ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রেসক্রিপশন ছাড়াই যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির অভিযোগ, অতঃপর...


প্রেসক্রিপশন ছাড়াই যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির অভিযোগ, অতঃপর...

ঝালকাঠির রাজাপুরে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত একটি ওষুধ ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করেছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে, উপজেলার হরিসভা মন্দির সড়কে অবস্থিত মেসার্স ময়না মেডিকেল হলে অভিযান পরিচালনা করে এই জরিমানা প্রদান করা হয়।

জরিমানা প্রাপ্ত ব্যক্তি মো. মহিউদ্দীন ভান্ডারী নামে পরিচিত। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের মনোহরপুর এলাকার মরহুম মোবারক ফকিরের ছেলে।

আরও পড়ুন: কমলনগরে কোরআনের আলোয় আলোকিত ৫ শিক্ষার্থী, ফয়জুল কোরআন ইসলামী একাডেমির সংবর্ধনা

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র থেকে জানা গেছে, মহিউদ্দীন ভান্ডারী দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি করে আসছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয় এবং পরে ভোক্তা অধিকার ও ওষুধ বিক্রয়-সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযোগিত মহিউদ্দীন ভান্ডারী বলেন, আমি একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কবিরাজি চিকিৎসক। রোগী দেখাসহ ওষুধ দেওয়ার অনুমতি আমার রয়েছে। আমার সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তবুও কেন আমাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছে, তা আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আরা মৌরি বলেন, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের অভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির সময় এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে ১৮টি ভারতীয় কম্বলসহ যুবক গ্রেপ্তার

তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে। এর আগে মহিউদ্দীনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমার সামনে একজনকে গুলি করেছিলেন জিয়াউল আহসান: মেজর সাজ্জাদুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:৫৮ পি.এম


আমার সামনে একজনকে গুলি করেছিলেন জিয়াউল আহসান: মেজর সাজ্জাদুল

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম ও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন মেজর (অব.) খোন্দকার মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

রোববার (২৬ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল-১-এ তার সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাহিদুর রহমান।

জবানবন্দিতে সাজ্জাদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ২০১১ সালে সরকারি আদেশে তাকে র‌্যাবে বদলি করা হয় এবং ৫ জুলাই র‌্যাব সদর দপ্তরে যোগদান করেন। সেখানে ছয়দিনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে ১১ জুলাই তাকে র‌্যাব-৩-এ পদায়ন করা হয়। সেসময় র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান।

র‌্যাব-৩-এ যোগদানের দিনই তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল ইসলাম তাকে জানান, সেদিন রাতে একটি অভিযানে অংশ নিতে হবে, যা নির্দেশ দিয়েছিলেন জিয়াউল আহসান। রাত ১১টার দিকে সাদা পোশাকে কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি র‌্যাব সদর দপ্তরের সামনে পৌঁছান। পরে চারটি গাড়ির বহর টঙ্গী হয়ে একটি নির্জন এলাকায় চলে যায়।

সাজ্জাদুল ইসলামের দাবি, একটি সেতুর (আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি ব্রিজ) ওপর গাড়ি থামানোর পর চোখ ও হাত বাঁধা একজন বন্দিকে নামানো হয়। তার ভাষ্য অনুসারে, জিয়াউল আহসান ওই ব্যক্তিকে সেতুর রেলিংয়ের কাছে নিয়ে গিয়ে মাথার পেছনে গুলি করেন এবং পরে নিচে ফেলে দেন। ঘটনার ফলে তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান।

তিনি বলেন, কিছু দূর এগিয়ে আরেকটি সেতুর ওপর গাড়ি থামানো হলে জিয়াউল আহসান তাকে একটি 'সন্ত্রাসবিরোধী অপারেশন' পরিচালনার নির্দেশ দেন। একারণে তিনি জিজ্ঞাসা করলে জিয়াউল আহসান ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ইংরেজিতে তিরস্কার করেন এবং গাড়ির ভেতরে গিয়ে বসতে বলেন।

তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, নির্দেশ অমান্য করার পর তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, তাকে হয়তো ভুয়া বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় হত্যা করা হবে, চাকরি হারাতে হবে কিংবা দুর্গম এলাকায় বদলি করা হতে পারে।

তার ভাষ্য, গাড়ির ভেতরে বসে থাকা অবস্থায় তিনি গুলির মতো একটি শব্দ শুনতে পান। পরে আরেকটি স্থানে চোখ বাঁধা একজন ব্যক্তিকে কয়েকজনকে টেনে নিয়ে যেতে দেখেন, কিন্তু পরে তাকে আর ফিরে আসতে দেখা যায়নি। এরপর আরও কয়েকটি স্থানে গাড়ি থামলেও তিনি আর গাড়ি থেকে নামেননি। অভিযানের শেষে তাকে ক্যান্টনমেন্টের স্টাফ রোডে নামিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, পরদিন, ১২ জুলাই, র‌্যাব-৩-এ যাওয়ার পথে তিনি জানতে পারেন যে তাকে র‌্যাব থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। র‌্যাব-৩-এ পৌঁছানোর পর তাকে সরাসরি কুমিল্লা সেনানিবাসের অর্ডন্যান্স ডিপোতে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী র‌্যাব থেকে ফেরত আসা কর্মকর্তাদের আগে সেনা সদরে রিপোর্ট করার কথা থাকলেও তার ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

এই সাক্ষী দাবি করেন, ঘটনার তিন থেকে চারদিনের মধ্যে একটি জাতীয় দৈনিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনটি লাশ উদ্ধারের সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সাজ্জাদুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে জানান, ওই ঘটনার পর সেনাবাহিনীতে তাকে একজন অবিশ্বস্ত ও অবাধ্য কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তার দাবি, সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও এরপর আর পদোন্নতি পাননি এবং অবসরের নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১২ বছর আগেই ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলোচনার সুযোগ দিতে ইরানে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন ট্রাম্প: যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৫ পি.এম


আলোচনার সুযোগ দিতে ইরানে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন ট্রাম্প: যুক্তরাষ্ট্র

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন, এমনটি জানিয়েছেন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। এই সিদ্ধান্তটি কূটনৈতিক উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া এবং আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য নেওয়া হয়েছে।

রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ বলেছেন, সংলাপ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য কিছুটা সময় এবং সুযোগ সৃষ্টি করতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে তিনি ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে চলমান সাম্প্রতিক আলোচনার ধরন কিংবা বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে গত সপ্তাহের শেষের দিকে সংঘাতের তীব্রতায় সাময়িকভাবে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

বিমান হামলার কথা উল্লেখ করে, তিনি বলেন, টানা ১৩ দিন ধরে চলা ব্যাপক বিমান হামলার পর পেন্টাগন তাদের বোমাবর্ষণ অভিযান আপাতত স্থগিত রেখেছে। এই সময়ে, সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও নতুন হামলার খবর পাওয়া যায়নি।

সূত্র : আল-জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিক্ষোভ বন্ধের পরই ছাত্রদের উপর চড়াও বিজেপি! চড় থাপ্পড় কি আগুনে ঘি ঢাললো?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৭ পি.এম


বিক্ষোভ বন্ধের পরই ছাত্রদের উপর চড়াও বিজেপি! চড় থাপ্পড় কি আগুনে ঘি ঢাললো?

গোটা ভারতে তীব্র দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়া ভারতের জেন-জি ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে মোদি সরকার তাদের সকল দাবি মেনে নিতে বাধ্য হওয়ায় ছাত্ররা আন্দোলনে ইস্তফা দিয়েছে। এর একদিন যেতে না যেতেই ঘটলো ভাইরাল ঘটনা। একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষ করে আজ-তাক বাংলায় খবরও প্রকাশ হয়েছে। ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায় ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে আন্দোলন বন্ধের পরদিন-ই বিজেপি নেতা চড়াও হচ্ছেন ছাত্রদের উপর। তিনি গাড়িতে বসেই দুই শিক্ষার্থী কে কাছে ডেকে নিয়ে প্রশ্ন করেন, "তোরা কি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনকে সমর্থন করেছিস?" তারা উত্তরে সমর্থন সূলক হ্যাঁ জবাব দেওয়ার পর বিজেপি নেতা তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে তাদের দুজনকেই চড় থাপ্পড় দিতে শুরু করেন।

 
মোদি সরকার যখন আন্দোলন থামাতে ছাত্রদের সব দাবি মেনে নিতে ব্যস্ত তখন বিজেপি নেতার এমন কাণ্ড কি আবার যে জেন-জি ছাত্রদের গড়া ককরোচ জনতা পার্টির নিভে যাওয়া বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালল? ভিন্ন মত দমন পীড়নে যদি বিজেপি এভাবেই গোটা দেশে ছাত্রদের উপর চড়াও হয় তার পরিণতি কি হবে তা হয়তো সময়ে বলবে। তবে আপাতত বলা যায় এটি আগুনে ঘি ঢালার সমান।

দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিনের ছাত্র-আন্দোলন আপাতত থেমেছে। দাবি পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর আন্দোলনের নেতৃত্ব কর্মসূচি স্থগিত করেছে। কিন্তু ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে—কোনো আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি মানেই জনমতের সমাপ্তি নয়। অনেক সময় একটি মাত্র ঘটনা আবারও চাপা ক্ষোভকে বিস্ফোরণের দিকে ঠেলে দেয়।

উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে দুই শিক্ষার্থীকে কথিতভাবে ছাত্র-আন্দোলনের প্রতি সমর্থনের প্রশ্ন তুলে চড়-থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ সেই বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। অভিযোগ সত্য হলে ঘটনাটি কেবল দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার নয়; এটি ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে।

গণতন্ত্রে রাজনৈতিক মতের পার্থক্য থাকবে, বিতর্ক থাকবে, সমালোচনা থাকবে। কিন্তু কোনো তরুণ কেবল একটি আন্দোলনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করায় যদি অপমান, ভয়ভীতি বা শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হন, তবে সেটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে। এমন প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।

যে কোনো সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিরোধিতা নয়; বরং বিরোধিতার প্রতি তার আচরণ। সংলাপ যেখানে দুর্বল হয়, সেখানে ক্ষোভ জমতে শুরু করে। আর জমে থাকা ক্ষোভের জন্য কখনো কখনো একটি ঘটনাই যথেষ্ট—যা আবারও রাজপথকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

ছাত্রসমাজ সব সময়ই রাজনৈতিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে পরিচিত। ভারতেও বিভিন্ন সময়ে ছাত্র-আন্দোলন জাতীয় রাজনীতির গতিপথে প্রভাব ফেলেছে। তাই যে কোনো সরকার, রাজনৈতিক দল কিংবা জনপ্রতিনিধির উচিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণে সর্বোচ্চ সংযম, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া।

গাজিয়াবাদের ঘটনাটি যদি প্রকৃতপক্ষে অভিযোগ অনুযায়ী ঘটে থাকে এবং এর পুনরাবৃত্তি দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, তবে সেটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন আইনশৃঙ্খলার বিষয় হয়ে থাকবে না; বরং নতুন করে ছাত্র-অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে। রাজনৈতিক ইতিহাসের বহু অধ্যায়ই বলে, অনেক বড় আন্দোলনের সূচনা হয়েছে আপাতদৃষ্টিতে ছোট একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

অতএব, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বরং আইনের শাসন নিশ্চিত করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারকে সম্মান করা। কারণ গণতন্ত্রে ভিন্নমতকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে নয়, যুক্তি ও আইনের মাধ্যমে মোকাবিলা করাই রাষ্ট্র ও রাজনীতির পরিপক্বতার পরিচয়। 
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক দশক পর চট্টগ্রামে কাল শুরু হচ্ছে চায়না ইকোনমিক জোনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১০ পি.এম


এক দশক পর চট্টগ্রামে কাল শুরু হচ্ছে চায়না ইকোনমিক জোনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম

চট্টগ্রাম, ২৬ জুলাই, ২০২৬ : এক দশকের বেশি সময় স্থবির হয়ে থাকার পর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হচ্ছে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) নির্মাণ কাজ। আগামীকাল সোমবার (২৭ জুলাই) প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগভিত্তিক শিল্পাঞ্চল বাস্তবায়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

২০১৪ সালে এ প্রকল্প নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ ও চীন। জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয় ২০১৬ সালে। তবে ডেভেলপার নিয়োগ, অর্থায়ন চূড়ান্তকরণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়নি। গত ২২ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর প্রকল্পটিতে নতুন গতি আসে। সফরে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ জুন বেজা ও চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলটির ডেভেলপার চুক্তি হয়। এর আগে গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। কর্ণফুলী নদীর মোহনায় আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠবে এ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল। 

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে শিল্পায়নের যে স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে লালিত হয়ে আসছিল, এবার তা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। প্রতীক্ষিত ‘বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল (চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন)’-এর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সূচিত হতে যাচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে আনোয়ারা এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম কৌশলগত শিল্প হাব হওয়ার পথে। প্রকল্পটি কেবল একটি শিল্পাঞ্চল নয়, এটি এই অঞ্চলের কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং জীবনযাত্রার মান বদলে দেওয়ার চাবিকাঠি।

প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন প্রমুখ।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানিয়েছে, আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থাপনায় এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষরের পর মূল অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হবে।

কর্ণফুলী টানেল থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রকল্পটির অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) ঋণ থেকে আসবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে এক হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক সড়ক, এক হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ প্রধান সড়ক, ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, ৪.২৪ এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন ও ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, দৈনিক ৬০ টন সক্ষমতার সলিড ওয়েস্ট কালেকশন স্টেশন, প্রায় ১২ কিলোমিটার বাউন্ডারি ওয়াল এবং দুটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন।

বেজার তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত এক লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে কেমিক্যাল, অটোমোবাইল অ্যাসেম্বলি, গার্মেন্টস, ওষুধসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিক হাব গড়ে উঠবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকার প্রত্যাশা করছে।

চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল হক বলেন, চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষায়িত এই অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। তার মতে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ প্রকল্প।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%