১০:৫২ এম
হলিউডের তারকা টম ক্রুজের সিনেমা মানেই দর্শকদের কাছে বড় পর্দায় রোমাঞ্চ, দুর্ধর্ষ স্টান্ট এবং শ্বাসরুদ্ধকর অ্যাকশন। তবে পরিচিত সেই ছকের বাইরে গিয়ে নির্মিত ‘ডিগার’ বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বিপুল বাজেট, তারকানির্ভর প্রচারণা এবং খ্যাতিমান নির্মাতার উপস্থিতি- কোনোটিই সিনেমাটিকে ব্যবসায়িক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়নি। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, সিনেমাটি ঘিরে সম্ভাব্য লোকসানের অঙ্ক ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর পেছনে অন্তত পাঁচটি কারণ রয়েছে।
বাজেটের তুলনায় আয় নগণ্য
‘ডিগার’ নির্মাণে আনুমানিক ১৫ থেকে ১৮ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। প্রচারণার জন্য আরও প্রায় ১০ কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সিনেমাটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ২৮ কোটি ডলারে। প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, প্রেক্ষাগৃহের আয়ের মাধ্যমে এই বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে আনতে সিনেমাটিকে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি ডলারের ব্যবসা করতে হতো। কিন্তু মুক্তির পর ছবিটি সেই লক্ষ্যের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি। ফলে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা শুরু থেকেই জোরালো হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী
শুরুতেই ধাক্কা বক্স অফিসে
উত্তর আমেরিকায় মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে ‘ডিগার’-এর আয় ছিল মাত্র ৮০ লাখ ডলার। টম ক্রুজের মতো জনপ্রিয় তারকার সিনেমার ক্ষেত্রে এই উদ্বোধনী আয় প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই কম। সাধারণত তাঁর সিনেমার অন্যতম আকর্ষণ থাকে দুঃসাহসিক স্টান্ট ও অ্যাকশন দৃশ্য। কিন্তু ‘ডিগার’-এর ক্ষেত্রে সেই পরিচিত আকর্ষণ দর্শকদের টানতে যথেষ্ট হয়নি। দুর্বল সূচনা পরবর্তী সপ্তাহগুলোতেও সিনেমাটির ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
প্রচারণায় পরিষ্কার হয়নি গল্পের ধরন
সিনেমাটির বিপণন কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রচারণার মাধ্যমে ছবিটির গল্প, বিষয়বস্তু ও ঘরানার স্বাতন্ত্র্য দর্শকদের কাছে যথেষ্ট স্পষ্ট হয়নি বলে মনে করছেন সমালোচকদের একাংশ। ট্রেলার দেখে সম্ভাব্য দর্শকদের অনেকেই বুঝতে পারেননি, সিনেমাটি ঠিক কী ধরনের অভিজ্ঞতা দিতে যাচ্ছে। টম ক্রুজের পরিচিত অ্যাকশনধর্মী ছবির সঙ্গে এর পার্থক্যও দর্শকের প্রত্যাশা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে থাকতে পারে। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রচারণা চালিয়েও প্রত্যাশিত দর্শকসমাগম নিশ্চিত করা যায়নি।
আরও পড়ুন: তানজিন তিশার ক্ষোভ, ফ্যাশন ডিজাইনারের বিরুদ্ধে মামলার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন তুললেন
পরিচিত অ্যাকশন তারকার ব্যতিক্রমী চরিত্র
‘মিশন: ইমপসিবল’ সিরিজসহ বিভিন্ন অ্যাকশননির্ভর সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে টম ক্রুজের একটি নির্দিষ্ট দর্শকগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। তবে ‘ডিগার’-এ তাঁকে দেখা গেছে ভিন্নধর্মী চরিত্রে। আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতু পরিচালিত সিনেমাটিতে তিনি অভিনয় করেছেন ডিগার রকওয়েল নামের এক খামখেয়ালি তেল ব্যবসায়ীর ভূমিকায়। চরিত্রটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁর চেহারাতেও আনা হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
এই ব্যতিক্রমী রূপ দর্শকের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারত। কিন্তু রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও গাঢ় আবহের এই সিনেমা টম ক্রুজের কাছ থেকে প্রত্যাশিত অ্যাকশন বিনোদনের সঙ্গে মেলেনি অনেক দর্শকের কাছে। পরিচিত ঘরানা থেকে সরে আসার এই সিদ্ধান্ত বক্স অফিসে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে সিনেমাটির ব্যর্থতার আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া, কমেছে দর্শকের আগ্রহ
আরও পড়ুন: তানজিন তিশার বিরুদ্ধে নতুন মামলা, বাদীকে হুমকির অভিযোগ
সিনেমাটি নিয়ে সমালোচকদের মতামত যেমন বিভক্ত, দর্শকদের প্রতিক্রিয়াতেও রয়েছে ভিন্নতা। সিনেমাস্কোরে ‘ডিগার’ পেয়েছে ‘সি প্লাস’ গ্রেড। অন্যদিকে, আইএমডিবিতে এর রেটিং ৭.৫। অর্থাৎ ছবিটি একেবারে দর্শক-অপছন্দের তালিকায় পড়ে না। তবে ইতিবাচক মূল্যায়ন বক্স অফিসের সাফল্যে রূপ নেয়নি।
মুক্তির দ্বিতীয় সপ্তাহান্তেই উত্তর আমেরিকায় টিকিট বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়। বড় বাজেটের সিনেমার ক্ষেত্রে দর্শকের মুখে মুখে ইতিবাচক প্রচার আয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ‘ডিগার’ সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। একশ্রেণির দর্শক সিনেমাটিকে পছন্দ করলেও বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীর মধ্যে আগ্রহ তৈরি করতে পারেনি ছবিটি।
লোকসানের অঙ্ক কত বড় হতে পারে
বক্স অফিসের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ‘ডিগার’-এর বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। নির্মাণ ও প্রচারণার সম্মিলিত ব্যয়ের তুলনায় এই আয় অত্যন্ত কম। ভ্যারাইটি-র এক প্রতিবেদনে সিনেমাটির সম্ভাব্য লোকসান ১৫ কোটি থেকে ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বোচ্চ এই অঙ্ক প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি বা তারও বেশি হতে পারে, বিনিময় হারের ওপর নির্ভর করে।
আরও পড়ুন: ‘রামায়ণ’ বিতর্কের মধ্যেই নতুন লুকে প্রশংসায় ভাসছেন সাই পল্লবী
তবে এই হিসাবকে চূড়ান্ত আর্থিক ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রেক্ষাগৃহের আয়ের বাইরে বিভিন্ন স্বত্ব বিক্রি, স্ট্রিমিং চুক্তি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক উৎস থেকে পাওয়া অর্থ হিসাবের আওতায় এলে লোকসানের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে ‘ডিগার’-এর বক্স অফিস ব্যর্থতা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বড় বাজেট কিংবা জনপ্রিয় তারকার উপস্থিতিই কোনো সিনেমার সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। দর্শকের প্রত্যাশা, গল্পের উপস্থাপন, বিপণন কৌশল এবং মুক্তির পর ইতিবাচক প্রচার- সবকিছুর সমন্বয়েই নির্ধারিত হয় একটি সিনেমার বাণিজ্যিক পরিণতি।
তথ্যসূত্র: আইএমডিবি, ভ্যারাইটি ও বিবিসি।
আরও পড়ুন: সিআইডির জনপ্রিয় চরিত্র ডিসিপি চিত্রোলে আর নেই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন