০২:৩৬ পি.এম
সংঘাতকালে যৌন সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের এক ফোরামে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৈঠকের আগে জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘ মহাসচিবের সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেনের পদত্যাগ দাবি করেন।
সম্প্রতি প্যাটেন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যেখানে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার অভিযোগে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এরপর আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শুনানিতে ড্যানন ও প্যাটেন মুখোমুখি হলে উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয় এবং বৈঠকের পরিবেশ তীব্র হয়ে ওঠে।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর মহাসচিবের প্রবণতার কাছে আপনি নতি স্বীকার করেছেন।’
আরও পড়ুন: ভারতের একক বৃহত্তম তেল শোধনাগার পরিদর্শনে রুবিও, কিন্তু কেন?
এ বক্তব্যের পরই জাতিসংঘ মহাসচিবের শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক প্রতিনিধি ভ্যানেসা ফ্রেজিয়ার আপত্তি তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ড্যানন ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন।
ফ্রেজিয়ার তার দপ্তরের প্রতিবেদনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই করা প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রস্তুত করা হয়েছে। জবাবে ড্যানন কড়া ভাষায় জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে চুপ থাকতে বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সদস্যরাষ্ট্র। আর আপনি জাতিসংঘের কর্মচারী। এখন আপনি চুপ থাকবেন। আপনি চুপ থাকবেন..।’ ড্যানন বলেন, ‘আপনি কেন এই অবস্থান নিয়েছেন তা আমরা জানি। আমরা আপনাকে এই লজ্জাজনক প্রচারণার অংশ হতে দেব না। আমি আমার কথা শেষ করব।’
তিনি কথা চালিয়ে যাওয়ার সময় জাতিসংঘের প্রতিনিধি ভ্যানেসা ফ্রেজিয়ার তাকে বাধা দেন এবং আপত্তি জানান। এরপর সভার আয়োজকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তবুও তিনি বলতে থাকেন, ‘আপনি যদি শুনতে না চান, তাহলে বাইরে চলে যান।’
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডের ই-ভিসার আবেদন ৩ দিন বন্ধ, জানা গেল কারণ
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই সপ্তাহের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকেও শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ ঘটানোর কারণে কালো তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনি শিশুদের বিরুদ্ধে এসব ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহভাবে বেড়েছে।
গত মাসে প্রমিলা প্যাটেনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন প্রতিবেদনটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত! বাস্তবতা ও সত্য থেকে বিচ্ছিন্ন।’
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, তারা জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ এই বছর শেষ হবে।
আরও পড়ুন: সাত মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চীনের তিব্বত
প্যাটেন ও ফ্রেজিয়ারের প্রতিবেদন দুটিতেই ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। গত আগস্টে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা নিয়ে তার বার্ষিক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস ইসরায়েল ও রাশিয়াকে সতর্ক করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন