাসাসপ কাব্যরত্ন পদক’ ও ‘একুশে পদক’ অর্জন করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ