বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
১০:৫০ এম
১৯৭৯ সালের শেষের দিকে ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিপ্লবী পরিবর্তন ঘটে। সেই ঐতিহাসিক পটভূমিতে অনেকেই উপলব্ধি করেছিলেন যে, নতুন এই মতাদর্শিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও জাতীয় গৌরব অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে, রাষ্ট্র গঠনের তাড়না এবং প্রতিষ্ঠার মাত্র দশ মাসের মাথায় সাদ্দাম হোসেনের ইরাক কর্তৃক ইরান আক্রমণের ফলে জাতীয়তাবাদী চেতনার এক প্রবল জোয়ার সৃষ্টি হয়। এই আবহে সিরাজ শহরের শাহ চেরাগ নামে পরিচিত স্থান থেকে উঠে আসা আহমদ শাহচেরাগি নতুন গঠিত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) যোগ দেন।
এই আদর্শিক বাহিনীতে যুক্ত হয়ে তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে ওয়াহিদি রাখেন, যার অর্থ এক বা প্রথম। সম্প্রতি, তিনি সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ লাভ করেন। এই নিয়োগ এমন এক প্রেক্ষাপটে হয়েছে, যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে এবং ৪৭ বছর আগে শুরু হওয়া ইরাক যুদ্ধের জাতীয়তাবাদী উদ্দীপনা পুনরায় স্মরণ করতে হচ্ছে। মার্চ মাস থেকে আইআরজিসির কার্যনির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ওয়াহিদি নতুন সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতারোহণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৭৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ক্যারিয়ারে ওয়াহিদি বহু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের অংশ ছিলেন। সামরিক নেতৃত্বের পদে নানা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে গিয়ে, মাত্র দুই বছরের মাথায় ১৯৮১ সালে তিনি আইআরজিসির গোয়েন্দা ডেপুটি নিযুক্ত হন। ১৯৮৮ সালের মধ্যে তিনি আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জেরুজালেমকে মুক্ত করার লক্ষ্যে গঠিত এই বাহিনীটি বিদেশে সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন, সরঞ্জাম সরবরাহ ও প্রশিক্ষণের মূল কেন্দ্র হয়ে ওঠে। যদিও পরবর্তীতে কাসেম সোলাইমানির (১৯৯৮-২০২০) আমলে বাহিনীটি খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছায়, ওয়াহিদিই এর প্রাথমিক কর্মকাণ্ড ও ভাবনার ভিত গড়ে দিয়েছিলেন, বিশেষ করে লেবাননের হিজবুল্লাহর গঠনমূলক দিনগুলোতে।
২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ তাকে প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিক মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন, ফলে তিনি ইন্টারপোল রেড নোটিশ থাকা অবস্থায় ক্যাবিনেট মন্ত্রী হওয়ার প্রথম ব্যক্তিত্ব হন। কনজারভেটিভ সরকারের সঙ্গে তিনি বেশি কাজ করেছেন, আহমাদিনেজাদের প্রথম মেয়াদে প্রধান উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং ২০২১ সালে ইব্রাহিম রাইসির অধীনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা এবং ২০১০ সাল থেকে অস্ত্র প্রসারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।
আহমদ ওয়াহিদির ক্যারিয়ার শুধুমাত্র সাফল্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি নানামুখী জটিলতাও মোকাবিলা করেছেন। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের কেন্দ্রে থাকা সত্ত্বেও, বিভিন্ন বিতর্ক থেকে পুনরুত্থানের ঝুঁকি নেওয়া জেনারেল হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ইরাক যুদ্ধের ক্ষত মেটানোর সময় ওয়াহিদি যুদ্ধকালীন তৈরি হওয়া বহির্মুখী উদ্যমকে কাজে লাগাতে কুদস ফোর্সকে প্রথম বড় অভিযানে পাঠান; বসনিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট আলিজা ইজেতবেগোভিচের পক্ষে। যদিও বসনিয়াতে আল কায়েদার মতো দলগুলোর আধিপত্য এবং শিয়াদের প্রতি বিদ্বেষের কারণে হিজবুল্লাহর মতো সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, সোলাইমানির অধীনে আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী অভিযানে ইরানের কৌশলগত সাফল্য অর্জিত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সীমিত গোয়েন্দা সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করেছিল।
বসনিয়া অভিযানে আশানুরূপ ফল না পেলেও ওয়াহিদি লেবানন ফ্রন্টে সক্রিয় থেকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেন। ১৯৯৪ সালে বুয়েনস আইরেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে হিজবুল্লাহর হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ২০০৬ সালে আর্জেন্টিনা ওয়াহিদিকে অভিযুক্ত করে। এই ঘটনা ইরান ও আর্জেন্টিনার সম্পর্কের মধ্যে স্থায়ী সংঘাত তৈরি করলেও, ওয়াহিদির অবস্থানকে আইআরজিসির অভ্যন্তরে দুর্বল করেনি বরং আন্তর্জাতিক এই অভিযোগগুলোকে বাহ্যিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে তেহরান তার নেতৃত্বকে আরও সংহত করে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন ওয়াহিদি সবসময়ই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিরোধের মূল হাতিয়ার মনে করতেন। ২০১২ সালে তিনি ফাতাহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৩০০ কিলোমিটারে উন্নীত করার কর্মসূচির তদারকি করেন। ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কার মুখে তিনি স্পষ্টভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের বিকাশকে ইসরায়েলবিরোধী প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন এবং ঘোষণা করেন যে ইরানে আক্রমণ চালানো হবে ইসরায়েলের জন্য আত্মঘাতী। পরবর্তীতে তিনি নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন বাভার-৩৭৩) গড়ে তোলার কাজেও সক্রিয় ছিলেন। পাশাপাশি, দেশের পারমাণবিক কর্মসূচির সুরক্ষায় গোয়েন্দা তৎপরতার তদারকি করেন এবং ২০০৭ সালে ইসরায়েলি হামলা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে গঠিত ওঘাব-২ সংস্থার দায়িত্ব নেন।
ওয়াহিদির ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈপরীত্য ছিল তার চরম আদর্শিক অবস্থান সত্ত্বেও কৌশলগত নমনীয়তা প্রদর্শন। ১৯৮৫-৮৭ সালের বহুল আলোচিত 'ইরান-কনট্রা অ্যাফেয়ার'-এ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের গোপন অস্ত্র চুক্তির বিষয়ে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ওয়াহিদির হিজবুল্লাহর ওপর প্রভাবই তেহরানকে সাহায্য করেছিল লেবাননে জিম্মি আমেরিকানদের মুক্ত করে ইসরায়েলের মাধ্যমে মার্কিন অস্ত্র সংগ্রহ করতে। তবে ক্ষমতার এই দীর্ঘ যাত্রায় তাকে বিপদেও পড়তে হয়েছিল; ১৯৮৮ সালে কেরমানশাহ প্রদেশে ইরাক সমর্থিত কমিউনিস্টদের (এমইকে) আক্রমণের দায় তার ওপর চাপানো হলে তৎকালীন আইআরজিসি প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। পরে আলি আকবর হাশেমি রফসানজানির মধ্যস্থতায় তিনি বড় শাস্তি থেকে রক্ষা পান এবং পরবর্তীতে কুদস ফোর্সের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। অতি সম্প্রতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি ২০২২ সালের মাহসা আমিনী কেন্দ্রিক আন্দোলন শক্ত হাতে দমন করেন এবং আন্তর্জাতিক চাপকে ঔপনিবেশিক ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দেন, যদিও পরবর্তীতে রাজনৈতিক অসন্তোষ প্রশমনে নিজের রাজনৈতিক ডেপুটি মোহাম্মদ-রেজা গোলামরেজাকে অপসারণ করার মতো কৌশলগত নমনীয়তাও দেখান।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে আহমদ ওয়াহিদি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির অধীনে কাজ করছেন। তার সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাই এখন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি। দুজনেরই ইতিহাস দীর্ঘ এবং দুজনেই ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত হলেও তারা আইআরজিসির শক্তি সংহত করতেই কাজ করে যাচ্ছেন। ২০২৬ সালে এসে তেহরানের এই পরিবর্তন কেবল ব্যক্তি ওয়াহিদির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং পুরো ব্যবস্থাটি একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ইউনিট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও পদক্ষেপের মোকাবিলা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হুমকির মুখে ইরানের যুদ্ধকালীন প্রশাসনে রিভোলিউশনারি গার্ডসের প্রভাব চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে হোরমুজ প্রণালীতে ভূরাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখার এমন এক জটিল ও সংকটাপন্ন সময়ে আইআরজিসির প্রধান হিসেবে ওয়াহিদির মতো অভিজ্ঞ ভেটেরানের উত্থান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নিজস্ব শক্তির চাহিদাকেই প্রতিফলিত করে।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফের আকস্মিক সফর মস্কো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাশিয়ার রাজধানীতে তাঁর সফরের বিষয়টি আগে থেকে ঘোষণা না দেওয়ার পর বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সফরটিকে অনেকটাই নিয়মিত বলে উল্লেখ করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সরকারি একটি উড়োজাহাজে র্যাটক্লিফ মস্কোর উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটি থেকে যাত্রা করেন। সিআইএ পরিচালকের এই ধরনের সফর সাধারণত বিরল।
র্যাটক্লিফের সফরের বিষয়ে হোয়াইট হাউস, সিআইএ, পেন্টাগন এবং মার্কিন বিমানবাহিনী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বুধবার সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক গ্লেন বেককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে র্যাটক্লিফের সফর সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। সেখানে জানতে চাওয়া হয়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ন্যাটোর প্রতিরোধক্ষমতা পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন কিনা, এবং সিআইএ প্রধানের সফরের উদ্দেশ্য হতে পারে কি না। একই সঙ্গে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
ট্রাম্প এসব সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, "এর কোনোটিই নয়।" গ্লেন বেক এসব জল্পনাকে ‘পাগলামি’ হিসেবে উল্লেখ করলে ট্রাম্প র্যাটক্লিফের সফরকে ‘খুবই সেমি-রুটিন’ বলে বর্ণনা করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি মানুষকে হতাশ করতে চান না এবং যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের যুদ্ধের সমাপ্তি দেখতে চায়। র্যাটক্লিফের প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, জন র্যাটক্লিফ একজন অসাধারণ মানুষ। তিনি সিআইএর প্রধান এবং পূর্বে উল্লিখিত কোনো কারণে তিনি মস্কো যাননি। তবে সফর থেকে পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সামনে আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, "এর মধ্য থেকে কিছু একটা বেরিয়ে আসতে পারে।"
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে কঠোরভাবে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে উভয় পক্ষই যুদ্ধের সমাপ্তি দেখতে চায়।
তবে র্যাটক্লিফের সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি সফরের বিষয়ে অবহিত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে জানায়, রাশিয়াকে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর ওপর হামলা না করার বিষয়ে সতর্ক করাই ছিল র্যাটক্লিফের সফরের মূল উদ্দেশ্য।
র্যাটক্লিফের এই সফর ২০২১ সালের নভেম্বরের পর মস্কোতে কোনো সিআইএ পরিচালকের প্রথম সফর। ওই সময় তাঁর পূর্বসূরি বিল বার্নস মস্কো গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালালে এর পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।
পরে অবশ্য পুতিন সেই সতর্কতা উপেক্ষা করেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ক্ষমতায় ফেরার প্রথম দিনেই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারবেন। তবে তাঁর সেই প্রচেষ্টা এখনো সফল হয়নি।
পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও, সেই সম্পর্ক এখন পর্যন্ত ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কার্যকর ফল আনতে পারেনি। এর মধ্যেই র্যাটক্লিফের মস্কো সফর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে সফরের সময় র্যাটক্লিফ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপাল এবং তিব্বতের সীমান্ত অঞ্চলে আচমকা নেমে আসা ভয়াবহ ধস ও হরড়া বানের পেছনে প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয় পর্বতমালার চরম এবং দুর্গম ভৌগোলিক গঠন এই ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গত বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এই প্রলয়ঙ্করী ঘটনায় অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
কাদা ও পানির এই প্রাণঘাতী স্রোত তরল কংক্রিটের মতো তীব্র গতিতে নেমে এসেছে, যা আগাম পূর্বাভাস দেওয়া প্রায় অসম্ভব। এর গতি থেকে বেঁচে ফেরাও অত্যন্ত কঠিন। নেপাল-চীন সীমান্তের চীনা অঞ্চল থেকে ধারণ করা একাধিক ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, কাদা ও পাথরের একটি বিশালাকার প্লাবন দেয়াল বহুতল ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে সেটিকে চোখের পলকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে এবং রাস্তা থাকা বাস ও গাড়িগুলোকে খেলনার মতো ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার পরপরই নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল সংসদে জানিয়েছিলেন যে, প্রাথমিকভাবে একটি ভূমিকম্পের ফলে পাহাড়ে ধস নেমেছিল, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে অবরুদ্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে সেই কৃত্রিম বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ রূপ নিয়ে পানি প্রবাহিত হতে শুরু করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূগোলাকৃতি গবেষণা সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) এক নতুন বিশ্লেষণে জানিয়েছে, শুরুতে ঘটনাটিকে ৪.৪ মাত্রার ভূকম্পন হিসেবে ধারণা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদী ভূকম্পন তরঙ্গের গভীর বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, কোনো ভূমিকম্প নয় বরং প্রকাণ্ড ধসের কারণেই ভূমিতে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়েছিল।
কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তর্জাতিক পর্বত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট’-এর প্রাথমিক মূল্যায়নে সীমান্তের তিব্বত অংশে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি। সংস্থাটির রিমোট সেন্সিং ও জিও-ইনফরমেশন বিশ্লেষক সার্থক শ্রেষ্ঠা এএফপি-কে জানান, নেপালের সীমানার ভেতরেই পাহাড়ের বরফ ও পাথরের মিশ্রণে গঠিত একটি বিশালাকার ধস (রক-আইস অ্যাভালাঞ্চ) লেন্দে নদীকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছিল। এর ফলেই পরবর্তীতে নিম্ন অববাহিকায় এমন ধারাবাহিক প্লাবন ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় অব টেক্সাস সান আন্তোনিওর জলবায়ুবিজ্ঞানী ও হাইড্রোলজিস্ট হাতিম শরীফ এই দুর্যোগের একটি বিশেষ দিক উল্লেখ করে বলেন, এই ঘটনার পূর্বে সেখানে কোনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতই হয়নি। বৃষ্টিহীন অবস্থায় এমন আকস্মিক প্লাবন পৃথিবীর যেকোনো আধুনিক বন্যা সতর্কীকরণ ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে ব্যর্থ করে দেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, কাদার এই ঢল দেখতে পাওয়ার পর দৌড়ে বাঁচা বা গাড়িতে চড়ে পালানোর চেষ্টা সম্পূর্ণ নিরর্থক, কারণ এটি অত্যন্ত দ্রুতগতির তরল কংক্রিটের মতো কাজ করে। এমন পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হলো তাৎক্ষণিকভাবে উঁচু কোনো পাহাড় বা অন্তত ২০ ফুট উঁচু স্থানে উঠে যাওয়া। তিনি আরও প্রস্তাব করেন, নদীতে রিয়েল-টাইম ওয়াটার লেভেল গেজ বসানো সম্ভব হলে স্থানীয় মানুষ হয়তো এলাকা খালি করার জন্য ২০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি জরুরি সময় পেতে পারেন।
যুক্তরাজ্যের রিডিং ইউনিভার্সিটির গবেষক ডরোথি হাইনরিখ জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের নদীগুলো সাধারণত অত্যন্ত সংকীর্ণ ও অপ্রশস্ত হয়। সেখানে ধস বা তুষারধসের কারণে নদী সাময়িকভাবে আটকে গেলে পেছনে বিপুল পরিমাণ পানি জমা হয় এবং পরবর্তীতে তা ভেঙে অবিশ্বাস্য গতিতে ধেয়ে আসে। এদিকে, নদী প্রবাহে এখনো কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইসিআইএমওডি-এর প্রধান গবেষক চিয়াংগং ঝাং; কারণ এমনটা থাকলে উজানে পুনরায় দ্বিতীয় দফায় বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।
হিমালয় অঞ্চল মূলত হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চীনের জাইরং কাউন্টিতে সৃষ্ট এমনই এক হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণের দরুন নেপালের রাসুয়া জেলা মারাত্মকভাবে প্লাবিত হয়েছিল। তবে বর্তমান ঘটনার পেছনে কোনো হিমবাহ লেকের ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনো কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেননি।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এই দুর্যোগের পেছনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট প্রভাব কতটা ছিল, তা বের করতে সামনের দিনগুলোতে বিজ্ঞানীরা বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন গবেষণা পরিচালনা করবেন। ডরোথি হাইনরিখ যোগ করেন, হিমালয় অঞ্চলে বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব স্পষ্ট; যেমন ঘন ঘন তাপদাহ, হিমবাহ গলে যাওয়া এবং পারমাফ্রস্ট ক্ষয় হওয়া; যেগুলো ধস ও হিমবাহ বন্যার হার বাড়িয়ে দেয়।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের পর ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাত পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে তিন দেশের এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কী
গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। চুক্তির মূল বিষয় হলো, যদি জোটভুক্ত কোনো একটি দেশ সামরিক হামলার শিকার হয়, তাহলে সেটি তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে এবং আক্রান্ত দেশকে অন্য দুই দেশ সহযোগিতা করবে।
চুক্তিতে তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ অঞ্চল ও এর বাইরের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে, কোনো দেশ আক্রান্ত হলে নির্দিষ্টসংখ্যক সেনা, যুদ্ধবিমান বা অস্ত্র পাঠানোর বাধ্যবাধকতা চুক্তিতে নেই। হামলার জবাবে কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়টি নির্দিষ্ট করা হয়নি।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান চুক্তির যৌথ প্রতিরক্ষা ধারাকে ন্যাটোর পঞ্চম অনুচ্ছেদের সঙ্গে ‘কার্যত একই’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে কোনো দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশের প্রতিক্রিয়া দেখা না পর্যন্ত এটিকে ন্যাটোর মতো বাধ্যতামূলক সামরিক অঙ্গীকার বলা ঠিক হবে না। বরং এটি ‘অভিপ্রায়ের ঘোষণা’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
কেন এত আলোচনা
মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান এবং ইউরোপ-এশিয়ার সংযোগস্থলের তুরস্ক এই তিন দেশের অবস্থান ও সক্ষমতা একে অপরের পরিপূরক। সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও তেলসম্পদ, পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং তুরস্কের রয়েছে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা।
ইরানকে ঘিরে সংঘাত, ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা এবং হুথিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের কারণে সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে ইসরায়েলকে বিবেচনা করা হয়। ফলে, দুই দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা যুক্ত হওয়াকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত ১৯ মার্চ রিয়াদে ইসলামি সম্মেলনের সময় তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। এর ধারাবাহিকতায় মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
এ চুক্তি নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান মন্তব্য করেছেন, এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা নয়; ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোকে এর আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। ধর্মীয় দিক থেকেও চুক্তিটির প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে। মুসলিম বিশ্বের কাছে এর গুরুত্ব তুলে ধরতে শুক্রবার এবং মক্কাকে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। এ সময় ৫০ পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) গত ২৪ ঘণ্টায় বিএমপির চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার পৃথক বিশেষ আভিযানিক দল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব সাফল্য অর্জন করে।
বিএমপি মিডিয়া সেল জানায়, মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ পিস কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া নিয়মিত ও পূর্বের মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় আরও দুজন এবং বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশ আইনে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে পৃথক অভিযানে মোট ১৭ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে বিএমপি।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
বিএমপি জানিয়েছে, বরিশাল মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ