ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই যুগোপযোগী করা হবে কোম্পানি আইন : বাণিজ্যমন্ত্রী


ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই যুগোপযোগী করা হবে কোম্পানি আইন : বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ আরও সহজ, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মতামত ও সুনির্দিষ্ট পরামর্শের ভিত্তিতেই ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪’ সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, “এই আইন মূলত ব্যবহার করবেন ব্যবসায়ীরা। তাই তাঁদের বাস্তব চাহিদা, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির বিষয়াশয় বিবেচনায় নিয়েই আইনটিকে সময়োপযোগী করা প্রয়োজন।”

আজ রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪’-এর তৃতীয় সংশোধন-২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনার লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই)-এর প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ও পুরোপুরি ব্যবসাবান্ধব করে গড়ে তুলতে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে খোলামেলা মতামত ও পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের খসড়াটি গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত সময় নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনকে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা সময়ের দাবি। সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত ও কার্যকর অর্থনীতির সফল মডেল ও অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা নিয়ে প্রস্তাবিত খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মূলনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে টেকসই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। নতুন এই আইনটির মূল সুফলভোগী হবেন আমাদের ব্যবসায়ীরা। সরকার কেবল নিয়ন্ত্রক ও সহায়ক কাঠামো তৈরি করে, মূল অর্থনৈতিক গতি ধরে রাখে বেসরকারি খাত।”

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান

তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিই হচ্ছে বেসরকারি খাত। তাই ব্যবসায়ীদের জন্য কার্যকর ও হয়রানিমুক্ত আইন প্রণয়ন অত্যাবশ্যক। কোম্পানি আইন সংশোধনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি রূপান্তরকালীন সময় পার করছে। এ সময়ে বিচক্ষণতা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে এগোতে হবে। ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ও টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়তে সরকার ও বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করতে হবে।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আইনটি চূড়ান্ত প্রণয়নের পর তা সরাসরি প্রয়োগ হবে বেসরকারি খাতেই। ফলে সংশোধিত আইনটি যেন এমন হয়, যা উদ্যোক্তাদের সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে নতুন ব্যবসা শুরু ও পরিচালনায় পূর্ণ সহায়তা যোগায়।

তিনি আরও জানান, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী তিন বছরের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার একাধিক নির্দেশনামূলক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কোম্পানি আইনের এই আধুনিকায়ন সেই প্রক্রিয়ারই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: বিদেশি ঋণ শোধে চাপ বাড়ছে, সহায়তার অর্থছাড় কমেছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে যবিপ্রবিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসে যবিপ্রবিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা শুরু

যশোর, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) সপ্তাহব্যাপী বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. এম আর খান মেডিকেল সেন্টারে আয়োজিত উদ্বোধনী দিনে শতাধিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ দেওয়া হয়।

ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিটিআর) বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। 

পিটিআর বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. ফিরোজ কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওথেরাপি বিভাগের সেবার মান উচ্চপর্যায়ের এবং এ বিভাগ ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে।

আয়োজকরা জানান, সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী দিনগুলোতে থাকছে নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারবিষয়ক প্যানেল আলোচনা, মূল অনুষ্ঠান, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে সেবা ক্যাম্প এবং প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শনের মাধ্যমে সমাপনী অনুষ্ঠান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, শর্তে মিলল ‘মুক্তি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, শর্তে মিলল ‘মুক্তি’

নরসিংদীর রায়পুরায় এক শিক্ষার্থীকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সহপাঠী ও শিক্ষকদের সামনে নাহিদুল ইসলাম টুটুল (১৬) নামের ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে তাকে মুক্তি দেওয়ার সময় শর্ত হিসেবে বলা হয়, সে আর বিদ্যালয়ে যাবে না।

 

এই ঘটনা রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের সদাগরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটে। ভুক্তভোগী টুটুল সদাগরকান্দি এলাকার কুয়েতপ্রবাসী সালেহ উদ্দিনের ছেলে এবং সদাগরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন একই এলাকার ইমান মিয়া ও রিফাত মিয়া।

স্থানীয় সূত্র ও টুটুলের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সদাগরকান্দি এলাকায় সরকার বাড়ি ও ফরিদ উদ্দিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।

 

এ ঘটনায় গুলিতে সরকার বাড়ির মোমেন সরকার নিহত হন। এরপর থেকে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। রবিবার দুপুরে সরকার বাড়ির সালেহ উদ্দিনের ছেলে টুটুলকে বিদ্যালয়ের দোতলার শ্রেণিকক্ষ থেকে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সামনে ধরে নিয়ে যান ফরিদ উদ্দিন গ্রুপের ইমান মিয়া ও রিফাত মিয়া। টুটুলের দাবি, এ সময় তার মাথায় পিস্তল ঠেকানো হয় এবং মারধর করতে করতে তাকে নিচে নামিয়ে আনা হয়।

 

টুটুল বলেন, ‘আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারতে মারতে দোতলা থেকে নিচে নামিয়ে আনে ইমান ও রিফাত। পরে বিদ্যালয় থেকে একটু দূরে নিয়ে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে আহত করে। আবার স্কুলে গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।’

টুটুলের ভাষ্য অনুযায়ী, খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হালিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। ওই শিক্ষক অভিযুক্তদের বলেন, ‘টুটুল আমার ছাত্র। টুটুলকে মারার আগে আমাকে মারতে হবে।’ পরে টুটুলকে আর বিদ্যালয়ে যেতে হবে না—এমন শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

টুটুলের মা বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে ছেলেকে বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছি। সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

সদাগরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। পরে বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক গিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে ছাড়িয়ে আনেন।’

তবে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান দাবি করেছেন, মাথায় অস্ত্র ঠেকানোর অভিযোগ সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘অস্ত্র ঠেকানোর বিষয়টি সত্য নয়। ওই শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে চড়থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। পরে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পৌরসভার জমি ইউপির দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ পি.এম


পৌরসভার জমি ইউপির দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে পৌরসভার অধীনে থাকা জমি ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের তালিকাভুক্ত দলিল লেখক আবু সাদেক (সনদ নম্বর ৫১১৩) ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভুয়া তথ্য দিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, গত ৪ জুন নান্দাইল সাবরেজিস্ট্রি অফিসে একটি জমি বিক্রির দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। দলিলের তথ্য অনুযায়ী, জমির ক্রেতা আউয়াল হোসেন গং এবং বিক্রেতা ইছাক মাহমুদ গং। নান্দাইল বালিয়াপাড়া মৌজার সাবেক ২৩৩০ এবং হাল ১০০৯৮ দাগের ২১ শতাংশ জমির বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা আট লাখ ৯৫ হাজার টাকা।

আইন অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ের তুলনায় পৌরসভার ভেতরের জমির সরকারি মূল্য এবং দলিল সম্পাদনের আনুষঙ্গিক সরকারি চার্জ ও ট্যাক্স অনেক বেশি।

 

সাবরেজিস্ট্রার অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্রি হওয়া জমিটি নান্দাইল পৌরসভার আওতাভুক্ত হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী এর উৎসে কর আসার কথা ছিল দুই লাখ ১০ হাজার টাকা।

সাবরেজিস্ট্রারের অভিযোগ, দলিল লেখক আবু সাদেক বেশি মুনাফা ও অবৈধ সুবিধার উদ্দেশ্যে জমির প্রকৃত অবস্থান গোপন করেন। তিনি কৌশলে পৌরসভার দামি জমিকে ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত এলাকা হিসেবে দেখিয়ে দলিল সম্পাদন করেন। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ের কম হারের কর সুবিধা নিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৭ হাজার ৯০০ টাকা।

 

সূত্রের দাবি, এর মাধ্যমে সরকারের সরাসরি এক লাখ ৯২ হাজার ১০০ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। পৌরসভার জমিকে ইউনিয়ন পরিষদের দেখিয়ে এভাবে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জমি বিক্রেতা ইছহাক মাহমুদ স্বীকার করেন তার বিক্রি করা জমি পৌরসভার মধ্যে। তবে দলিল লেখক কিভাবে দলিল সম্পাদন করেছেন- তা তার জানা নেই। এটা তার (দলিল লেখক) ব্যাপার।

অন্যদিকে, জমির ক্রেতা আব্দুল আউয়ালের দাবি, তিনি বাড়িতে কম থাকেন। ব্যবসাসংক্রান্ত কারণে তিনি জেলা শহর ময়মনসিংহে বসবাস করেন। তিনি বলেন, বাড়ির পাশে জমি কিনতে চাইলে বিক্রেতার সঙ্গে দরদাম ঠিক করার পর দলিল সম্পাদন হয়। কিন্তু দলিল লেখক কিভাবে করেছেন, তা তার জানা নেই।

দলিল লেখক আবু সাদেকের ভাষ্য, ‘নতুন গেজেটে মনে হয় ওই জমি পৌরসভার বাইরে ছিল। তাই না দেখেই দলিল ইউনিয়ন ধরে সম্পাদন করেছি। এখন জানতে পেরেছি এই জমি পৌরসভার। এ অবস্থায় সংশোধনের ব্যবস্থা করব।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তখনকার সাবরেজিস্ট্রার শেখ আবদুস সামাদ আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি মূলত দলিলের দাগ, খতিয়ান, মৌজার নাম এবং দলিল লেখকের (মুহুরি) বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে দলিল সম্পাদন করি। তিনি (দলিল লেখক) গাদ্দারি করেছেন। বিশেষ করে তিনি ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ২৭ ধারা অনুযায়ী সব কাজ সম্পাদন করেন।

আবদুস সামাদ আরো বলেন, ‘যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তাই জেলা রেজিস্ট্রার বিষয়টি দেখবেন।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি আপনার সঙ্গে একান্তে কথা বলব পরে।’

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যাত্রীদের নিরাপত্তায় এক ইঞ্জিনের লঞ্চ নিরুৎসাহিত করছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২০ পি.এম


যাত্রীদের নিরাপত্তায় এক ইঞ্জিনের লঞ্চ নিরুৎসাহিত করছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী

নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উল্লেখ করেছেন যে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নৌপথে দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে এক ইঞ্জিন বিশিষ্ট লঞ্চের চলাচলকে সরকার নিরুৎসাহিত করছে। পরিবর্তে, লঞ্চ মালিকদের দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট লঞ্চ পরিচালনার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

এই তথ্যটি সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী প্রকাশ করেছেন। এ সময় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ মৌসুমে উপকূলীয় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় নৌ-মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত ‘স্থায়ী আদেশ’ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এছাড়া, ব্যক্তিগত উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে যাত্রীবাহী লঞ্চ বহরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বড় আকারের লঞ্চ যুক্ত হওয়ায় দুর্ঘটনার হার অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।

দুর্ঘটনা রোধে সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে:

১. নির্দিষ্ট সময়ের আগে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার জন্য রুট ডিক্লারেশন প্রদান।

২. নৌ-সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রচার এবং টার্মিনালে মেগাফোনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

৩. গুরুত্বপূর্ণ নদী বন্দরগুলোতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা।

৪. ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই হলে যাত্রা স্থগিত করা।

৫. ফিটনেসবিহীন ও আনরেজিস্টার্ড নৌযান চলাচল বন্ধে বিআইডব্লিউটিএ’র নিয়মিত অভিযান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%