ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
মিডল ইস্ট আইয়ের বিশ্লেষণ

পশ্চিমা বিশ্ব গাজা উপত্যকার গণহত্যা আর কতকাল উপেক্ষা করবে?


পশ্চিমা বিশ্ব গাজা উপত্যকার গণহত্যা আর কতকাল উপেক্ষা করবে?

গাজা উপত্যকায় ইসরাইল কর্তৃক পদ্ধতিগতভাবে গণহত্যা চালানোর বিষয়টি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একের পর এক স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলেও, পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো এখনও এই নির্মম সত্যকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

অতি সম্প্রতি, গত ২৩ জুনে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংক্রান্ত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের একটি নতুন প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি জনগণের—বিশেষ করে শিশুদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ অপরাধের বিশদ বিবরণ নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এর আগেও ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া এই সংকটের পর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবরে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো গাজায় গণহত্যার অকাট্য প্রমাণ হাজির করেছিল। কিন্তু বিগত দুই বছর ধরে, বিশ্বজুড়ে মানুষের মোবাইল স্ক্রিনে ২৪ ঘণ্টা ধরে লাইভ সম্প্রচারিত হওয়া ধ্বংসযজ্ঞ, জাতিগত নিধন ও চরম অনাহারের চিত্র দেখার পরও পশ্চিমা নীতিনির্ধারকেরা এই বাস্তবতার দিকে চোখ বন্ধ করে রেখেছেন।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

বিশ্বের সবচেয়ে প্রখ্যাত মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মূল্যায়ন এবং খোদ ইসরাইলি কর্মকর্তাদের নিজস্ব বক্তব্যের মাধ্যমে যেখানে এই গণহত্যার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যায়, সেখানে ইউরোপ ও পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো একটি কঠোর ও একঘেয়ে অবস্থান বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত এই বিশেষ প্রতিবেদনগুলোর ওপর পশ্চিমা কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রায় অনুপস্থিত বললেই চলে, যা অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়। রাজনৈতিক, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ক্ষেত্রে গণহত্যা শব্দটি ব্যবহার করা যেন এক অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বা ট্যাবুতে পরিণত হয়েছে। এই দ্বিচারিতা বিশ্ববাসীর মনে এই সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে যে, গণহত্যার স্বীকৃতি এখন নির্ভর করছে অপরাধীর পরিচয় এবং ভুক্তভোগীদের মর্যাদার ওপর।

পশ্চিমাদের এই পক্ষপাতমূলক আচরণের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো তাদের বহুল ব্যবহৃত কূটনৈতিক বাক্য—ইসরাইলের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এই শব্দবন্ধটিকে ইসরাইলি নেতৃত্ব মাঠপর্যায়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা ও সামগ্রিক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আগাম বৈধতা হিসেবে ব্যবহার করছে। অথচ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী ফিলিস্তিনিদের আত্মরক্ষা কিংবা তাদের ভূমিতে চেপে বসা সামরিক দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অধিকারের বিষয়টি এখানে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

যারা চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই গণহত্যাকে অস্বীকার বা আড়াল করছেন, তারা প্রকারান্তরে অপরাধীদের আরও বড় যুদ্ধাপরাধ করতে উৎসাহিত করছেন। স্পেন বাদে আর হাতেগোনা কয়েকজন পশ্চিমা নেতা ছাড়া কেউই ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ডকে প্রকাশ্যে যুদ্ধাপরাধ বা গণহত্যা বলে আখ্যা দেওয়ার সাহস দেখাননি। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো যেখানে ইউক্রেন ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও দ্বিচারিতাপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে, তা বিশ্বমঞ্চে তাদের নৈতিক দেউলিয়াত্বকেই প্রকাশ করে। ফিলিস্তিনিদের জীবন, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদাকে পশ্চিমাদের এই অবস্থান অন্য সবার চেয়ে নিচু স্তরে নামিয়ে দিয়েছে।

এমনকি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরও, পশ্চিমা সমালোচনা কেবল ইসরাইলি সরকারের কট্টরপন্থী দুই মন্ত্রী—ইটামার বেন গাভির এবং বেজালেল স্মোট্রিচ এবং কতিপয় অবৈধ বসতি স্থাপনকারী উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। মূল হোতা হিসেবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এবং তাদের মূল রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সব ধরনের জবাবদিহিতা থেকে সুকৌশলে দূরে রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

পরিকল্পিত এই গণহত্যাকে তারা কেবল একটি মানবিক সংকট বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। তাছাড়া, দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃক আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) দায়ের করা জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘনের মামলাকে সমর্থন করার পরিবর্তে, আন্তর্জাতিক আদালতের প্রসিকিউটর ও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের ওপর নানাভাবে চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের রাজনীতি চলছে।

পশ্চিমা বিশ্বের এই ক্রমাগত অস্বীকৃতি ও সহযোগিতা কেবল আন্তর্জাতিক আইনকেই ক্ষুণ্ন করছে না, বরং বৈশ্বিক বিচার ব্যবস্থার ভিত্তিকেও এক চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘মাঠে আমাকে ইচ্ছেমতো লাথি মেরেছে, এখন ছবি তুলতে চায়’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ এম


‘মাঠে আমাকে ইচ্ছেমতো লাথি মেরেছে, এখন ছবি তুলতে চায়’

 

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ছোট দেশ কেপ ভার্ডে।

মাঠের লড়াইয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের রীতিমতো ঘাম ছুটিয়ে ছেড়েছিল তারা।

তবে শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে কষ্টার্জিত জয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে।

শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর মিক্সড জোনে এক মজার কাণ্ড ঘটে, যা এখন ফুটবল দুনিয়ায় বেশ আলোচনায়।

ম্যাচ শেষ হতেই কেপ ভার্দের ফুটবলাররা মাঠের বৈরিতা ভুলে মেতে ওঠেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে ছবি তোলা এবং তার জার্সি নেওয়ার আবদারে।

মেসিও বেশ হাসিমুখে তাদের সেই আবদার পূরণ করেন।

তবে পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বেশ রসিকতার ছলে মেসি বলেন, ‘ওরা আমার জার্সি থেকে শুরু করে সবকিছুই চেয়েছে। অথচ মাঠের ভেতর আমাকে ইচ্ছেমতো লাথি মেরেছে।’

পুরো ম্যাচজুড়ে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডাররা মেসিকে কড়া পাহারায় রেখেছিলেন এবং অন্তত পাঁচবার তাকে ফাউল করা হয়।

ম্যাচের ২৯ মিনিটে গোল করে আর্জेंटিনাকে প্রথমে এগিয়ে নিয়েছিলেন মেসি নিজেই।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা আট ম্যাচে গোল করার অনন্য এক রেকর্ড গড়েন তিনি।

তবে জয়ের পরেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি এই আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা।

তিনি জানান, গোল পাওয়ার পর তারা ভেবেছিলেন ম্যাচটি সহজ হয়ে যাবে এবং তারা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে পাবেন।

কিন্তু বাস্তবে উল্টোটা ঘটেছে। আর্জেন্টিনা বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং কেপ ভার্দে তাদের শক্তির জায়গাগুলো ব্যবহার করে ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়।

মেসি আরও উল্লেখ করেন, স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে না হারা কেপ ভার্দে যে কঠিন প্রতিরোধ গড়বে, তা তাদের জানাই ছিল।

নকআউট পর্বের এই টুর্নামেন্টে কেউ কাউকে সহজে ছেড়ে দেবে না।

তাহলে কেবল পরের রাউন্ডে পা রাখাই শেষ কথা নয়, কোয়ার্টার ফাইনালের আগে দলকে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিতে হবে।

মাঠের ভুলত্রুটিগুলো দ্রুত সংশোধন করে সামনের কঠিন ম্যাচগুলোর জন্য ফুটবলারদের বিশ্রামের পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ইউএন-কপস’ সম্মেলনে অংশ নিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ এম


নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ইউএন-কপস’ সম্মেলনে অংশ নিতে

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চম জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলন ‘ইউএন-কপস’ এ অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এই সফরের সময়ে মন্ত্রী আগামী ৮ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ হলে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইউএন-কপস’ সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বসহ বিভিন্ন প্লেনারি সেশনে অংশ নেবেন।

এবারের সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেগুলি হচ্ছে, ‘জাতিসংঘ পুলিশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা’, 'জাতিসংঘ পুলিশিংয়ে উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তি', এবং ‘আন্তঃদেশীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি’।

সম্মেলনের সাইডলাইন ইভেন্ট হিসেবে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের নৈশভোজেও তিনি অংশগ্রহণ করবেন।

নিউইয়র্কে অবস্থানকালে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতিসংঘের অপারেশনাল সাপোর্ট বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে, পিস অপারেশনস বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া, এবং পলিটিক্যাল ও পিস বিল্ডিং বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রোজমেরি এ. ডিকার্লোর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

এছাড়াও, তিনি বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।

এসব বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান, বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, দুই দিনব্যাপী (৭-৮ জুলাই, ২০২৬) অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে মন্ত্রী ৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সম্মেলনে অংশ নিতে মন্ত্রী আজ (৫ জুলাই) রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন।

আগামী ১২ জুলাই তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদাবাজদের হামলায় পুলিশের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বুলবুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৩ এম


চাঁদাবাজদের হামলায় পুলিশের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বুলবুল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি রাজধানীর গুলিস্তানে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মিছিলে হামলার ঘটনার পর পুলিশের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, চাঁদাবাজদের সন্ত্রাসী হামলার পরও পুলিশের কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া ‘সন্দেহজনক’ বলে মনে হচ্ছে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামলায় আহত ব্যবসায়ীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বুলবুল বলেন, বিকাল ৫টার দিকে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করার পরও এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন যে, পুলিশের ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে তারা জনগণের জন্য নয়, বরং সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের জন্য কাজ করছে।

বুলবুল আরও বলেছেন, ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার সাথে কারা জড়িত এবং কোন দলের লোকেরা এতে সম্পৃক্ত পুলিশ তা জানে। তবে এরপরও তাদের গ্রেফতারে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অবিলম্বে হামলায় জড়িত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতার না করা হলে ব্যবসায়ী সমাজ পুলিশের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে পারে।

এই নেতা বলেছেন, খুনি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা দেশ ও জাতির শত্রু, তাদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। যারা এমন অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তারাও দেশ ও জাতির শত্রু। বুলবুল বলেছেন, জুলাইয়ের চেতনায় ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং খুনি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে তারা আবারও রাজপথে নামতে পারে। তাই সরকারের উচিত নিজের স্বার্থে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কঠোরভাবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বুলবুল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এসময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, শাহবাগ পশ্চিম থানা আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক, শাহবাগ পূর্ব থানা আমির আহসান হাবিব, রমনা থানা আমির আতিকুর রহমানসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি আসতে পারে চলতি সপ্তাহে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ এম


কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি আসতে পারে চলতি সপ্তাহে

 

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়কে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঢাকা জেলা ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পৃথকভাবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একইসঙ্গে কয়েকটি সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড।

দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকগুলোতে সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চান তিনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা নিজ নিজ ইউনিটের সাংগঠনিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং দলকে আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান এসব প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

বৈঠকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি আবু আশফাক এবং সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী অংশ নেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান সবার খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং নেতারা নিয়মিত পার্টি অফিসে যাচ্ছেন কিনা, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছেন।

সূত্র জানায়, এদিন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সঙ্গেও এই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে উত্তর বিএনপির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে।

 

একই দিনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও একটি পৃথক বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে সংগঠনের সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করার লক্ষ্যে বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক রহমান। বৈঠকে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। আগামী几个 দিনের মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে জোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা রাতে যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান বৈঠককালে সংগঠনের বর্তমান অবস্থা সম্পকে বিস্তারিত জানতে চান। পরে তিনি বর্তমান কমিটির নেতাদের বিদায় দেন। আশা করছি, শিগগিরিই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।

দলীয় সূত্র আরও জানা যায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ছাত্রদলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৈঠক করার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে সাংগঠনিক নির্দেশনার পাশাপাশি নতুন কমিটিও আসতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%