শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:১৪ এম
অর্থ কোথায় বিনিয়োগ করবেন, তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন অনেকেই সারাজীবন। কিছু মানুষ স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ করেন, অন্যরা সঞ্চয়পত্র বা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। তবে মধ্যবিত্তদের জন্য সঞ্চয়ের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হলো প্রাইজবন্ড। মাত্র ১০০ টাকার প্রাইজবন্ড কিনে সর্বোচ্চ পুরস্কার ৬ লাখ টাকা জেতার সম্ভাবনা রয়েছে।
সঞ্চয় প্রবণতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরকার ‘বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড’ নামে এই বন্ড চালু করেছে। এটি যে কোনো সময় কেনা এবং ভাঙানো সম্ভব।
প্রাইজবন্ড কী?
প্রাইজবন্ড হচ্ছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একটি বিনিয়োগ প্রকল্প, যেখানে বিনিয়োগকারীরা যেকোনো সময় বিনিয়োগ করতে পারেন এবং যেকোনো সময় প্রাইজবন্ড ফেরত নিয়ে আসল অর্থ উত্তোলন করতে পারেন। এই প্রকল্প থেকে মুনাফা বা সুদ প্রদান করা হয় না। তবে প্রতি বছর তিন মাস অন্তর অন্তর ড্র অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীদের বিভিন্ন মূল্যমানের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখগুলো হলো ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই এবং ৩১ অক্টোবর। যদি নির্ধারিত তারিখে সরকারি ছুটি থাকে, তাহলে পরবর্তী কার্যদিবসে ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
তবে বিক্রিত সকল বন্ড লটারির আওতায় আসে না। যে তারিখে ড্র অনুষ্ঠিত হবে, সেই তারিখ থেকে ২ মাস আগে যে সমস্ত নতুন বন্ড বিক্রি হবে, সেগুলো ড্রয়ের আওতায় আসবে। অর্থাৎ, বন্ডের বিক্রির তারিখ থেকে ন্যূনতম ২ মাস অতিক্রমের পর উক্ত বন্ড ড্র-এর আওতায় আসবে।
সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে 'ড্র' অনুষ্ঠিত হয় এবং সরকার কর্তৃক নিয়োজিত 'ড্র' কমিটি এই অনুষ্ঠানের পরিচালনা করে। একক সাধারণ পদ্ধতিতে 'ড্র' পরিচালিত হয়, অর্থাৎ প্রত্যেক সিরিজের জন্য একই নম্বর। বাজারে প্রচলিত প্রাইজবন্ড সিরিজগুলো এই 'ড্র'-এর আওতাভুক্ত।
প্রাইজবন্ড কেন প্রচলন করা হয়েছে?
বাংলাদেশ সরকার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই স্কীমটি চালু করেছে। এই প্রকল্পটি সকল শ্রেণির মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রবর্তন করা হয়েছে। সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ আহরণ এই প্রকল্পের মাধ্যমে অনেকটাই সহজ হয়েছে। প্রাইজবন্ড বিক্রির মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছ থেকে সরাসরি ঋণ গ্রহণ করে।
বর্তমানে বাজারে কত টাকা মূল্যের প্রাইজবন্ড উপলব্ধ? বাংলাদেশে এ পর্যন্ত তিনটি প্রাইজবন্ড প্রকল্প চালু হয়েছে। প্রথমটি ১৯৭৪ সালে ১০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড, যা ১৯৯৫ সালে বাতিল করা হয়। দ্বিতীয়টি ১৯৭৪ সালে ৫০ টাকা মূল্যমানের আরেকটি প্রাইজবন্ড চালু হয়েছিল, সেটিও ১৯৯৫ সালে বাতিল হয়।
বর্তমানে শুধুমাত্র ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড বাজারে চালু রয়েছে। ১৯৯৫ সালের ২ জুলাই থেকে এই বন্ড বাজারে প্রচলন শুরু হয়।
কেন কিনবেন প্রাইজ বন্ড?
সারাজীবন কষ্ট করে কিছু টাকা জমিয়েছেন, কিন্তু কোথায় বিনিয়োগ করবেন তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন। যেহেতু যে কোনো বিনিয়োগের ঝুঁকি থাকে, তাই প্রাইজবন্ড একটি নিরাপদ বিকল্প। খুব ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে আলাদাভাবে অর্থনীতিতে লাভজনক বিনিয়োগ সম্ভব নয়।
মাত্র ১০০ টাকায় অন্য কোনোভাবে সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করা কঠিন। অন্য বিনিয়োগ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মূলধন প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়। তবে প্রাইজবন্ড ভাঙিয়ে যে কোনো সময় নগদ অর্থ তুলে নেওয়া যায়। এটি সহজে হস্তান্তরযোগ্য। ব্যাংক বা অন্য কোথাও সঞ্চয় জমা রাখলে তা সহজে হস্তান্তরযোগ্য নয়। কিন্তু আপনার অধিকারে থাকা প্রাইজবন্ড যে কোনো সময় যে কাউকে হস্তান্তর করা সম্ভব। ড্র এর সময় বন্ড যার হাতে থাকবে, সেই পুরস্কার লাভ করবে।
কীভাবে কিনবেন?
প্রাইজবন্ড কেনার জন্য কোনো আবেদন করতে হয় না। যেকোনো ইস্যু অফিসে গিয়ে নগদ অর্থের বিনিময়ে প্রাইজবন্ড ক্রয় করা এবং ভাঙানো যায়। বর্তমানে দেশে চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাইজবন্ড কেনা এবং ভাঙানো সম্ভব।
১) বাংলাদেশ ব্যাংক
২) শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক ব্যতীত সকল তফসিলি ব্যাংক
৩) জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের অধীনস্থ সব সঞ্চয় ব্যুরো অফিস
৪) ডাকঘর
প্রাইজবন্ড 'ড্র' পদ্ধতি কেমন?
বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড স্কিমের অধীনে প্রাইজবন্ড বিক্রয়, 'ড্র' অনুষ্ঠান এবং পুরস্কারের টাকা প্রদানের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে প্রাইজবন্ড 'ড্র' কমিটির চেয়ারম্যান (বিভাগীয় কমিশনার) কর্তৃক নির্দেশিত পূর্ব নির্ধারিত স্থানে 'ড্র' অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। চেয়ারম্যান 'ড্র' অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং অনুমোদিত পদ্ধতি অনুযায়ী 'ড্র' অনুষ্ঠানের বিষয়টি সুনিশ্চিত করেন।
'ড্র' অনুষ্ঠানটি বিটিভি বা অন্য কোনো চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয় না, তবে বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে প্রচুর জনসাধারণ, মিডিয়া প্রতিনিধি, সংবাদ মাধ্যম উপস্থিত থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করে আসছে, কখনো কোনো বিরূপ পরিবেশ তৈরি হয়নি।
চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত গেজেটেড কর্মকর্তারা অর্থাৎ ড্রয়িং অফিসার 'ড্র' পদ্ধতিটি পাঠ, ড্রাম ঘুরানো, গুটি উত্তোলন, ড্রামের সঙ্গে রক্ষিত ট্রে-তে গুটিগুলো স্থাপন ইত্যাদি কার্যক্রম সুচারুভাবে পালন করেন এবং সদস্যগণ অন্যান্য কাজের সাথে পুরস্কার বিজয়ী নম্বর রেকর্ড করা এবং নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী 'ড্র' অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন।
প্রাইজবন্ড 'ড্র' অনুষ্ঠানের প্রায় দেড় মাস পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ডেট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনার আলোকে মতিঝিল অফিসের প্রাইজবন্ড শাখার উপ-ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে 'ড্র' অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হয়। প্রাইজবন্ড 'ড্র' কমিটির সভাপতি মহোদয় ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা বা কর্মচারীদেরকে প্রাইজবন্ড নীতিমালায় বর্ণিত কার্যাবলী মোতাবেক যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং দায়িত্ব পালনে ব্যত্যয় ঘটার সুযোগ নেই।
প্রাইজবন্ডের ড্রয়ের ফলাফল জানার সহজ পদ্ধতি সম্পর্কে জানুন।
সহজেই প্রাইজবন্ড ড্রয়ের ফলাফল জানার পদ্ধতি হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইটের সার্চ বক্সে এক বা একাধিক নম্বর অনুসন্ধান করা। একটি নম্বরের জন্য শুধুমাত্র নম্বরটি টাইপ (সিরিজ নয়) করলেই ফলাফল জানা যাবে। একাধিক প্রাইজবন্ড থাকলে এবং তা যদি ক্রমানুসারে হয়, তাহলে প্রথম ও শেষ নম্বরের মাঝে হাইফেন (-) টাইপ করে সমস্ত নম্বর অনুসন্ধান করা যাবে। যদি একাধিক প্রাইজবন্ড থাকে এবং তা যদি ক্রমানুসারে না হয়, তাহলে কমা (,) দ্বারা আলাদা করে সমস্ত নম্বরগুলো টাইপ করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফলাফল জানা যাবে।
এছাড়া প্রাইজবন্ডের লটারির ফলাফল জানার জন্য বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ চালু করেছে প্রাইজ বন্ড রেজাল্ট ইনকোয়ারি সফটওয়্যার (পিবিআরআইএস)। এর ওয়েব এড্রেস হলো www.irdbd.online।
এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে ২টি পদ্ধতিতে ফলাফল অনুসন্ধান করা যাবে। সার্চ বক্সে সরাসরি নম্বর লিখে এবং নম্বর আপলোড করে অনুসন্ধান করা যাবে।
প্রথম পদ্ধতিতে সার্চ বক্সে প্রাইজবন্ডের নম্বরটি (সিরিজ ব্যতীত) বাংলায় অথবা ইংরেজিতে অনুসন্ধান করা যাবে। একসঙ্গে একাধিক নম্বর অনুসন্ধান করলে নম্বরগুলোকে কমা (,) দিয়ে আলাদা করতে হবে। ধারাবাহিক নম্বর অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে প্রথম ও শেষ সংখ্যার মধ্যে হাইফেন (-) ব্যবহার করতে হবে।
দ্বিতীয় পদ্ধতিতে মাইক্রোসফট এক্সেল সিটের কলাম এ প্রাইজবন্ডের নম্বরগুলো (সিরিজ ব্যতীত) ইংরেজিতে লিখে শেষ করতে হবে। তারপর এক্সেল ফাইলটি সরাসরি সফটওয়্যারে আপলোড করতে হবে। অনুসন্ধানের তারিখ শুরু করে পূর্ববর্তী ২ বছরের মধ্যে প্রকাশিত সব ফলাফলের বিপরীতে কোনো মিল পেলে ফলাফলের কপি দেখাবে।
এই সফটওয়্যার থেকে প্রাইজবন্ড ক্রেতারা পুরস্কারের টাকা দাবি ফরম ডাউনলোড করতে পারবেন। সেই সঙ্গে প্রাইজবন্ডের ড্র বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারবেন।
ক্রেতারা এ সফটওয়্যারে বিনামূল্যে ই-মেইল সাবস্ক্রিপশন করতে পারবেন। এতে সাবস্ক্রিপশনপ্রাপ্ত নাগরিকরা প্রতি ৩ মাস পরপর প্রকাশিত ফলাফল সম্পর্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমেইলে অবহিত হতে পারবেন।
পুরস্কার
প্রাইজবন্ডের প্রথম পুরস্কার বিজয়ীকে ৬ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় পুরস্কার বিজয়ীকে তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ী এক লাখ টাকা পান এবং চতুর্থ পুরস্কার বিজয়ী ৫০ হাজার টাকা পান। পঞ্চম পুরস্কার বিজয়ী প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের জন্য ঘোষিত সংখ্যার প্রতিটি সিরিজের সেই সংখ্যার বন্ড একই পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
পুরস্কার দাবির সময়সীমা দুই বছর। সাধারণত পুরস্কার দাবির তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে পুরস্কারের অর্থ পাওয়া যায়। মূলত প্রাপকের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে পুরস্কারের অর্থ জমা হয়। তবে আয়কর আইন ২০২৩ এর ১১৮ ধারার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাইজবন্ডে পুরস্কারের অর্থ থেকে ২৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটার বিধান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ দুর্বল হতে না হতেই দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নতুন একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী দুই দিন ধরে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কিছু জায়গায় মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে, যা আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল হয়ে গেছে। এটি প্রথমে স্থল গভীর নিম্নচাপ এবং পরে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়। বর্তমানে এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে ভারতের ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। লঘুচাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নতুন একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। এই সময় সারা তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
পরদিন শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এই সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। এই সময় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রাও প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এছাড়া মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এই সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৮ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২৬৫ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বিভিন্ন দেশে থেকে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায়, যা প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে গণনা করা হয়েছে, এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৬৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
এই তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রদান করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ২৮ দিনে ২৬৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স ছিল প্রায় ২৩৪ কোটি ডলার। ফলে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি মাসে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
এদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ১১২৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স ছিল ৯৯২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে, সদ্য বিদায়ী সেপ্টেম্বর মাসের পুরো সময়ে দেশে মোট ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ (২.৭৬ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে।
এছাড়া, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অর্থবছরের পরের মাস আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার, আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসেছিল ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপান সফরের ফলস্বরূপ একটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি অর্জিত হয়েছে। মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে ‘বিগ-বি ইনিশিয়েটিভ’ বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, এতে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তারা মনে করেন, এ সফরের মাধ্যমে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় হচ্ছে, যা ভূরাজনৈতিক অবস্থানে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন ও মালয়েশিয়া সফরের পর জি-সেভেন জোটের সদস্য জাপান সফর করেন। চার দিনের এই সফরে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ২৩টি নথিতে স্বাক্ষর হয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক এখন কৌশলগত অংশীদারত্বের স্তরে পৌঁছেছে। দুই দেশের সরকারপ্রধান এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
সাবেক রাষ্ট্রদূত কামরুল হাসান মন্তব্য করেন, তারেক রহমানের জাপান সফরটি গতানুগতিক ছিল না। অটোমোবাইল, প্রযুক্তি এবং মাতারবাড়িতে বিজনেস হাবসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কূটনীতি ও অর্থনীতির বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে আলোচনা হয়েছে। এটি পূর্ববর্তী সফরগুলোর তুলনায় ব্যতিক্রমী ছিল।
তিনি আরও বলেন, সফরের জন্য বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। সাধারণত বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে প্রস্তুতির অভাব দেখা যায়, কিন্তু যৌথ ঘোষণার ভাষা দেখে মনে হয়েছে, বাংলাদেশ যথেষ্ট তথ্য ও প্রস্তাবনা দিয়েছে। এটি আগের যেকোনো সফরের তুলনায় বড় ধরনের ব্যতিক্রম।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির জানান, জাপান বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত। ৬ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত ২ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে বাংলাদেশের বাণিজ্যে ঘাটতি প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্প্রতি রফতানি বৃদ্ধি পেলেও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং রফতানি বাড়াতে ঢাকা গুরুত্ব দিয়েছে।
ড. মাহফুজ কবির বলেন, জাপান সরাসরি বেসরকারি বিনিয়োগে আগ্রহী। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশি জনশক্তি রফতানির বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
সফরের আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে জাপানের ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ ইনিশিয়েটিভ’ বা বিগ-বি অন্যতম। এ উদ্যোগে ভারতের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জাপানের আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিগ-বির সম্ভাব্য পরিধি ভারতের সেভেন সিস্টারস অঞ্চল, মিয়ানমার হয়ে থাইল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে এই উদ্যোগের মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ কীভাবে এ উদ্যোগ থেকে সর্বাধিক সুবিধা পেতে পারে, তা নিয়ে আরও বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।
ড. মাহফুজ কবির বলেন, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও শিল্পাঞ্চলভিত্তিক হাব গড়ে তোলার বিষয়টিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে দেখা উচিত। অন্য কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে সেটি হবে দ্বিতীয় লক্ষ্য। বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলো বিগ-বি উদ্যোগে একসঙ্গে যুক্ত হলে তা সবার জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত কামরুল হাসান মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের পক্ষে পুরো বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব না হলেও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে সে ভূমিকা পালনের জন্য উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। আঞ্চলিক সংহতির বিষয়টি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা রয়েছে।
জাপান সফরে অর্থনৈতিক অর্জনের পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। সাবেক রাষ্ট্রদূত কামরুল হাসান জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি জাপানের সমর্থন আদায় সফরের অন্যতম বড় অর্জন।
কামরুল হাসান বলেন, কী প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গারা পূর্ণ নাগরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে মিয়ানমারে ফিরে যাবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়েছে জাপান।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও সহায়তার আশ্বাস পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাপান হিসাব-নিকাশ করেই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অনেকটাই নির্ভর করবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নীতি ও পরিবেশের ওপর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে ১৯৩ কোটি টাকার গরুর মাংস বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। এই তথ্যটি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট বিএলআরআইএ বিজ্ঞানীদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের সময় এ তথ্য জানান।
মাংসের রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, মাংসের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টিও সরকারের নজরদারিতে রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বিএলআরআইএ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণও করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খান তুহিন এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআইএ) এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ