বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১৯ পি.এম
মিউটেশন ফাইলে ১০–২০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ, জালালের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের দাবি:
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভূমিসেবা নিতে গিয়ে অনিয়ম, হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ তুলেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা নিয়াজ মাখদুম। পাশাপাশি জালালের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় ও ভূমি অফিসের বিভিন্ন কাজে মধ্যস্থতার অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি বা মিউটেশন, খতিয়ান সংশোধন, ওয়ারিশসূত্রে জমির রেকর্ড, জমাভাগসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা পেতে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো কোনো মিউটেশন ফাইলের কাজ করিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চুক্তি করা হয়।
সরকারি ফি বনাম কথিত অতিরিক্ত অর্থ: সরকারি ভূমি তথ্য বাতায়নে প্রকাশিত ফি অনুযায়ী, মিউটেশন আবেদনের কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা এবং অনুমোদনের পর DCR ফি ১,১০০ টাকা। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ অনুযায়ী এর বাইরে ১০–২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হলে সেই অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
জালালের মাধ্যমে লেনদেনের অভিযোগ: ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জালাল ভূমি অফিসকেন্দ্রিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন। তার মাধ্যমে ফাইলের কাজ দ্রুত করে দেওয়ার কথা বলে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ফাইলের ধরন ও জমির জটিলতা অনুযায়ী টাকার অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়। একাধিক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে এভাবে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে মোট লেনদেনের পরিমাণ কত-তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে।
অন্যের জমি ও জাল দলিল নিয়েও অভিযোগ: স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্যের জমি নিজের নামে নামজারি করার চেষ্টা, ওয়ারিশদের বাদ দিয়ে রেকর্ড পরিবর্তন, সন্দেহজনক বা জাল দলিল ব্যবহার এবং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টির মতো বিষয়েও দালালদের তৎপরতা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো জমি বা দলিলের বিষয়ে জালিয়াতির অভিযোগ নথিপত্র যাচাই ছাড়া সত্য হিসেবে দাবি করা যাচ্ছে না।
তদন্তের দাবি: ভুক্তভোগীরা বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বরিশাল জেলা প্রশাসনের কাছে পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মিউটেশনসহ সংশ্লিষ্ট ফাইলগুলো তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে নিয়াজ মাখদুম ও জালালের ভূমিকা, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ফাইলের নথিপত্র যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে নিয়াজ মাখদুম ও জালালের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
বিশেষ অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ১নং পাংগাশিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম বারেককে ঘিরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ইউনিয়নের একটি এলাকায় আমিনুল ইসলাম বারেক মেম্বারকে নিয়ে ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে জানা যায়, একজন বিবাহিত নারীর সঙ্গে তার কথোপকথন ও দেখা করার বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে সংবাদকর্মীদের হাতে কথিত ফোনালাপের কিছু রেকর্ড এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব রেকর্ডের স্বতন্ত্র সত্যতা, সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং আইনগত গ্রহণযোগ্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে এইচ এম আতিকুর রহমান (হারুন হাওলাদার), পিতা—আঃ গনি হাওলাদার, স্থানীয় বারেক মেম্বারের সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে একটি মানববন্ধন করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
মানববন্ধনে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে নিয়ে আপত্তিকর ও কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
আলতাফ হোসেন চৌধুরী বর্তমানে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির নেতা। পটুয়াখালী-১ আসনের মধ্যে দুমকি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, আমিনুল ইসলাম বারেকের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে স্থানীয়দের একাংশ দাবি করছেন। তাদের অভিযোগ, তিনি বর্তমানে পাংগাশিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। একই সঙ্গে তার অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন দাবি সামাজিকভাবে আলোচিত হচ্ছে। এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ আমিনুল ইসলাম বারেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মানববন্ধনে একজন সংসদ সদস্যকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া হয়ে থাকলে সেটিও তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, দুমকি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন এবং দুমকি উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে পুরো বিষয়টির প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং প্রশাসন/আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে সিএসসি ক্যামেরার ফুটেজ ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি, ব্ল্যাকমেইল এবং জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ । এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রী শাহজাদপুর থানায় চারজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন— সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ডাকবাংলাপাড়া এলাকার মোঃ তারেক রানা (৩৬), মোঃ সামাদ (সাহাবউদ্দিন) (পিস ল্যাব হাসপাতালের সামনে), মোঃ হোসেন আলী (৪৮) এবং মোঃ চয়ন ইসলাম (২৭)।
লিখিত এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী (২৩) রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শাহজাদপুর থানাধীন ডাকবাংলাপাড়ার পশ্চিম পাশে একটি বাসার ,৩য় তলায় মেস হিসেবে ভাড়া থাকেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত ৯:৩০ টার দিকে তার এক পুরুষ বন্ধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মেসে আসেন এবং কিছু সময় অবস্থান করে চলে যান।
ছাত্রীর রুমের পাশেই থাকা একটি বিকাশ অফিসের সি সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণে যুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাটি লক্ষ্য করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০:৩০ টায় উক্ত বিকাশ অফিসের লোকজন ভিকটিমকে ডেকে নিয়ে উক্ত সি সি ক্যামেরার ফুটেজ দেখিয়ে ৩০,০০০ টাকা দাবি করে। বিকেলের মধ্যে টাকা না দিলে ফুটেজ ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি (ব্ল্যাকমেইল) দেওয়া হয়।
একই দিন রাত ৮:৪৫ টার দিকে অভিযুক্তরা ডাকবাংলাপাড়ার জনৈক বিপ্লব কুমারের ৪ তলা বিল্ডিংয়ের বিকাশ অফিসে ভিকটিমকে পুনরায় ডেকে নেয়। সেখানে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তার কাছ থেকে সোনার চেইন দাবি করা হয়। একপর্যায়ে অন্য আসামিদের বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে ১নং আসামি (মোঃ তারেক রানা) ভিকটিমকে একাকী পেয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের উদ্দেশ্যে পরনের পোশাক খোলার চেষ্টা চালায়। ভিকটিম নিজেকে ছাড়িয়ে বের হতে গেলে ২নং আসামি (মোঃ সামাদ) তাকে ঝাপটে ধরে শ্লীলতাহানি করে।
পরবর্তীতে ভিকটিম তার বাড়িতে ফোন করার চেষ্টা করলে তার হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। সিঁড়ি দিয়ে নেমে পালিয়ে আসার সময়ও আসামিরা তার ওপর নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি চালায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী কান্না করতে করতে রাস্তায় নেমে আসলে স্থানীয় কয়েকজন সাক্ষী এগিয়ে আসেন এবং ঘটনাটি শোনেন। পরবর্তীতে ভিকটিম তার অভিভাবক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে পরামর্শ করে শাহজাদপুর থানায় এসে এজাহার দায়ের করেন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান ,আমরা অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হই এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্যক্তিগত কথোপকথন, ছবি, ভিডিও, গুরুত্বপূর্ণ নথি কিংবা সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদানে প্রতিদিনই ব্যবহার হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ। প্ল্যাটফর্মটিতে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন থাকলেও সামান্য অসতর্কতায় ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের হাতে চলে যেতে পারে। তাই চ্যাট ও অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়াতে হোয়াটসঅ্যাপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস চালু রাখা জরুরি।
বিশেষ করে চ্যাট লক, টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন এবং এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ চালু রাখলে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা আরও জোরদার করা যায়।
১. ব্যক্তিগত চ্যাটে চালু করুন ‘চ্যাট লক’
ফোন অন্য কারও হাতে গেলেও ব্যক্তিগত কথোপকথন যাতে সহজে কেউ দেখতে না পারে, সেজন্য হোয়াটসঅ্যাপে রয়েছে ‘চ্যাট লক’ সুবিধা। কোনো চ্যাট লক করলে সেটি সাধারণ চ্যাট তালিকা থেকে আলাদা একটি সুরক্ষিত ফোল্ডারে চলে যায়। ওই চ্যাটে ঢুকতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আইডি বা পাসকোডের প্রয়োজন হয়।
যেভাবে চালু করবেন:
যে চ্যাটটি লক করতে চান, সেটিতে প্রবেশ করে প্রোফাইল বা ‘চ্যাট ইনফো’তে যান। এরপর ‘চ্যাট লক’ অপশনটি চালু করুন। চাইলে ‘সিক্রেট কোড’ সুবিধাও ব্যবহার করা যায়। এতে লক করা চ্যাটের ফোল্ডারটি সাধারণ তালিকা থেকে লুকিয়ে রাখা সম্ভব। পরে নির্ধারিত গোপন কোড দিয়ে সার্চ করলেই ওই চ্যাট দেখা যাবে।
২. অ্যাকাউন্টে চালু রাখুন ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’
শুধু চ্যাট লক করলেই অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকে না। অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়াতে ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ চালু রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এটি চালু থাকলে নতুন কোনো ডিভাইসে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের সময় এসএমএসে পাওয়া কোডের পাশাপাশি একটি নিরাপত্তা পিন প্রয়োজন হয়।
যেভাবে চালু করবেন:
হোয়াটসঅ্যাপের Settings → Account → Two-step verification অপশনে গিয়ে এটি চালু করুন। এরপর ৬ সংখ্যার একটি পিন সেট করুন এবং ই-মেইল ঠিকানা যুক্ত করে রাখুন। পিন ভুলে গেলে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারে এটি কাজে আসবে।
তবে হোয়াটসঅ্যাপের নিবন্ধন কোড বা নিরাপত্তা পিন কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।
৩. চ্যাট ব্যাকআপেও চালু করুন এনক্রিপশন
ফোনের চ্যাট সুরক্ষিত রাখলেও ক্লাউডে সংরক্ষিত চ্যাট ব্যাকআপের নিরাপত্তার বিষয়টি অনেকেই এড়িয়ে যান। গুগল ড্রাইভ বা আইক্লাউডে থাকা ব্যাকআপেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ চালু করা যায়।
যেভাবে চালু করবেন:
হোয়াটসঅ্যাপের Settings → Chats → Chat Backup → End-to-End Encrypted Backup অপশনে যান। এরপর ফিচারটি চালু করে পাসকি, পাসওয়ার্ড অথবা ৬৪ সংখ্যার এনক্রিপশন কি ব্যবহার করে ব্যাকআপ সুরক্ষিত করুন।
নিরাপদ থাকতে আরও যা করবেন
হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করুন। স্মার্টফোনে শক্তিশালী স্ক্রিন লক বা বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা চালু রাখুন। অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো বার্তা, লিংক কিংবা ফাইল যাচাই না করে খুলবেন না।
এসব সতর্কতা মেনে চললে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ও ব্যক্তিগত কথোপকথনের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের গুরুত্ব ক্রমবর্ধমান। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসে এসব বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি নতুন রেকর্ড ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাসে এ খাতে সর্বোচ্চ রপ্তানি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
গত দুই বছর অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি, তবে চলতি অর্থবছরে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে রেকর্ড রপ্তানির পাশাপাশি এসব বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির মাসিক গড়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাসিক গড় রপ্তানি ছিল ৫৭৪ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার, যা চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বেড়ে ৬১১ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির সাথে সাথে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ এসেছিল অপ্রচলিত বাজার থেকে, যা চলতি অর্থবছরে বেড়ে ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল মন্তব্য করেন, "অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এতদিন এসব বাজারে সেভাবে নজর দেওয়া হয়নি। এখন এসব বাজারকে গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সময় এসেছে।"
তিনি আরও বলেন, "অপ্রচলিত বাজার মানেই শুধু দামি পোশাকের বাজার নয়। এসব দেশে বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাকের বড় চাহিদা রয়েছে। সব মিলিয়ে দেশগুলোতে শত শত বিলিয়ন ডলারের পোশাকের বাজার রয়েছে। তাই প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি আরও বাড়াতে অপ্রচলিত বাজারের দিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।"
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপান ছিল বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য। দেশটিতে ১১৮ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ৭৫ দশমিক ১৪ মিলিয়ন, ভারতে ৭২ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন, তুরস্কে ৫৯ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন এবং কোরিয়া প্রজাতন্ত্রে ৪৫ দশমিক ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক।
এছাড়া, মেক্সিকোতে ৩২ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন, ব্রাজিলে ২৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন, চীনে ২০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন এবং সৌদি আরবে ১৯ দশমিক ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।
একই সময়ে মালয়েশিয়ায় ১৫ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন, চিলিতে ১৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৩ দশমিক ১০ মিলিয়ন, রাশিয়ায় ৯ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন এবং নিউজিল্যান্ডে ৮ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। অন্যান্য অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি হয়েছে আরও ৮৫ দশমিক ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৬০৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে অপ্রচলিত বাজারে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি নতুন বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
রপ্তানি গন্তব্যে বৈচিত্র্য আনার এই প্রবণতা প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি নতুন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে। আগস্টের রেকর্ড রপ্তানি এবং চলতি অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারের বাড়তে থাকা অংশ বাজার বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ