ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রাণীর প্রতি দয়া আল্লাহর রহমত লাভের উপায়


প্রাণীর প্রতি দয়া আল্লাহর রহমত লাভের উপায়

ইসলাম একটি জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের প্রতি দয়া প্রদর্শনের পাশাপাশি আল্লাহর সৃষ্ট প্রতিটি জীবের প্রতি সদাচরণের শিক্ষা প্রদান করে। প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা, অকারণে কষ্ট দেওয়া কিংবা খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা না করে তাদের বন্দি রাখা ইসলামের নৈতিক শিক্ষার পরিপন্থী। বিপরীতে, ক্ষুধার্ত প্রাণীকে খাবার দেওয়া, তৃষ্ণার্ত প্রাণীকে পানি পান করানো এবং অসহায় জীবকে রক্ষা করা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত লাভের মাধ্যম হতে পারে।

১. সব প্রাণীই আল্লাহর সৃষ্টি

প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শনের মূল ভিত্তি হলো এই উপলব্ধি যে, পৃথিবীর প্রতিটি জীব মহান আল্লাহর সৃষ্টি। মানুষ যেমন আল্লাহর সৃষ্টি, তেমনি পশুপাখি ও অন্যান্য প্রাণীও তাঁরই সৃষ্টি। তাদের জীবন, অস্তিত্ব ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যে আল্লাহর অসীম কুদরতের নিদর্শন রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর পৃথিবীতে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই এবং ডানা দিয়ে উড়ে এমন কোনো পাখিও নেই, যারা তোমাদের মতো একেকটি সম্প্রদায় নয়।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৩৮)

আরও পড়ুন: ইসলামে বিবাহের জন্য হারাম নারীদের তালিকা প্রকাশ

তাহলে কোনো প্রাণীকে অকারণে কষ্ট দেওয়া, পাথর ছুড়ে মারা, বিনোদনের জন্য নির্যাতন করা কিংবা তার স্বাভাবিক জীবনযাপনে অন্যায়ভাবে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়। বরং আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি মমত্ববোধ, দায়িত্বশীলতা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা একজন মুমিনের নৈতিক দায়িত্ব।

২. প্রাণীর প্রতি দয়া আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম

প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শনের প্রতিদান কত মহান হতে পারে, তা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বর্ণিত একটি ঘটনা থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এক ব্যক্তি পথ চলতে চলতে প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লেন। তিনি একটি কূপে নেমে পানি পান করে উঠে এলেন। তখন তিনি দেখতে পেলেন, একটি কুকুর তৃষ্ণায় হাঁপাচ্ছে এবং পিপাসার কারণে ভেজা মাটি চাটছে। লোকটি ভাবলেন, তৃষ্ণার কারণে কুকুরটিরও আমার মতো কষ্ট হচ্ছে।

অতঃপর তিনি কূপে নেমে নিজের চামড়ার মোজায় পানি ভরে তা মুখে ধরে ওপরে উঠে এলেন এবং কুকুরটিকে পানি পান করালেন। এরপর আল্লাহ তাঁর এ কাজের প্রতিদান দিলেন এবং তাঁকে ক্ষমা করে দিলেন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! পশুপাখির প্রতি দয়া প্রদর্শন করলেও কি আমাদের সওয়াব হবে?’ তিনি বললেন, ‘প্রত্যেক জীবন্ত প্রাণীর প্রতি সদয় আচরণে সওয়াব রয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৩৬৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২৪৪)

আরও পড়ুন: আল্লাহর কাছে প্রিয় দুটি বাক্য ও তার ফজিলত

একটু চিন্তা করুন, একজন মানুষ একটি তৃষ্ণার্ত প্রাণীর কষ্ট অনুভব করে তাকে পানি পান করিয়েছিলেন। তাঁর সেই কাজের বিনিময়ে আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করেছিলেন।

৩. প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা কঠিন শাস্তির কারণ হতে পারে

ইসলাম যেমন প্রাণীর প্রতি দয়ার জন্য পুরস্কারের সুসংবাদ দিয়েছে, তেমনি তাদের ওপর নিষ্ঠুরতা ও অবহেলার ব্যাপারেও কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক নারী একটি বিড়ালকে বন্দি করে রাখার কারণে শাস্তি পেয়েছিল; সে বিড়ালটিকে বন্দি করে রেখেছিল, ফলে সেটি ক্ষুধায় মারা যায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৩৬৫)

তাহলে কোনো প্রাণীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখলে তার খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতে হবে। পোষা প্রাণীকে ক্ষুধার্ত রাখা, তৃষ্ণার্ত অবস্থায় ফেলে রাখা কিংবা অসুস্থতার সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া গুরুতর অন্যায়।

আরও পড়ুন: পূজায় নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তবে এতে অংশ নিলে ঈমান থাকবে না: মুফতী আব্দুল মালেক

৪. আল্লাহর রহমত সৃষ্টির প্রতি দয়া প্রদর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত

ইসলামে দয়া এমন একটি মহৎ গুণ, যা মানুষের হৃদয়কে কোমল করে এবং তাকে অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করতে শেখায়। এই দয়া শুধু আত্মীয়স্বজন, বন্ধু কিংবা পরিচিত মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি সামগ্রিক সহানুভূতিও এর অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দয়াশীলদের প্রতি পরম দয়াময় আল্লাহ দয়া করেন। তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া করো, আকাশের অধিপতি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ১৯২৪)

পৃথিবীর মানুষের পাশাপাশি অসহায় প্রাণীর প্রতিও দয়া প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষুধার্ত প্রাণীকে খাবার দেওয়া, আহত প্রাণীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা কিংবা বিপদে পড়া কোনো জীবকে রক্ষা করার মাধ্যমে আমরা দয়ার চর্চা করতে পারি।

৫. প্রাণীর প্রতিও সদাচরণ করতে হবে, এমনকি জবাইয়ের সময়ও

আরও পড়ুন: হজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার উপায় ও গুরুত্ব

ইসলাম প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শনের শিক্ষা শুধু খাবার-পানি দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং প্রয়োজনের ক্ষেত্রে প্রাণী জবাই করার সময়ও নিষ্ঠুরতা পরিহার করার নির্দেশ দিয়েছে। হজরত শাদ্দাদ ইবন আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর ক্ষেত্রে সদাচরণকে বিধিবদ্ধ করেছেন। সুতরাং তোমরা যখন হত্যা করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে করবে; আর যখন জবাই করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে জবাই করবে। তোমাদের প্রত্যেকে যেন তার ছুরি ধারালো করে নেয় এবং জবাই করা প্রাণীকে কষ্ট থেকে স্বস্তি দেয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৫৫)

ইসলাম বৈধ প্রয়োজনে প্রাণী জবাই করার অনুমতি দিলেও অকারণে কষ্ট দেওয়ার অনুমতি দেয়নি। জবাইয়ের সরঞ্জাম যথাযথভাবে প্রস্তুত করা, প্রাণীর কষ্ট কমানো এবং নিষ্ঠুরতা পরিহার করা ইসলামের নির্দেশনার অংশ।

মহান আল্লাহ আমাদের হৃদয়কে দয়ায় পরিপূর্ণ করুন, তাঁর সৃষ্টির প্রতি সদয় আচরণ করার তাওফিক দিন এবং তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যমে জান্নাত নসিব করুন। আমিন।

আরও পড়ুন: ‘খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু মুসলিম হয়ে ফিরলাম’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্যারিসে বাংলাদেশিদের দোকানে লুটপাট, ক্ষতি ৭ লাখ ইউরো ছাড়াতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৬ এম


প্যারিসে বাংলাদেশিদের দোকানে লুটপাট, ক্ষতি ৭ লাখ ইউরো ছাড়াতে পারে

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে চলমান চরম বিক্ষোভ ও নৈরাজ্যের সুযোগ নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের অন্তত আটটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন দোকানে লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭ লাখ ইউরোর বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সংকটজনক পরিস্থিতিতে দোকান তালাবদ্ধ রেখে কিংবা ব্যক্তিগত পাহারা বসিয়েও প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে বারবার ফোন করা সত্ত্বেও পুলিশের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সহায়তা পাননি বলে দাবি করেছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে, জিএসআর ইনফোরমেটিক, থ্রি-জি ইনফরমেটিক, প্যারিস টেলিকম, আয়মান সার্ভিস, থ্রি-ডি ইনফোরমেটিক, ফোন স্টোর, বদি টেলিকম ও রাফিদ ইলেকট্রনিক। এসব প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন বিক্রির পাশাপাশি মানি ট্রান্সফারের সেবা দেওয়া হতো।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দোকানগুলোতে মজুত থাকা পণ্য ও নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে। তবে আটটি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

‘উঠে দাঁড়ানোর মতো আর কোনো সম্বল নেই’

ক্ষতিগ্রস্ত রাফিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী রবিউল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরোর পণ্যসামগ্রী দোকানে ছিল। দোকান তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া সংঘবদ্ধ চক্র দোকানে লুটপাট চালায়। এখন আমার উঠে দাঁড়ানোর মতো আর কোনো সম্বল নেই।’

অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিনের দুটি প্রতিষ্ঠানে (ফোন স্টোর ও বদি টেলিকম) একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, মাত্র তিন মাস আগে চালু করা একটি শপসহ দুটি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে তার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরো।

তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার দুটি দোকান ছিল। দুটি দোকানেই পুরোপুরি লুটপাট হয়ে গেছে। পুলিশকে বারবার ফোন দিয়ে উদ্ধারের জন্য অনুরোধ করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দুটি দোকানের মধ্যে একটি মাত্র তিন মাস আগে শুরু করেছি। একটি দোকানে রিয়া মানি ট্রান্সফারের কাউন্টারে প্রায় ৩০ হাজার ইউরো নগদ ছিল। সব মিলিয়ে দুটি দোকানে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরোর ক্ষতি হয়েছে।’

নতুন ব্যবসা শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই এমন ক্ষতির মুখে পড়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘বাংলাদেশি দোকানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা’

প্যারিসের সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইসার প্রেসিডেন্ট ওবায়দুল্লাহ কয়েছের অভিযোগ, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।

কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের নামে প্যারিসের বুকে এমন নৈরাজ্য আগে কখনো দেখা যায়নি। নৈরাজ্যের সঙ্গে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জড়িত থাকার অভিযোগ ফ্রান্সের বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসছে। আমাদের আশঙ্কা, আজকের এই ভয়াবহ ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি আগামী দিনে ফ্রান্সের অভিবাসনবিরোধী রাজনীতিকে প্রবলভাবে শক্তিশালী করতে পারে।’

বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে একাধিক দোকানে লুটপাটের ঘটনায় প্রবাসী ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব পাহারাতেও মিলছে না নিরাপত্তা

প্যারিসের মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফার ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমান বলেন, ‘পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বেশির ভাগ ব্যবসায়ী নিজেদের প্রতিষ্ঠান রক্ষায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। এরপরও বিভিন্ন স্থানে হামলা ঠেকানো যাচ্ছে না।’

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ, দোকান বন্ধ রেখেও যদি প্রতিষ্ঠান নিরাপদ রাখা না যায়, তাহলে তাদের বিনিয়োগ ও জীবিকা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকানে মূল্যবান পণ্য ও নগদ অর্থ থাকায় লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণও বড় হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। শ্রমিক সংগঠন ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে মজুরি, পেনশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে ১১০টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। আয়োজক সংগঠনগুলোর হিসাবে এই সংখ্যা ছিল প্রায় আট লাখ। বিক্ষোভের বেশির ভাগ শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, সরকারি ভবনে হামলা এবং দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রায় ৪০০ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হুথিদের দাবি, সৌদি আরবের অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ধ্বংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৭ এম


হুথিদের দাবি, সৌদি আরবের অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ধ্বংস

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, সৌদি আরবের একটি সামরিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) তারা জানায়, দক্ষিণ সৌদি আরবের নাজরান অঞ্চলের নিকটে হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, হেলিকপ্টারটি হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সময় গুলি করে নামানো হয়েছে।

হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের সংবাদ সংস্থা সাবার মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এই দাবি করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্ত এলাকায় হুথিদের অবস্থানের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ চালানোর সময় তাদের যোদ্ধারা হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেন।

তবে ইয়াহিয়া সারির এই বক্তব্যের উপর সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হওয়ার দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ইয়েমেনে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং সৌদি আরবে হুথিদের হামলার প্রেক্ষাপটে এই দাবি উত্থাপিত হয়েছে। গত জুলাই মাস থেকে গোষ্ঠীটি সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে আসছে। এসব হামলার মধ্যে রয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা।

২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার পর থেকে দেশটিতে সংঘাত শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে পরবর্তী বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে।

২০২২ সালে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর গত জুলাইয়ে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। এরপর থেকে দেশটিতে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে মার্কো রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ এম


রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে মার্কো রুবিও

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, যা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, সৌদি আরবে হুথিদের হামলা এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার ওপর থেকে তুলে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

রুবিওর যুক্তি হলো, চলমান সংঘাতের প্রভাব এবং অন্যান্য দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন পরস্পরের ওপর পড়তে শুরু করেছে।" এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিভিন্ন দেশের ওপর এর প্রভাব বিবেচনা করতে হয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ভারতও রয়েছে।

ভারত স্বেচ্ছায় জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে, তবে দেশটি এখনও রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি কিনছে। রুবিও বলেন, "রাতারাতি জ্বালানির উৎস পরিবর্তন করা ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়।" তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, সৌদি আরবে হুথিদের হামলা এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি এবং এর পারস্পরিক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

রুবিওর দাবি, রাশিয়া একভাবে না একভাবে ডিজেল বিক্রি করবেই। তিনি প্রশ্ন করেন, "সেই বিক্রি থেকে যুক্তরাষ্ট্র কতটা সুবিধা পাবে।"

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে মার্কিন সাংবাদিক মারধরের শিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ এম


পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে মার্কিন সাংবাদিক মারধরের শিকার

অধিকৃত পশ্চিম তীরে গিয়ে বেদম মারধরের শিকার হয়েছেন মার্কিন ফটোসাংবাদিক হেইডি লেভিন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ফিলিস্তিনিও আক্রান্ত হয়েছেন। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

লেভিনের শরীরের একাধিক অংশের হাঁড় ভেঙে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সাংবাদিকের ওপর এই ধরনের হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েলকে সহিংসতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রুবিও হামলার ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত হননি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, যেসব ছবি তিনি দেখেছেন, সেগুলো ‘ভালো কিছু মনে হয়নি’।

রুবিও বলেন, ইসরায়েলকে এই সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা নিতে’ হবে। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অধিকৃত পশ্চিম তীরে কোনো সংঘাত বা সংকট দেখতে চান না। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে ইসরায়েলের কাছে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের এমন কিছু প্রয়োজন নেই; ইসরায়েলেরও এমন পরিস্থিতির প্রয়োজন নেই।’

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অধিকৃত পশ্চিম তীরে আবু ফালাহ এলাকার কাছে ফিলিস্তিনিদের বার্ষিক জলপাই সংগ্রহের কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহের সময় ওয়াশিংটন পোস্টের ফটোসাংবাদিক লেভিনকে নির্মমভাবে মারধর করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা লেভিনকে মারধর করে এবং তার পাসপোর্ট, মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও সরঞ্জাম চুরি করে।

লেভিন জানান, বোতল ও গুলতি নিয়ে আসা হামলাকারীরা তাকে মাটিতে ফেলে প্রায় ১০ মিনিট ধরে লাথি মারছিলেন। এ সময় তিনি নিজের ক্যামেরা ও ব্যাগ আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন। তার ভাষ্যমতে, শরীরে সুরক্ষাবর্ম ও মাথায় হেলমেট না থাকলে হয়তো তিনি আজ বেঁচে থাকতেন না, কারণ হামলাকারীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে তাকে একের পর এক লাথি মেরে যাচ্ছিল।

৬৪ বছর বয়সী লেভিনকে হামলার পর রামাল্লার উত্তর-পূর্বে আবু ফালাহ এলাকা থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মার্কিন বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) তার মেয়ে জানান, লেভিনের একটি আঙুল প্রায় হাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং ওই আঙুলে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তার একটি পাঁজরের হাড় ভেঙেছে, মেরুদণ্ডের একাধিক কশেরুকা ভেঙেছে এবং শরীরে বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও এই হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার করে কারাগারে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হাকাবি লিখেন, ‘একজন নারী আলোকচিত্রী ওপর আক্রমণ হলো মুখোশধারী কাপুরুষদের দ্বারা সংঘটিত এক জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। নিরস্ত্র সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের বছরের পর বছর কারাগারে থাকা উচিত। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং এ ঘটনায় অংশ নেওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগে বিচারের দাবি জানিয়েছি।’

তবে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার দাবি করেন, লেভিন ও অন্য ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার জন্য ফিলিস্তিনি অথবা ‘চরম বামপন্থি’ কর্মীরা দায়ী হয়ে থাকতে পারেন। হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে তার এমন অবস্থান প্রকাশের পর ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র হাকাবিও তাদের বসতি স্থাপনকারী হিসেবে উল্লেখ করেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%