০২:০০ পি.এম
আলীমুল ইসলাম (৪৮) নামের একজন ব্যক্তি প্রায় ১৫ বছর ধরে চিকিৎসাসেবা প্রদানের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন, যিনি ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইসের সাহায্যে রোগ নির্ণয়ের দাবি করেছেন।
বরিশালের বাবুগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে চিকিৎসক হিসেবে বৈধ সনদ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। এ সময় তার ব্যবহৃত চিকিৎসার সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলেজ গেট এলাকার এনএমএস ফার্মেসিতে অভিযান পরিচালনা করে এই জরিমানা করা হয়।
আরও পড়ুন: রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৯৯ বার পেছাল
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আলীমুল ইসলামের প্রদর্শিত সনদ ও কাগজপত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল সদর, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রোগী দেখতেন আলীমুল ইসলাম, যিনি ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইসের মাধ্যমে রোগ নির্ণয়ের দাবি করতেন। তিনি বাবুগঞ্জের মাধবপাশা বাজার ও বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ গেট এলাকাতেও নিয়মিত রোগী দেখতেন।
আলীমুল ইসলাম তার ব্যবস্থাপত্রে নামের আগে ‘ডা.’ লিখতেন। সেখানে এমবিইএইচ (ভারত), ডিএমএফ (ঢাকা) এবং কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজে প্রশিক্ষণের তথ্য উল্লেখ ছিল। তিনি মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জিজনিত রোগের চিকিৎসায় অভিজ্ঞতার দাবি করলেও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা তার নথিপত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে শনাক্ত করেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, চিকিৎসক না হয়েও চিকিৎসক পরিচয়ে সেবা দেয়ার অভিযোগ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আলীমুল ইসলাম ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার করলেও বৈধ যোগ্যতার সনদ দেখাতে পারেননি। তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবে রোগী দেখার কথা স্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে আচরণগত পরিবর্তনের ওপর বিশেষজ্ঞদের জোর
ইউএনও আরও জানান, আলীমুল ইসলামকে প্রথমবারের মতো ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাকে ভবিষ্যতে চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার শর্তে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অভিযানের সময় তার ব্যবহৃত চিকিৎসার ডিভাইস ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন