০১:১৬ এম
সৌদি আরবের হুথি হামলা প্রতিরোধ এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদনের জন্য তুরস্কের পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ হিসেবে তুরস্কের এই পদক্ষেপ রিয়াদ ও ইসলামাবাদের সঙ্গে আঙ্কারার কৌশলগত সামরিক সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তিনটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
গত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব ঐতিহাসিক 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' স্বাক্ষর করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, জোটের যেকোনো সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা বাকি সদস্যদেশগুলোর ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতিগুলি তৎকালীন যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।
আরও পড়ুন: ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলে পরিবর্তন, শত্রুকে তার ভূখণ্ডেই জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি
চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদে এই জোটের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন নিশ্চিত করার বিষয়ে দেশগুলো একমত হয়।
তুরস্কের নিজস্ব শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প রয়েছে। তারা সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। পাশাপাশি রিয়াদের প্রয়োজনীয় সামরিক প্রযুক্তির চাহিদা মেটাতে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আঙ্কারা। তাছাড়া লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ও নৌনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে দেশটি।
রয়টার্সের দুটি সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকার নুমান কুরতুলমুশ বর্তমানে কিরগিজস্তান সফরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরলেই চুক্তিটি পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে পাঠাবেন। কমিটিতে জমা দেওয়ার পরই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু ও বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্য একটি সূত্রের মতে, চলতি সপ্তাহের শুক্রবারের মধ্যেই পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের জনগণের সঙ্গে বিরোধ নেই, নীতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের আপত্তি
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তুরস্কের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থাটিকে জানান, এই চুক্তির আওতায় তুর্কির অবদান মূলত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং অস্ত্রব্যবস্থা সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই জোটের অধীনে অন্য কোনো ধরনের সামরিক মোতায়েন করা হয়নি বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
ইয়েমেনের হুথি হামলা মোকাবিলায় তুরস্ক কীভাবে সৌদি আরবকে রক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, মক্কা চুক্তি কোনো 'আক্রমণাত্মক চুক্তি' নয়। তুরস্ক অন্য কোনো দেশে হামলা চালানোর জন্য নিজ দেশের সেনা পাঠাবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন