ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হৃদযন্ত্রের ছিদ্র সারিয়ে নিজেই মিলিয়ে যাবে যে যন্ত্র


হৃদযন্ত্রের ছিদ্র সারিয়ে নিজেই মিলিয়ে যাবে যে যন্ত্র

 

যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো মানব শরীরে স্থাপন করা হয়েছে জৈবভাবে ক্ষয় হয়ে যায় এমন বিশেষ একট চিকিৎসাযন্ত্র, যা ছিদ্র বন্ধ করতে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৪ বছর বয়সী লিলি ইয়েলের হৃদযন্ত্রে বসানো যন্ত্রটি আগামী কয়েক মাস থেকে দুই বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে শরীরের সঙ্গে মিশে অদৃশ্য হয়ে যাবে।

লিলির হৃদযন্ত্রের ওপরের দুটি প্রকোষ্ঠের মাঝের দেয়ালে প্রায় ১০ পেন্স মুদ্রার সমান একটি ছিদ্র ছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ সমস্যাকে অ্যাট্রিয়াল সেপটাল ডিফেক্ট (এএসডি) বলা হয়। লিলির চিকিৎসায় প্রচলিত ধাতব যন্ত্র ব্যবহার করলে তাকে রাগবি খেলা থেকে বিরত থাকতে হতো। পেশাদার রাগবি খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন থাকায় বিষয়টি তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

নতুন প্রযুক্তির যন্ত্র ব্যবহারের ফলে সেই সীমাবদ্ধতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

গত জুনে লিভারপুলের অ্যাল্ডার হে শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকেরা লিলির হৃদযন্ত্রে ‘মেমোসর্ব’ নামের যন্ত্রটি স্থাপন করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো রোগীর চিকিৎসায় এ যন্ত্র ব্যবহারের এটিই প্রথম ঘটনা। চিকিৎসাটি সম্পন্ন করতে হাসপাতালকে সংশ্লিষ্ট ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে বিশেষ অনুমোদন নিতে হয়েছিল।

মেমোসর্ব এমন একটি উপাদান দিয়ে তৈরি, যা শরীরে ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে যায়। এই ধরনের উপাদান গলে যায় এমন চিকিৎসা-সেলাই তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়।

শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সালিম জিভানজির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রচলিত ধাতব ডিভাইসের মতো নতুন যন্ত্রটিও প্রথমে হৃদযন্ত্রের ছিদ্রটি বন্ধ করে দেয়। তবে পার্থক্য হলো, এটি স্থায়ীভাবে শরীরে থেকে যায় না। তিনি জানান, যন্ত্রটি হৃদযন্ত্রের দেয়ালের জন্য একটি অস্থায়ী কাঠামো হিসেবে কাজ করে।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

সময়ের সঙ্গে হৃদযন্ত্রের নিজস্ব টিস্যু সেই কাঠামোর ওপর তৈরি হতে থাকে। পরে যন্ত্রে থাকা পলিমার ধীরে ধীরে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানিতে রূপান্তরিত হয়ে শরীর থেকে বিলীন হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা আশা করছেন, ছয় থেকে ২৪ মাসের মধ্যে যন্ত্রটির আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। তখন হৃদযন্ত্রের দেয়ালটি স্বাভাবিক টিস্যুর মতো দেখাবে এবং ছিদ্রটিও বন্ধ হয়ে যাবে।

জিভানজি বলেন, লিলির ক্ষেত্রে স্থায়ী ধাতব যন্ত্র ব্যবহার করলে হৃদযন্ত্র পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত রাগবি খেলা ঝুঁকিপূর্ণ হতো। খেলাধুলার সময় শক্ত আঘাতে ধাতব ডিভাইসটি সরে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। নতুন যন্ত্রটি ধীরে ধীরে শরীরের টিস্যুতে প্রতিস্থাপিত হওয়ায় সেই ঝুঁকি কমেছে। চিকিৎসার পর লিলি দ্রুত স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরেছে। তার মা ৩৮ বছর বয়সী বেচি নিকোলস জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর মেয়েটি পাঁচ কিলোমিটার দৌড়েছে, বিনোদন পার্কে ঘুরেছে এবং আবার রাগবিও শুরু করেছে।

লিলি নিজেও নতুন চিকিৎসা নিয়ে সন্তুষ্ট। যুক্তরাজ্যে এই ধরনের যন্ত্র প্রথম তার শরীরে স্থাপন করা হয়েছে- এটি জানতে পেরে তিনি আনন্দিত বলে জানিয়েছেন। হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে নিজের পছন্দের কাজগুলো করতে পারছেন বলেও জানান তিনি। লিলির হৃদযন্ত্রের সমস্যার বিষয়টি তার জন্মের পরই জানা যায়। ৩৩ সপ্তাহে অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার এএসডি শনাক্ত করেন। এরপর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চললেও দীর্ঘ সময় তার কোনো উপসর্গ ছিল না।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা দেখতে পান, লিলির হৃদযন্ত্রের ডান পাশ স্বাভাবিকের তুলনায় বড় হয়ে গেছে। এরপর চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, প্রায় দুই বছরের মধ্যে লিলির হৃদযন্ত্রে ডিভাইস বসানো হতে পারে। তবে মেয়ের জিসিএসই পরীক্ষার সময় যাতে চিকিৎসাজনিত জটিলতা না থাকে, সে জন্য দ্রুত চিকিৎসার উদ্যোগ নিতে চেয়েছিলেন তার মা। এরপর লিলিকে জানানো হয়, প্রচলিত ধাতব ডিভাইস ব্যবহার করা হলে তাকে রাগবি খেলা বন্ধ রাখতে হবে। নতুন জৈবভাবে ক্ষয়যোগ্য যন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার খেলাধুলায় ফেরার পথও খোলা থাকে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

মেয়ের চিকিৎসায় যুক্ত চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশংসা করেছেন নিকোলস। তার ভাষ্য, চিকিৎসক দল শুধু চিকিৎসা সম্পন্ন করেই দায়িত্ব শেষ করেনি; বরং লিলি যাতে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। নিকোলস বিশেষভাবে ডা. জিভানজি ও তার দলের পাশাপাশি হাসপাতালের ওয়ার্ড ১সি-এর নার্সদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তার মতে, পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় তারা লিলি ও তার পরিবারের জন্য সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইন পেশায় সফল হতে অর্থের পেছনে নয়, দক্ষতার পেছনে ছুটুন: আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


আইন পেশায় সফল হতে অর্থের পেছনে নয়, দক্ষতার পেছনে ছুটুন: আইনমন্ত্রী

আইন পেশায় সফল হতে নবীন আইনজীবীদের অর্থের পেছনে না ছুটে বরং পেশাগত দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি উল্লেখ করেছেন, দুর্নীতি কিংবা শর্টকাটের পথ বেছে নিয়ে দ্রুত বড়লোক হওয়ার চেষ্টা না করে মেধা, সততা, নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে আদর্শ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির ‘ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা কঠোর ও স্বচ্ছ করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আইনজীবী হিসেবে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সনদ পেয়েছেন, তারা কারও দয়া বা অনুকম্পায় নয়, বরং নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় নেপোটিজমের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যদের সন্তানদেরও অকৃতকার্য হওয়ার নজির রয়েছে। তাই নবীন আইনজীবীদের নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ওপর আস্থা রাখতে হবে।

নবীনদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আইন পেশার শুরুতে কাজ ও পারিশ্রমিক কম থাকতে পারে। ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের পরিধি ও পারিশ্রমিকও বৃদ্ধি পাবে। তাই শুরুতেই অর্থের পেছনে না ছুটে নিজেকে দক্ষ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

পেশাগত নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্লায়েন্ট ইজ এ ক্লায়েন্ট।’ ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাগত সম্পর্ক বজায় রেখে পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও আইনজীবীদের দায়িত্ব। সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু মামলা বিনামূল্যে পরিচালনারও আহ্বান জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী নিয়মিত পড়াশোনা ও আইনচর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আইনপেশায় প্রতিদিন শেখার সুযোগ রয়েছে। ভালো ড্রাফটিংসহ পেশাগত দক্ষতা অর্জনে নিয়মিত অধ্যয়ন করতে হবে।

তিনি জানান, আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা, মেধা, দক্ষতা, সততা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ আইনজীবী সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া, স্কুল অব ল’-এর ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. এম. এ. বাকি খলিলি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ‘ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন-ইসরাইলিরা রাজনৈতিক অজ্ঞ না হলে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু কিভাবে রাষ্ট্রপ্রধান হন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


মার্কিন-ইসরাইলিরা রাজনৈতিক অজ্ঞ না হলে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু কিভাবে রাষ্ট্রপ্রধান হন!

 

 
ইরান যুদ্ধ কি শুধু মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি যুদ্ধ, নাকি মার্কিন একক আধিপত্যের ভিত নড়ে যাওয়ার সূচনা? এর দায় কার? ডোনাল্ড ট্রাম্প বা নেতানিয়াহুর? নাকি সে দেশের ভোট প্রদানকারী জনগণের? এই রাষ্ট্র দুটির জনগণ যদি রাজনৈতিকভাবে অজ্ঞ না হন তাহলে এমন মানসিক ভারসাম্যবিহীন, অস্থির প্রকৃতির, প্রকৃত অর্থেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা যাদের খুবই কম তারা কিভাবে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাচিত হন?
 
মার্কিন নাগরিকরা যদি রাজনৈতিকভাবে সচেতন হন, ইসরাইলিরা যদি নিজেদের রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে সত্যিই বিচক্ষণ হন, তাহলে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মতো দুই নেতার হাতে বারবার রাষ্ট্রের ভাগ্য তুলে দেওয়া হয় কীভাবে? প্রশ্নটি অস্বস্তিকর। কিন্তু আজ এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।
 
কারণ এটি শুধু দুজন ব্যক্তির রাজনৈতিক চরিত্রের প্রশ্ন নয়। এটি প্রশ্ন—একটি উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিকেরা কতটা রাজনৈতিকভাবে সচেতন, কতটা তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত নেন এবং কতটা আবেগ, পরিচয়, ভয় ও প্রচারণার দ্বারা প্রভাবিত হন।
 
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকদের রাজনৈতিক জ্ঞান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা হচ্ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিভিন্ন জরিপে মার্কিন জনগণের রাজনৈতিক ও নাগরিক জ্ঞানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ধরা পড়েছে। এমনকি ২০২৩ সালের একটি পিউ কুইজে আমেরিকানদের সরকারি কাঠামো ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জ্ঞান যাচাই করা হয়েছিল। অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্রের নাগরিক হওয়া আর রাজনীতি সম্পর্কে গভীরভাবে সচেতন হওয়া—এক জিনিস নয়। আর এই ফাঁকটাই রাজনৈতিক নেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ। 
 
ট্রাম্প: রাজনীতির মঞ্চে নাকি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারখানা?ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি সিদ্ধান্তকে স্থির নীতির চেয়ে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন, তিনি ব্যবসায়ী তিনি রাজনৈতিকভাবে পরিপক্ক ব্যক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সত্যিই কি যোগ্য? একটি বিশ্ব পরাশক্তির রাষ্ট্রপ্রধানের মুহূর্তে মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদল ও অস্থির সিদ্ধান্ত কি রাষ্ট্রটির জন্য মঙ্গলজনক? আজ যে অবস্থান, কাল তার বিপরীত অবস্থান; আজ যুদ্ধের হুমকি, কাল আলোচনার বার্তা; আজ সর্বোচ্চ চাপ, কাল আবার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নতুন হিসাব।
ইরান যুদ্ধ তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
 
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে—এমন প্রত্যাশা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস পর বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরান যুদ্ধে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপক পরাজয়ের গ্লানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার ক্ষয়ের পাশাপাশি সামরিক হামলা অব্যাহত রাখতে অক্ষমতা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটি আত্মসমর্পণ করেনি, ভেঙে পড়েনি এমনকি তারা যুদ্ধের মধ্যেও নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের সামরিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা দিনে দিনে বৃদ্ধি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এখন সামরিক চাপে পড়ে বাঁচার পথ খোঁজার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পথ খুঁজছে। এখানেই প্রশ্নটি সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে।
 
যুদ্ধ শুরু করার আগে যদি একজন রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা রাজনৈতিক নেতার যুদ্ধের পরিসমাপ্তি বা পরিণতি কিংবা শেষটা জানা না থাকে, তাহলে যুদ্ধ শুরু করা কি কৌশল, নাকি হঠকারিতা?
একটি রাষ্ট্রের সামরিক শক্তি দিয়ে আঘাত করা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু সেই আঘাতের পর রাজনৈতিক ফলাফল কী হবে, প্রতিপক্ষ কীভাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাবে, আঞ্চলিক শক্তিগুলো কোন দিকে যাবে, বিশ্ববাজারে কী হবে, মিত্ররা কতটা পাশে থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না থাকলে সামরিক বিজয়ও কৌশলগত পরাজয়ে পরিণত হতে পারে।
ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পর ঠিক সেই আশঙ্কাই সামনে এসেছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, যুদ্ধ এখন কার্যত ব্যয়বহুল অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ ইরানের অর্থনীতিতে প্রবল চাপ সৃষ্টি করলেও তেহরান এখনো টিকে আছে এবং চীন ও ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর ভর করে নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলার চেষ্টা করছে।
আর এখানেই মার্কিন আধিপত্যের প্রশ্নটি সামনে আসে। নিষেধাজ্ঞা যদি আর আগের মতো কাজ না করে? ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সাথে ইরান ২৫ বিলিয়ন ডলারের পরমাণু চুক্তি করেছে এর মাধ্যমেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের প্রতি দেওয়া নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছে। চীন ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিপরীত ঘোষণা দিয়েছে, পাকিস্তানসহ ইরানের সাথে সম্পর্ক ও বাণিজ্য সম্পর্ক রাখা রাষ্ট্রগুলো ঠিকই ইরানের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলাফল কি? যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে পরাজয়ের পাশাপাশি এবার নিষেধাজ্ঞা দিলে সেই নিষেধাজ্ঞাকে যদি বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র বুড়ো আঙ্গুল দেখায় নিজেদের স্বার্থে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এখন কি করবে গোটা বিশ্বের সাথে কি যুদ্ধ করবে? তা সম্ভব নয় অর্থাৎ এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ আধিপত্যবাদী একটি শক্তির পরাজয়ের বিষয়ে স্পষ্ট করছে যাকে আর বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রই ভয় না পেয়ে বরং তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাবে।
 
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন শক্তির অন্যতম বড় অস্ত্র ছিল ডলার, আর্থিক ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং কাঠামো এবং নিষেধাজ্ঞা। যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাষ্ট্রকে সামরিকভাবে পরাজিত না করেও তার অর্থনীতি বিপর্যস্ত করতে পেরেছে। কারণ বিশ্ব অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
 
কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই নিষেধাজ্ঞা নামক অস্ত্রের কার্যকারিতা যদি ধীরে ধীরে কমতে থাকে-এবং ইতিমধ্যেই তা কমতেও শুরু করেছে?
ইরান তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগার।
ছয় মাসের যুদ্ধেও যদি ইরানকে রাজনৈতিকভাবে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা না যায়, যদি দেশটি বিকল্প বাণিজ্যিক পথ খুঁজে নিতে পারে, যদি চীন ও অন্যান্য রাষ্ট্র মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বাইরে বা তার সীমারেখায় থেকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে, তাহলে ভবিষ্যতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয় আগের মতো কার্যকর থাকবে কি? আর নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় অপর দুই পরাশক্তি চীন রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক করছে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো যারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দুর্বলতার পাশাপাশি আধিপত্যবাদের দুর্বলতাও খুঁজে পেয়েছে। সুতরাং পূর্বের মতো যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞাকে বিশ্ব হয়তো অচিরেই বুড়ো আঙ্গুল দেখাবে এমন কথা বলা অমূলক নয়।
 
এই প্রসঙ্গকে অমূলক বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পিছিয়ে গেছে। অর্থাৎ এখানেও বাস্তব ভূরাজনীতি মার্কিন ইচ্ছার সামনে সীমা তৈরি করছে।
 
এটাই সম্ভবত নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকেতগুলোর একটি। মার্কিন আধিপত্য একদিনে ভেঙে পড়বে—এমন কথা বলা এখন আর অতিরঞ্জিত নয়। এই একক আধিপত্যের কার্যকারিতা যদি ধীরে ধীরে কমতে থাকে, সেটি শনাক্ত করার জন্য বড় কোনো ঘোষণার অপেক্ষা করতে হয় না। রাষ্ট্রগুলো যখন বিকল্প শক্তিকেন্দ্র, বিকল্প বাণিজ্যিক ব্যবস্থা এবং বিকল্প কূটনৈতিক পথ তৈরি করতে শুরু করে, তখনই পুরোনো ব্যবস্থার ভিত নড়তে শুরু করে।
 
নেতানিয়াহু: ইসরাইলের নিরাপত্তার রক্ষক, নাকি রাষ্ট্রটির ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি?
ইসরাইলের ক্ষেত্রেও প্রশ্নটি আরও নির্মম। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলি রাজনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তিদের একজন। তার রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে নিরাপত্তা, শক্তি, সামরিক প্রতিরোধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—যে নিরাপত্তা নীতির নামে একের পর এক যুদ্ধ শুরু করা হচ্ছে, সেটি কি শেষ পর্যন্ত ইসরাইলকে আরও নিরাপদ করছে, নাকি তার শত্রু আরও বাড়িয়ে তুলছে?
 
২০২৬ সালের ইসরাইলি রাজনীতির দিকে তাকালেই দেখা যায়, নেতানিয়াহুর প্রতি আস্থা আগের মতো অটুট নয়। জুলাইয়ে রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলেছিল, জনআস্থার সংকটের কারণে নেতানিয়াহুর পরবর্তী নির্বাচনে হারার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যদিও তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যেও স্পষ্ট বিকল্প নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
 
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো—ইসরাইলি জনগণের একটি অংশ যুদ্ধকে সমর্থন করলেও সরকারের সেই যুদ্ধ থেকে কাঙ্ক্ষিত বিজয় এনে দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে তাদের আস্থা কমেছে। অর্থাৎ সমস্যাটি শুধু নেতানিয়াহু নন।সমস্যাটি হলো এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ, যেখানে নিরাপত্তা-ভীতি এত প্রবল যে যুদ্ধের প্রশ্নে রাজনৈতিক যুক্তি প্রায়ই আবেগের কাছে পরাজিত হয়।
 
তাহলে ইসরাইলিরা কেন এমন নেতৃত্বকে সুযোগ দেয়?এই প্রশ্নের উত্তর সম্ভবত ‘ইসরাইলিরা রাজনৈতিকভাবে অজ্ঞ’—এত সরল নয়।
বরং সমস্যা আরও গভীর। একটি সমাজ যখন দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ, সন্ত্রাস, নিরাপত্তা সংকট ও অস্তিত্বের ভয়ের মধ্যে থাকে, তখন জনগণ রাজনীতিকে আদর্শগত প্রশ্নের চেয়ে নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে দেখতে শুরু করে। তখন একজন নেতা যদি বলেন—‘আমি আপনাদের নিরাপদ রাখব’, তার অন্যান্য ব্যর্থতা অনেক সময় সেই একটি প্রতিশ্রুতির আড়ালে চাপা পড়ে যায়।
 
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক শক্তির একটি বড় উৎস এখানেই। এমনকি আজও ইসরাইলি রাজনীতিতে তার বিকল্প শক্তিগুলো একক রাজনৈতিক পথ দেখাতে পারছে না। চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক ব্যর্থতার পরও বিরোধীরা একটি স্পষ্ট ও ঐক্যবদ্ধ বিকল্প নীতি হাজির করতে পারেনি। এখানেই গণতন্ত্রের এক নির্মম সত্য সামনে আসে:
জনগণ সব সময় সেরা নেতাকে নির্বাচন করে না; অনেক সময় তারা সবচেয়ে পরিচিত, সবচেয়ে শক্তিশালী বা সবচেয়ে ভয়ের সময়ে সবচেয়ে আশ্বাসদায়ক নেতাকেই নির্বাচন করে।
 
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মিল কোথায়?
দুজনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভিন্ন। তাদের দেশের রাজনৈতিক কাঠামোও ভিন্ন। কিন্তু তাদের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল আছে—সংকটকে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার ক্ষমতা। ভয় রাজনৈতিক পুঁজি। শত্রুর ভয় রাজনৈতিক পুঁজি। যুদ্ধের ভয় রাজনৈতিক পুঁজি।রাষ্ট্রের অস্তিত্বের ভয় আরও বড় রাজনৈতিক পুঁজি। আর যে নেতা জনগণকে বোঝাতে পারেন যে ‘শুধু আমিই আপনাদের রক্ষা করতে পারি’, তিনি নিজের ব্যর্থতাকেও রাজনৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখতে পারেন।কিন্তু ইরান যুদ্ধ সেই মডেলের সীমাবদ্ধতা সামনে নিয়ে এসেছে।
 
যুদ্ধের শুরুতে সামরিক শক্তির প্রদর্শন যতটা সহজ ছিল, ছয় মাস পরে যুদ্ধের সমাপ্তি ততটাই কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ-সমর্থনও কমেছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের পক্ষে মার্কিন জনসমর্থন মাত্র ৩১ শতাংশে নেমে এসেছে এবং ট্রাম্পের অনুমোদনও ৩৩ শতাংশে নেমেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি ও অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপ তৈরি করেছে। এগুলো ছোট সংখ্যা নয়।কারণ কোনো সাম্রাজ্যের শক্তি শুধু তার বোমার সংখ্যায় মাপা হয় না। শক্তি মাপা হয়—তার অর্থনীতি কতটা স্থিতিশীল, জনগণ কতটা যুদ্ধের পক্ষে, মিত্ররা কতটা নির্ভরশীল, প্রতিপক্ষ কতটা ভীত এবং বিশ্বব্যবস্থা তার নির্দেশ কতটা মেনে চলে—এসব দিয়ে।
 
ইরান কি যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে দিয়েছে? এমন দাবির সরাসরি উত্তর দেয়া না গেলেও এতটুকু দেয়া যায় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশ্ব আধিপত্যবাদী এবং একক পরাশক্তির ক্ষমতা নিয়ে যে লক্ষ্য নিয়ে হামলা শুরু করেছিল সেই লক্ষ্য পরাজিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখনো নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর একটি মনে করলেও ধীরে ধীরে তার অস্ত্রভাণ্ডার ক্ষয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্যের ইতি টানার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইসরাইলও দীর্ঘদিন থেকে নিজেকে সামরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী রাষ্ট্র মনে করলেও ইরান যুদ্ধের পর তাদের দুর্বলতা ক্রমানুযায়ী স্পষ্ট হচ্ছে।
 
কিন্তু যুদ্ধের ফলাফল বিশ্লেষণ করতে শুধু কে কতগুলো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে তা দেখলে হবে না।
প্রশ্ন হলো—কে তার রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে? এ প্রশ্নের উত্তরটি সরল না হলেও এতটুকু স্মরণ যে ইরান পূর্বে যে অবস্থানে ছিল সেখানেই আছে, মাঝখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী শক্তির ঘাঁটিগুলো ধ্বংসের মাধ্যমে তাদের অবস্থান অনিশ্চিত করেছে, মিত্র রাষ্ট্রগুলোর বিশ্বাস ভেঙে গেছে, পাশাপাশি ইসরাইল তার নিরাপত্তাকে আরো ঝুঁকিতে ফেলেছে।
 
ইরানকে যদি সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করানো না-ই যায়, তার শাসনব্যবস্থা যদি ভেঙেই না পড়ে, তার অর্থনীতি যদি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও পূর্বের মতোই টিকে থাকে, তার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান যদি ছয় মাস পরও অনির্দিষ্ট থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে যদি একই সঙ্গে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যর্থতার হিসাব করতে হয়—তাহলে অন্তত এটুকু বলা যায়, যুদ্ধটি সেই সরল ‘দ্রুত বিজয়’-এর গল্প নয়, যা শুরুতে তুলে ধরা হয়েছিল তা এখন মার্কিন ইসরাইলি অপরাজেয় শক্তির পরাজয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।আর এটাই মার্কিন আধিপত্যের জন্য বিপজ্জনক প্রশ্ন যা হয়তো অচিরেই ঘুনে ধরা বাঁশের মতো হুরমুড় করে ভেঙ্গে পড়বে
 
নতুন বিশ্বব্যবস্থা কি তাহলে শুরু হয়ে গেছে?
সম্ভবত ‘শুরু হয়ে গেছে’ বলার চেয়ে বলা ভালো—তার লক্ষণগুলো ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে এবং বিশ্ব একমুখী বিশ্বব্যবস্থা থেকে বহুমুখী বিশ্ব ব্যবস্থার দিকে ক্রমানুযায়ী অগ্রসর হচ্ছে এবং সম্ভবত সেটি দু-তিন বছর এর মধ্যেই বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট হবে।
 
চীন, রাশিয়া, ইরান উত্তর কোরিয়া এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তি এমন একটি বিশ্বব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে—এমন আকাঙ্ক্ষা ক্রমেই স্পষ্ট।ইরান যুদ্ধ সেই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে এবং করছে।
 
কারণ যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি নিষেধাজ্ঞা ব্যবহার করবে, অন্য রাষ্ট্রগুলো তত বেশি বিকল্প অর্থনৈতিক পথ খুঁজবে। যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে, অন্য শক্তিগুলো তত বেশি নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও জোট শক্তিশালী করার প্রয়োজন অনুভব করবে।এখানেই ইতিহাসের ব্যঙ্গ। একক আধিপত্যকে রক্ষা করতে গিয়ে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহারই কখনো কখনো সেই আধিপত্যের বিরুদ্ধে বিকল্প শক্তিকেন্দ্র তৈরি করে। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তাই ট্রাম্প বা নেতানিয়াহুকে নিয়ে নয়। সবশেষে প্রশ্নটি শুধু ট্রাম্পের রাজনৈতিক অস্থিরতা বা নেতানিয়াহুর উগ্র জাতীয়তাবাদ নিয়ে নয়।
প্রশ্নটি আরও বড়।গণতন্ত্র কি সত্যিই সব সময় রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পুরস্কার দেয়?
নাকি গণতন্ত্র কখনো কখনো জনগণের ভয়, ক্ষোভ, পরিচয়, বিভাজন ও আবেগকেও ক্ষমতার সিঁড়ি বানিয়ে দেয়?
 
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উত্থান সেই প্রশ্নের কঠিন উদাহরণ।আজ ইরান যুদ্ধ সেই প্রশ্নটিকে আরও নির্মম করে তুলেছে।
যে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার কথা ছিল, সেটি ছয় মাস পরও শেষ হয়নি। যে নিষেধাজ্ঞাকে ইরানকে নত করার অস্ত্র হিসেবে দেখা হয়েছিল, সেটি এখন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির নতুন পরীক্ষায় পড়েছে। যে সামরিক শক্তিকে সর্বময় ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছিল, সেই শক্তিকেই এখন দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতি, অস্ত্রের মজুত, অর্থনীতি, তেলের দাম এবং জনসমর্থনের হিসাব করতে হচ্ছে।
এখানেই ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
পরাশক্তির পতন সাধারণত একটি দিনে ঘটে না।
 
একটি যুদ্ধ, একটি নিষেধাজ্ঞা বা একটি ভুল সিদ্ধান্ত কোনো সাম্রাজ্যকে রাতারাতি ধ্বংস করে না। কিন্তু যখন একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি, সামরিক প্রস্তুতি, কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং মিত্রদের আস্থা ক্ষয় করতে থাকে, তখন পতনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে—যদিও বাইরে থেকে সাম্রাজ্য তখনও শক্তিশালী দেখায়।
ইরান যুদ্ধই হয়তো মার্কিন আধিপত্যের পতন এখন অনিবার্য করে তুলেছে।
 
কিন্তু এই যুদ্ধ যদি প্রমাণ করে যে বিশ্বের বৃহত্তম সামরিক শক্তিও সব সমস্যার সামরিক সমাধান দিতে পারে না, বিশ্বের বৃহত্তম আর্থিক শক্তিও সব রাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না এবং তার মিত্ররাও সবসময় তার কৌশল অনুসরণ করবে না—তাহলে এটি অবশ্যই একক আধিপত্যের যুগের জন্য একটি ঐতিহাসিক সতর্কবার্তা।
 
আর সেই সতর্কবার্তার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে দুটি নাম—ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
তাদের রাজনৈতিক উত্থান তাই শুধু দুই নেতার সাফল্যের গল্প নয়। এটি গণতন্ত্রের একটি গভীর দুর্বলতার গল্পও হতে পারে—যেখানে রাজনৈতিকভাবে সচেতন জনগণও কখনো কখনো এমন নেতাকে ক্ষমতায় আনে, যিনি তাদের নিরাপত্তার নামে এমন সিদ্ধান্ত নেন, যার মূল্য শেষ পর্যন্ত সেই জনগণকেই দিতে হয়।
 
প্রশ্ন তাই এখন আর শুধু—ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু কী ভুল করেছেন?প্রশ্ন হলো—তাদের ভুলের রাজনৈতিক মূল্য কে দেবে?
ইসরাইলি জনগণ?আমেরিকান জনগণ? উত্তর হলো হ্যাঁ, তাদের জনগণ রাজনৈতিকভাবে সচেতন হলে এমন অস্থির প্রকৃতির, রাজনৈতিকভাবে গভীর প্রজ্ঞার অধিকারী নন, মানসিক ভারসাম্যহীনতা যাদের মধ্যে স্পষ্ট তাদেরকে কিভাবে এমন দুটি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত করেন?
 
এই দুটি রাষ্ট্রের জনগণের নেতা নির্বাচনের ভুলের খেসারত কি শুধু তারাই দিচ্ছে নাকি তাদের নেতা নির্বাচনের ভুলের কারণে এর মাশুল দিচ্ছে ইরানি জনগণ?নাকি পুরো বিশ্ব?সময়ের সবচেয়ে কঠিন উত্তরটি সম্ভবত এখানেই লুকিয়ে আছে। গোটা বিশ্ব শাসনকারী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনে যদি তাদের জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারে তাহলে তাদের বিশ্ব শাসনের আধিপত্যের ভার এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে চলে যায় কিংবা তাদের এরূপ অজ্ঞতার কারণেই আজ বিশ্ব একমুখী শাসনব্যবস্থা থেকে বহুমুখী শাসনব্যবস্থার সুফল পেতে চলেছে-যা সারা বিশ্বের জন্য অমঙ্গল জনক নয় বরং তাদের ভুলের খেসারত-ই বিশ্ব ব্যবস্থাকে নতুন একটি বিশ্ব ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাবে যা বিশ্বের জন্য অকল্যাণকর নয় বরং বিশ্ব যা প্রত্যাশা করছে তেমনটিই হতে চলেছে- এমন কথা বলা আজকের দিনে অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ও এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

একই সময়ে নতুন করে ছয়জনের হাম রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ ‍নিয়ে ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩১ জনের।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে দুইজন। দুই শিশুর মধ্যে একজনের বয়স ৫ মাস ও একজনের ১১ মাস। এছাড়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে আরও একজন। ওই শিশুর বয়স ৯ মাস।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়- গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১২৮ জন। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৫৯ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬০জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৯ জন ভর্তি হয়েছেন।

এ নিয়ে বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত ৩৫৬ জন চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪০ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১০ জন রয়েছেন। বাকিরা সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রতিবেদন আরও বলা হয়, এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গ নিয়ে ১৪১ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৫১ জন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিমালয় থেকে আরও যে দুঃসংবাদ আসছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


হিমালয় থেকে আরও যে দুঃসংবাদ আসছে

এশিয়ার 'ওয়াটার টাওয়ার' হিসেবে পরিচিত হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চল বর্তমানে উষ্ণায়নের করাল গ্রাসে অভূতপূর্ব পরিবেশগত সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। শতাব্দী ধরে যে পর্বতমালা কোটি কোটি মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে সাহায্য করেছে, তা এখন নিজেই গলে বিলীন হতে চলেছে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এই অঞ্চলে হিমবাহের গলে যাওয়ার গতি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বরফ ক্ষয়ের হার শতাব্দীর সূচনালগ্ন থেকে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এটি সামগ্রিক পরিবেশ ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। কাঠমাণ্ডুভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা 'ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট' (আইসিআইএমওডি)-র প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে এই অঞ্চলে বরফের পরিমাণ বহুগুণ কমে গেছে। বিশেষত ১৯৭৫ সালের পর থেকে হিমালয়ের বিভিন্ন অংশে প্রায় ২৭ মিটার পর্যন্ত হিমবাহের পুরুত্ব ক্ষয় হয়েছে।

এই চরম বাস্তবতার কারণে হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসীরা প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় আড়াই শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা এই নির্মম সত্যকে আবার সামনে এনেছে। গবেষক ও বিজ্ঞানীরা এই বিপর্যয়ের পেছনের বিভিন্ন কারণ বিশ্লেষণ করে একটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক প্রবণতা চিহ্নিত করেছেন। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে যেখানে পূর্বে কেবল তুষারপাত হতো, সেখানে এখন স্বাভাবিক তুষারপাতের পরিবর্তে অঝোর ধারায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চার হাজার মিটার বা তারও বেশি উচ্চতায় এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত পার্বত্য ঢালকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং দ্রুত বরফ গলিয়ে আকস্মিক ঢলের সৃষ্টি করছে।

অতিরিক্ত উষ্ণায়নের কারণে হিমবাহের পেছনের স্থায়ী বরফ বা পারমাফ্রস্টের অবক্ষয় ঘটছে, যা পাহাড়ের পাথর ও বরফের মিশ্রণ ধসে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নেপালের সাম্প্রতিক বন্যায় কোনো উচ্চ-উচ্চতার স্থান থেকে বরফ ও পাথরের বিরাট ধস নেমে এসেছিল। বিশাল পরিমাণের সেই ধ্বংসাবশেষ কোনো নদীতে পতিত হয়ে পানির গতিপথ রুদ্ধ করে এবং পরবর্তীতে তা ভেঙে গিয়ে বিপুল জলরাশি, পলি ও পাথর নিচের দিকে ধেয়ে আসে। হিমবাহ পিছু হটার ফলে পূর্বে বরফে ঢাকা এলাকাগুলো এখন উন্মুক্ত ও শুষ্ক পাথুরে জমিতে পরিণত হয়েছে।

এই অনাবৃত শিলাখণ্ডগুলো সূর্যালোক থেকে অধিক পরিমাণে তাপ শোষণ করে আশপাশের পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে, যা পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি ভয়াবহ চক্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই উচ্চতা-ভিত্তিক উষ্ণায়নের কারণে পর্বতগুলোর ওপরের স্তরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বাইরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বরফের আধার বলা হয়ে থাকে। প্রায় সাড়ে পঞ্চান্ন হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা তেষট্টি হাজারেরও বেশি হিমবাহ এশিয়ার প্রধান দশটি নদী ব্যবস্থার উৎস। এই নদীগুলোর ওপর সরাসরি নির্ভর করে অববাহিকায় বসবাসকারী প্রায় দুইশত কোটি মানুষের খাদ্য, পানি ও জীবনজীবিকা। কিন্তু আইসিআইএমওডি-র উপাত্ত অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এই অঞ্চলের হিমবাহগুলো তাদের মোট আয়তনের প্রায় বারো শতাংশ এবং আনুমানিক বরফ সঞ্চয়ের নয় শতাংশ হারিয়েছে। বিশেষ করে সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বরফ ক্ষয়ের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, যা পুরো এশিয়ার পানি নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট শঙ্কার বিষয়। যদি এখনই বৈশ্বিক পর্যায়ে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে এই হিমবাহগুলোর ক্ষয় এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাবে যেখানে তা আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%