ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

আগামী নির্বাচনে বিজেপি সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে: ককরোচ প্রধান


আগামী নির্বাচনে বিজেপি সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে: ককরোচ প্রধান

ভারতের ২০২৯ সালের পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে, এমন মন্তব্য করেছেন তরুণ নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি দেশের সাধারণ মানুষকে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই-এর বরাতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) কেরালার কোচিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা জানান, গণতান্ত্রিক উপায়ে কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব। তিনি দেশে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনের অর্থনীতি ধ্বংসে রাশিয়ার জোরদার হামলা

সিজেপির বিশেষ প্রচারণা কর্মসূচি ‘যন্তর মন্তর অ্যাট কোচি’-র অংশ হিসেবে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে অভিযোগ তুলে অভিজিৎ দিপকে বলেন, ক্ষমতাসীন এনডিএ সরকার দেশের তরুণ সমাজের বিরুদ্ধে একপ্রকার ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অসৎ উদ্দেশ্যে রক্ষা করতে সরকার মরিয়া মন্তব্য করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করা কেন কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

বক্তব্যের সময় জাতীয় পতাকা হাতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন করতে গিয়ে দলের অন্যান্য নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কারের সঙ্গে নিজের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনার কথা স্মরণ করেন তিনি। দিপকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেকোনো মূল্যে তাঁরা জাতীয় পতাকাকে সমন্নত রাখবেন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'কেবল জাতীয় ত্রিবর্ণ পতাকা প্রদর্শন ও গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলার জন্য আমাকে ও আমার দুই সহযোদ্ধা সৌরভ ও আশুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ভারতে এমন নজিরবিহীন দমনপীড়ন কেবল ব্রিটিশ শাসনামলেই দেখা গেছে।'

আরও পড়ুন: ইইউ-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের অবনতির নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৃষ্ণ সাগরে ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে লাশ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


কৃষ্ণ সাগরে ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে লাশ উদ্ধার

ঢাকা, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : দুই সপ্তাহ আগে রোমানিয়ার উপকূলে ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি জাহাজে মানুষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মেরামতের জন্য জাহাজটি বুলগেরিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছিল।

শনিবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির কৌঁসুলিরা।

বুলগেরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর ভারনার সরকারি কৌঁসুলি কার্যালয় একটি বিবৃতিতে জানায়, জাহাজের ধ্বংসাবশেষ অপসারণের সময় লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।

সোফিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানায়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লাশগুলোর পরিচয় শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কৌঁসুলিরা জাহাজটির নাম প্রকাশ করেননি। তবে তারা জানিয়েছেন, এটি সান মারিনোর পতাকাবাহী ছিল। এই তথ্যের সঙ্গে ‘ওয়াইন ট্রেডার’ নামের একটি রাসায়নিকবাহী ট্যাংকারের মিল রয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর দানিউব নদীর মোহনায় সুলিনার প্রায় ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে জাহাজটিতে ড্রোন হামলা হয়েছিল।

বুলগেরিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, লাশগুলোর অবস্থা এতটাই খারাপ যে সঠিকভাবে মৃতদেহের সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার ধারণা, মৃতের সংখ্যা সম্ভবত ছয়।

হামলার পর জাহাজটির ১২ জন ক্রুর মধ্যে সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। বাকি পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

অক্টোবরের শুরু থেকে রোমানিয়া ও বুলগেরিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলে অন্তত নয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় ৩৪ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইহুদিদের পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইহুদিদের পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান

ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে গত কয়েক দশক ধরে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী কৌশলগত, কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। তবে সম্প্রতি ইসরায়েলি-আমেরিকান রাব্বি ইউসেফ মিজরাহি এই সম্পর্ককে কঠিন প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হলে ইহুদিদের উচিত ভারতের পরিবর্তে পাকিস্তানকে সমর্থন করা।

একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে রাব্বি মিজরাহিকে ভারত ও হিন্দুধর্মের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে দেখা যায়। তিনি যুক্তি দেন, ইহুদি ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী মূর্তিপূজকদের বর্জন করে একেশ্বরবাদীদের পক্ষ নেওয়া উচিত।

গত ৩ নভেম্বর প্রদত্ত ‘নির্বাচন ও বর্তমান ঘটনা’ শীর্ষক এক লেকচারে তিনি তোরাহ ও অন্যান্য ইহুদি শাস্ত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন যে মূর্তিপূজকদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। তাই, ইহুদিদের পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়া উচিত। তিনি স্বীকার করেন যে পাকিস্তানের সাথে ইসরায়েলের বৈরী সম্পর্ক রয়েছে, তবে ধর্মের স্বার্থের কাছে রাজনৈতিক বা কৌশলগত মিত্রতা গৌণ হওয়া উচিত।

তার ভাষায়, “যদি ইহুদিদের ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হয়, তবে পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়া উচিত। এটি পাকিস্তান ইসরায়েলকে সমর্থন করে বলে নয়, বরং মূর্তিপূজা বনাম বিশুদ্ধ একেশ্বরবাদের ধর্মীয় নীতিগত পার্থক্যের কারণে।”

মিজরাহি এমন সময়ে এই বক্তব্য দিয়েছেন যখন গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েল আন্তর্জাতিকভাবে চাপের মুখে রয়েছে এবং ভারত তার সমর্থন বজায় রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্য ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

অনেক ভারতীয় ব্যবহারকারী ইসরায়েলের সাথে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রশ্ন তুলেছেন, “এটি কেমন বন্ধুত্ব?” তবে অনেকেই একে কেবল “একজন কট্টরপন্থীর” ব্যক্তিগত মতবাদ হিসেবে দেখছেন এবং গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

রাব্বি ইউসেফ মিজরাহি যে এবারই প্রথম হিন্দুধর্মের কুসংস্কার নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন তা নয়। গত মাসেও তিনি হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস ও গো-পূজা নিয়ে চরম তুচ্ছতাচ্ছিল্য মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওটিতে মিজরাহিকে তাঁর ফেসবুক পেজে কাজ করা এক ভারতীয় হিন্দু ব্যক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তি ইহুদি ধর্ম (জুডাইজম) গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সেই ব্যক্তির পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি বর্ণনা করতে গিয়ে মিজরাহি হিন্দুদের বিতর্কিত গো-সেবা ও শ্রদ্ধার সংস্কৃতি নিয়ে চরম উপহাস করেন। তার উপহাসমূলক বক্তব্যের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ভারত ও ইসরায়েলসহ আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

তিনি দাবি করেন, কিছু হিন্দু পরিবার তাদের শোবার ঘরে গরু ঢুকতে দেয় এবং তারা মেঝে থেকে গোমূত্র চেটে পান করে। এমনকি ভারতীয় ফার্মেসিগুলোতে ওষুধ হিসেবে গোমূত্র বিক্রি হয় উল্লেখ করে তিনি তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন, এসব আচার-অনুষ্ঠান যারা মেনে চলেন তাদের মধ্যে চিকিৎসকও রয়েছেন।

দিল্লির রাস্তায় গরু বসে থাকার দৃশ্য এবং যানজট নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করার পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে বিস্ফোরক অংশ ছিল, যখন তিনি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন—“ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে তিনি আমাকে ভারতীয়দের মতো বানাননি।”

সর্বশেষ ৩ নভেম্বরের বক্তব্যে তিনি ভারতের সাথে ইসরায়েলের বিশাল অস্ত্র চুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও ধর্মীয় নীতিকে সব ধরনের রাজনৈতিক বন্ধুত্বের ঊর্ধ্বে রাখার কথা জোর দিয়ে বলেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে দুই অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিলো পরিবেশ অধিদফতর, বাধা দেয়ায় আটক ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


বরিশালে দুই অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিলো পরিবেশ অধিদফতর, বাধা দেয়ায় আটক ১

বরিশালের উজিরপুরে পরিবেশ অধিদফতরের একটি অভিযানে দুটি অবৈধ ইটভাটার স্থাপনা গুঁড়িয়ে ফেলা হয়েছে। অভিযানের সময় বাধা প্রদান ও মব সৃষ্টির অভিযোগে রাজিব (৩৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (৮ নভেম্বর) শিকারপুর ইউনিয়নে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নুরুর ইটভাটা (এসএসবি) এবং মক্কা ব্রিকসের অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।

পরিবেশ অধিদফতরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আকতারের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। বরিশাল জেলা পুলিশের বিশেষ টিম এবং উজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল অভিযানে সহযোগিতা করে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজ সাদিয়া আকতার জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় কয়লার পরিবর্তে লাকড়ি ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে দুটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও মব সৃষ্টির অপরাধে একজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে যে, একটি দালালচক্রের মাধ্যমে সাংবাদিক পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তি এবং পরিবেশ অধিদফতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। তাদের দাবি, প্রভাবশালী একটি মহলের সহযোগিতায় অবৈধ ইটভাটাগুলো নির্বিঘ্নে চলছিল। তারা এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাসা চাঁদে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, নভোচারী নিয়োগে আবেদন আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫৪ পি.এম


নাসা চাঁদে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, নভোচারী নিয়োগে আবেদন আহ্বান

চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন কি দেখছেন? যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা শুধু চাঁদে ভ্রমণের সুযোগই নয়, বরং সেখানে একটি স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলার ঐতিহাসিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগও প্রদান করতে যাচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে নতুন নভোচারী দলের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে সংস্থাটি। নির্বাচিত নভোচারীরা নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

শনিবার কেনেডি স্পেস সেন্টারে আয়োজিত একটি এয়ার শোতে নতুন নভোচারী নিয়োগের ঘোষণা দেয় নাসা। এই আয়োজনের মাধ্যমে চন্দ্র অভিযান, বিমান চলাচল এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

নাসা জানিয়েছে, আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ নভোচারী নির্বাচনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে ২০২৮ সালের শুরুর দিকে। একই বছর, ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর নভোচারীদের আবারো চাঁদের মাটিতে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে নাসার।

এর আগে ২০২৪ সালে নতুন নভোচারী নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করেছিল নাসা। সেবার ৮ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র ১০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।

বর্তমানে নাসার সক্রিয় নভোচারীর সংখ্যা মাত্র ৩২ জন। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে মহাকাশে মানুষের উপস্থিতি দ্রুত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থাকায় আরো নভোচারী প্রয়োজন সংস্থাটির। আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে নাসা।

আর্টেমিস কর্মসূচির তৃতীয় অভিযানের কমান্ডার র‌্যান্ডি ব্রেসনিক বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, "আমাদের নভোচারীর সংখ্যার তুলনায় কাজের পরিমাণ অনেক বেশি।" সম্ভাব্য আবেদনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।" তাই আগ্রহীদের আবেদন করতে দেরি না করার আহ্বান জানান তিনি।

নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের গ্রীষ্মে ব্রেসনিক ও তার তিন সহকর্মী মহাকাশে যাবেন। তাদের অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য হবে পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করে নভোযানের সঙ্গে দুটি চন্দ্রযানের সংযোগ স্থাপনের মহড়া দেওয়া। এর মধ্যে একটি চন্দ্রযান তৈরি করছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং অন্যটি জেফ বেজোসের প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিন।

এই অভিযানটি মূলত পরবর্তী আর্টেমিস-৪ মিশনের প্রস্তুতি হিসেবে পরিচালিত হবে। আর্টেমিস-৪ অভিযানে দুই নভোচারীকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি এলাকায় অবতরণের চেষ্টা করার কথা রয়েছে।

চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে সেখানে রোভার, রোবট, বিভিন্ন অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা পাঠানো হবে। এসবের মাধ্যমে ভবিষ্যতে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানববসতি গড়ে তোলার পথ তৈরি করতে চায় নাসা।

তবে নভোচারী হওয়ার প্রক্রিয়া মোটেও সহজ নয়। আর্টেমিস-৩ মিশনের আরেক নভোচারী ফ্রাঙ্ক রুবিও এ বিষয়ে ধৈর্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি মহাকাশে টানা ৩৭১ দিন অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটানা মহাকাশে থাকার রেকর্ড গড়েছেন।

নাসার নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি এবং পেশাগত কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নির্বাচিত প্রার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক দুই বছরের প্রশিক্ষণও বেশ কঠিন হবে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরও মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ পেতে কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।

রুবিও বলেন, "আবেদনকারীদের বুঝতে হবে, নভোচারী হিসেবে তাদের কাজের বেশির ভাগ সময় চাঁদে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং চাঁদে মানুষ পাঠানোর বৃহত্তর লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হবে।" তার ভাষায়, "নভোচারী হিসেবে পুরো অভিজ্ঞতার মাত্র ১ শতাংশ সময় হয়তো চাঁদে যাওয়ার কাজে ব্যয় হবে।"

উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে নাসার প্রথম নভোচারী দল ‘মার্কারি সেভেন’ গঠনের পর এটি হতে যাচ্ছে সংস্থাটির ২৫তম নভোচারী দল। নতুন এই নিয়োগের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আরো গতি আনতে চায় নাসা।

সূত্র: এপি

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%