শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩৩ এম
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বাংলাদেশের সমুদ্র অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমির (Blue Economy) উন্নয়নে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির (BMU) শিক্ষার্থীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এই আশাবাদ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের অগ্রগতি, ব্লু ইকোনমিতে দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি উচ্চশিক্ষায় গবেষণার অগ্রগতি ও সম্ভাবনাও আলোচনা করেন।
শিক্ষামন্ত্রী মন্তব্য করেন, "বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা দেশের ব্লু ইকোনমির অগ্রযাত্রায় নেতৃত্ব দেবে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন সামুদ্রিক দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মেরিটাইম হাব হিসেবে গড়ে উঠবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জামালপুর সমিতি, ঢাকা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার জন্য সংবর্ধনা প্রদান করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। অনুষ্ঠানে জামালপুরের নির্বাচিত সংসদ সদস্যবৃন্দ, জামালপুর সমিতির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ এবং জামালপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "শুধু দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ নয়, গোটা জামালপুর আমার।" তিনি বলেন, "দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সংগ্রামে আমি জামালপুরবাসীকে আমার পাশে পেয়েছি। এজন্য আমি আজীবন আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।"
জামালপুরের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, লাওচাপড়াকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঝিনাইগাতীতে পর্যটন হোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জামালপুরের পর্যটন স্পটগুলোকে পরিকল্পিতভাবে তুলে ধরা হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ জামালপুর ভ্রমণে আগ্রহী হন।
এ সময় মন্ত্রী শ্রদ্ধার সঙ্গে বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারকে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, "তার নেতৃত্ব শুধু তার নিজের জন্য নয়, গোটা জামালপুরবাসীর জন্যও ছিল এক বিরাট পাওয়া।"
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, "জামালপুরবাসীর দোয়া ও ভালোবাসা ছাড়া আজকের এ অবস্থানে আসা সম্ভব হতো না। আমি সবসময় জামালপুরের জনগণের জন্য কাজ করতে চেয়েছি। ২০০১ সালে জামালপুরবাসী আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব দিয়েছেন।"
মন্ত্রী বলেন, "যদি সৎ পথে চলা যায়, সত্য কথা বলা যায় তবে সর্বশক্তিমান আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়। এর প্রমাণ আমি নিজেই। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি আজ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী।"
তিনি আরও বলেন, "যমুনা নদীর ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প বর্তমানে একনেকে রয়েছে। প্রকল্পটি শিগগিরই অনুমোদিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে জামালপুরের সাধারণ মানুষ নদীভাঙনের কবল থেকে সুরক্ষা পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।"
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মন্ত্রী সকলকে দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আসুন, আমরা সবাই মিলে এই দেশটাকে ভালোবেসে দেশের জন্য যার যার অবস্থান থেকে কাজ করি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ১৭ সেপ্টেম্বর : একজন দক্ষ চিকিৎসকের সঠিক সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি মুহূর্তে একজন মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আবু সুফিয়ান, যিনি চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘জরুরি চিকিৎসায় সঠিক জ্ঞান, দক্ষতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন চিকিৎসককে শুধুমাত্র বইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; জরুরি পরিস্থিতিতে সেই জ্ঞানকে দ্রুত ও সঠিকভাবে প্রয়োগ করার দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।’
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজে অনুষ্ঠিত ‘ইমার্জেন্সি অ্যান্ড রিসাসিটেশন স্কিলস ওয়ার্কশপ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ এসব কথা বলেন।
আবু সুফিয়ান আরও বলেন, একজন রোগী হঠাৎ হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার মতো জরুরি পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের দক্ষতা কেবল তার জ্ঞান দিয়ে পরিমাপ করা যায় না; বরং সেই জ্ঞান বাস্তব পরিস্থিতিতে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কর্মশালা চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হবে। যদি তাদের জন্য এ ধরনের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করা যায়, তাহলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডা. রফিকুল হাসান তান্না, অধ্যাপক ডা. সাইফুদ্দিন সিদ্দিক আহমেদ সুজা, ডা. রেজাউল করিম আজাদ, জাহিদুল ইসলাম, ডা. মো. মহিউদ্দিন, সাইফুল আলম ও আশরাফুল করিম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্যের ব্যক্তিগত সচিবের (পিএস) বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অসহযোগিতা এবং রূঢ় আচরণের একাধিক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পেতে তারা নানা ধরনের ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছেন। সম্প্রতি জকসুর এক প্রতিনিধির অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর আরও কয়েকজন তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
অভিযোগকারীদের মতে, উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চাওয়ার সময় পিএসের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা তারা পাননি। কিছু শিক্ষার্থীর অভিযোগ, পিএস তাদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেছেন এবং সাক্ষাতের বিষয়ে পরে জানানো হবে বলেও কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি।
আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীও ওই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে আগস্ট মাসের পর ডিন অফিস পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিতর্ক সংগঠনের সদস্য এক শিক্ষার্থী জানালেন, উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়ার জন্য তাকে প্রায় তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়েছে। তার অভিযোগ, সাক্ষাতের বিষয়টি উপাচার্যের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি মনে করেন, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ ও জবাবদিহির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকট ও সংস্কার সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয় নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলার জন্য তারা সাক্ষাতের উদ্যোগ নেন। প্রথমে জানানো হয়, চেয়ারম্যান ছাড়া দেখা করা যাবে না। পরে চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করা হলে আবেদন গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এরপর আর সাক্ষাতের সময় বা এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির অভিযোগ, পিএসের আচরণে সাংবাদিকদেরও বিভিন্ন সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কয়েকটি পোস্ট ও মন্তব্যে ওই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে ‘রূঢ়’, ‘বদমেজাজী’ ও ‘অসহযোগিতামূলক’ মন্তব্য করা হয়েছে।
সম্প্রতি জকসুর হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা ফেসবুকে একটি পোস্টে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পেতে গিয়ে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য, বার্ষিক ফেস্ট আয়োজনের বিষয়ে সময় চাইতে গেলে পিএস প্রথমে জানান, সাক্ষাতের সময় দেওয়ার দায়িত্ব তার নয়। পরে দায়িত্ব তার ওপর থাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও নির্দিষ্ট দিনের সাক্ষাতের কথা উপাচার্যকে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ফাতেমা তুজ জোহরা আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তাকে উপাচার্য আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়। সাক্ষাতের সময় জানার জন্য অনির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করা সম্ভব নয় জানিয়ে পরে সময়সূচি জানাতে অনুরোধ করলে পিএস উচ্চস্বরে কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি সময়সূচি দেবেন না বলেও জানান বলে অভিযোগ করেন ফাতেমা।
এসব অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সেবা পাওয়ার পদ্ধতি এবং উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের পেশাদার ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইচ উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। আপনাদের সাংবাদিকদের কয়েকজনের মাধ্যমে মাত্রই বিষয়টি জানলাম। দ্রুতই তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পিএসের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী না।”
উল্লেখ্য, এর আগেও ওই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মধ্যে অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন যে, তিনি রাশিয়ায় পালিয়ে থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছেন। আবু সাইদ চাঁদ বলেন, "আরে তোর বাপ তো একটা পিয়ন, লালমনিরহাটে ২০-৩০ টাকা আদায় করে খেত। আরে বাপের বেটা যদি হস, তোর কত বড় ক্ষমতা আছে, বাঘা-চারঘাট ও আড়ানীর মাটিতে এসে রাজনীতি কর।"
এ মন্তব্য তিনি বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আড়ানী মনোমোহিনী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আড়ানী পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে করেছেন।
আবু সাইদ চাঁদ আরও বলেন, "জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠা থেকে জনগণ পক্ষে আছে। কিন্তু আ.লীগ-জামায়াত ১৯৮৬ সালে এরশাদের কোলে চড়ে ভোট করেছিল। আমার নেতা বেগম খালেদা জিয়া ওই সময় বলেছিল, স্বৈরাচারের সঙ্গে কোনো আপস নেই। আমরা নির্বাচন বয়কট করলাম। স্বৈরাচারকে ঘরে ঢুকিয়ে নির্বাচন করব, আন্দোলন সংগ্রাম করে তাদের ঘরে ঢুকিয়ে ১৯৯১ সালে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলাম। ওই সময় আ.লীগ-জামায়াত বিএনপির বিপক্ষে ছিল, এখনো আছে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "আপনারা জানেন বিনা ভোটে শাহরিয়ার আলম এমপি হয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছিল। বাঘা-চারঘাট এলাকার আড়ানীতে সে বাড়ি করেছেন, এখানেও তার কোনো অস্তিত্ব নেই, কিন্তু সে ভোলাই হাজীর নাতীন জামাই বলে পরিচয় দেন। ভোলাই হাজীর একটি মাত্র ছেলে, তার নাম ইমাজ উদ্দীন। ভোলাই হাজীর বাড়িতে সব সময় ২০-৩০ জন ছেলে-মেয়ে লালন পালন করতেন। তাদের লালন পালন করে বিয়ে দিতেন। এলাকায় ভোলাই হাজীর এটাই ইতিহাস। কিন্তু শাহরিয়ার আলম এলাকায় তাকে পূঁজি করে এসে জনগণকে বিভ্রান্তি শুরু করে।"
এখন তিনি রাশিয়া থেকে ভাষণ দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্তি করছেন বলেও অভিযোগ করেন আবু সাইদ চাঁদ। তিনি বলেন, "আরে তোর বাড়ি তো ভেঙে দিতাম। তুই এখনো ভাল আছিস। ২০১৪ সালে আ.লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলি। ওই সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলায় দিয়ে ১৭ বছর হয়রানি করেছিস। পালিয়ে না থেকে চারঘাট-বাঘায় এসে রাজনীতি কর।"
তিনি আরও বলেন, "ডিসেম্বরে না-কি শেখ হাসিনা দেশে আসবে। আরে মিয়া কারে ভয় দেখাও, মোদির কাছে থেকে না-কি রাশিয়া থেকে, এতে আমরা ভয় করি না। ১৯৭৪ সালে শেখ মুজিব দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছিল। আবারও পায়তারা শুরু করেছ। এর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। দেশে আসো, তোমার জন্য ফাঁসি প্রস্তুত করে রেখেছি, তুমি আসলেই ফাঁসি কার্যক্রম শুরু করা হবে। আর শাহরিয়ার ফেসবুকের মাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে জনগণকে সাহস দিস, এ সাহস পাস কোথা থেকে। ২০১৪ সালে তোমরা ক্ষমতায় ছিলে, ওই সময় তোমাদের সাথে লড়াই সংগ্রাম করেছি, ওই সময় তোমরা কিছুই করতে পারনি। তাই রাশিয়া-ভারত থেকে জনগণকে বিভ্রান্তি করিস না।"
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আড়ানী পৌর বিএনপির সভাপতি তোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানে আড়ানী পৌর ও ইউনিয়নের বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যানারসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও প্রতিনিধিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুল হক এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এসএম সালাউদ্দিন আহমেদ শামীম সরকার।
আড়ানী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ বিল্টুর সঞ্চালনায় এবং যুবদল নেতা মহিদুল ইসলাম জুয়েলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চারঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র জাকিরুল ইসলাম বিকুল, বাঘা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল হাসান বাবলু, সদস্য সচিব আশরাফ আলী মলিন, বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম তফি, জেলা যুবদলের সদস্য জয়নাল আবেদীন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম রাসু প্রমুখ।
সংবর্ধনাকে অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আগের দিন মাইকিং করে বুধবার বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আড়ানী পৌর বাজার ও স্টেশন বাজার বন্ধ রাখা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ