বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪১ এম
ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে টাকার বিনিময়ে তাসের মাধ্যমে জুয়া খেলার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে জুয়ার আসরে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার আঙুল ভেঙে যায়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার চার পুলিশ সদস্যকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার গভীর রাতে ঠাকুরগাঁও সদর থানার টহলদল গোপন সূত্রে খবর পায়, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়ায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মূল ভবনের উত্তর পাশে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাস দিয়ে জুয়া খেলছেন। খবর পেয়ে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ার আসরে থাকা সদস্যরা ধাক্কাধাক্কি করে পালানোর চেষ্টা করেন। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানার ডান হাতের আঙুল ভেঙে যায়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
তারা হলেন- ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), এএসআই শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. আলমগীর কবির (৩৩) এবং ঠাকুরগাঁও শহর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)। অভিযানের সময় সুযোগ বুঝে দুই পুলিশ সদস্য পালিয়ে যান। তারা হলেন- পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮)। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থল ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জুয়ার বোর্ডে থাকা নগদ ৫০ টাকা, পাঁচ সেট তাস এবং একাধিক স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থলের পাশ থেকে চারটি মোটরসাইকেল পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানার এসআই মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা রুজু করা হয়। মামলাটি ২০২৬ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনের ১৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারায় করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পালকে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা সুজিত কুমার পাল বলেন, আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ বা অন্য যে কারও ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধে জড়িত গ্রেপ্তার চার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান মাসুদ আজহারের মাথার দাম ঘোষণা করেছে। তাকে ধরার জন্য তথ্য প্রদান করলে ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে ইসলামাবাদের এই ঘোষণাকে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত বলেছে, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে আর লোক-দেখানো ঘোষণা দিতে হবে না, বরং ‘বাস্তব এবং কার্যকর পদক্ষেপ’ নিতে হবে। দ্য প্রিন্টের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
এটি ধারণা করা হচ্ছে যে, ফাইন্যানশিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) অক্টোবরের বৈঠককে সামনে রেখে পাকিস্তান এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাকিস্তান যেন এফএটিএফের গ্রে লিস্টে আবার না পড়ে, সেজন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মন্তব্য করেন যে, পাকিস্তানের এ ধরনের নাটক এবং জনগণকে বোকা বানানোর প্রচেষ্টা নতুন নয়। তিনি বলেন, অতীতে আমরা একই ধরনের নাটক দেখেছি।
তিনি আরও বলেন, যখন একটি রাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে, তখন এই ধরনের ভুয়ো ঘোষণার প্রকৃত গুরুত্ব কতটা ফাঁপা, তা সকলেই জানে। পাকিস্তানকে লোক-দেখানো ঘোষণা না দিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। এই ঘোষণার কোনও গুরুত্ব নেই।
মাসুদ আজহার ভারতের কাছে একটি পরিচিত নাম। ২০০১ সালের সংসদে হামলা, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা বিস্ফোরণ— এসব ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সঙ্গে তার নাম জড়িত। ভারত দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তান তাকে আশ্রয় দিয়েছে। ফেডেরাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) ‘রেড বুকেও’ মাসুদ আজহার এখনও মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মাসুদ পাকিস্তানে নেই এবং জইশ প্রধান আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়ে সেখান থেকে সংগঠন পরিচালনা করছেন। তবে এই দাবির বিরুদ্ধে ইসলামাবাদের সঙ্গে তালেবান সরকারের প্রকাশ্য বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে, মাসুদ আজহার আফগানিস্তানে নেই। ফলে পাকিস্তানের পুরনো দাবির ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে মাসুদের সন্ধান দিতে নতুন করে পুরস্কার ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক মহলেও ইসলামাবাদের দিকে নজর পড়েছে। কারণ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠন ও তাদের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। সামনে রয়েছে ফাইন্যানশিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) পরবর্তী পর্যালোচনা। জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপ রুখতে পাকিস্তান কতটা পদক্ষেপ করেছে, তা খতিয়ে দেখবে আন্তর্জাতিক এই নজরদারি সংস্থা।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান এফএটিএফের ‘গ্রে লিস্ট’-এ ছিল। অর্থপাচার রোধে দুর্বলতা এবং সন্ত্রাসে অর্থের জোগান বন্ধ করতে ব্যর্থতার অভিযোগ ছিল মূলত। বিশেষ করে জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং লস্কর-ই-তইবার মতো জঙ্গি সংগঠন এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর মোহনপুরে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের রাজস্ব খাতের আওতায় উন্মুক্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা বিলকুমারী বিলে মোহনপুর উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, যিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি শফিকুল হক মিলন উল্লেখ করেন, "আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে মৎস্য চাষি, মৎস্য প্রতিপালনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা এবং প্রান্তিক পর্যায়ের জেলেদের উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সবাই মাছ চাষে ও পোনামাছ অবমুক্তকরণে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হবেন।
মাছ চাষের সুফল তুলে ধরে তিনি বলেন, "এই মাছগুলো বড় হয়ে দেশের বিশাল চাহিদা পূরণ করবে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।" প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে তিনি উৎপাদনমুখী উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানান।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলার ৬টি জলাশয়ে ১০-১৫ সেন্টিমিটার আকারের মোট ২৮৬.৭১ কেজি রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এর আগে সংসদ সদস্য মোহনপুর উপজেলা পরিষদের পুকুরেও বিভিন্ন জাতের পোনামাছ অবমুক্ত করেন। উদ্বোধনী বক্তব্য শেষে অতিথিরা বিলের জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত করে মোনাজাতে অংশ নেন।
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহিমা বিনতে আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামীমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাচ্চু রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজিম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল কাদের, কেশরহাট পৌর শাখা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খুশবুর রহমান এবং জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রুমেনা হোসেন। অনুষ্ঠানে মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও মৎস্য চাষিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির পর এমপি শফিকুল হক মিলন ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের শ্যামপুরহাটে যাত্রা বিরতি করেন। সেখানকার বিএনপি কার্যালয়ে বসে তিনি সাধারণ জনগণের কথা শোনেন এবং তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রæত সমাধানের আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে ফেরার পথে পবা বিমানবন্দরের পাশে ‘রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতি’ কার্যালয়ে যান। সেখানে ব্যবসায়ীরা আলু সম্পর্কিত বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা তুলে ধরলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী জেলা প্রশাসককে ফোন করে বিষয়টি নিয়ে বসে সমাধানের পরামর্শ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজন্ম দৃষ্টিহীন শাকিল হোসেন নওগাঁর একটি অজপাড়াগাঁ থেকে উঠে আসার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে শাকিল মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে শিক্ষা অর্জন করলেও চাকরি জীবনে অনিশ্চয়তা তার সামনে হাজির হয়। চাকরি পাওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন দপ্তরে চেষ্টা চালান, কিন্তু দৃষ্টিহীন হওয়ায় কেউ তাকে চাকরি দিতে রাজি হয়নি। ফলে, তার স্বপ্নের চাকরি অধরাই থেকে যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং তার উপদেষ্টা অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীকে নির্দেশ দেন। রিজভী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামের সহযোগিতায় শাকিলের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির উপস্থিতিতে শাকিল হোসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন।
এ সময় ঢাকার গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু, সংসদ সদস্য এবং নওগাঁ সদর-৫ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীর এপিএস জাহেদুল আলম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বছর দেড়েক আগে রাজধানীর বংশালের কসাইটুলী এলাকায় পারিবারিক কলহের কারণে সিয়াম নামে এক যুবকের পুরুষাঙ্গ কর্তনের ঘটনায় তার স্ত্রী মোসা. রুমা আক্তারকে পৃথক দুই ধারায় ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এই রায় ঘোষণা করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আতাউর রহমান মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জানান, কাঁচি দিয়ে আঘাতের দায়ে আসামিকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। গুরুতর আঘাতের দায়ে আসামিকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাস কারাভোগ করতে হবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন। রায়ে বলা হয়েছে, দুই ধারার সাজা একত্রে চলবে। ফলে সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ চার বছরের কারাভোগ করতে হবে তাকে।
মামলার বিবরণে দেখা যায়, সিয়াম ও রুমা ২০২৪ সালের জুন মাসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকে তারা কসাইটুলী এলাকায় আলাদা থাকতেন এবং তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিয়াম বাইরে থেকে খাবার খেয়ে বাসায় ফেরেন। খাবার খেয়ে আসার কারণে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রুমা ঘুমন্ত সিয়ামের পুরুষাঙ্গ কাপড় কাটা কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলেন। এই ঘটনায় ধস্তাধস্তির মধ্যে সিয়ামের বাম হাতের বৃদ্ধ আঙুল রক্তাক্ত জখম হয়।
এই ঘটনার পর সিয়ামের বাবা বংশাল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে গত বছরের ৫ মে রুমাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস আলম।
এরপর ১০ নভেম্বর রুমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ মামলায় বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। রুমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ