ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে জর্ডানের সাবেক প্রো-ভিসির সাক্ষাৎ


ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে জর্ডানের সাবেক প্রো-ভিসির সাক্ষাৎ

ঢাকা, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে আরবি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভাষা দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ সম্প্রসারণে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও জর্ডানের মিডল ইস্ট ইউনিভার্সিটির সাবেক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবদেলরাউফ জুহদি হুসাইন মুস্তফা।

আজ শনিবার ঢাবি উপাচার্যের কার্যালয়ে তাদের মধ্যে এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

অধ্যাপক ড. আবদেলরাউফ জুহদি হুসাইন মুস্তফা ‘আত-তানাল আল-আরাবি’ নামের আরবি ভাষা দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। সাক্ষাৎকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এ পরীক্ষার আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: এইচএসসি ফল চ্যালেঞ্জে রেকর্ড ১০ লাখ ৩৭ হাজার আবেদন, আয় ১৫ কোটি টাকা

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আরবি ভাষাকে কার্যকর দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং আরবি ভাষার শিক্ষকদের একাডেমিক ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।

সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে তিনি অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারীদের আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দক্ষতা সনদ প্রদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ, আরবি পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন কাঠামো প্রণয়ন, পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং মক টেস্ট ও আনুষ্ঠানিক দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার আয়োজনের কথা তুলে ধরেন। ভবিষ্যতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদিত ‘আত-তানাল’ পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।

অধ্যাপক মুস্তফা জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরবি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গতকাল (৬ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আত-তানাল আল-আরাবি ইউনিভার্সিটি এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম’ শুরু হয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম আরবি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ‘আত-তানাল আল-আরাবি’র সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: দেশের যখন যা প্রয়োজন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেটাই করেছেন: বাকৃবি উপাচার্য

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভালো বেতনে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরবি ভাষা দক্ষতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে পৌর কর্মচারী হত্যায় ব্যবহৃত কাঁচি উদ্ধার, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় মনসুর আলী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫০ পি.এম


কুড়িগ্রামে পৌর কর্মচারী হত্যায় ব্যবহৃত কাঁচি উদ্ধার, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় মনসুর আলী নিহত

কুড়িগ্রাম পৌর টাউন হলের কেয়ারটেকার মনসুর আলী (৬০) হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত কাঁচি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, ছুরি নয়, কাঁচি দিয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

শনিবার (৭ নভেম্বর) টাউন হল চত্বরে ওই কাঁচি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাতে মনসুর আলী নিহত হন। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্ত্রী মল্লিকা বেগম (৫৫)।

ঘটনার পর স্থানীয়রা শাহনেওয়াজ ওরফে সানি (৩২) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন আরটিভিকে জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার টাউন হল মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা চলছিল। এ সময় সানি টাউন হল চত্বরে ঢুকে মাদক সেবনের চেষ্টা করলে কেয়ারটেকার মনসুর আলী তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সানি সেখান থেকে চলে যান। আলোচনা সভা শেষে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা চলে গেলে, দুপুরের খাবার নিয়ে মল্লিকা বেগম স্বামীর কাছে টাউন হল চত্বরে যান। এ সময় সানি ফিরে এসে ফার্মেসিতে ব্যবহৃত ওষুধ কাটার কাঁচি দিয়ে মনসুর আলী ও তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।

তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে দুজনকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনসুর আলীর মৃত্যু হয়। আহত মল্লিকা বেগম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন, সানি মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত এবং ওই বাধার জেরেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছেন। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো বিরোধ বা কারণ ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার পর স্থানীয়রা সানিকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত ওষুধ কাটার কাঁচি উদ্ধার করেছে।

নিহত মনসুর আলী কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ছয় আনিপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। আটক সানি একই পৌর এলাকার সরদারপাড়ার বাসিন্দা।

ওসি কামাল হোসেন রাতে আরটিভিকে বলেন, ‘টাউন হলে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই যুবক ফার্মেসি থেকে কাঁচি এনে তাদের ওপর অনবরত আঘাত করেন। এতে তারা আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনসুর আলী মারা যান। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত কাঁচি উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জয়পুরহাটে আলুর বাজারে ধস, হিমাগারে ৪৫ শতাংশ আলু পড়ে আছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫১ পি.এম


জয়পুরহাটে আলুর বাজারে ধস, হিমাগারে ৪৫ শতাংশ আলু পড়ে আছে

জয়পুরহাটে আলুর বাজারে অব্যাহত দরপতনের ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। এই পরিস্থিতিতে লোকসানের আশঙ্কায় অনেকেই হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন করছেন না। জেলার ২২টি হিমাগারে সংরক্ষিত আলুর প্রায় ৪৫ শতাংশ এখনো পড়ে রয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বর সংরক্ষণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আলু বিক্রি করতে না পারলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকদের বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা আলুর দাম বাড়ানো, রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি এবং হিমাগারে সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। লোকসানের আশঙ্কায় হিমাগার মালিকেরা জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহায়তা চেয়েছেন। অন্যদিকে, সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়াতে হিমাগারগুলোতে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা কৃষি বিপণন অফিস।

জানা গেছে, আলু উৎপাদনে দেশের অন্যতম জেলা জয়পুরহাট। গত মৌসুমে জেলায় ৯ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। উৎপাদন মৌসুমে বাজারে আলুর দাম কম থাকায় কৃষকেরা লোকসানে পড়েন। পরে দাম বাড়ার আশায় জেলার ২২টি হিমাগারে ২ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাজারে প্রত্যাশিত দাম না থাকায় এখন উৎপাদন খরচ ও হিমাগারের ভাড়া তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

কৃষক ও ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, সার, বীজ, শ্রমিকের মজুরিসহ বিভিন্ন খরচ মিলিয়ে স্টেরিক, কার্ডিনাল ও বারো-তেরো জাতের ৬০ কেজির এক বস্তা আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৫০ টাকা। অথচ হিমাগার গেটে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫৫০ থেকে ৬৭০ টাকায়। দেশি পাকড়ি জাতের এক বস্তা আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬০০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ টাকায়। এতে জাতভেদে প্রতি বস্তা আলুতে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনে ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তিতে হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে ব্যবসায়ীরা আলু উত্তোলন না করলেও হিমাগার মালিকেরা চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করতে পারেন না। অথচ বিদ্যুৎ বিলসহ হিমাগারের পরিচালন ব্যয় তাদেরই বহন করতে হয়। ফলে আলু পড়ে থাকলে লোকসানের চাপ বাড়ে হিমাগার মালিকদের ওপরও।

এবার হিমাগারে আলু সংরক্ষণের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলু উত্তোলন না হলে বিদ্যুৎ বিল, ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি বস্তায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন হিমাগার মালিকেরা।

সদরের আমদই গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘আলুর দাম বাড়বে আশায় হিমাগারে ১৫০ বস্তা আলু রেখেছিলাম। এর মধ্যে ৫০ বস্তা কোনো লাভ ছাড়াই বিক্রি করেছি। এখনো ১০০ বস্তা আলু পড়ে আছে। বর্তমান বাজারে বিক্রি করলে অর্ধেক লোকসান হবে। ঋণ-দেনা তো পরিশোধ হবেই না, উল্টো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হব। আলু নিয়ে কী করব, মাথাই কাজ করছে না।’

ক্ষেতলালের হিমাদ্রিপাড়ার কৃষক বাবু মিয়া বলেন, ‘হিমাগারে ৫০ বস্তা আলু রেখেছি। বর্তমান বাজারে বিক্রি করলে অনেক লোকসান হবে। আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সংরক্ষণের মেয়াদ আছে। এর মধ্যে দাম না বাড়লে কীভাবে বিক্রি করব? পরে মেয়াদ না বাড়ালে আলু কোথায় নিয়ে যাব? সরকারের কাছে অনুরোধ, হিমাগারে আলু রাখার মেয়াদ ও আলুর দাম বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হোক।’

তিলাবদুল মধ্যপাড়ার ব্যবসায়ী আলাল হোসেন বলেন, ‘এক বস্তা আলুতে খরচ হয়েছে ১ হাজার ২৫০ টাকা, অথচ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। গত তিন-চার বছর ধরে লোকসান গুনতে গুনতে জমি-জমা সব শেষ। এখন যে ঋণ আছে, তা কীভাবে শোধ করব? ঋণ পরিশোধ করতে বাড়িও বিক্রি করতে হতে পারে। সরকার কোনো পদক্ষেপ না নিলে আমি একেবারে শেষ।’

হিমাদ্রি হিমাগারের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার হিমাগারে ৫০ শতাংশ আলু বের হয়েছে। বাজারমূল্য একেবারেই কম হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আলু উত্তোলন করছেন না। চুক্তির মেয়াদ পার হয়ে আলু পড়ে থাকলে সব লোকসান আমার। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হব। সরকার আলু রপ্তানির সুযোগ দিলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।’

জেলা কৃষি বিপণন অফিস জানিয়েছে, হিমাগারে আলু সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হিমাগারগুলোতে চিঠি দেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫২ পি.এম


খুলনায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন

খুলনা, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে নগরীতে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় শহীদ হাদিস পার্কে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন।

প্রদর্শনীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন, মুক্তিযুদ্ধ, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং দেশ পুনর্গঠনের বিরল ছবি ও প্রামাণ্যচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধকালে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন মন্তব্য করেন, "বাংলাদেশের মানুষের মূল রাজনৈতিক দর্শন হচ্ছে প্রকৃত গণতন্ত্র। এ দেশের মানুষ মুক্ত বাতাসে প্রাণ খুলে কথা বলতে চায়, নির্ভয়ে ও নিঃসংকোচে নিজের মত প্রকাশ করতে চায়।"

তিনি আরও বলেন, এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত ও শক্তিশালী রাখার সুতীব্র আকাক্সক্ষা মানুষের মধ্যে সব সময় বিরাজমান। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা যুগের পর যুগ সেই জাতীয় আকাক্সক্ষাকেই জাগ্রত রেখে চলেছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা উল্লেখ করেন, কোনো অপশক্তি বা ষড়যন্ত্রই এ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারবে না। সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনর্প্রতিষ্ঠায় ৭ নভেম্বরের মূলসুর ধারণ করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপি প্রস্তুত রয়েছে।

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিরাজুর রহমান মিরাজের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ইশতিয়াক আহমেদ ইসতির পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম মাহমুদুল হাসান টিটু, মিরাজ শাহীন শুভ, মনজুর শাহীন রুবেল, ইবাদুল ইসলাম, সিফাত আহমেদ রিকি, সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রায়হান বিন কামাল, সোনাডাঙা থানা সদস্য সচিব রাকিবুল হাসান প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিমন্তর: আসামের করিমগঞ্জ থেকে ২৮ 'বাংলাদেশিকে' বিতাড়িত করার দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫২ পি.এম


হিমন্তর: আসামের করিমগঞ্জ থেকে ২৮

আসামের শ্রীভূমি জেলায় বেআইনিভাবে বসবাসকারী ২৮ জন 'বাংলাদেশী নাগরিককে' শনাক্ত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী উগ্র হিন্দুত্ববাদী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) এই দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, "অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আসামের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। শ্রীভূমি পুলিশ চিহ্নিত করা ২৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার করেছে। দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আমরা এই অভিযান চালিয়ে যাব। আমাদের সীমান্ত, রাজ্য ও আসামের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।"

আসামের সর্বদক্ষিণের জেলা শ্রীভূমি, যার পূর্বনাম করিমগঞ্জ ছিল, ২০২৪ সালের নভেম্বরে নতুন নামকরণ করা হয়। এই জেলা বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সীমান্তবর্তী। আসামের যেসব জেলা আন্তর্জাতিক সীমান্তে অবস্থিত, তার মধ্যে ধুবড়ি, দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর ও কাছাড়ের পাশাপাশি শ্রীভূমিও অন্যতম। শ্রীভূমিতে আসামের একটি সমন্বিত চেকপোস্ট (ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট) এবং মানকাচরে একটি ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন রয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৫০ সালের 'ইমিগ্র্যান্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) অ্যাক্ট'-এর অধীনে এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাজ্য মন্ত্রিসভা এই আইনের অধীনে একটি 'স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর' (এসওপি) অনুমোদন করে, যা জেলা কমিশনারদের যেকোনো সন্দেহভাজন বিদেশী নাগরিককে বিতাড়নের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে। গত বছরের মে মাস থেকে সীমান্ত অঞ্চলে নিয়মিত "পুশব্যাক" ড্রাইভ চালানো হচ্ছে, যার অনেকগুলোই রাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সেগুলো সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন।

এই অভিযানের পরিসর ও সংখ্যা মোটেও কম নয়। চলতি বছর রাজ্য বিধানসভায় পেশ করা এক লিখিত জবাবে আসাম চুক্তি বাস্তবায়ন মন্ত্রী অতুল বোড়া জানান, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রাজ্য থেকে মোট ২,০৮৯ জন অবৈধ বিদেশী নাগরিককে পুশব্যাক, দেড়ান্তর বা বিতাড়িত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২,০২৩ জনকেই বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুধু একটি বছরেই সর্বাধিক ১,৮১১ জনকে ফেরত পাঠানোর রেকর্ড রয়েছে।

তবে আসামের পুরো সীমান্ত অঞ্চল এখনো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত নয়। বাংলাদেশের সাথে আসামের ২৬৭.৫ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যা পর্যবেক্ষণ করছে বিএসএফ-এর (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) ৯১টি সীমান্ত চৌকি, আসাম পুলিশের ১৪টি দ্বিতীয় স্তরের চৌকি এবং ১৪টি টহল পোস্ট। এর মধ্যে শ্রীভূমির কুশিয়ারা নদী সংলগ্ন ৪.৩৫ কিলোমিটার অংশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আপত্তির কারণে এখনো কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি; ফলে এলাকাটিতে কেবল বিএসএফ টহলের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়। ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট হাসিনার ভারতে পলায়নের পর থেকেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১,৮৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ তাদের নজরদারি জোরদার করেছে। পাশাপাশি আসাম পুলিশও পানি ও স্থলপথে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

অনুপ্রবেশের এই বিষয়টি এখন আসামের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয়। বিজেপি মন্ত্রীরা গত সপ্তাহজুড়ে 'ইন্ডিয়া' জোটকে অভিযুক্ত করে আসছেন যে তারা ভারতে "বাংলাদেশের মতো সরকার পরিবর্তনের" চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিশ্ব শর্মা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাজ্যকে অনুপ্রবেশমুক্ত করার। তবে বিরোধী দলগুলো এই অভিযানের পদ্ধতি ও গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছে, কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুশব্যাকের ঘোষণা দিয়ে আসল সমস্যার সমাধান হবে না; এর একমাত্র স্থায়ী সমাধান সীমান্তে পুরোপুরি কাঁটাতারের বেড়া নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের এই ঘটনাটি সাম্প্রতিক ধারাবাহিক অভিযানেরই অংশ। ঠিক গত সপ্তাহে ধুবড়ির একটি খেয়াঘাট থেকে ৩৬ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করেছিল পুলিশ—তারা দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর থেকে আসা ১২০ জনের একটি নৌকায় অবস্থান করছিল। এছাড়া এর আগে গুয়াহাটির বিভিন্ন হোটেল ও রেলওয়ে স্টেশন থেকেও ২০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%