ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

নাসা চাঁদে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, নভোচারী নিয়োগে আবেদন আহ্বান


নাসা চাঁদে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, নভোচারী নিয়োগে আবেদন আহ্বান

চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন কি দেখছেন? যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা শুধু চাঁদে ভ্রমণের সুযোগই নয়, বরং সেখানে একটি স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলার ঐতিহাসিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগও প্রদান করতে যাচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে নতুন নভোচারী দলের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে সংস্থাটি। নির্বাচিত নভোচারীরা নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

শনিবার কেনেডি স্পেস সেন্টারে আয়োজিত একটি এয়ার শোতে নতুন নভোচারী নিয়োগের ঘোষণা দেয় নাসা। এই আয়োজনের মাধ্যমে চন্দ্র অভিযান, বিমান চলাচল এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

নাসা জানিয়েছে, আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ নভোচারী নির্বাচনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে ২০২৮ সালের শুরুর দিকে। একই বছর, ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর নভোচারীদের আবারো চাঁদের মাটিতে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে নাসার।

আরও পড়ুন: শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনের অর্থনীতি ধ্বংসে রাশিয়ার জোরদার হামলা

এর আগে ২০২৪ সালে নতুন নভোচারী নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করেছিল নাসা। সেবার ৮ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র ১০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।

বর্তমানে নাসার সক্রিয় নভোচারীর সংখ্যা মাত্র ৩২ জন। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে মহাকাশে মানুষের উপস্থিতি দ্রুত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থাকায় আরো নভোচারী প্রয়োজন সংস্থাটির। আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে নাসা।

আর্টেমিস কর্মসূচির তৃতীয় অভিযানের কমান্ডার র‌্যান্ডি ব্রেসনিক বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, "আমাদের নভোচারীর সংখ্যার তুলনায় কাজের পরিমাণ অনেক বেশি।" সম্ভাব্য আবেদনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।" তাই আগ্রহীদের আবেদন করতে দেরি না করার আহ্বান জানান তিনি।

নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের গ্রীষ্মে ব্রেসনিক ও তার তিন সহকর্মী মহাকাশে যাবেন। তাদের অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য হবে পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করে নভোযানের সঙ্গে দুটি চন্দ্রযানের সংযোগ স্থাপনের মহড়া দেওয়া। এর মধ্যে একটি চন্দ্রযান তৈরি করছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং অন্যটি জেফ বেজোসের প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিন।

আরও পড়ুন: ইইউ-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের অবনতির নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক

এই অভিযানটি মূলত পরবর্তী আর্টেমিস-৪ মিশনের প্রস্তুতি হিসেবে পরিচালিত হবে। আর্টেমিস-৪ অভিযানে দুই নভোচারীকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি এলাকায় অবতরণের চেষ্টা করার কথা রয়েছে।

চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে সেখানে রোভার, রোবট, বিভিন্ন অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা পাঠানো হবে। এসবের মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানববসতি গড়ে তোলার পথ তৈরি করতে চায় নাসা।

তবে নভোচারী হওয়ার প্রক্রিয়া মোটেও সহজ নয়। আর্টেমিস-৩ মিশনের আরেক নভোচারী ফ্রাঙ্ক রুবিও এ বিষয়ে ধৈর্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি মহাকাশে টানা ৩৭১ দিন অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটানা মহাকাশে থাকার রেকর্ড গড়েছেন।

নাসার নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি এবং পেশাগত কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নির্বাচিত প্রার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক দুই বছরের প্রশিক্ষণও বেশ কঠিন হবে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরও মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ পেতে কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার নদীতে বিধ্বস্ত, নিখোঁজ এক ক্রু

রুবিও বলেন, "আবেদনকারীদের বুঝতে হবে, নভোচারী হিসেবে তাদের কাজের বেশির ভাগ সময় চাঁদে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং চাঁদে মানুষ পাঠানোর বৃহত্তর লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হবে।" তার ভাষায়, "নভোচারী হিসেবে পুরো অভিজ্ঞতার মাত্র ১ শতাংশ সময় হয়তো চাঁদে যাওয়ার কাজে ব্যয় হবে।"

উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে নাসার প্রথম নভোচারী দল ‘মার্কারি সেভেন’ গঠনের পর এটি হতে যাচ্ছে সংস্থাটির ২৫তম নভোচারী দল। নতুন এই নিয়োগের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আরো গতি আনতে চায় নাসা।

সূত্র: এপি

এআরবি

আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইহুদিদের পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেয়ারের নামে অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধ হোক : রিহ্যাবের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৫ পি.এম


শেয়ারের নামে অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধ হোক : রিহ্যাবের দাবি

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) দাবি করেছে যে, জমির শেয়ার বিক্রি করে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে পরিচালিত অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। সংগঠনটির বক্তব্য, এ ধরনের ব্যবসায়িক মডেলে ক্রেতার অর্থ, জমির মালিকানা, ফ্ল্যাটের আইনগত অধিকার এবং ভবনের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতোমধ্যে এই ধরনের ব্যবসায়িক মডেলের কারণে প্রায় ৪০ হাজার নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রায় ১০ হাজার বিচারাধীন মামলার কারণে অনেকে তাঁদের সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী দুই থেকে তিন বছরে শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্পসংক্রান্ত মামলা ও আইনি জটিলতায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা আটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল এসব তথ্য তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ. এফ. এম. ওবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো. হারুন অর রশিদ, পরিচালক মো. গোলাম কিবরিয়া মজুমদার, প্রকৌশলী মো. মোস্তফা কামাল, এ.জেড.এম. কামরুদ্দিন, প্রফেসর ফারুক আহমদ, মো. জহির আহমেদ, মো. খাজা নজিবুল্লাহ চৌধুরী, শেখ কামাল, এম. ফখরুল ইসলাম ও এ. এস. এম. আব্দুল গাফফার মিয়াজী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রিহ্যাবের প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কমিটির সদস্য সঞ্জয় চক্রবর্তী এবং রিহ্যাব সদস্য শফিকুল ইসলাম বাদলও সেখানে ছিলেন।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, বর্তমানে আবাসন খাতে উদ্বেগজনকভাবে এমন একটি ব্যবসায়িক মডেলের বিস্তার ঘটছে, যেখানে জমির নির্দিষ্ট অংশ বা শেয়ার বিক্রি করে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট আয়তনের ফ্ল্যাট নির্মাণ ও হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ভবনের অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের সক্ষমতা, অর্থের ব্যবহার, ফ্ল্যাটের সুনির্দিষ্ট অবস্থান এবং হস্তান্তরের আইনি নিশ্চয়তা স্পষ্ট থাকে না। ফলে একজন ক্রেতা অর্থ বিনিয়োগ করেও নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাট পাওয়া, বৈধ মালিকানা বুঝে পাওয়া কিংবা বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা পান না।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ব্যবসায়িক মডেলে নির্মিত ভবনগুলোর অনুমোদিত নকশা ও বাস্তব নির্মাণের মধ্যে অসংগতি এবং নির্মাণসংক্রান্ত বিভিন্ন শর্তের ব্যত্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। ১০০টি ভবন পরিদর্শন করলে প্রায় প্রতিটি ভবনেই কোনো না কোনো ধরনের ব্যত্যয়ের অভিযোগ পাওয়া যেতে পারে। এসব ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার, নির্মাণের শর্ত এবং কারিগরি নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তাই শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ভবনগুলো সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কারিগরি যাচাই করা জরুরি।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, প্রচলিত আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোকে জমির মালিকানা, প্রকল্প অনুমোদন, নকশা, নির্মাণবিধি, প্রকৌশলগত নিরাপত্তা, কর ও ভ্যাটসহ সব ধরনের আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হয়। কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু শেয়ারভিত্তিক মালিকানার নামে পরিচালিত কিছু প্রকল্পে একই মাত্রার তদারকি ও আইন প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এতে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রতিবেদনে জমির শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্পে প্রতারণার অভিযোগসংক্রান্ত বিপুলসংখ্যক বিচারাধীন মামলার তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এ ধরনের অভিযোগে ৯ হাজার ৮২৩টি মামলা বিচারাধীন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৪০ হাজার ক্রেতা এবং প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ পরিসংখ্যান আবাসন খাতে ক্রেতাদের সুরক্ষা ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করেছে।

শেয়ারভিত্তিক আবাসন ব্যবসার প্রধান সমস্যাগুলো

রিহ্যাবের পক্ষ থেকে শেয়ারভিত্তিক আবাসন ব্যবসার কয়েকটি প্রধান সমস্যা তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো—

১. জমির শেয়ার কিনলেই নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটের আইনগত মালিকানা নিশ্চিত হয় না। একই জমি বা ভবনের বিপরীতে একাধিক ব্যক্তির কাছে শেয়ার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

২. প্রকল্পের যথাযথ অনুমোদন, অনুমোদিত নকশা এবং আইনগত নির্মাণ অধিকার নিশ্চিত না করেই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

৩. দক্ষ প্রকৌশলী, স্থপতি এবং পেশাদার নির্মাণ তদারকির অভাবে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা ও নির্মাণমান ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

৪. অর্থ সংগ্রহ, জমির মূল্য, শেয়ার বিক্রি ও নির্মাণ ব্যয়ের হিসাব অনেক ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নয়। ফলে প্রযোজ্য আয়কর, ভ্যাট, নিবন্ধন ফি ও অন্যান্য সরকারি রাজস্ব যথাযথভাবে আদায় হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

৫. বৈধ আবাসন প্রতিষ্ঠানকে জমি, অনুমোদন, প্রকৌশল, নির্মাণমান, নিরাপত্তা, কর-ভ্যাটসহ সব ধরনের আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হয়। অন্যদিকে এসব শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করে কম দামে ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে অর্থ সংগ্রহ করলে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।

৬. জমির মালিকানা, শেয়ার বিক্রি, ফ্ল্যাট বরাদ্দ, নির্মাণ ব্যয় ও দখল নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হচ্ছে। এসব বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে। ফলে পারিবারিক বিরোধ, আর্থিক সংকট ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে।

৭. জমির অবিভক্ত অংশের মালিকানা থাকলে ভবিষ্যতে জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রি, ব্যাংকে বন্ধক, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন এবং পৃথক মালিকানা প্রতিষ্ঠায় জটিলতা দেখা দিতে পারে।

একটি নিরাপদ ভবন নির্মাণের জন্য প্রকল্পের অনুমোদনের পাশাপাশি কাঠামোগত নকশা, ভিত্তির সক্ষমতা, নির্মাণসামগ্রীর মান, অগ্নিনিরাপত্তা, পানি ও পয়োনিষ্কাশন এবং নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে পেশাদার তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এ রিয়েল এস্টেট ব্যবসা পরিচালনা, প্রকল্প অনুমোদন এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রয়েছে। তাই প্রচলিত আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজনে সুস্পষ্ট আইনগত নিষেধাজ্ঞা ও নতুন বিধান প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

রিহ্যাবের ছয় দফা দাবি

আবাসন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ক্রেতাদের অর্থ ও মালিকানা সুরক্ষা এবং নিরাপদ ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে ছয়টি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে রিহ্যাব।

১. জমির শেয়ার বিক্রি করে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিনির্ভর অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসায়িক মডেল বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনীয় আইনগত পর্যালোচনার মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।

২. প্রকল্পের জমির মালিকানা, নিবন্ধন, দায়-দেনা, অনুমোদিত নকশা এবং নির্মাণের আইনগত অধিকার নিশ্চিত না করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে অর্থ সংগ্রহ করতে দেওয়া যাবে না।

৩. শেয়ারভিত্তিক আবাসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ভবনগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে স্বাধীন কারিগরি ও আইনগত নিরীক্ষা করতে হবে। অনুমোদিত নকশা ও বাস্তব নির্মাণের তুলনামূলক তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তা প্রকাশ করতে হবে।

৪. একই জমি বা জমির অংশ একাধিকবার বিক্রি, জাল দলিল, ভুয়া অনুমোদন, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। প্রমাণিত অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. প্রতিটি প্রকল্পে জমি ক্রয়, অর্থ সংগ্রহ, নির্মাণ ব্যয়, প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ক্রেতাদের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরীক্ষাযোগ্য হিসাব নিশ্চিত করতে হবে। প্রযোজ্য কর, ভ্যাট ও অন্যান্য সরকারি রাজস্ব পরিশোধের বিষয়ও যাচাই করতে হবে।

৬. প্রতিটি প্রকল্পে দায়িত্বশীল ডেভেলপার, যোগ্য স্থপতি, প্রকৌশলী ও প্রয়োজনীয় পেশাদার জনবল নিয়োগ এবং নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে গুণগত মান ও নিরাপত্তা তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট বলেন, কোনো বৈধ যৌথ মালিকানা বা স্বচ্ছ বিনিয়োগ ব্যবস্থার বিরোধিতা রিহ্যাব করছে না। তবে জমির অংশীদারত্ব বা যৌথ উদ্যোগের নামে এমন কোনো ব্যবসায়িক মডেল পরিচালিত হতে পারে না, যেখানে অর্থের বিপরীতে নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটের অধিকার, বৈধ মালিকানা, নির্মাণের দায় এবং চূড়ান্ত হস্তান্তরের কার্যকর নিশ্চয়তা নেই। একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ এবং প্রচলিত আইন অনুসরণের বাধ্যবাধকতাও নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শেয়ারভিত্তিক অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবসার সমস্যা শুধু আবাসন খাতের সমস্যা নয়; এটি একটি জাতীয় সমস্যা। এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সারা জীবনের সঞ্চয়, আবাসনের নিরাপত্তা, সরকারি রাজস্ব, দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জড়িত। আজ এ সমস্যার যথাযথ সমাধান না হলে আগামী দিনে এর আর্থিক, সামাজিক ও আইনি ক্ষতির বোঝা বহন করতে হবে রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষকেই। তাই আবাসন খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ ক্রেতার অধিকার ও বিনিয়োগ সুরক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তদন্ত দ্রুত শেষ করে রিহ্যাবের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি

সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তদন্তের নামে প্রায় তিন মাস ধরে দেশের আবাসন খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন রিহ্যাবের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান তদন্তের প্রতি রিহ্যাবের পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে। তবে তদন্তের অজুহাতে একটি জাতীয় পর্যায়ের বাণিজ্য সংগঠনের নেতৃত্ব, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়মিত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা কোনোভাবেই কাম্য ও যৌক্তিক নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়াই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে অভিমত প্রকাশ করেন তিনি।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “একটি সংগঠনের নেতৃত্ব, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়মিত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত যদি দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে, তাহলে সেই সংগঠন কীভাবে তার সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা করবে? আমরা মনে করি, তদন্ত চলতে পারে, কিন্তু সে কারণে সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

রিহ্যাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রক ও তদারককারী কর্তৃপক্ষ। রিহ্যাব সবসময় সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। মন্ত্রণালয়ের যেকোনো আইনসংগত নির্দেশনা ও তদন্ত কার্যক্রমে রিহ্যাব সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সংগঠনের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিষয়ে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা দূর করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তাঁরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার নদীতে বিধ্বস্ত, নিখোঁজ এক ক্রু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৫ পি.এম


ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার নদীতে বিধ্বস্ত, নিখোঁজ এক ক্রু

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নেভানোর উদ্দেশ্যে নিয়োজিত একটি হেলিকপ্টার নদীতে বিধ্বস্ত হয়েছে, যখন এটি পানি সংগ্রহের কাজ করছিল। এই দুর্ঘটনা ৮ই নভেম্বর বোর্নিও দ্বীপে ঘটে। এর পর দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে একজন নিখোঁজ রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এক কর্মকর্তা। দক্ষিণ কালিমান্তান প্রদেশে এই ঘটনা ঘটে। এটি দাবানল নেভানোর কাজে নিয়োজিত হেলিকপ্টারের বিধ্বস্ত হওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা, যা কয়েক দিনের মধ্যে ঘটছে।

এর আগে ৪ঠা নভেম্বর, বোর্নিও দ্বীপের উপকূলীয় পানিতে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে তিনজন নিহত হন। জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র বার্টন পানজাইতান জানিয়েছেন, ৮ই নভেম্বরের দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া দুই অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিরাপদ অবস্থায় আছেন। তবে হেলিকপ্টারের তৃতীয় ক্রু সদস্য, একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক, এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

নাটকীয় ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বারিতো নদী থেকে হেলিকপ্টারটি বালতি দিয়ে পানি সংগ্রহ করার পর ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। একপর্যায়ে, এটি নাকের দিক সামনের দিকে রেখে পানিতে আছড়ে পড়ে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া কয়েক মাস ধরে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছে। সুমাত্রা, বোর্নিও ও পাপুয়া দ্বীপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়া প্রতিবেশী মালয়েশিয়া, পূর্ব তিমুর ও সিঙ্গাপুরেও ছড়িয়ে পড়েছে। ৮ই নভেম্বরের দুর্ঘটনা সম্পর্কে মুখপাত্র বার্টন বলেন, বিমানবহর যখন পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর অভিযান চালাচ্ছিল, তখন এই দুর্ঘটনা ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইইউ-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের অবনতির নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


ইইউ-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের অবনতির নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের পণ্য রপ্তানির সুযোগ সংকুচিত হয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের ফলস্বরূপ। এই পরিস্থিতির কারণে বেইজিং ইউরোপের ওপর ক্রমাগত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে নতুন বাজার খুঁজতে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চীনের এই নির্ভরশীলতাকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য আলোচনায় নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপ ও চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়েছে। এক সময় দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যিক নির্ভরতা বিদ্যমান থাকলেও বর্তমানে অবিশ্বাস, বিরোধ এবং প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে কিছু অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণ।

দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইউরোপীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থেকে লাভবান হয়েছে। চীনের ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইউরোপীয় পণ্যের চাহিদা ছিল ব্যাপক। ইউরোপের ক্রেতারাও তুলনামূলক কম দামে চীনা পণ্য পেয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন। যদিও চীনের সঙ্গে ইউরোপের বাণিজ্যে ঘাটতি ছিল, তবুও তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল।

চীনা সরকার রপ্তানিকারকদের ভর্তুকি দেওয়ার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক অনিয়মের অভিযোগে ইউরোপীয় দেশগুলো মাঝে মাঝে আপত্তি জানালেও যুক্তরাষ্ট্রের মতো কঠোর অবস্থান নেয়নি। চীনে লাভজনক ব্যবসা পরিচালনাকারী ইউরোপীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে চায়নি।

তবে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে মূলত চারটি কারণে। প্রথমত, চীনের ‘মেড ইন চায়না ২০২৫’ কর্মসূচির আওতায় দেশটির উৎপাদনশিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং পণ্যের মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপীয় কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামতে শুরু করেছে।

দ্বিতীয়ত, এই কর্মসূচির মাধ্যমে চীনের উৎপাদন সক্ষমতা অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত পণ্য বিক্রির জন্য বিদেশি বাজারের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই সময়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বাণিজ্যনীতি দেশটির মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগ সীমিত করে দিয়েছে। এর ফলে ইউরোপের বিলাসপণ্য এবং উন্নত যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারকদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

চীনে এক সময় দ্রুত বাড়তে থাকা ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি এখন কমছে। ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতারাও চীনে বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে। ২০০৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে চীনে মার্সিডিজের বিক্রি বছরে গড়ে ২৪ শতাংশ, বিএমডব্লিউর ২০ দশমিক ২ শতাংশ এবং অডির ১২ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বেড়েছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তা কমতে শুরু করেছে।

২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে চীনে মার্সিডিজের বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমে যায়। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ১২ মাসে বিএমডব্লিউর বিক্রি কমেছে ২৫ শতাংশ।

এদিকে, ইউরোপে চীনা পণ্যের আমদানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে চীন থেকে ইইউর পণ্য আমদানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১২ মাসে বেড়েছে আরও ৮ শতাংশ। এর ফলে চীনের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের ৬৬ বিলিয়ন ইউরো থেকে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বেড়ে ১০৩ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ইউরোপের দেশগুলো চীনের বাণিজ্যনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দ সতর্ক করে বলেছেন, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ইউরোপের অর্থনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি মধ্যম প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনশিল্পকে দুর্বল করে দিতে পারে।

তবে, ইউরোপ এবার বেইজিংয়ের ওপর চাপ প্রয়োগে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। চীনা বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে শুল্ক আরোপের পর ইউরোপে এসব গাড়ি রপ্তানি বছরে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫০ হাজারে সীমিত রাখতে এবং পরবর্তী সময়ে বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে বাড়াতে সম্মত হয়েছে বেইজিং। রাসায়নিক পণ্যেও একই ধরনের সীমা আরোপের আলোচনা চলছে।

প্যারিসভিত্তিক জ্যাক দেলোর ইনস্টিটিউটের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালক এলভির ফ্যাব্রির মতে, ইউরোপের সামনে এই সুযোগটি খুব বেশি সময়ের জন্য থাকবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে চীনের বিকল্প বাজার সীমিত হওয়ায় ইউরোপ এই সুযোগ কাজে লাগাতে চায়। ফলে, বেইজিংয়ের ওপর ওয়াশিংটনের শুল্কনীতির একটি অনাকাঙ্ক্ষিত কৌশলগত সুবিধা পাচ্ছে ইউরোপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাতারএনার্জি আগামী বছর ৪০ কার্গোর ২৬টি সরবরাহ করবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


কাতারএনার্জি আগামী বছর ৪০ কার্গোর ২৬টি সরবরাহ করবে

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৭ সালে বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসছে।

‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ ৪০টি এলএনজি কার্গোর মধ্যে কাতারএনার্জি ২৬টি সরবরাহ করবে। এর মানে হলো, প্রতিষ্ঠানটি চুক্তির ৬৫ শতাংশ গ্যাস সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় অন্যান্য সরবরাহকারীদের কাছ থেকে গ্যাস পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা থাকায় সরকার আপাতত আগামী মার্চ পর্যন্ত আমদানি সূচি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পুরো বছরের আমদানি পরিকল্পনা চূড়ান্ত না করে মার্চ পর্যন্ত সরবরাহ সূচি তৈরির নির্দেশ দিয়েছে পেট্রোবাংলাকে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে- এমন প্রত্যাশা থেকেই আপাতত নমনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাড়তি কার্গো সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। এর মধ্যে ১০৩টি কার্গো দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় পাওয়ার কথা। তবে মোট ১২৮টি চুক্তিবদ্ধ কার্গোর মধ্যে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৭১টির সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে।

কাতারএনার্জির সহযোগী প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি ট্রেডিং এলএলসি ২৪টি কার্গোর বিপরীতে ১৮টি সরবরাহের প্রত্যাশা করেছে। দুই প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে কাতার থেকে আসবে ৪৪টি কার্গো।

অন্যদিকে, ওমানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিংয়ের (ওকিউটি) ৩২টি কার্গো সরবরাহের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত একটিও নিশ্চিত করেনি। তারা ১৬টি কার্গো দেওয়ার প্রস্তাবের পাশাপাশি বিদ্যমান ব্রেন্ট সূচকভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের পরিবর্তে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) ভিত্তিতে দাম নির্ধারণের শর্ত দিয়েছে। পেট্রোবাংলা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে চুক্তির শর্ত অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।

এছাড়া, গানভর ইউএসএ ২০২৭ সালে ছয়টি এবং ফ্রান্সের টোটালএনার্জিস ১২টি কার্গো সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক্সেলেরেট গ্যাসের নির্ধারিত ১৪টি কার্গোর মধ্যে নয়টির সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশকে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। এতে সরকারের আর্থিক চাপও বাড়ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই এলএনজি খাতে ভর্তুকি বাবদ ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। সরবরাহ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সময়ে আমদানি পরিকল্পনা পুনর্নির্ধারণ করবে পেট্রোবাংলা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%