০৯:১০ পি.এম
ইউরোপের দেশ মলদোভার প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্দ্রু মুনতিয়ানু শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা মোল্ডএটিএসএ-কে ঘিরে তৈরিকৃত রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তিনি এই ঘোষণা দেন।
এর মাধ্যমে দেশের সরকারও সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্দ্রু মুনতিয়ানু জানান, তিনি আর বর্তমান দায়িত্ব পালনে আগ্রহী নন, কারণ তিনি নিজের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে আপস করতে চান না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদের জন্য এই দেশের সংবিধান অনুসারে, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ফলে সরকারও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: মাদকচক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলা
তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব আমি অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করেছিলাম এবং বিশ্বাস করেছিলাম যে দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখতে পারব।
কিন্তু যখন বুঝলাম আমার নীতি ও বিশ্বাস অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা আর সম্ভব হচ্ছে না, তখন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
৬২ বছর বয়সী আলেক্সান্দ্রু মুনতিয়ানু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে ইউরোপপন্থী পিএএস-এর জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি এর আগে প্রায় দুই দশক বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।
সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান চলাচল নিরাপত্তা সংস্থা মোল্ডএটিএসএ এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত উচ্চ বেতন নিয়ে প্রকাশিত বৈষম্যের প্রতিবেদন এবং দেশজুড়ে সমালোচনার মধ্যে তার এই পদত্যাগের ঘোষণা আসে।
আরও পড়ুন: মদিনায় হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের
প্রধানমন্ত্রী মুনতিয়ানুর পদত্যাগ, দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু এবং ক্ষমতাসীন ইউরোপপন্থী পার্টি অব অ্যাকশন অ্যান্ড সলিডারিটিন (পিএএস) জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভিতালি আন্দ্রিয়েভস্কি রয়টার্সকে বলেন, ‘মলদোভায় এখন তীব্র শাসন সংকট দেখা দিয়েছে।’
তবে পদত্যাগের পরও দেশটির সেবায় থাকার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘যে অবস্থানেই থাকি না কেন, আমি আমার দেশের সেবা চালিয়ে যাব।’
মোল্ডএটিএসএ-কে ঘিরে নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা অভিযোগ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার মলদোভার পার্লামেন্ট রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া, পরিচালনা পর্ষদের গঠন এবং একই ব্যক্তি একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখবে।
আরও পড়ুন: বাকৃবির শাহজালাল হলে ‘শাহী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২.০’-এর উদ্বোধন
ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রোমানিয়ার মাঝখানে অবস্থিত মলদোভায় রোমানীয়ভাষী জনগণের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য রুশভাষী সংখ্যালঘুও রয়েছে। দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপপন্থী ও রাশিয়াপন্থী শক্তির মধ্যে সংঘাত চলে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন