মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার
১০:২৩ পি.এম
টাঙ্গাইল পুলিশের তীব্র বাধা ও কড়া নিরাপত্তা উপেক্ষা করে টাঙ্গাইলে ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে।
আজ টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবালের নেতৃত্বে এই দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশগ্রহণ করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দিবসটি উপলক্ষে সকালে নেতাকর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হতে শুরু করলে পুলিশ তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।
তবে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই এডভোকেট ফরহাদ ইকবালের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে আসেন এবং দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে স্লোগান দেন।
কর্মসূচি শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, "ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় দিন। আজকের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল।
কোনো বাধা বা দমন-পীড়ন চালিয়ে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অধিকারকে স্তব্ধ করা যাবে না।
টাঙ্গাইলের বিএনপি'র রাজনীতি রাজপথে থেকে লড়ে এসেছি এখনো লড়ে যাব কোন শক্তি দামে রাখতে পারবে না
তিনি আরো বলেন টাঙ্গাইলের তিন পরিবারের রাজনীতি আর কখনো করতে দেওয়া হবে না
পূর্বেও রাজপথে ছিলাম এবং রাজপথেই থাকবো টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগের দোসরা রাজনীতি করতে পারবেনা।
যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে নেতাকর্মীদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচিটি সম্পন্ন হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁ জেলা মহাদেবপুর থানার অভিযানে থানা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে জিআর ওয়ারেন্ট মূলে ০৭ জন আসামি, ৫০ লিটার চোলাইমদ তৈরির উপকরনসহ ০৪ জন মাদক ব্যাবসায়ীকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলায়, মাদক সেবনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ০৪ জনসহ মোট ১৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার পূর্বক পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে আজ কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ‘শ্মশান দীপাবলি’ উৎসব বরিশালে শুরু হয়েছে।
প্রতিবছর কালী পূজার আগের দিন সন্ধ্যায় এই উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এদিন হাজারো মোমবাতি জ্বালিয়ে পূর্ব পুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। এই আয়োজনের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বরিশাল নগরীর মহাশ্মশান হাজারো মোমবাতির আলোয় জ্বলজ্বল করছে। পরোলকগত আত্মার শান্তি কামনায় আলো জ্বালিয়ে স্বজনদের জন্য এটি এক বিশেষ প্রার্থনা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের প্রয়াত স্বজনদের স্মরণে মোমবাতি, ধূপকাঠি ও প্রদীপ প্রজ্বলন করেন।
সন্ধ্যার আগেই স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শ্মশানে আসেন। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে দীপাবলি উৎসবের সূচনা হয়। প্রয়াত স্বজনদের সমাধি সাজানো হয় পছন্দের খাবারসহ নানা উপাচারে। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা চলে।
গোবিন্দ নামের একজন স্মরণ করতে আসা ব্যক্তি বলেন, "এটি শত বছরের পুরনো একটি ঐতিহ্য। যারা পরলোকগমন করেছেন তাদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করি।"
প্রতিবছর এখানে দীপাবলির আয়োজন করা হয়। স্বজনরা এসে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও আমরা সন্তুষ্ট।
বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমজর মুরালী বাসসকে জানান, বরিশাল পৌরসভা ১৮৭৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শ্মশানের প্রাতিষ্ঠানিকতা রূপ লাভ করে।
বরিশাল নগরীর কাউনিয়ায় প্রায় ২০০ বছর আগে ৫ একর ৯৬ শতাংশ জমির ওপর এই মহাশ্মশান প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন ও পুরনো মিলিয়ে এখানে ৬১ হাজারেরও বেশি সমাধি রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজারের অধিক পাকা এবং ১০ হাজার কাঁচা মঠ রয়েছে। এছাড়া ৯০০ মঠ রয়েছে যাদের স্বজনরা এই দেশে নেই, সেসব মঠ হলুদ রং করা হয়েছে। স্বজন না থাকা মঠগুলোতে কমিটির পক্ষ থেকে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়ে থাকে।
ভূত চতুর্দশীর পুন্যতিথীতে প্রতিবছর কালীপূজার আগের দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের প্রয়াত স্বজনদের সমাধিতে দীপ জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রিয়জনের স্মৃতির উদ্দেশে জ্বালানো মোম বা প্রদীপের আলোয় পুরো শশ্মান আলোকিত হয়ে ওঠে। বরিশালে আয়োজিত শ্মশান দীপাবলি উপমহাদেশের সর্বপ্রথম ও সর্ব বৃহৎ উৎসব।
প্রতিবছর পূর্ব পুরুষের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে শ্মশান দীপাবলির সময় দেশের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও ভারত-নেপাল থেকে শত শত মানুষ এখানে আসেন। এসময় হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে শ্মশান দীপাবলি উদ্ভাসিত হয়।
এদিকে শ্মশান দীপাবলিকে কেন্দ্র করে কাউনিয়া এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে আরবি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভাষা দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ সম্প্রসারণে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও জর্ডানের মিডল ইস্ট ইউনিভার্সিটির সাবেক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবদেলরাউফ জুহদি হুসাইন মুস্তফা।
আজ শনিবার ঢাবি উপাচার্যের কার্যালয়ে তাদের মধ্যে এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
অধ্যাপক ড. আবদেলরাউফ জুহদি হুসাইন মুস্তফা ‘আত-তানাল আল-আরাবি’ নামের আরবি ভাষা দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। সাক্ষাৎকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এ পরীক্ষার আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আরবি ভাষাকে কার্যকর দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং আরবি ভাষার শিক্ষকদের একাডেমিক ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে তিনি অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারীদের আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দক্ষতা সনদ প্রদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ, আরবি পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন কাঠামো প্রণয়ন, পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং মক টেস্ট ও আনুষ্ঠানিক দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার আয়োজনের কথা তুলে ধরেন। ভবিষ্যতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদিত ‘আত-তানাল’ পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।
অধ্যাপক মুস্তফা জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরবি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গতকাল (৬ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আত-তানাল আল-আরাবি ইউনিভার্সিটি এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম’ শুরু হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম আরবি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ‘আত-তানাল আল-আরাবি’র সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভালো বেতনে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরবি ভাষা দক্ষতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রাম পৌর টাউন হলের কেয়ারটেকার মনসুর আলী (৬০) হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত কাঁচি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, ছুরি নয়, কাঁচি দিয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছিল।
শনিবার (৭ নভেম্বর) টাউন হল চত্বরে ওই কাঁচি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাতে মনসুর আলী নিহত হন। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্ত্রী মল্লিকা বেগম (৫৫)।
ঘটনার পর স্থানীয়রা শাহনেওয়াজ ওরফে সানি (৩২) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন আরটিভিকে জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার টাউন হল মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা চলছিল। এ সময় সানি টাউন হল চত্বরে ঢুকে মাদক সেবনের চেষ্টা করলে কেয়ারটেকার মনসুর আলী তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সানি সেখান থেকে চলে যান। আলোচনা সভা শেষে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা চলে গেলে, দুপুরের খাবার নিয়ে মল্লিকা বেগম স্বামীর কাছে টাউন হল চত্বরে যান। এ সময় সানি ফিরে এসে ফার্মেসিতে ব্যবহৃত ওষুধ কাটার কাঁচি দিয়ে মনসুর আলী ও তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।
তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে দুজনকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনসুর আলীর মৃত্যু হয়। আহত মল্লিকা বেগম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন, সানি মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত এবং ওই বাধার জেরেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছেন। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো বিরোধ বা কারণ ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার পর স্থানীয়রা সানিকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত ওষুধ কাটার কাঁচি উদ্ধার করেছে।
নিহত মনসুর আলী কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ছয় আনিপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। আটক সানি একই পৌর এলাকার সরদারপাড়ার বাসিন্দা।
ওসি কামাল হোসেন রাতে আরটিভিকে বলেন, ‘টাউন হলে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই যুবক ফার্মেসি থেকে কাঁচি এনে তাদের ওপর অনবরত আঘাত করেন। এতে তারা আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনসুর আলী মারা যান। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত কাঁচি উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ