ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান


মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান

বরিশাল মহানগরীতে মাদকদ্রব্যের বিস্তার, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় আকস্মিক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশের বিশেষ আভিযানিক দল।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যা থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এয়ারপোর্ট জোন) পবিত্র কুমার হালদারের নেতৃত্বে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের বিশেষ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের আওতায় এয়ারপোর্ট থানাধীন কাশীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকা, কাশীপুর ট্রাকস্ট্যান্ড, কাশীপুর হাতেম মীরার দিঘির পাড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি জোরদার করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী এবং সন্দেহভাজন অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এ ধরনের আকস্মিক অভিযান বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে পুলিশ।

বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকা, জনসমাগমস্থল এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদকসংশ্লিষ্ট তৎপরতা প্রতিরোধে পুলিশের এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ আরও জানিয়েছে, শুধু এয়ারপোর্ট থানা এলাকাই নয়, সমগ্র মহানগরজুড়েই মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। অপরাধ দমন এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ তৎপরতার পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা।

বিএমপি মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরীতে মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।**

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলে বিরোধী শিবিরকে একত্রিত করতে আইজেনকোটের নেতৃত্বে বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১১ পি.এম


ইসরাইলে বিরোধী শিবিরকে একত্রিত করতে আইজেনকোটের নেতৃত্বে বৈঠক

ইসরাইলে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিভিন্ন দলের নেতারা বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন, যেখানে বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি আলোচনা হবে।

এদিকে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ তিনি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন। এ তথ্যটি এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮টি আসন লাভ করেছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর শিবির ৫৩টি আসন পেয়েছে, যার মধ্যে লিকুদ পার্টির আসন সংখ্যা ২৭টি।

১২০ আসনের পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনি আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলোর জোট রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। এর ফলে, সরকার গঠনে তারা সম্ভাব্য ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সরকার গঠন প্রশ্নে আরব দলগুলো ইতিমধ্যেই আইজেনকোটকে সমর্থন জানিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিরোধী দলগুলোর মধ্যে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। হার্জলিয়ায় এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আইজেনকোটের দল ইয়াশার জানিয়েছে, তথাকথিত ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর নেতারা জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা করবেন।

এদিকে, নেতানিয়াহু আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। গত সোমবার (২ নভেম্বর) তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় দলের নেতা হিসেবে পরবর্তী জোট সরকারের নেতৃত্ব তাঁরই পাওয়ার অধিকার।

লিকুদ পার্টির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, ‘ইহুদি জনগোষ্ঠীর স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ লিকুদকে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে এবং আমাকে পরবর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বেছে নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের অংশীদারদের পাশাপাশি এমন যেকোনো দলের সঙ্গে একটি বৃহত্তর সরকার গঠন করতে চাই, যারা যোগ দিতে আগ্রহী এবং সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না।’

তবে, আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নেতানিয়াহু নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এসব দল সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার পর ইসরাইলি আরব দলগুলোর নেতারা সর্বসম্মতভাবে ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তবে তারা ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থি সংগঠন হামাসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করেননি।

আরব দলগুলোর মধ্যে রা'আম পার্টির নেতা ইসরাইলকে ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও, অন্য দলগুলোর নেতারা এই সংজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই তালিকার নেতারা অভিন্ন লক্ষ্য তুলে ধরেছিলেন। তাঁদের ভাষ্য, তাঁরা একটি ‘বর্ণবাদী’ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সকল প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১২ পি.এম


জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে সকল প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা

ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর সারা দেশে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। একই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব দূতাবাস ও মিশনেও।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দিবসটি পালন উপলক্ষে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দিবসটি উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে।

এছাড়া, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব মিশন ও দূতাবাসেও একইভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে।

এছাড়া, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্যাপনসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকায় দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে প্রতি বছর নিয়ম মেনে ৭ নভেম্বর জাতীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭১ এর রাজাকারদের হাতে ২৪ এর রাজাকারকে ফুল দিয়ে বরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১২ পি.এম


৭১ এর রাজাকারদের হাতে ২৪ এর রাজাকারকে ফুল দিয়ে বরণ

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান বা দলটির সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা প্রকাশ করেছেন। তিনি মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক একাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই মন্তব্য করেন।

রাশেদ খান তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে উল্লেখ করেন, "২০২৪ এর জুলাইয়ে আন্দোলনকারী সবাইকে রাজাকারের সন্তান বলেও মেজর আক্তারুজ্জামান এখন জামায়াতের কাছে হিরো। ফেস দ্যা পিপল আয়োজিত আলোচিত সেই টকশোতে আমিও ছিলাম। আমাকেও সে রাজাকারের বাচ্চা বলে আক্রমণ করে এবং আরও বলে যে, আন্দোলন করছে জামায়াত-শিবির রাজাকারের সন্তানেরা। সেসময় ফেস দ্যা পিপলের সাগর ভাই মেজর আক্তারুজ্জামানকে প্রশ্ন করেন, এরা সবাই রাজাকারের বাচ্চা? উত্তরে মেজর আক্তারুজ্জামান বলেন, হান্ড্রেড পার্সেন্ট, এরা শতভাগ রাজাকারের সন্তান!"

তিনি আরও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, "সেই জুলাই গাদ্দার, গণহত্যার মদদদাতা মেজর আক্তারুজ্জামান এখন হয়ে গেছেন জামায়াত নেতা! জামায়াতকে সন্ত্রাসী দল বলা মেজর আক্তারুজ্জামান এখন সুন্দর করে 'নারায়েতকবির' স্লোগান দিতে শিখে গেছেন! আর এতেই তিনি পাকা ঈমানদার ও জনগণের নেতা হয়ে গেছেন? ধর্ম ব্যবসা শিখে গেলে এই সমাজে রাজনীতি করতে আর কি লাগে? জামায়াতের কাছে প্রশ্ন, শেখ হাসিনাও যদি ক্ষমা চেয়ে জামায়াত করতে আগ্রহ পোষণ করে, সেও কি জামায়াতে যোগদানের সুযোগ পাবে?"

রাশেদ খান আরও লেখেন, "জামায়াতের আমিরের পাশে দাঁড়িয়ে আজকে যখন মেজর আক্তারুজ্জামান বলছিলো, ইয়াহিয়া খানই তো ঠেকাইতে পারেনি, তোমরা কি ঠেকইবা! মেজর আক্তারুজ্জামান 'ইয়াহিয়া খান ও ৭১ এর প্রসঙ্গে' যেতেই হয়তো জামায়াতের আমির জিহ্বায় কামড় দিচ্ছিলেন আর ভাবছিলেন, আরে কি কয়, কি কয়, এখনো পাক্কা জামায়াত তো হতে পারলি না! তোকে নিয়ে না আমি প্রশংসা করে বলেছি, মেজর আক্তারুজ্জামান এখন শুধু জামায়াতের নেতা নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের নেতা! তাও ব্যাটা ৭১, ৭১ করে কলিজায় আগুন ধরিয়ে দিস!"

রাশেদ খান উল্লেখ করেন, "যাইহোক, মেজর আক্তারুজ্জামানকে নিয়ে জামায়াতের আজকের আয়োজন দেখে জনগণ মন্তব্য করছে, ২৪ এর রাজাকারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলো ৭১ এর রাজাকার!"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধনকুবেরদের শত শত কোটি ডলার দানের কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৩ পি.এম


মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধনকুবেরদের শত শত কোটি ডলার দানের কারণ

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে যাচ্ছে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন। নির্বাচনি প্রচারের বিজ্ঞাপন ব্যয়ের পরিমাণ ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলার হতে পারে। বিজ্ঞাপন ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বিজ্ঞাপনে অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় হবে।

বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবারের নির্বাচনে বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করছেন। এসব অনুদানের একটি বড় অংশ সরাসরি প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারে যাচ্ছে না। বরং, অর্থের বড় অংশ সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা সুপার প্যাকের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।

আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় ৫০ জন ব্যক্তি ও সংগঠন মোট ২৭৭ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন। এর মধ্যে রিপাবলিকানপন্থী অনুদানদাতারা দিয়েছেন ১৬৭ কোটি ডলার, যা মোট অনুদানের প্রায় ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটপন্থীরা দিয়েছেন ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩০ শতাংশ। বাকি ২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার এসেছে দুই দলের প্রতি সমর্থন জানানো এবং বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে। এসব সংগঠনের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ক্রীড়াভিত্তিক বাজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছেন ইলন মাস্ক

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ব্যক্তি অনুদানদাতা হিসেবে রয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান মাস্ক এখন পর্যন্ত ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন। রিপাবলিকানপন্থী অন্য বড় অনুদানদাতাদের মধ্যে রয়েছেন জাহাজে পণ্য পরিবহনের সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইউলাইনের প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ ও রিচার্ড ইউহলিন, যারা দিয়েছেন ১৫ কোটি ডলার। এ ছাড়া, ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান সুসকেহানা ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেফ ইয়াস ও তার স্ত্রী জেনিন ইয়াস দিয়েছেন ১১ কোটি ডলার।

ডেমোক্র্যাটপন্থী বড় ব্যক্তি অনুদানদাতাদের মধ্যে রয়েছেন ধনকুবের বিনিয়োগকারী ও ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জর্জ সরোস, নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইক ব্লুমবার্গ এবং লিংকডইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান ও তার স্ত্রী মিশেল ই। ডেমোক্র্যাটপন্থী অনুদানদাতাদের মধ্যে সরোস দিয়েছেন ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার, ব্লুমবার্গ দিয়েছেন ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং হফম্যান ও তার স্ত্রী দিয়েছেন ৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।

সুপার প্যাকের মাধ্যমে বিপুল অর্থ যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে একজন ব্যক্তি কোনো প্রার্থীকে প্রতি নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ ডলার অনুদান দিতে পারেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় অনুদানদাতাদের তালিকায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি শত শত মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন। প্রশ্ন হলো, এত বিপুল অর্থ কীভাবে দেওয়া সম্ভব?

এর কারণ, এসব অর্থের বেশির ভাগ সরাসরি প্রার্থীদের দেওয়া হয়নি। বরং, দেওয়া হয়েছে সুপার প্যাকগুলোকে। এসব সংগঠন কোনো প্রার্থীকে সমর্থন বা বিরোধিতা করার জন্য সীমাহীন অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় করতে পারে। তবে, প্রার্থী কিংবা তার নির্বাচনি প্রচার দলের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব অর্থ ব্যয় করার সুযোগ নেই তাদের।

২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি আদালতের রায়ের পর সুপার প্যাকের কার্যক্রম শুরু হয়। ওই রায়ের ফলে প্রার্থীদের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করা সংগঠনগুলোর নির্বাচনী ব্যয়ের ওপর সীমাবদ্ধতা উঠে যায়। সুপার প্যাকগুলোকে তাদের অনুদানদাতাদের তথ্য ফেডারেল নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হয়। তবে, ওয়ান নেশন ও মেজরিটি ফরোয়ার্ডের মতো কিছু অলাভজনক সংগঠনকে তাদের অর্থের উৎস প্রকাশ করতে হয় না। ফলে রাজনৈতিক অনুদানের প্রকৃত উৎস অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। এ ধরনের অর্থায়নকে বলা হয় ‘ডার্ক মানি’ বা অপ্রকাশিত অর্থ।

হার্ভার্ড ল স্কুলের অধ্যাপক লরেন্স লেসিগের মতে, এসব অর্থের উৎস রাজনীতিবিদদের কাছে গোপন থাকে না, বরং ভোটারদের কাছেই অজানা থেকে যায়। তাঁর ভাষায়, রাজনীতিবিদেরা জানেন অর্থ কোথা থেকে আসছে এবং তাদের কী করতে হবে।

রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। রিপাবলিকানপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ওয়ান নেশন। এই সংগঠনটি সিনেটে রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এরপর রয়েছে প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুদান দিয়েছে মেজরিটি ফরোয়ার্ড ও হাউস মেজরিটি ফরোয়ার্ড। সংগঠন দুটি যথাক্রমে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। রিপাবলিকানপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে ওয়ান নেশন দিয়েছে ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক দিয়েছে ৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলার এবং আমেরিকান প্রসপারিটি অ্যালায়েন্স দিয়েছে ৫ কোটি ৭ লাখ ডলার।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটপন্থী মেজরিটি ফরোয়ার্ড দিয়েছে ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার, হাউস মেজরিটি ফরোয়ার্ড দিয়েছে ৯ কোটি ৩৭ লাখ ডলার এবং ইকোনমিক অপরচুনিটি ফান্ড দিয়েছে ৪ কোটি ১৫ লাখ ডলার।

ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও এবারের নির্বাচনে বড় অঙ্কের অর্থ অনুদান দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেস দিয়েছে ৫ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। ব্লকচেইনভিত্তিক অর্থ লেনদেন প্রতিষ্ঠান রিপল দিয়েছে ৪ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। আর ক্রিপ্টো ডটকমের মূল প্রতিষ্ঠান ফরিস ডিএএক্স দিয়েছে ৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

এ ছাড়া, শিল্পগোষ্ঠী কোচ দিয়েছে ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার এবং ক্রীড়াভিত্তিক বাজি ধরার প্রতিষ্ঠান ড্রাফটকিংস দিয়েছে ৪ কোটি ৪ লাখ ডলার।

অল্প কয়েকজন ধনীর হাতে অনুদানের বড় অংশ। এবারের নির্বাচনে চারজন ব্যক্তি প্রত্যেকে ১০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন। নির্বাচনে অর্থের এমন বিপুল প্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হার্ভার্ড ল স্কুলের অধ্যাপক লরেন্স লেসিগ।

তার মতে, নির্বাচনে মোট কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, সেটিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় নয়। বরং অল্প কয়েকজন ধনকুবেরের হাতে নির্বাচনি অনুদানের বিপুল অর্থ কেন্দ্রীভূত হওয়াই বড় উদ্বেগের কারণ।

তিনি মনে করেন, যাদের হাতে বিপুল অর্থ নেই, নির্বাচনি রাজনীতিতে তাদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে। ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের মতামত ও প্রভাব কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%