শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৫ পি.এম
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘আরামকো’র বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এই হামলার ঘোষণা আসার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার অতিক্রম করেছে। ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহ নিয়ে টানাটানি চলছিল, এবং এই হামলার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
হুথিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং লোহিত সাগরের তীরের ইয়ানবু শহরের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি সামরিক জোট জানিয়েছে, তারা মাঝপথেই হুথিদের ছোঁড়া ছয়টি ব্যালিশটিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে। এই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে সৌদি সরকার বা তেল কোম্পানি আরামকো এখনও কোনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে তেলের মোট চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ একা আরামকোই সরবরাহ করে থাকে।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় তিন শতাংশের বেশি বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০৮ ডলারে পৌঁছালেও পরে তা সামান্য কমে ১০৫ থেকে ১০৬ ডলারের মধ্যে স্থির হয়।
বাজার বিশ্লেষকরা স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম কমার সম্ভাবনা নেই। কারণ, যুদ্ধের কারণে চাহিদার তুলনায় বাজারে তেলের ঘাটতি ক্রমশ বাড়ছে। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার কিছু চেষ্টা চললেও তেলের বাজার নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ এখনই কাটছে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বন্ধুদের মাঝে বসে আছেন, আশেপাশের সবাই মিলে গল্প করছে এবং আড্ডা দিচ্ছে। তবুও মনে হচ্ছে যে আপনি একা। কখনো কি এমন অনুভূতি আপনার হয়েছে? বিজ্ঞানের পরিভাষায়, এমন অবস্থাকে বলা হয় সাবজেক্টিভ লনলিনেস বা আত্মগত একাকিত্ব।
মনোবিজ্ঞানী রবার্ট এস ভাইসের মতে, মানুষের একাকিত্বের দুটি প্রধান ধরন রয়েছে। প্রথমটি হলো Social Loneliness, যা আশেপাশে মানুষের অভাব নির্দেশ করে, এবং অপরটি হলো Emotional Loneliness, যা ভালোবাসার মানুষের অভাব বোঝায়। যখন কেউ মানুষের ভিড়ে বা বন্ধুদের মাঝে থেকেও নিজের আবেগ প্রকাশ করতে পারে না বা অপরপক্ষের কাছ থেকে পারস্পরিক বোঝাপড়া পায় না, তখন তার মধ্যে Emotional Loneliness তৈরি হয়।
মূলত, যখন আমরা আশেপাশের মানুষের সঙ্গে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারি এবং চলতে পারি, তখন আমাদের শরীরে অক্সিটোসিন নামক 'বন্ডিং হরমোন' নিঃসৃত হওয়ার উদ্দীপনা তৈরি হয়। কিন্তু যদি সেই পরিবেশে মানিয়ে নিতে না পারি, বা সামাজিক প্রত্যাখ্যান, উপেক্ষা বা অস্বস্তির সম্মুখীন হই, তাহলে দেহে স্ট্রেস বৃদ্ধিজনিত কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে ভিড়ের মাঝেও একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
সাবজেক্টিভ লনলিনেসের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে আশেপাশের মানুষের আচরণ। ধরুন, আপনি বন্ধুদের সঙ্গে বাসে কোথাও ঘুরতে গিয়েছেন। দেখা গেল, তারা সবাই পাশাপাশি সিটে বসেছে, আর সিট না থাকায় আপনাকে বারবার একা অন্য একটি সিটে বসতে হচ্ছে। অথবা তারা হাঁটতে হাঁটতে নিজেদের মধ্যে গল্প করছে, আর আপনি নীরবে তাদের পেছনে হাঁটছেন। আপনি যখন কথা বলছেন, কিন্তু কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না; বারবার কথার মাঝেই থামিয়ে দিচ্ছে। আবার বন্ধুদের মাঝে হাসি-ঠাট্টা স্বাভাবিক হলেও যদি সবসময় আপনাকেই লক্ষ্য করে মজা করা হয়, তাহলে এসব অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে আত্মগত একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
এ অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে প্রথমত প্রয়োজন সোশ্যাল মাস্কিং কমানো—অর্থাৎ অন্যদের খুশি করতে গিয়ে নিজের প্রকৃত অনুভূতি সবসময় লুকিয়ে না রাখা। আশেপাশের বন্ধুদের মধ্যে পরিবর্তন আনা জরুরি। এমন বন্ধুদের সঙ্গেই চলা উচিত যারা আপনার মতামতকে গুরুত্ব দেবে এবং আপনাকে মূল্যায়ন করবে। তবে প্রত্যাশা করা উচিত নয় যে সবাই আপনাকে সবসময় সমানভাবে গুরুত্ব দেবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের সঙ্গে একা সময় কাটানোকে শাস্তি নয়, বরং উপভোগ করার অভ্যাস তৈরি করা।
লেখক: আতিক মাহবুব তানজিম
শিক্ষার্থী,রসায়ন বিভাগ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্প্যানিশ এনক্লেভ সেউতায় (Ceuta), যা উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত, সেখানে মানবিক সংকট একটি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মরক্কো সীমান্ত অতিক্রম করে ইউরোপে প্রবেশের আশায় আসা হাজার হাজার অভিবাসী বর্তমানে সেখানে চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
গত জুলাইয়ের শেষের দিকে, মরক্কো থেকে প্রায় ৭০ হাজার অভিবাসী সমুদ্র সাঁতরে ও সীমান্ত পার হয়ে সেউতায় প্রবেশ করেন। এর মধ্যে এখনও প্রায় ৬,০০০ থেকে ১৩,০০০ অভিবাসী আটকা পড়ে আছেন। সরকার প্রায় ৫,০০০ নারী ও শিশুকে অস্থায়ী আশ্রয় দিলেও, বাকি হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অনেক অভিবাসী গাছের ডালপালা ও কাঠের টুকরো দিয়ে তৈরি অস্থায়ী তাবুতে বসবাস করছেন। সেখানে পর্যাপ্ত সুপেয় পানি, খাবার এবং চিকিৎসার মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। দিনের পর দিন ত্রাণ কেন্দ্রগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের খাবারের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সংকটের পাশাপাশি নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে। হিউম্যানিটেরিয়ান সংস্থা ‘মিশন লাইফলাইন ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রতিনিধি নোলে বাউয়ের মতে, সেখানে স্বাস্থ্যসেবার অভাব রয়েছে এবং রাতে সহিংসতার ঝুঁকি বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার কাছে কয়েকজন অভিবাসী অভিযোগ করেছেন যে, ইউনিফর্ম পরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের মারধর করেছে। ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট আনিস ফাদি জানান, "আমরা অপরাধী নই, আমরা শুধু কাজের সুযোগ চাই।"
স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা মানবাধিকার বজায় রেখে কাজ করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাময়িক আবাসন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করছে। যেসব অভিবাসীর আশ্রয় বা আইনি বৈধতা পাওয়ার সুযোগ নেই, তাদের মরক্কোয় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা করছে স্পেন সরকার।
এদিকে, স্থানীয় জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় সেউতার স্থানীয় প্রশাসন ও স্প্যানিশ সরকার চরম চাপের সম্মুখীন হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি সহায়তার দাবি জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে একটি মিছিল বের করে ২০-২৫ জন। বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল আলমের বাড়ির দিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে, পাশাপাশি তার বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খুলনা সদর থানার টুটপাড়া মওলা বাড়ির সামনে ইসলামীয়া রোডে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে মিছিলে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী কি না, সে বিষয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা নিশ্চিত হতে পারেনি।
মঞ্জুরুল আলম ২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
মঞ্জুরুল আলম জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। বাইরে থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শোনার পর তিনি ঘর থেকে বের হয়ে মিছিলটি দেখার জন্য যান। তখন মিছিলের একজন তাকে সরে যেতে বলেন। পরবর্তীতে, যখন তিনি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন, তখন মিছিল থেকে তার বাড়ির দিকে গুলি ছোড়া হয়।
তিনি আরও বলেন, মিছিলকারীরা তার বাড়ির সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে এবং বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। তবে, এই ঘটনায় তিনি শারীরিকভাবে আহত হননি।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বিশেষ ‘৭ দিনের পরিকল্পনা’ বা রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছে ইরান। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় কাতারের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে এই পরিকল্পনাটি ওয়াশিংটনের কাছে উপস্থাপন করা হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি নির্দিষ্ট শর্তসমূহ মেনে চলে, তাহলে মাত্র সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে স্থগিত থাকা শান্তি আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।
ইরানের প্রস্তাব ও শর্তাবলী:
তবে তেহরানের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ রোডম্যাপের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এটি গত ১৭ জুনের স্মারকলিপির (MoU) ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। ওই সমঝোতায় সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরান তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরান কোন অবস্থাতেই মার্কিনদের হাতে ছেড়ে দিতে রাজি নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও ট্রাম্পের ওপর চাপ:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সংকটের সপ্তম মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে (Midterm Elections) সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরান এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে। কিন্তু ওয়াশিংটন পরমাণু চুক্তি ও হরমুজ সংকটকে পৃথকভাবে না দেখে একটি সামগ্রিক প্যাকেজ হিসেবে সমাধান করতে আগ্রহী। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশেষ প্রতিনিধিরা আলোচনাকে ইতিবাচক বললেও, তারা কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির কথা অস্বীকার করেছেন।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব:
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছে। যদি এই ৭ দিনের প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম স্বাভাবিক হতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতি একটি বড় ধরনের স্বস্তি পেতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ