১০:৫৬ এম
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস করেছে। ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান নিয়ে নতুন বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাবটি পাস হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানো যাবে না অথবা প্রেসিডেন্টকে চলমান অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য করা হবে। উল্লেখ্য, এর আগে প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদেও অনুমোদন পেয়েছিল।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সিনেটে ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়। যদিও এটি আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ক্রমবর্ধমান চাপের প্রতীক হিসেবে বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে।
রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও দলের চার সিনেটর—বিল ক্যাসিডি, লিসা মারকাওস্কি, সুসান কলিন্স এবং র্যান্ড পল—ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে কেবল জন ফেটারম্যান এর বিরোধিতা করেন।
আরও পড়ুন: কড়া নিরাপত্তা উপেক্ষা করে ফ্রান্সের রাজপথে লাখ লাখ বিক্ষোভকারী
সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ট্রাম্প ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ বিশৃঙ্খলা, ক্ষতি ও ব্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছেন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে সমালোচকদের মতে, এটি ছিল অপ্রয়োজনীয় ও উসকানিমূলক সামরিক পদক্ষেপ।
বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছে। যাইহোক, ইসরায়েলের লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রস্তাবটির বিরোধীরা বলছেন, এটি চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল করতে পারে। রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ ইরানকে আলোচনার টেবিল থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।
আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক আদালত এগিয়ে যাচ্ছে: ডেপুটি প্রসিকিউটর
তথাপি, প্রস্তাবটি পাস হওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে বিরোধিতা বাড়ছে। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মূল্য সার্থক ছিল।
এদিকে, যুদ্ধের প্রভাবে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপরও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ বিষয়টি রিপাবলিকানদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও গত কয়েক দশকে বিভিন্ন প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছেন। ট্রাম্পও দাবি করেছেন, এ ধরনের ক্ষেত্রে তাঁর নির্বাহী ক্ষমতার পরিধি সীমাবদ্ধ নয়।
আরও পড়ুন: অরুণাচল সীমান্তে চীনের নিয়ন্ত্রণে ভারতের 'অসহায়ত্ব', মোদি সরকার ব্যাকফুটে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন