মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৮ পি.এম
মঙ্গলবার ২২/০৯/২০২৬ তারিখে বাকেরগঞ্জ পৌরসভার বাজার এলাকায় জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী ও সরকারি/জনসাধারণের ব্যবহারের স্থান দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব অভ্রজ্যোতি বড়াল। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম।
সরকারি কমিশনার ভূমি জনাব অভ্রজ্যোতি বড়াল বলেন।
উচ্ছেদকৃত স্থানসমূহ জনসাধারণের চলাচল ও স্বাভাবিক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। উচ্ছেদকৃত স্থানে পুনরায় কোনো দোকান, স্থাপনা বা অস্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হলো। পুনরায় অবৈধভাবে দখল বা স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুশৃঙ্খল, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব পৌর বাজার গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২১ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। এই পরিমাণ দেশের মুদ্রায় ২৫ হাজার ৩৭৪ কোটি ৯০ হাজার টাকা, যা প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে হিসাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরিফ হোসেন জানান, সোমবার প্রবাসী আয় হিসেবে ৮৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা দেশে এসেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২১ দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২০৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। এই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এক দশমিক ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমান অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, এ পর্যন্ত দেশে ৭৮৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৬৯৩ কোটি ডলার। ফলে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি কঠোর বার্তা প্রদান করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ হামলার ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক গভীর অনাস্থা, ইরানি জনগণের ক্ষোভ ও ক্ষতি এবং বিশ্বমঞ্চে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইরানের দৃঢ় অবস্থান তিনি জাতিসংঘে তুলে ধরবেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, এই অধিবেশনে তিনি ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতা এবং বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত অপরাধের চিত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে উন্মোচন করবেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সামরিক হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বৈশ্বিক কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক বিশ্বাসের ওপর একটি বড় আঘাত হেনেছে।
তেহরান ত্যাগের আগে দেওয়া বক্তব্যে মাসুদ পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেন, "যতই অন্যায় ও অবিচার করা হোক না কেন, ইরানি জনগণ কোনো অবস্থাতেই নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হটবে না। আন্তর্জাতিক ফোরামে আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব পূর্ণ শক্তিতে রক্ষা করব।"
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যে নিউ ইয়র্কে পৌঁছাতে যাচ্ছেন ইরানি রাষ্ট্রপ্রধান। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এবারের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ইরানের প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের তীব্র প্রতিবাদ জানানো ছাড়াও বৈশ্বিক অনাস্থার সংকট নিয়ে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জমকালো আয়োজন গুজরাটের কেভাদিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্ট্যাচু অব ইউনিটির নিকট আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মূল আয়োজন এবার রাজধানী দিল্লির বাইরে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙেছে। ১৮ জুলাই ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এবারের পুরস্কারে বলিউডের পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার চলচ্চিত্রগুলোও গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছে।
সেরা অভিনেতার পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছেন কার্তিক আরিয়ান এবং মামুট্টি। ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য কার্তিক আরিয়ান এবং ‘ব্রহ্মযুগম’-এর জন্য মামুট্টি এই সম্মান অর্জন করেছেন। অন্যদিকে, ‘আর্টিকেল ৩৭০’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন ইয়ামি গৌতম। উল্লেখ্য, একই সিনেমা সেরা ফিচার চলচ্চিত্রের পুরস্কারও জিতে নিয়েছে।
আঞ্চলিক ভাষার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে এবারের পুরস্কারে বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা গেছে। সেরা বাংলা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে ‘চালচিত্র এখন’। সেরা হিন্দি চলচ্চিত্র হয়েছে ‘শ্রীকান্ত’। এছাড়া সেরা তামিল চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে ‘রায়ান’, সেরা অসমিয়া চলচ্চিত্র ‘জুইফুল’, সেরা তেলুগু চলচ্চিত্র ‘কমেটি কুর্রোল্লু’, সেরা মালয়ালম চলচ্চিত্র ‘ফেমিনিচি ফাতিমা’ এবং সেরা কন্নড় চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে ‘মিথিয়া’।
এবারের আয়োজনে একাধিক পুরস্কার পেয়েছে বেশ কিছু সিনেমা। ‘আর্টিকেল ৩৭০’ ও ‘অমরন’ তিনটি করে পুরস্কার জিতেছে। অন্যদিকে, ‘পুষ্পা ২’, ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’, ‘মহারাজা’, ‘ক্যাপ্টেন মিলার’, ‘ব্রহ্মযুগম’, ‘মিথিয়া’ ও ‘কমেটি কুর্রোল্লু’ পেয়েছে দুটি করে পুরস্কার।
‘অমরন’ সিনেমার জন্য সেরা পরিচালক হয়েছেন রাজকুমার পেরিয়াসামি। ‘পুষ্পা ২’-এর জন্য সেরা চিত্রনাট্যকারের পুরস্কার পেয়েছেন সুকুমার। ‘ব্রহ্মযুগম’-এর জন্য সেরা চিত্রগ্রহণের পুরস্কার পেয়েছেন শাহনাদ জালাল। অন্যদিকে, ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ সেরা শিল্প নির্দেশনার সম্মান অর্জন করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাধারণ এক রক্ষণশীল পরিবারের সন্তান থেকে আধুনিক তুরস্কের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতায় পরিণত হওয়া—রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের পথচলা যেন এক নাটকীয় ইতিহাস।
চড়াই-উতরাই ও নানা বাধার প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে তিনি কীভাবে আজকের ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছালেন, তা জানা যাবে এই প্রতিবেদনে —
সংগ্রামী শৈশব থেকে রাজনীতিতে পদার্পণ
ইস্তাম্বুলের কাসিমপাসা এলাকায় এক দরিদ্র পরিবারে এরদোগানের বেড়ে ওঠা। ছাত্রজীবনে সংসার চালাতে রাস্তায় রুটি ও লেবুর শরবত বিক্রির পাশাপাশি নিয়মিত ফুটবলও খেলতেন। এর মাঝেই ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ১৯৭০-এর দশকে তরুণ বয়সে ইসলামপন্থী রাজনীতির যুব শাখায় যোগ দিয়ে তিনি রাজনীতিতে নিজের শক্ত উপস্থিতি জাহির করেন।
ইস্তাম্বুলের সফল মেয়র ও প্রথম চমক
১৯৯৪ সালে ওয়েলফেয়ার পার্টির ব্যানারে ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি সবাইকে চমকে দেন। মেয়র হিসেবে ইস্তাম্বুলের তীব্র পানি সংকট দূর করা, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে আস্থার জায়গা তৈরি করে নেন।
বিতর্কিত কবিতা, কারাবরণ ও রাজনৈতিক মোড়
১৯৯৭ সালে এক জনসভায় একটি রাজনৈতিক ধর্মীয় কবিতা আবৃত্তি করায় তুর্কি প্রশাসনের তোপের মুখে পড়েন তিনি। ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে ১৯৯৮ সালে মেয়রের পদ হারানোর পাশাপাশি চার মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। তবে এই কারাভোগ তাকে দমানোর বদলে সাধারণ মানুষের চোখে এক আপসহীন নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
একে পার্টি গঠন ও ২০০২ সালের ঐতিহাসিক জয়
জেল থেকে বেরিয়ে কট্টর ইসলামপন্থী ধারা থেকে সরে এসে ২০০১ সালে তুলনামূলক মধ্যপন্থী ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ গঠন করেন এরদোগান। ২০০২ সালের নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন পেয়ে তার দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং ২০০৩ সালে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম দশকে তিনি তুরস্কের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ান এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে আমূল পরিবর্তন আনেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি দেশটির প্রথম সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন এবং সংবিধান পরিবর্তন করে সব ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেন।
সূত্র: ব্রিটানিকা, বিবিসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ