মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৪৯ এম
সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি কমানোর উদ্দেশ্যে আজ মঙ্গলবার থেকে অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস) চালু হচ্ছে। নতুন এই পদ্ধতিতে সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় প্রদান করা ব্যাংক হিসাব নম্বরটি টাকা পাঠানোর পূর্বে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এই সিস্টেমটি চালু করছে।
অর্থ বিভাগের ‘স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস)’ কর্মসূচির আওতায় এভিএস চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে সরকারের ১১টি জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টির লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ন্যাশনাল সেভিংস স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা এনএসসি সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
এনএসসি সিস্টেমে বর্তমানে নিবন্ধিত একক গ্রাহকের সংখ্যা ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে মুনাফা ও মূল অর্থ পরিশোধ করা হয়। একই সময়ে গড়ে প্রায় ৮ হাজার নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের ব্যবস্থা আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল, তবে এবার ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের পদ্ধতি যুক্ত হলো।
পূর্বে গ্রাহকের দেওয়া হিসাব নম্বর সরাসরি সিস্টেমে যুক্ত করা হতো। যদি কোনো সংখ্যা ভুল হতো, তাহলে ইএফটি ফেরত আসত এবং তথ্য সংশোধন করে পুনরায় টাকা পাঠাতে হতো। এতে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের চাপও বৃদ্ধি পেত। ভুল নম্বরের কারণে একজনের প্রাপ্য অর্থ অন্যের হিসাবে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও ছিল।
নতুন ব্যবস্থায় হিসাব নম্বর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট তফশিলি ব্যাংকের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে। প্রথমে হিসাবটি সঠিক ও সচল কিনা যাচাই করা হবে এবং পরে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের সঙ্গে হিসাবধারীর তথ্য মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। ফলে লেনদেনের পূর্বেই ভুল বা অসামঞ্জস্য শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
নতুন সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় এবং পরবর্তী সময়ে ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষেত্রেও এভিএস ব্যবহৃত হবে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর জানিয়েছে, এভিএস চালুর ফলে ভুল হিসাব নম্বরের কারণে ইএফটি ফেরত আসার ঝুঁকি কমবে, বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অতিরিক্ত কাজও কমবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ নিরাপদে ও নির্ভুলভাবে প্রকৃত হিসাবধারীর হিসাবে পাঠানো সহজ হবে।
অর্থ বিভাগের মতে, এভিএস জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ডিজিটাল সেবা আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের লেনদেন আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হবে এবং গ্রাহকের অর্থ দ্রুত ও সঠিক সময়ে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের ঘিওর এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর জেগে ওঠা চরে ভারি খননযন্ত্র (ড্রেজার) স্থাপন করে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ার কারণে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে সেখানে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। বাধা দেওয়ার পর ৩০ থেকে ৩৫ জন একটি বালুবাহী বলগেটে এসে লোহার রড, পাইপ ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এই হামলায় সাতজন আহত হয়েছেন।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে ঘটনাস্থলে আসার জন্য আহ্বান জানানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে নারী-পুরুষ লাঠিসোঁটা হাতে সেখানে জড়ো হলে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের পূর্ব কুশন্ডা গ্রামের পাশে কালীগঙ্গা নদীতে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ছয়জনকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর একজন, জাহিদ, প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের রামেশ্বরপট্টি গ্রামের আবুল কাশেম (৪৫), পলাশ মিয়া (২২), আবদুল মান্নান (৫০), নান্নু মিয়া (৪৫), মো. জাহিদ (২০) এবং বানিয়াজুড়ী ইউনিয়নের জাবরা গ্রামের মো. শামীম মুন্সি (৩৩) ও মো. রুবেল আলী (৩৫)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ব কুশন্ডা গ্রামের পাশে নদীতে জেগে ওঠা চরে তাদের কয়েকজনের জমি রয়েছে। সেখানে শক্তিশালী খননযন্ত্র বসিয়ে মাটি-বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে তারা স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে উত্তোলন বন্ধ করতে বললে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
আহতদের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন কিশোর খননযন্ত্রে উঠে পড়লে বালু উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা তাদের আটক করে মারধর করেন। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা সেখান থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক একটি বালুবাহী বলগেটে করে এসে তাদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে রড, পাইপ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হলে সাতজন আহত হন।
পরে হামলার খবর মসজিদের মাইকে ঘোষণা করা হলে আশপাশের গ্রামের নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের মতে, গ্রামবাসী জড়ো হওয়ার আগেই অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবুল কাশেম মঙ্গলবার সকালে যুগান্তরকে বলেন, কালীগঙ্গার তীরের ওই চরে তাদের প্রায় ১১ বিঘা জমি রয়েছে। সেখানে ভুট্টা, তামাকসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করা হয়। নদীর ভাঙন থেকে জমি রক্ষার জন্য বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ার কারণেই তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।
আহতরা অভিযোগ করেন, বানিয়াজুড়ী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের পেচারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সম্রাট মিয়া, সিংজুড়ী গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ছাত্রদল নেতা আল-আমিন এবং সিংজুড়ী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার হোসেনসহ আরও ২৫ থেকে ৩০ জন হামলায় অংশ নেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা লোকমান হোসেন বলেন, চরের জমির মাটি তারা কয়েকজন কিনে নিয়েছেন। বৈধভাবে মাটি তোলার সময় স্থানীয় কিছু লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তারা দাবি করেন, চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। পরে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
সাবেক যুবদল নেতা আল-আমিন জানান, নদী থেকে মাটি কাটা হয়নি। শুধুমাত্র নৌকা ভিড়েছিল। নিজেদের জায়গা ভরাটের জন্য মাটি আনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন মাঝি ও লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের তাড়া করে। পরে ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। তবে কাউকে মারধর করা হয়নি।
ঘিওর থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় সন্ধ্যায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক বাবর আজম সাত বছর পর দেশের ঘরোয়া রেড-বল ক্রিকেটে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই তথ্য ডন পত্রিকার প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পরাজয়ের পর বাবরের এই সিদ্ধান্ত আসছে।
বাবরের টেস্ট ব্যাটিং নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চলছে। ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে তার টেস্ট ব্যাটিং গড় ছিল যথাক্রমে ২২, ২০ এবং ৩১। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে এই ফরম্যাটে প্রতিটি রানের জন্য সংগ্রাম করছেন। তবুও, ২০১৯ সালের পর থেকে তিনি ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আর খেলেননি। সর্বশেষ তিনি কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে সেন্ট্রাল পাঞ্জাবকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফাইনালে নর্দার্নকে এক ইনিংস ও ১৬ রানে পরাজিত করে তার দল শিরোপা জিতেছিল।
বর্তমানে, প্রায় সাত বছর পর বাবর চলমান প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-ওয়ানে ওয়েল অ্যান্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ওজিডিসিএল) হয়ে ঘরোয়া রেড-বল ক্রিকেটে ফিরতে যাচ্ছেন।
দলটির ক্রীড়া বিভাগের প্রধান ফারাহ বাতুল ডনকে নিশ্চিত করেছেন যে, বাবর ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে পাকিস্তান ফিরে পরদিনই ওজিডিসিএল দলে যোগ দেবেন। ফারাহ বলেন, "বাবর ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে পাকিস্তানে ফিরবেন এবং পরদিন ওজিডিসিএল দলে যোগ দেবেন। তার কিট অর্ডার করা হয়েছে।"
তবে, বাবর সঙ্গে সঙ্গে খেলা শুরু নাও করতে পারেন। ওজিডিসিএল বর্তমানে ইসলামাবাদে প্রেসিডেন্টস ট্রফির প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান টেলিভিশনের মুখোমুখি হচ্ছে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর পেশোয়ারে কিংসম্যান একাডেমির বিরুদ্ধে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজের (কেআরএল) বিরুদ্ধে খেলবে দলটি।
ফারাহ আরও জানান, "বাবর ফিরে এসে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে খেলবেন নাকি তৃতীয় ম্যাচ থেকে।"
ডনের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাবরকে অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে ওজিডিসিএলকে দিয়েছে। পিসিবি চায় দেশের প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররা ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অংশ নিক। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই বাবরের এই ফেরা ঘটছে। পাকিস্তানের সাদা বলের অধিনায়করাও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। ওয়ানডে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি কেআরএলের হয়ে এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আলি আঘা কিংসম্যান একাডেমির হয়ে খেলছেন।
জুলাই মাসে বাবর আবার পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে তার শুরুটা ভালো-মন্দের মিশেলে হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ ড্র করার পর ইংল্যান্ডে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে তার দল।
অধিনায়কের নিজের ব্যাটিংও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। চার বছর ধরে টেস্টে কোনো সেঞ্চুরি নেই বাবরের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ফর্মে ফেরার আভাস দিয়েছিলেন তিনি। দুই টেস্টে ১৯৬ রান করে সিরিজ সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন। তবে ইংল্যান্ড সিরিজে আবার কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। প্রথম টেস্টে চোটের কারণে মিস করার পর পরবর্তী দুই ম্যাচের চার ইনিংসে তিনি করেছেন ৮, ৬, ৭ ও ৭৬ রান।
এখন, ক্যারিয়ারের এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বাবর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে আসছেন। ২০১৯ সালের পর প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ ছাড়া দীর্ঘ ফরম্যাটে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। পাকিস্তানের টেস্ট পারফরম্যান্স এবং তার নিজের ব্যাটিং দুটোই এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে। প্রেসিডেন্টস ট্রফি একসময় বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট ব্যাটারের জন্য আবার ছন্দে ফেরার সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের শিবচরে বিল পদ্মা নদীতে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। নৌকার ছুটে চলা আর বৈঠার ছন্দে মুখর হয়ে ওঠে নদীর দুই পাড়। প্রতিযোগিতা দেখতে জড়ো হন শিবচরসহ আশপাশের জেলার হাজারো মানুষ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শিবচরের বাঁশকান্দি ইউনিয়নের বিল পদ্মা নদীতে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। বাঁশকান্দি ইউনিয়নের যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ছোট-বড় মিলিয়ে অংশ নেয় প্রায় ছয়টি নৌকা।
নৌকা বাইচ ঘিরে নদীর দুই পাড় পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ ও প্রবীণ-নবীন—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নদীর পাড়ে বসে বিভিন্ন খেলনা ও মিষ্টির দোকানও। দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজনদের আগমনে স্থানীয় বাড়িগুলোতেও ছিল আনন্দের আমেজ।
নৌকা বাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থী বলেন, গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শত বছরের সংস্কৃতি ধরে রাখতে হবে।
আয়োজকরা জানান, ঐতিহ্য ধরে রাখতে শিবচরের বিভিন্ন এলাকায় আরও বেশি নৌকা বাইচ আয়োজন করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় রয়েছে তাদের।
সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে প্রতিযোগিতা। পরে বিজয়ী দলের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে, ৮নম্বর ভাড়া শিমলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনের হাওয়া নিয়ে প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন এলাকার জনপ্রিয় মুখ মোঃ মাহবুবর রহমান মালেক। ইতিপূর্বে তিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন এবং যেকোনো অন্যায় ও অনিয়ম ও মাদকের বিরুদ্ধে সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন।
নির্বাচনী মাঠে প্রচারণায় নেমে এলাকার সাধারণ ভোটারদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিগত দিনে যেমন সাধারণ মানুষ হিসেবে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, তিনি কখনো কোনো সাধারণ মানুষের বিন্দুমাত্র ক্ষতি করেননি। সে কারণে সততা ও নিষ্ঠার সাথে জনসেবা করার জন্য এলাকাবাসী এবার তাঁকে আরও বড় পরিসরে ইউনিয়নের সেবা করার সুযোগ দিতে প্রস্তুত।
জনগণের এই ভালোবাসাকে পুঁজি করে মোঃমাহবুবর ইসলাম মালেক বিজয়ী হলে ৫ নম্বর ভাড়া শিমলা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত মাদক মুক্ত, এবং মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে
যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার মান উন্নয়ন এবং মাঠের সংকট দূর করার পাশাপাশি যুবসমাজকে বিভিন্নমুখী কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা।তারই ধারাবাহিকতায় তিনি বিভিন্ন এলাকার মাঠে যেয়ে যুব সমাজের হাতে ফুটবল তুলে দেন ও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে রাস্তাঘাট নির্মাণ ও ইট রাস্তা সংস্কার করেন ।
ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত জলবদ্ধতা দূরীকরণে স্থায়ী ও কার্যকরী ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং রাস্তাঘাট সংস্কারের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া দুর্নীতি কঠোরহস্তে রুখে দেওয়া,ধরাসিমলা ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করা এবং সরকারি প্রতিটি বরাদ্দে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
এলাকার প্রবীণ মুরুব্বি, সচেতন যুবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে নিয়মিত উন্মুক্ত মিটিংয়ের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ও অসহায় গরিব মানুষের মাঝে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার কার্ড বিতরণ করা।
দলীয় প্রীতি বা স্বজনপ্রীতি এড়িয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ইউনিয়নবাসীর দ্বারে দ্বারে ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়া।
এলাকার অবহেলিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে মোঃ মাহবুবর রহমান মালেকের দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগনের দোয়া, সমর্থন ও মূল্যবান ভোট প্রার্থনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ