শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৪ এম
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছেন, নতুন আইনের মাধ্যমে এপিবিএনের জন্য তদন্ত পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং পার্বত্য অঞ্চলে ভৌগোলিক ও বাস্তবতার কারণে যেসব অপরাধের তদন্তে জেলা পুলিশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে এপিবিএন তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের সশস্ত্র অবস্থানের মধ্য থেকে আমরা সব মামলা তদন্ত করব না। সরকার-আদালত-আইজিপি থেকে যেসব মামলা আমাদের ন্যস্ত করা হয়, আমরা শুধু সেসব মামলার তদন্ত করব।" বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর উত্তরায় এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
এপিবিএন ডিআইজি আরও বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন অপরাধের তদন্ত করতে গিয়ে জেলা পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হয়। এই কারণে সরকারের অনুমতি নিয়ে এপিবিএনের নিরস্ত্র সাব-ইনস্পেক্টরদের তদন্তের কাজে যুক্ত করা হয়েছিল। নতুন আইনে তদন্ত কার্যক্রমের জন্য আইনগত ভিত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে। এছাড়া নতুন আইনে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আলাদা সেল গঠনের সুযোগও রয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং অপরাধ দমনে এপিবিএনের ভূমিকার বিষয়টিও আইন দ্বারা স্পষ্ট করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ১৮ লাখ মানুষের নিরাপত্তায় এপিবিএনের সদস্য সংখ্যা মাত্র ২২শ।" এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ক্যাম্প এলাকায় আরও জনবল দেওয়ার পাশাপাশি নতুন একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
এপিবিএন জানিয়েছে, এক মাসে বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ, হাজার হাজার পিস ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৭৮৪টি হারানো মোবাইল ফোন এবং বিকাশ-নগদ প্রতারণার ৭ লাখ ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এপিবিএনের আগস্ট মাসের কার্যক্রম অনুযায়ী, বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে ৪ হাজার ৯২৯ গ্রাম স্বর্ণের বার ও অলংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮৫ টাকা। এসব ঘটনায় ১৭টি মামলা এবং ২৭ জন গ্রেফতার হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সোলার প্যানেল স্থাপনে সরকারি ঋণসহায়তা চেয়ে এবং রাত ৮টার পরও দোকান খোলা রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সমিতির মো. হেলাল উদ্দিন। তিনি লিখিত বক্তব্যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এতে উপস্থিত ছিলেন সমিতির মহাসচিব জহিরুল হক ভ‚ঁইয়া, সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার ও হেজাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান, আব্দুল মোতালেব রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসীম উদ্দীন আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ হারুন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল অ্যান্ড পারফিউমারি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলামসহ রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতারা। তারা ১০ দফা দাবি জানান।
সমিতির নেতারা জানান, চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে দেশের অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। লোডশেডিং এবং রাত ৮টায় বন্ধের কারণে দোকান ও প্রতিষ্ঠানে বেচাকেনা অনেক কমে গেছে, ব্যবসায়ের ক্ষতি বাড়ছে।
নেতারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দ্রুততম সময়ে সোলার প্যানেল স্থাপনই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। বিপণিবিতানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) বা বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২ শতাংশ সুদে বিশেষ ঋণসহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটি বলছে, স্বল্প সুদে এই ঋণসহায়তা পেলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপণিবিতানগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সম্ভব।
সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা এই বিদ্যুৎ সংকটে দীর্ঘ সময় আর ভুগতে রাজি না। জেলা, উপজেলা পর্যন্ত আমাদের বিপণিবিতান আছে। এগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা গেলে এবং ব্যবসায়ীরা সৌর প্যানেলের ঋণ পরিশোধ করে দিতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে মার্কেটকে বিদ্যুৎ বিল দিতেই হবে না। উলটো আমরা বন্ধের দিনগুলোতে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পথকুকুরের উৎপাত: প্রতিকার না পেয়ে কর্মকর্তার টেবিলে ছেড়ে দেওয়া হলো কুকুর
মহারাষ্ট্রের নাসিকে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ করেছেন শিবসেনা (ইউবিটি) যুবসেনার নেতাকর্মীরা। নিফাড নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তা ধীরজ ভামরের কার্যালয়ে ঢুকে তার টেবিলের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় কয়েকটি পথকুকুর।
যুবসেনার নেতাকর্মীদের দাবি, এলাকায় পথকুকুরের সংখ্যা বেড়ে গেলেও এ বিষয়ে কর্মকর্তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিবসেনা (ইউবিটি) যুবসেনার জেলা প্রধান বিক্রম রন্ধাভে একটি বস্তার মুখ খুলে ছোট একটি কুকুর বের করে ধীরজ ভামরের টেবিলের ওপর ছেড়ে দেন।
এ সময় চেয়ারে বসে থাকা কর্মকর্তা চমকে গিয়ে টেবিল থেকে কিছুটা দূরে সরে যান। পরে আবার নিজের আসনে ফিরে আসেন। বস্তার ভেতরে আটকে থাকার কারণে ভীত কুকুরটি ছুটে গিয়ে একটি কোণে আশ্রয় নেয়।
কয়েক সেকেন্ড পর বস্তা থেকে আরও একটি কুকুর বের করা হয়। কুকুরটি টেবিলের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে এক পাশে রাখা একটি চেয়ারে বসে পড়ে।
এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে থাকা রন্ধাভে নিজের গলায় ২০ রুপির নোট দিয়ে সাজানো একটি মালা পরিয়ে নেন। তিনি ধীরজ ভামরের কাছে যেতে চাইলে কর্মকর্তারা তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
প্রতিবাদের সময় গত ছয় মাসে পথকুকুরের সমস্যা নিয়ে ধীরজ ভামরের কাছে কতবার অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিও তাকে স্মরণ করিয়ে দেন রন্ধাভে।
এক সাক্ষাৎকারে রন্ধাভে বলেন, প্রতিটি গ্রাম, রাস্তা ও অলিগলিতে পথকুকুরের সংখ্যা বেড়েছে। গত ছয় মাস ধরে আমি নিফাড নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তা ধীরজ ভামরেকে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলে আসছি।
তিনি আরও বলেন, একটি ছোট শিশু কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে। অনেক মানুষ ও নারীকে কুকুর তাড়া করেছে। আমি তাকে এলাকার পরিস্থিতি দেখিয়েছি, সেখানকার ছবি পাঠিয়েছি এবং বারবার বিষয়টি সমাধানের কথা বলেছি। কিন্তু যখন দেখলাম কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তখন প্রতিবাদ হিসেবে তার টেবিলের ওপর চারটি কুকুর ছেড়ে দিয়েছি।
রন্ধাভে অভিযোগ করেন, ধীরজ ভামরে দরপত্রের কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত। এ কারণেই যুবসেনার কর্মীরা নোট দিয়ে তৈরি মালা নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেগুলোও তার টেবিলের ওপর রাখা হয়।
এ ঘটনাকে শেষ সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করে যুবসেনার এই নেতা বলেন, আট দিনের মধ্যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ধীরজ ভামরের কার্যালয়ে আরও কুকুর ছেড়ে দেওয়া হবে।
রন্ধাভে বলেন, এখন গণেশ উৎসব চলছে। মানুষ আরতির জন্য বাইরে গেলে কুকুর তাদের পেছনে ছুটছে এবং ছোট শিশুদের কামড় দিচ্ছে। পথকুকুর নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
প্রধান কর্মকর্তা বিষয়টির গুরুত্ব বুঝবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পথকুকুরের উৎপাত: প্রতিকার না পেয়ে কর্মকর্তার টেবিলে ছেড়ে দেওয়া হলো কুকুর
মহারাষ্ট্রের নাসিকে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ করেছেন শিবসেনা (ইউবিটি) যুবসেনার নেতাকর্মীরা। নিফাড নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তা ধীরজ ভামরের কার্যালয়ে ঢুকে তার টেবিলের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় কয়েকটি পথকুকুর।
যুবসেনার নেতাকর্মীদের দাবি, এলাকায় পথকুকুরের সংখ্যা বেড়ে গেলেও এ বিষয়ে কর্মকর্তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিবসেনা (ইউবিটি) যুবসেনার জেলা প্রধান বিক্রম রন্ধাভে একটি বস্তার মুখ খুলে ছোট একটি কুকুর বের করে ধীরজ ভামরের টেবিলের ওপর ছেড়ে দেন।
এ সময় চেয়ারে বসে থাকা কর্মকর্তা চমকে গিয়ে টেবিল থেকে কিছুটা দূরে সরে যান। পরে আবার নিজের আসনে ফিরে আসেন। বস্তার ভেতরে আটকে থাকার কারণে ভীত কুকুরটি ছুটে গিয়ে একটি কোণে আশ্রয় নেয়।
কয়েক সেকেন্ড পর বস্তা থেকে আরও একটি কুকুর বের করা হয়। কুকুরটি টেবিলের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে এক পাশে রাখা একটি চেয়ারে বসে পড়ে।
এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে থাকা রন্ধাভে নিজের গলায় ২০ রুপির নোট দিয়ে সাজানো একটি মালা পরিয়ে নেন। তিনি ধীরজ ভামরের কাছে যেতে চাইলে কর্মকর্তারা তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
প্রতিবাদের সময় গত ছয় মাসে পথকুকুরের সমস্যা নিয়ে ধীরজ ভামরের কাছে কতবার অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিও তাকে স্মরণ করিয়ে দেন রন্ধাভে।
এক সাক্ষাৎকারে রন্ধাভে বলেন, প্রতিটি গ্রাম, রাস্তা ও অলিগলিতে পথকুকুরের সংখ্যা বেড়েছে। গত ছয় মাস ধরে আমি নিফাড নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তা ধীরজ ভামরেকে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলে আসছি।
তিনি আরও বলেন, একটি ছোট শিশু কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে। অনেক মানুষ ও নারীকে কুকুর তাড়া করেছে। আমি তাকে এলাকার পরিস্থিতি দেখিয়েছি, সেখানকার ছবি পাঠিয়েছি এবং বারবার বিষয়টি সমাধানের কথা বলেছি। কিন্তু যখন দেখলাম কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তখন প্রতিবাদ হিসেবে তার টেবিলের ওপর চারটি কুকুর ছেড়ে দিয়েছি।
রন্ধাভে অভিযোগ করেন, ধীরজ ভামরে দরপত্রের কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত। এ কারণেই যুবসেনার কর্মীরা নোট দিয়ে তৈরি মালা নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেগুলোও তার টেবিলের ওপর রাখা হয়।
এ ঘটনাকে শেষ সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করে যুবসেনার এই নেতা বলেন, আট দিনের মধ্যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ধীরজ ভামরের কার্যালয়ে আরও কুকুর ছেড়ে দেওয়া হবে।
রন্ধাভে বলেন, এখন গণেশ উৎসব চলছে। মানুষ আরতির জন্য বাইরে গেলে কুকুর তাদের পেছনে ছুটছে এবং ছোট শিশুদের কামড় দিচ্ছে। পথকুকুর নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
প্রধান কর্মকর্তা বিষয়টির গুরুত্ব বুঝবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস এবং জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিজেপির বিরুদ্ধে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়ার পরও কংগ্রেসের সাড়া না পাওয়ার কারণে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোটে অংশগ্রহণ করবে না তৃণমূল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদে কিংবা বাইরের রাজনৈতিক সমঝোতার পথে তৃণমূল আর হাঁটবে না। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট ভাগাভাগি ঠেকানোর জন্য কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছিল।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালকে ফোন করে নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। তাছাড়া রেজিনগরে তৃণমূল প্রার্থীকে কংগ্রেস সমর্থন করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে কংগ্রেস সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানায়নি।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, যদি তৃণমূল সত্যিই জোটে আগ্রহী হয়, তাহলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই আসনেই কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থন করতে হবে। তিনি এও জানিয়েছেন, সেখান থেকেই ভবিষ্যতে জোট নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।
এই অবস্থানের ফলে তৃণমূলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন, কংগ্রেস যদি শুধুমাত্র তাদের স্থানীয় নেতাদের মতামত অনুযায়ী চলে, তাহলে সংসদে কংগ্রেসের সঙ্গে একযোগে চলার কোনো বাধ্যবাধকতা তৃণমূলের নেই।
এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে সংসদে ও বাইরে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা না করার বার্তা প্রকাশিত হয়। এদিকে, দুই দলই ইতিমধ্যে দুই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী ভূমি আন্দোলনের নেতা মিলন প্রধান এবং রেজিনগরে মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। কালীঘাট তৃণমূলের হয়ে নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ফলে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ভোট একত্রিত করার যে সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা আপাতত ভেস্তে গেছে। বরং দুই আসনেই তৃণমূল ও কংগ্রেস আলাদাভাবে লড়াই করবে। এর সঙ্গে তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনও রয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একাধিক সমীকরণের পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
কংগ্রেসের বক্তব্য, আগে দুই আসনেই তৃণমূল তাদের প্রার্থীদের সমর্থন করুক। অন্যদিকে, তৃণমূলের বক্তব্য, জোটের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার পরও কংগ্রেসের প্রত্যাখ্যানের ফলে ভবিষ্যতের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে পাশাপাশি থাকা দুই দলের পশ্চিমবঙ্গের সম্পর্কও নতুন মোড় নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ