০১:১৭ এম
বিশ্বকাপ মানে শুধু মাঠের ৯০ মিনিটের উত্তেজনা নয়; এটি কঠোর শৃঙ্খলা ও নানা বিধিনিষেধের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে। এবারের বিশ্বকাপ, যা যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, এর জন্য খেলোয়াড়দের মাঠের ভেতর ও বাইরের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে একগুচ্ছ নির্দেশনা প্রদান করেছে ফিফা, আইএফএবি এবং বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াদা)।
গোল করার পর আবেগে জার্সি খুলে উদ্যাপন ফুটবলে একটি পরিচিত দৃশ্য হলেও এবার এমনটি করলে খেলোয়াড়কে সতর্ক সংকেত হিসেবে হলুদ কার্ড দেখতে হচ্ছে। পাশাপাশি, অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ, দর্শকদের উসকানি দেওয়া কিংবা মাত্রাতিরিক্ত উদ্যাপনও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা ভেবে মাঠে আংটি, চেইন, ব্রেসলেটসহ যেকোনো গয়না পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে চিকিৎসক ও রেফারির অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যান্ডেজ, ফেস মাস্ক বা অন্যান্য সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে। একইভাবে, জার্সির ভেতরের পোশাক বা গেঞ্জিতে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বার্তা প্রদর্শনের কোনো অনুমতি নেই।
আরও পড়ুন: তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই কমিশনারের সাক্ষাৎ
ম্যাচ চলাকালে রেফারির সঙ্গে স্বাভাবিক কথোপকথন করা যাবে, কিন্তু আক্রমণাত্মক আচরণ, গালিগালাজ বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে হলুদ অথবা লাল কার্ডের মুখোমুখি হতে হবে। ফাউলের ভান করে রেফারিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও শাস্তি থেকে মুক্তি নেই।
টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, দুটি পৃথক ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকতে হবে। অন্যদিকে, লাল কার্ড দেখা খেলোয়াড়কে সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছাড়তে হবে। রেফারির নির্দেশ মানতে দেরি করলে বা গড়িমসি করলে শাস্তির মেয়াদ বেড়ে যেতে পারে। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে অচেতন হয়ে পড়লে চিকিৎসক ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তই পাবে চূড়ান্ত প্রভাব। যদি ঝুঁকি থাকে তাহলে তাকে আর মাঠে ফেরার অনুমতি দেয়া হবে না।
মাঠের বাইরেও সবচেয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে ডোপ টেস্টের ওপর। বিশ্বকাপ চলাকালে ম্যাচ শেষে, অনুশীলনের সময় অথবা টিম হোটেলে খেলোয়াড়দের ডোপ পরীক্ষার জন্য যেকোনো সময় ডাকা হতে পারে। পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানো বা নমুনা নিয়ে কারচুপি করার চেষ্টা করলে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা পেতে হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা থাকলেও সেখানে বর্ণবাদী, আপত্তিকর বা রাজনৈতিক উসকানিমূলক পোস্ট করা নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে, ফিফার নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন ও মিডিয়া কার্যক্রমে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের জন্য বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া এসব কার্যক্রম এড়িয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে জরিমানা দিতে হতে পারে।
আরও পড়ুন: মকবুল হত্যা মামলায় সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও রয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। কোনো খেলোয়াড় অফিশিয়াল অনুষ্ঠান বা সাক্ষাৎকারে অননুমোদিত স্পনসরের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের প্রচারণা চালাতে পারবেন না। এছাড়া, দলীয় ক্যাম্প বা হোটেল থেকে বাইরে যেতে হলে কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টের অনুমতি প্রয়োজন। যাতায়াতের ক্ষেত্রে ফিফা নির্ধারিত অফিসিয়াল যানবাহন ব্যবহার করতে হবে।
তবে সব নিয়মের মাঝেও ফুটবলের কিছু ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে জার্সি বিনিময়ের প্রচলিত রীতিতে কোনো বাধা নেই। পাশাপাশি, বর্ণবাদবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফিফার পূর্বানুমোদিত বার্তা অথবা প্রতীকী কর্মসূচি যেমন: ম্যাচ শুরুর আগে হাঁটু গেড়ে সংহতি প্রকাশ করার সুযোগ অব্যাহত থাকবে দলগুলোর জন্য।
সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে ফুটবলারদের মাঠের পারফরম্যান্সসহ আচরণ, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বে থাকবে কঠোর নজরদারি।
আরও পড়ুন: জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও বিনা মূল্যে চশমা বিতরণ শুরু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন