ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে: এমপি তাহসিনা রুশদীর


ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে: এমপি তাহসিনা রুশদীর

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা মন্তব্য করেছেন যে, একটি দক্ষ ও শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষার সুযোগকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বর্তমান বিশ্বে শুধুমাত্র প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা যথেষ্ট নয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হলে একটি এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের আলহাজ্ব লজ্জতুন নেছা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কলেজ শাখার উদ্বোধন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

তাহসিনা রুশদীর লুনা আরও বলেন, "একটি দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষার আলো যত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে, সমাজ তত বেশি এগিয়ে যাবে।" তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, "প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার।"

‎

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তোলষি কুমার সাহার সভাপতিত্বে এবং শিক্ষক মাওলানা আবুল বশর মোহাম্মদ ফারুকের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহেদ বিন কাশেম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গৌছ আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. লিলু মিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক, জননেতা ইলিয়াস আলী সাহেবের একান্ত সহকারী মো. ময়নুল হক, প্রভাষক মোনায়েম খান, অলংকারী ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান লিটন, খাজাঞ্চি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন, বিএনপি নেতা সাজ্জাদুর রহমান, শিক্ষানুরাগী মাওলানা আব্দুর রউফ, মুক্তাদীর, কয়েছ প্রমুখ।

‎

আরও পড়ুন: ইউনিক্লোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ডা. মোস্তাক আহমদ রুহেল। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শিক্ষার্থী তারেক আহমদ। মানপত্র পাঠ করেন শিক্ষার্থী মুক্তারা জান্নাত ফাহমিদা। নাতে রাসুল পরিবেশন করেন শিক্ষার্থী মারুফা বেগম।

‎

কলেজ শাখার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়নে সরকার সচেষ্ট : স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ পি.এম


বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়নে সরকার সচেষ্ট : স্পিকার

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের জনগণের বাকস্বাধীনতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

স্পিকারের বক্তব্যটি আজ তাঁর কার্যালয়ে জার্মানির সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রকাশ পায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং জার্মানির মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। দেশটির স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকে জার্মান সরকার বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করে আসছে। স্পিকার উল্লেখ করেন, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য হিসেবে জার্মানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

স্পিকার আরও বলেন, ‘১৯৩৭ সাল থেকে আমাদের দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও গণতান্ত্রিকভাবে আমরা পিছিয়ে ছিলাম। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয় অর্জিত হলেও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র অধরাই রয়ে গিয়েছিল।’

তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করে এ দেশের গণতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করেছিল।

স্পিকার বলেন, স্বৈরাচারী আমলের গুম, খুন, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে দেশে পুনরায় গ্রহণযোগ্য এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বেগম খালেদা জিয়ার উল্লেখ করে বলেন, তিনি বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। দেশের নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে তাঁর অবদান অনুসরণীয়।

স্পিকার বলেন, গণতন্ত্রপ্রিয় এ দেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য নিজেদের বারবার উৎসর্গ করেছে। তাদের দৃঢ় মনোবল এবং সংগ্রামের কারণে গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে।

এ সময় স্পিকার জাতীয় সংসদে নারী এমপিদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়েও অবহিত করেন, বর্তমান সংসদে জনগণের ভোটে ৬ জন নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য এবং ৫০ জন সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই উচ্চ শিক্ষিত এবং স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎকালে জার্মানি-বাংলাদেশের সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির প্রসার এবং বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মতবিনিময় করে।

প্রতিনিধিদলটি জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ-বুন্দেস্ট্যাগ সদস্য নিকলাস কাপের নেতৃত্বে গেরোল্ড ওটেন, জোহান সাথফ, উলে শাউস এবং ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বৈঠকে অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানালেন প্রেস সচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানালেন প্রেস সচিব

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে, ফ্যাক্টচেকিংয়ের মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, গুজব, গুঞ্জন ও অপপ্রচার রুখতে তথ্য যাচাইয়ের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টালগুলোর ভুল তথ্য থেকে জনগণকে সচেতন থাকার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নিয়মিত আয়োজন ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’-এ অতিথির বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান।

ডিআরইউ’র শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রেস সচিব বলেন, বর্তমানে অনলাইন পোর্টাল, পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যমের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, ‘এসব তথ্য শুধু সরকারকে বিব্রত করছে বা সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে—বিষয়টি এমন নয়। বরং অনিবন্ধিত অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য, গুজব, গুঞ্জন, মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর জন্য গণমাধ্যমকে তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার ধারণা, তিন মাস যদি এমন সচেতনতামূলক একটি অনুষ্ঠান কোনো একটি টেলিভিশনে চলে, কিংবা অন্তত সবগুলো টেলিভিশনে চলে, দেখবেন জনগণ এমনিতেই সচেতন হয়ে যাবে।

আর যারা মিসইনফরমেশন-ডিসইনফরমেশনের এই ব্যবসা খুলে বসেছেন, তারাও নিজেদের গুটিয়ে নেবেন।’

সাংবাদিকদের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ের বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের নিজেদেরই সোচ্চার হতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, গণমাধ্যমের নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাগত ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সালেহ শিবলী বলেন, সরকার সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে। তবে স্বাধীনতার অর্থ যা ইচ্ছা তা লেখা নয়। স্বাধীনতা মানে হচ্ছে এটা নয় যে, যা ইচ্ছে আপনি তা লিখবেন।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমা সরকার, কোনো ব্যক্তি বা সাংবাদিক নির্ধারণ করবেন না; আইন ও বিধি অনুযায়ী আদালত সেই সীমারেখা নির্ধারণ করবে।

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই অংশগ্রহণ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, বিগত দিনের প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা এবং চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে বর্তমান সরকার দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।

সালেহ শিবলী বলেন, সরকার সব নাগরিকের জন্য কাজ করার চেষ্টা করছে। সরকার সকলের হওয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে।

সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে সালেহ শিবলী বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ ছিল, তাদের সুদসহ সম্পূর্ণ ঋণ মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। এতে সারা দেশের প্রায় ১২ লাখের বেশি কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে হাম পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস সচিব বলেন, শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের একটি নির্দিষ্ট টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে হাম ছড়িয়ে পড়ার সময় টিকার সংকট দেখা যায়। ফেব্রুয়ারিতে যখন হাম ছড়ানো শুরু করলো, তখন দেখা গেলো টিকা নেই। এর অর্থ হলো এর আগে পাঁচ বছর ঠিকমতো টিকা দেওয়া হয়নি।

হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে সালেহ শিবলী বলেন, সাধারণত শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের দুই মেয়াদে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার কথা। কিন্তু বিগত সরকারগুলোর আমলে গত পাঁচ বছরে বহু শিশু টিকার আওতার বাইরে ছিল। ফলে মার্চ থেকে রোগটির প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে টিকার সংকট তৈরি হয়।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে শোকসন্তপ্ত মায়েদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। সরকার অতীতের ওপর দায় চাপিয়ে বসে থাকেনি।’

‘এপ্রিল থেকে জরুরি ভিত্তিতে দেশের ৩৫টি জেলায় এবং পরবর্তীতে মে-জুন মাসে এক কোটির বেশি শিশুকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের সহায়তায় টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর নামের আগে ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদাকে সম্মান জানানো আমাদের সংস্কৃতির অংশ। তবে সরকারি অফিসে প্রতিদিন শত শত ফাইলে স্বাক্ষর করার সময় নামের পাশে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ লিখে উপস্থাপন করা যৌক্তিক নয়। এ কারণে সরকারি নথিতে এ ধরনের স্ব-সম্বোধনের প্রথা বন্ধ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শুধু রাজনীতি বা সরকারের দোষারোপের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা ও যোগ্য সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান প্রেস সচিব।

তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া কল্যাণ রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য এবং সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সহসভাপতি মেহেদী আজাদ মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেমের বিরহে হাতে বাঁশি, ২৫ বছর ধরে সুরে মাতাচ্ছেন বাবলু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ পি.এম


প্রেমের বিরহে হাতে বাঁশি, ২৫ বছর ধরে সুরে মাতাচ্ছেন বাবলু

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অনেকেই নিজেকে গুটিয়ে নেন। তবে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার হাদী বাবুল আক্তার বাবলুর গল্পটা ভিন্ন। জীবনের অপূর্ণ প্রেমকে সঙ্গী করে হাতে তুলে নিয়েছেন বাঁশি। সেই বাঁশির সুরেই কেটে গেছে প্রায় ২৫ বছর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে (১৭ সেপ্টেম্বর) আলফাডাঙ্গা হাসপাতাল রোডের জননী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বাঁশির সুরে দর্শকদের আনন্দ দেন বাবলু। তাঁর বাঁশির সুর শুনতে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। পরিচিত নানা গানের সুর তুলে উপস্থিত দর্শকদের কিছুটা সময়ের জন্য মাতিয়ে রাখেন তিনি।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের রুদ্রবানা গ্রামের হাদী আতিউর রহমানের ছেলে বাবলু। এলাকায় তিনি ‘বাঁশি বাবলু’ নামে পরিচিত। এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।

জীবিকার প্রয়োজনে দর্জির কাজ ও কৃষিকাজ করেন। পাশাপাশি ফুটবল খেলেন এবং শখের ‘দাবুড়ে’ ঘোড়া নিয়ে বিভিন্ন ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

তবে এসব পরিচয়ের পাশাপাশি বাবলুর সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি একজন বংশীবাদক। প্রায় ২৫ বছর ধরে বাঁশি বাজিয়ে আসছেন। বাড়ি থেকে বের হলেই বাঁশি থাকে সঙ্গে। সাইকেলে পথে বের হলে পরিচিত-অপরিচিতরা তাঁকে থামিয়ে বাঁশি বাজানোর আবদার করেন। বিনা পারিশ্রমিকেই তাঁদের আবদার পূরণ করেন তিনি।

রাস্তার মোড়, বাজার, নদীর পাড় কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে সুযোগ পেলেই বাঁশিতে সুর তোলেন বাবলু। তাঁর সুর শুনতে পথচারীরাও কিছুক্ষণের জন্য থেমে যান।

বাবলু বলেন, ওস্তাদ মনা মিয়া, জিতেন ঘোষ ও ওস্তাদ কায়েমের কাছ থেকে বাঁশি বাজানো শিখেছি। প্রায় ২৫ বছর ধরে বাঁশির সুরে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করছি। ২৪ ঘণ্টাই বাঁশি আমার সঙ্গে থাকে। সুযোগ পেলেই সুর তুলি।

তিনি আরও বলেন, কলেজজীবনে প্রেমে ব্যর্থ হওয়ার পর বাঁশির সুরের মাঝেই নিজেকে সঁপে দিয়েছি। মানুষের আনন্দের জন্য বাকি জীবন কাটাতে চাই। রেডিও-টেলিভিশন কিংবা চলচ্চিত্রে বাঁশি বাজানোর সুযোগ পাওয়াটা আমার স্বপ্ন।

স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম ছিরু বলেন, মাথায় লম্বা চুল আর বাঁশির সুর—দুটিই বাবলুকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। এ অঞ্চলে তাঁর বাঁশির সুর শোনেননি, এমন মানুষ খুব কম।

আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রভাষক ও পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, বাঁশি বাংলা সংস্কৃতির প্রাচীন বাদ্যযন্ত্রগুলোর একটি। বাবলু দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম, হাট-বাজার ও পথে পথে বাঁশির সুর ছড়িয়ে লোকজ ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

বাবলুর কাছে এখন বাঁশিই সবচেয়ে আপন। সাইকেলে পথে বের হলে কাঁধে থাকে বাঁশি। সুযোগ পেলেই তাতে সুর তোলেন। আর সেই সুরে নিজের অতীতকে পেছনে ফেলে মানুষকে আনন্দ দিয়ে চলেছেন ‘বাঁশি বাবলু’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তানজানিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে রুশ হামলায় ক্যাপ্টেন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ পি.এম


তানজানিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে রুশ হামলায় ক্যাপ্টেন নিহত

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কৃষ্ণসাগরে তানজানিয়ার পতাকাবাহী একটি বেসামরিক জাহাজে রাশিয়া হামলা করেছে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে যে, এই হামলায় জাহাজটির ক্যাপ্টেন নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের দীর্ঘ সময় ধরে চলমান পরিস্থিতির মধ্যে রাশিয়া হামলা আরও তীব্র করেছে।

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই হামলায় রাশিয়া কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের বন্দর এবং জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে দেশটির নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি, ইউক্রেনের অর্থনীতিও আরও সংকটের মুখে পড়েছে।

কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানায়।

ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘তানজানিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজ ইউক্রেনের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার সময় রুশ ড্রোনের হামলার শিকার হয়েছে।’

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ‘হামলায় জাহাজটির ক্যাপ্টেন নিহত এবং আরও তিন নাবিক আহত হয়েছেন।’ তবে ক্যাপ্টেনের জাতীয়তা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা ও আক্রমণের সংখ্যা বেড়ে গেছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা অঞ্চল নিয়মিতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে বেসামরিক এবং পণ্যবাহী নৌযানের চলাচল ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেন তার বাণিজ্যের জন্য সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে সমুদ্রপথে যেসব পণ্য পরিবহন করা হতো, সেগুলোর কিছু এখন স্থলপথে পাঠাতে হচ্ছে।

কিয়েভও সমুদ্রে হামলা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে আজভ সাগরের দিকে লক্ষ্য করে এসব হামলা পরিচালিত হচ্ছে।

জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, হামলার তীব্রতা বাড়ার কারণে যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংঘাতের অবসানের প্রচেষ্টা অচলাবস্থায় থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%