সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪২ পি.এম
কুমিল্লায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ ৫৬ জনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে ইয়াবা ও বিয়ারও রয়েছে। রোববার রাতে জেলার সকল থানায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তাদের গ্রেফতার করা হয় এবং সাজা প্রদান করা হয়। সোমবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সহায়তায় জেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে ৪৯টি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এই অভিযানে ১৪৯৫ পিস ইয়াবা এবং ২৪ বোতল বিয়ার উদ্ধার করা হয়। এ সময় ১০ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ৪৬ জন মাদকসেবীসহ মোট ৫৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে, মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে এবং বিচারিক আদালতে সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান এ বিষয়ে জানান, যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করার জন্য এবং নিরাপদ কুমিল্লা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি মাদক নির্মূলে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মিয়ানমারের তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন তদন্তে নেমে ওই তিন ব্যক্তির ফতেহাবাদ ইউনিয়নে স্থায়ী বসবাসের তথ্য না পাওয়ায় সাবেক ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য বেরিয়ে এসেছে, তিনজনই বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাদের পারিবারিক শিকড় কক্সবাজারে অবস্থিত।
জানা যায়, উপজেলা ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মিয়ানমারের তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের সূত্র ধরে অভিযোগটি আরও জোরালো হয়। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধনের খবর প্রকাশিত হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রশাসন তদন্তে নামলে ওই তিন ব্যক্তির ফতেহাবাদ ইউনিয়নে বসবাসের তথ্য না পাওয়ায় সাবেক ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
জন্মসনদে উল্লেখিত তিন ব্যক্তি হলেন- মুবিনা খাতুন, হাফিছা এবং সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদ। অন্য একটি অভিযোগে জন্ম নিবন্ধন পাওয়া আবু হেনা সিদ্দিকী ইশমাম, জুনাইরা আফরিন আঁখি, নূর মামিন, মাজেদকে রোহিঙ্গা দাবি করা হলেও অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তারা কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বলে দাবি করেন তাদের স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তারা কেউই মিয়ানমারের নাগরিক নন বলে জানান। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হওয়া গোয়েন্দা সংস্থার ওই প্রতিবেদনের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সত্যতাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাছাড়া জন্মসনদের বিষয়ে জেলাপ্রশাসক বরাবর অভিযোগকারী শফিউল আলমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
সরেজমিন গেলে মুবিনা খাতুনের মা নুরজাহান বেগম সাংবাদিকদের বলেন, "আমার সাবেক স্বামী আবুল কাশেম অনেক বছর আগে মারা গেছেন। আমার মেয়ে মুবিনা খাতুনও সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আমরা মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নই। আমাদের জন্ম কক্সবাজার সদরে। আমার বাবা-ভাই সবাই এ দেশের নাগরিক। আমার মেয়েও জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক।"
জন্মনিবন্ধন পাওয়া সাইমুন ইসলাম সাজ্জাদের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমার ছেলে আবুধাবিতে থাকে। জরুরি প্রয়োজনে ডিজিটাল জন্মসনদ প্রয়োজন হওয়ায় সে পরিচিত একজনের মাধ্যমে জন্মসনদ তৈরি করে। আমরা মিয়ানমারের নাগরিক নই। আমাদের পূর্বপুরুষ জন্মসূত্রে মহেশখালীতে বসবাস; আমরা বাংলাদেশের নাগরিক।"
কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল আমিন কাজল বলেন, "হাফিছা, আবু হেনা সিদ্দিকী ইশমাম, জুনাইরা আফরিন আঁখি আমার প্রতিবেশী। ওরা আমার ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা। চেয়ারম্যান না থাকায় এলাকায় সাধারণ নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে অন্য এলাকা থেকে নাগরিক সনদ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে সমস্যার সমাধান করছেন।"
ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "ডিজিটাল সেন্টারের সাবেক উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান রাজিব আমাকে জিম্মি করে জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে কাজ করিয়ে নিত। আমি ছুটিতে থাকাকালীন রাজির নাগরিকদের সমস্যার কথা বলে বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে ওটিপি নিয়ে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের জন্মসনদ দেয়, যা পরবর্তীতে আমি জানতে পারি। আমি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই এবং আইন অনুযায়ী তার শাস্তির দাবি করি।"
সবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুল বলেন, "২০২৪ সালের আগস্টে আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করলেও জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাই ২০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে। অথচ আলোচিত জন্মনিবন্ধনগুলো তৈরি হয়েছে ৪ জানুয়ারি ২০২৫। অর্থাৎ আমি ইউজার এক্সেস পাওয়ার আগেই এগুলো তৈরি করা হয়েছে। কারা, কিভাবে এবং কোন আইডি ব্যবহার করে এসব জন্মনিবন্ধন করেছে, তা আমার জানা নেই।"
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, "ইস্যু করা জন্মনিবন্ধ সনদ কোনো রোহিঙ্গাকে দেওয়া হয়েছে কিনা তা তদন্ত চলছে, তদন্তে অপরাধী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাতের তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বিভিন্ন ফ্রন্টে টানা কয়েকদিনের প্রচণ্ড সংঘর্ষে প্রায় তিন হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন।
সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশটিতে মোট ২,৮৮৩ জন হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫০৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা অন্তত ২,৩৭৯ জন।
বাস্তুচ্যুত প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ
ডাব্লিউএইচও জানাচ্ছে, সংঘাত মারাত্মক রূপ নেওয়ায় ইয়েমেনের একাধিক প্রদেশে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। গত শুক্রবার পর্যন্ত, তাইজ, মারিব, আল-জাওফ, লাহজ, হুদায়দাহ, আবিয়ান এবং শাবওয়া প্রদেশ থেকে অন্তত ৭৭,৭৮৯ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
মারিবে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মারিব প্রদেশ সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এবং সেখানে দৈনিক হতাহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।
৯ সেপ্টেম্বর: একদিনেই মারিবে নিহত ও আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৬৯ জনে।
১০ সেপ্টেম্বর: হতাহতের সংখ্যা ছিল ১৭৭ জন।
১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার): নতুন করে আরও ২১৯ জন হতাহত হন।
সংঘাত অব্যাহত থাকায় মানবিক বিপর্যয় আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ডাব্লিউএইচও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের রোড ডিভাইডার বা মিডিয়ানে ফুটেছে বাহারি ফুল। বিশেষ করে ডিভাইডার জুড়ে কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়া ফুলের নান্দনিক শোভা এখন যাত্রী ও পথচারীদের মন কাড়ছে। দীর্ঘ পিচঢালা সড়ক আর তার মাঝখানে সবুজের বুকে লাল-হলুদ ফুলের সমারোহ পুরো সড়কজুড়ে সৃষ্টি করেছে এক অপরূপ সৌন্দর্য।
এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রী ও স্থানীয়রা জানান, দূরপাল্লার ভ্রমণের ক্লান্তি এক নিমেষেই মুছে দেয় এই চোখ জুড়ানো দৃশ্য। বিশেষ করে সকাল ও বিকালের মিষ্টি রোদে কৃষ্ণচূড়া গাছের সারিবদ্ধ লাল ও হলুদ ফুলগুলো যখন মৃদু বাতাসে দোল খায়, তখন এক চমৎকার মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সড়ক বিভাগের এমন নান্দনিক উদ্যোগ এক্সপ্রেসওয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকৃতির এক সবুজ ছোঁয়া এনে দিয়েছে। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও এই দৃষ্টিনন্দন রূপ ভ্রমণপিপাসু মানুষ ও চালকদের মনে এনে দিচ্ছে আলাদা প্রশান্তি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দশ বছর আগে সিঙ্গাপুরে কাজ করার সময় মোহাম্মদ আতাউর রহমানের শরীরের ৭৩ শতাংশ ঝলসে গিয়েছিল একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে, এবং তিনি এক কানে শ্রবণশক্তিও হারিয়েছেন। সেই মুহূর্তে আতাউর ভেবেছিলেন, জীবন বোধহয় সেখানেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কঠিন বাস্তবতাকে জয় করে প্রবাস ফেরত আতাউর আজ নিজ গ্রামে পাবনায় সফল সমাজসেবক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন।
৩১ বছর বয়সী আতাউর স্মৃতিচারণ করে বলছিলেন, “ভেবেছিলাম ওটাই আমার জীবনের শেষ দিন, আর বাঁচব না।”
সিঙ্গাপুরে পাওয়া ক্ষতিপূরণের অর্থ এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘আল-শোহাগ কিন্ডারগার্টেন’, যেখানে নতুন ভবনে প্রায় ৪০০ শিশু পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে।
কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাওয়া ১৩৭,০০০ সিঙ্গাপুরি ডলারের (প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার মার্কিন ডলার) একটি অংশ দিয়ে তিনি এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩০,০০০ ডলার খরচ হয়েছে ‘আল-সোহাগ কিন্ডারগার্টেন’ চালুর জন্য এবং নতুন ভবনের জমি কেনায় আরও ৩০,০০০ ডলার ব্যয় হয়েছে।
শিক্ষা বিষয়ক একটি সম্মেলনে যোগ দিতে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আতাউর বলেন, “আমার মতো যেন আর কাউকে অল্প বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে না হয়। তারা যেন শিক্ষা চালিয়ে যেতে পারে, সেটাই আমি নিশ্চিত করতে চাই।”
২০১৫ সালে প্রায় ১৬ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার ঋণ নিয়ে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়েছিলেন আতাউর। কিন্তু ২০১৬ সালের জুলাইয়ে গাছের ডাল ছাঁটাইয়ের কাজ করার পর তাকে একটি ভূগর্ভস্থ পানির ট্যাংক পরিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রথমে রাজি না হলেও চাকরি হারানোর ভয়ে বাধ্য হয়ে ট্যাংকিতে নামেন আতাউর। আলো জ্বালাতেই ভেতরে এক বিকট বিস্ফোরণ ঘটে।
তিন মাস কোমা এবং ছয় মাস হাসপাতালে কাটানোর পর ত্বক প্রতিস্থাপন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হলেও সিঙ্গাপুর সরকার তদন্তে পায়, কোম্পানিটিতে কোনো সুরক্ষাব্যবস্থা বা প্রশিক্ষণ ছিল না। পরে কোম্পানিটিকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়।
দুর্ঘটনার পর পাওয়া ক্ষতিপূরণের অংশ থেকে প্রায় ৩০ হাজার ডলার দিয়ে তিনি নিজের গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষার আলো ছড়াতে ‘আল-শোহাগ’ স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। মাত্র ১০ বা ১১ বছর বয়সে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেই দারিদ্র্যের কারণে আতাউরের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের হাল ধরতে মাঠে ধান ও সবজি চাষের কাজ শুরু করেন তিনি। নিজের গ্রাম পাবনায় (ঢাকা থেকে প্রায় ১৫০ কিমি দূরে) বহু শিশুর ভাগ্যেই এমনটা ঘটে। সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তা
স্কুল কীভাবে পরিচালনা করতে হয় তা শিখতে আতাউর সিঙ্গাপুরের বেশ কয়েকটি স্কুল পরিদর্শন করেন। সেখানে সিঙ্গাপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ই ইয়েন জং এবং তার স্ত্রী আতাউরের পাশে দাঁড়ান। ২০২০ সালে টিনের ছাদের একটি ঘরে শুরু হয় এই স্কুলের যাত্রা। এই স্কুলে গরমের দিনে শিশুদের টিকে থাকা কঠিন ছিল। এমনকি কম্পিউটার চুরি হয়ে যাওয়ার ভয়ে নিজের বাড়ি থেকে কম্পিউটার এনে শিশুদের কাজ শেখাতেন আতাউর। পরে প্রচন্ড গরম ও স্থানসংকুলান না হওয়ায় একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই নতুন তিনতলা ভবন নির্মাণে প্রায় ১,৫০,০০০ সিঙ্গাপুরি ডলার খরচ হয়, যার বড় একটি অংশ এসেছে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন দাতাসংস্থা, ব্যক্তিগত অনুদান এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান 'ওহ আপ'-এর সৌজন্যে। খরচ বাঁচাতে আতাউর নিজে রাজমিস্ত্রিদের সঙ্গে থেকে তদারকি করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের নতুন ভবনে স্থানান্তর করেন।
বাস্তবমুখী শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আল-শোহাগ স্কুলে প্রথাগত পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি কাজ, হাঁস-মুরগি পালন এবং কম্পিউটার শিক্ষার মতো ব্যবহারিক বিষয় শেখানো হয়। এলাকার দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য এখানে পড়ার খরচ মাত্র ৩ ডলার (প্রায় ২৭০ টাকা) রাখা হলেও, যারা দিতে পারে না তাদের বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
বর্তমানে স্কুলটিতে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্তমানে এই স্কুলের দৈনিক পরিচালন খরচের ৮০ শতাংশ আসে অনুদান থেকে। প্রতিদিনের পরিচালন ব্যয় মেটাতে এবং স্কুলটিকে স্বাবলম্বী করতে আতাউর এখন নতুন একটি উদ্যোগের কথা ভাবছেন। তিনি চান সিঙ্গাপুরগামী কর্মীদের জন্য এখানে সঠিক কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও ইংরেজি শিক্ষার ব্যবস্থা করতে, যাতে তারা দালালের প্রতারণা ছাড়া নিরাপদে বিদেশে যেতে পারেন।
আতাউরের আশা, তার স্কুলের শিক্ষার্থীরা একদিন বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করবে। আতাউর রহমান বলেন, "নিজের পড়ার ক্ষুধা মেটাতে পারিনি, কিন্তু আমি চাই এই শিশুরা অনেক দূর এগিয়ে যাক।" নিজ ভবনের ৩য় তলায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাসকারী আতাউরের স্বপ্ন অনেক বড়। তার স্কুলের একজন শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই স্থানীয় সেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকারি স্কলারশিপ পেয়েছে। আতাউর বলেন, “হয়তো ১০ বছরে সম্ভব হবে না, তবে ভবিষ্যতে আমি আমার শিক্ষার্থীদের বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে দেখতে চাই।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ